প্রেম-বৃন্দাবনের শোকগাথা
ডঃ মদনচন্দ্র করণ বিদ্যালঙ্কার..
মনের মানুষ মনে হইল,
হৃদয়-মাঝারে—
নয়নে লেগেছে ভালোবাসা,
কহি সে কথা কারে?
প্রথম পরশ, প্রথম চাহনি,
স্বপ্নে জাগিল মন,
শরীরে শরীর বিছাইয়া যেন
একাত্মা দুই জীবন।
বলিয়াছিলে— “দোহাই তোমার,
হইব রাধা-কৃষ্ণ,
প্রেমের বৃন্দাবন সাজাইব
মধুর মিলন-তৃষ্ণ।”
কদম-তলে যমুনার জলে
চাঁদের আলো পড়ে,
বাঁশির সুরে ডেকেছিলে মোরে
গোপন প্রেমের ঘোরে।
মালতী-গন্ধে, ফুলের বাসরে
জড়াইল দুটি প্রাণ,
মর্ত্যের বুকে স্বর্গ নামিল—
হাসিল নীল গগন।
হায়, কে জানিত, কালবৈশাখী
আসিবে এমন করে!
সুখের প্রদীপ নিভাইয়া দিয়ে
যাইবে দূর অচিনপুরে!
বাসর-শয্যা ফুলে ঢাকা,
শঙ্খ বাজেনি আর,
চন্দনের টিপ শুকাইয়া গেল,
শূন্য হইল দ্বার।
আজিও নিশীথে চাঁদের আলো
ঝরে গোপন ব্যথায়,
তোমার স্মৃতি বাঁশির সুর হয়ে
আমারে কাঁদায় হায়।
শরীর তো ক্ষণিক, প্রেম অমর,
আত্মা নাহি মরে—
রাধার অশ্রু কৃষ্ণের বাঁশি
মিশে আছে অন্তরে।
যদি পুনরায় জন্ম মিলে,
অন্য কোনো ভোরে—
আবার তোমায় চিনিব প্রিয়,
প্রথম দেখার ঘোরে।
মনের মানুষ মনে হইল,
রহিলে হৃদয়-সিংহাসন,
বিরহ-বিধুর এ প্রাণে আজ
জাগে প্রেম-বৃন্দাবন।
মরণ পারে না ভাঙিতে কভু
আত্মার পবিত্র বন্ধন—
তুমি আমি চির অম্লান,
চিরন্তন প্রেমের স্পন্দন॥
—oooXXooo—
![]()







