সুখ দুঃখ
রতন চক্রবর্তী
******
মানুষ জন্মবার সাথে সাথেই ঈশ্বর মানুষের দেখভালের জন্য দুজন বডি গার্ড পাঠিয়ে দেন । একজনের নাম সুখানন্দ ধর , আর একজনের নাম দুঃখিরাম সর্দার । দুজনেই মানুষের সাথে সব সময় থাকে । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো , ওদের দুজনের মধ্যে কোন সময়ই বনিবা না হয় না। প্রায় সময়ই ওরা দুজনে একে অপরের সাথে কে বড়ো , কে ছোট তাই নিয়ে বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়ে । এমনি করে চলতে চলতে একদিন ওদের দুজনের মধ্যে এমন তর্ক শুরু হলো যে , সুখ দুঃখকে বলল , তুই এখান থেকে হাট । আমি সুখ , তোর থেকে আমি বড়ো । আমি সারা জীবন এই মানুষদের সঙ্গে থেকে তাঁদের সুখী রাখতে চাই । দুঃখ তখন বলল , না আমি বড়ো । তুই এখান থেকে হাট । আমি না থাকলে তোর মূল্য কাঁচকলা । আমি আছি বলেই তুই এতো মূল্য পাস ।
এমন সময় জ্ঞানরঞ্জন বাবু সুখ-দুঃখের তর্কবিতর্ক শুনে কাছে এসে দাঁড়াতেই , সুখ-দুঃখ দুজনে জ্ঞানরঞ্জন বাবুকে বিচার দিতে গিয়ে বলল , স্যার ,আপনি বলুনতো,আমাদের মধ্যে কে বড়ো।জ্ঞানরঞ্জন বাবু তখন ধীরে সুস্থে সুখ দুঃখের পানে তাকিয়ে বললেন,
দেখো , তোমরা দুজনেই বড়ো । আলো আছে বলেই যেমন আঁধারের মূল্য বোঝা যায় আবার আঁধার আছে বলেই আলোর মূল্য হয়।
সুখ, তুমি যদি মানুষের সঙ্গে একা বাস করতে তবে মানুষ কোনদিনই মানুষ হতো না। তোমার অহংকারে মানুষ অমানুষ হয়ে যেত। আবার দুঃখ , তুমি আছো বলেই মানুষকে অহংকারে অমানুষ হয়ে যাতে দুঃখের (মানে তোমার) বোঝা বইতে না হয় মানুষ তার চেষ্টা করে। সুতরাং মানব জীবনে তোমাদের অবদান কারো চাইতে কারো কম নয়। তাই দ্বন্দ্ব নয় , বিবাদ নয় থাকো তোমরা নিজ কর্মে।
—oooXXooo—
![]()







