-: দু’টি দৃশ্য :-
শুভ্র
প্রথম দৃশ্য :
সন্ধ্যার আঁধারটা তখন আস্তে আস্তে ভারী হচ্ছিলো।ফুটপাথে ছেলেটি দাঁড়িয়েছিল। নিয়ন আলোর বদলে এখন সাদা বাল্ব ল্যাম্পপোস্টগুলোতে। হালকা আলোয় কিছুটা অন্ধকার ফর্সা হয়েছে। ছেলেটি উদাস মনে হাঁটতে থাকে। তার সামনে দিয়ে এক জুটি চলে যাচ্ছে। নতুন ভালোবাসা সম্ভবত। মেয়েটি ছেলেটির হাত ধরে আছে। ছেলেটি খুব হাত পা নাড়িয়ে ঘুরিয়ে কথা বলছে। এসব দেখে,ছেলেটির মুখে হালকা হাসির রেখা দেখা দিল।
তারও ভালোবাসার মানুষ ছিল।সেই কলেজ লাইফে। এখন আর নেই। গ্রাজুয়েশন পাস হতেই ব্যবসায়ী ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয় তাকে।সেই সময় সেরকম পরিস্থিতিও ছিল না, ক্লাসমেটকে বিয়ে করার।
অন্যদের ভালোবাসার ব্যাপারগুলো দেখেই বুকের এক পাশটায় শান্তি অনুভব করে। আফসোসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে।এখন জীবন শিখিয়ে দিয়েছে, যা চাওয়া হয় তা সব সময় পাওয়া যায় না।
দুইজনেই তো চেয়েছিল। তারপরও বাস্তবতার কারণে পাওয়া হয়নি।এখন ছেলেটি এটা ভেবেই শান্তি পায়,একদিকে ভালই হয়েছে।মেয়েটি সব দিক থেকে নিশ্চিত জীবন পেয়েছে।
ভাবতে ভাবতে ছেলেটির পথ চলা। হঠাৎ করে কিছু স্লোগান শোনা যায়।চারিদিকে মানুষ আতঙ্কে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছে। বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। সবাই ছুটাছুটি করতে থাকে।একটু সম্বিৎ ফিরতেই ছেলেটিও পালায়। একটা ফাঁকা বাসের ভিতর ঢুকে, লুকিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর খেয়াল করে বাসের চারপাশে কয়েকজন জড়ো হচ্ছে। ধর ধর বলছে। অবস্থা বুঝে উঠার আগেই একজন জামার কলার ধরে টানতে টানতে সীটের পিছন থেকে এনে, বাস থেকে ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। অন্যদের হাতে লাঠি রড ছোরা ছিল। এবার শুরু মারা।যার যত শক্তি আছে, তত শক্তি দিয়ে মেরে চলছে একদল হিংস্র জনতা। রক্ত গড়াগড়ি খাচ্ছে। ভাঙ্গা রাস্তার কিছুটা জায়গায় মাটি দেখা যাচ্ছিল।এখন ওই মাটি শুষে নিচ্ছে কিছু রক্ত। ছেলেটির বাঁচার আকুতি, চিৎকার করে বলছে, ‘বাঁচাও বাঁচাও,শোনো তো…’। কিন্তু সকলের মারের, চিৎকারের শব্দে ছেলেটির আকুতি কারো কানে পৌঁছায় না। একসময় মাথা থেকে ছেলেটির সব চেতনা লোপ পায়। কখন যে শরীরটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে তা জানা যায় না।
যখন সবাই ক্লান্ত, বিশাল একটা কাজ করেছে ভেবে আক্রমণ বন্ধ করল। তখন শুধু ক্ষত বিক্ষত শরীরটাই পড়ে আছে।কিশোর বয়সী একটা ছেলে কিছুক্ষণ আগেও সে জীবন্ত ছিল। বিভিন্ন কথা ভাবতে ভাবতে হাঁটছিল।
পুলিশ আসে নিজের সময়ে।নিয়ম মেনে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর,পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়ার আগে অব্দি যথাবিধি সব রীতিও পালন করা হয়।
ছেলেটির অপরাধ …?….। ওই জনতা মনে করেছে, তারা বিশাল একটা কাজ করে ফেলেছে। ছেলেটিকে অপরাধী ভেবে, উত্তম-মধ্যম মেরেছে ।জনতার দৃষ্টিতে সবই ঠিক।শুধু, ভূলটা ছিল ছেলেটার। কারন সে তার জামায় ‘নিরাপরাধ’ শব্দটি লিখে বেড়োয়নি।
দ্বিতীয় দৃশ্য :
বাকীরা যখন যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত। ফাঁকা বাড়িতে একা সেই ছেলেটির মা বসে আছে রাতের খাবার নিয়ে, অপেক্ষায়…
ছেলে আসলে খেতে দেবে।
—oooXXooo—
![]()







