প্রতিবন্ধী
স্বপ্না নাথ
যে জন্মান্ধ,
সে কখনো দেখেনি এ ধরার আলো,
সময় আসেনি তার কাছে সকাল, বিকাল, গোধূলির বাতি নিয়ে,
অনন্ত তমসায় শব্দময় জগৎ।
এই ভুবন তার তিমিরের হাসি কান্না,
স্পর্শের প্রকৃতি তার ভিন্ন বসুন্ধরা।
যে জন্ম বধির–
সে আসে পৃথিবীতে বধিরতার নিঃশব্দ চরাচরে,
নির্বাক চলচ্চিত্রে মেদিনীর বিরূপতা,
ভাষার শব্দ ছন্দহিনে তার আজীবন স্তব্ধ যাপন!
যে বঞ্চিত দু ‘চরনে–
সে কোন অভিশাপে গতিময়তার আস্বাদনে চির বঞ্চিত!
যেন অখিলের নির্দয় বিরূপতা,
অনুভূতির পরপারে চলার স্পর্শে মাটির টান,
অক্ষমতার মনো বেদনা,
কেন এ গতিসত্তম?
যার দুটি হাত নেই–
এ চিরচেনা রূপ রস গন্ধের ধরণী অধরা তার হিন করকমলে!
অঙ্কেতে জড়াবে না শিশুর কলহাস্য,
নিজ হাতে অশনের বঞ্চিত স্বাদ,
আলিঙ্গনে অতৃপ্ত দয়িতের মধুরতা!
পরনির্ভরতায় জীবনের প্রতি পলে দু:সহ কালহরন।
যে জন সর্ব অঙ্গময়–
সে দেখে না কখনো জীবনের আশীর্বাদ!
প্রতিবন্ধীর অপারগতা মর্মে বেধে না তার ,
স্বার্থের বদ্ধ গৃহের দ্বারে কখনো কড়া নাড়ে না অঙ্গহীনের অধরা দুনিয়া!
অনুভবে ফোটেনা হৃদয়,
বৃহন্নলার সাথে হয় না কখনো সন্ধি!
শয়নে, স্বপনে, মননে আমরা কি নই?
অননুভবের প্রতিবন্ধী!
—oooXXooo—
![]()







