পাগল প্রেমিক!
অরবিন্দ নাহা
ভোরের আলো ফোঁটার আগে
আলো-আঁধারি রাতে
দিগন্ত পেরিয়ে
আমরা পালাচ্ছিলাম…..
পাশাপাশি বসে দু’জন জানালার ধারে।
অবিরাম অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে ঝরে,
বন্ধ জানালার ভাঙা কাঁচের ফাঁক দিয়ে
বৃষ্টির ফোঁটা ভিজিয়ে দিচ্ছিল
আমাদের দু’জনকে।
তোমার মাথা আমার ডান কাঁধে,
আমার হাতে বৃষ্টি ভেজা হাত তোমার,
তাতে ছিল উষ্ণতার স্পর্শ—
ছিল ভালোবাসা-ভরসার ইঙ্গিত।
আবেশে বিভোর আমি
দু’চোখের মুগ্ধতা নিয়ে
তোমায় দেখছিলাম বারংবার।
মনে পড়ছিল—
প্রথম যেদিন দেখেছিলাম,
তারপর থেকে নির্দিষ্ট সময়ে
একই জায়গায়
তোমারই প্রতীক্ষায়…..
এমনই এক বৃষ্টি ভেজা দিনে
ছাতা ধরে ছিলে তুমি মাথার উপরে।
মৃদু – দ্বিধাহীন কণ্ঠে বলেছিলে,”চলুন।”
সেই প্রথম একসাথে চলা—
তারপর থেকে অজস্রবার
পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেছি তোমাকে ঘিরে।
কথা ছিল বাঁচবো একসাথে
এবং………… একসাথে।
অথচ আজ তুমি আকাশের
এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
এখন বৃষ্টি ভেজা দিনে
দরজা-জানালা বন্ধ করে বসে থাকি,
ঘরের এক কোণে,
দু’ হাঁটুর মাঝে মুখ গুঁজে।
কেউ কেউ বলে—
আমি নাকি পাগল!
তুমি তো সব দেখতে পাও।
আচ্ছা, তুমি বলো—
আমি কি পাগল?
***********
![]()







