নিরুদ্দেশ
সুপর্ণা দত্ত
নিরুদ্দেশের পথে যাত্রা করেছেন যিনি
হাজারও যন্ত্রণার পর এ পথ নিয়েছেন তিনি,
কেউ সংসারের ভার বইতে না পেরে গেছেন নিরুদ্দেশে
কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন নতুন কিছু আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে।
নিখোঁজ ব্যাক্তির জানা যায় না কোনো অবস্থান
মেলে না কোনো খবর তাদের মাসের পর মাস,
নিরুদ্দিষ্ট হয়ে থাকেন আত্মীয়-স্বজনের কাছে
হয়তো বা স্বেচ্ছায় কিংবা সময়ের দুর্বিপাকে।
নিখোঁজ ব্যাক্তির পরিবার থাকে তীব্র যন্ত্রণায়
অনিশ্চয়তা ও শোকের মধ্যেই জীবন কাটায়,
স্বাভাবিক মৃত্যুর থেকেও শোক কাতর হয় পরিবার
পথ পানে চেয়ে থাকে সে ফিরে আসবে আবার।
কেউ যায় নিরুদ্দেশে নিজের থেকে
যায় না খুঁজে পাওয়া কোনোদিন তাকে,
চেষ্টাটা থাকে তার নিরুদ্দেশ থাকার
বহু কষ্ট আর যন্ত্রণার হয়েছে শিকার।
প্ররোচনার শিকার হয়েও নিরুদ্দেশ হয় অনেকে
অসৎ কাজে ব্যবহার করে থাকে তাকে,
ছোট ছোট শিশুদের নানান প্রলোভন দেখায়
পাচারকারীরা তাদের ভিনদেশে পণ্য সম চালায়।
রাজনৈতিক অস্থিরতার কবলে পড়েও নিখোঁজ হয়
ঘর-পরিবার ছেড়ে তারা গা ঢাকা দেয়,
আশায় থাকে তারা কটবে অস্থিরতা একদিন
ফিরে আসবে তারা পরিবারের কাছে সেদিন।
কাজের সন্ধানে ভিনদেশে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে
খবর যায় না পাওয়া পরিযায়ী শ্রমিক বলে যারে,
অসাধু কন্ডাক্টর আছে অনেক সমাজ জুড়ে
বিনা পারিশ্রমিকে খাটাতে তাদের রাখে ধরে।
পিছন ঘুরে দেখি যদি অনেক বিখ্যাত জন
নানান কারণে নিরুদ্দেশ হয়েছেন নিখোঁজ,
আগের দিনের ব্যবস্থা ছিল না এত উন্নত
নিরুদ্দেশের খবর প্রচার হত না তখন এত।
বারো বছর পার হলে মৃত বলে ধরে নিত এ সমাজ
সমাজের চাপে করতে হত তার অন্তেষ্টিক্রিয়ার কাজ,
এমন অনেক গল্প-গাথা পাওয়া যায় সাহিত্যে
দেশী-বিদেশী উপন্যাসে নামী-অনামী ব্যক্তিত্বে।
নিখোঁজ হল অনিশ্চিত ও অসমাপ্ত গল্পের মত
যা প্রিয়জনদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয় অত্যন্ত,
টিভিতে,রেডিওতে,খবরের কাগজে নিরুদ্দেশের খবর
সাহায্য করে ফিরিয়ে দিতে নিখোঁজ ব্যাক্তির ঘর।
তবুও হারানো মানুষ পরিবারে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করে
যা মানুষকে ভাবিয়ে তোলে দীর্ঘ সময় ধরে,
পুলিশের তত্ত্বাবধানে নিখোঁজ ব্যাক্তির খোঁজে
বহু নিরুদ্দেশ ব্যাক্তি আজ ফিরে আসছে নিজ সমাজে।
—-oooXXooo—-
![]()






