সংবাদ প্রতিবেদন: তীব্র দাবদাহের মাঝেই প্রকৃতির চরম রূঢ় রূপ দেখল উত্তরপ্রদেশ। আচমকা ধেয়ে আসা তীব্র ধুলোঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং একের পর এক ভয়াবহ বজ্রপাতে কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে যোগীরাজ্যের একাধিক জেলা। গত বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা সাড়ে ১৫ ঘণ্টার এই কালান্তক দুর্যোগে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫৩ জনেরও বেশি মানুষ। ঝড়ের দাপটে উপড়ে পড়েছে হাজার হাজার গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি, ভেঙে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রয়াগরাজ, ভাদোহি এবং মির্জাপুরে।
লণ্ডভণ্ড প্রয়াগরাজ ও মৃত্যুমিছিল
দুর্যোগের জেরে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে প্রয়াগরাজে (Prayagraj)। জেলা প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, শুধুমাত্র প্রয়াগরাজেই বজ্রাঘাত এবং দেওয়াল ধসে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হান্দিয়া, ফুলপুর, সোরাওন এবং মেজা তহশিল এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ভাদোহি (Sant Ravidas Nagar) জেলায় ১৭ জন, মির্জাপুরে ১৫ জন এবং ফতেহপুরে ১১ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মৃতদের মধ্যে বহু শিশু, মহিলা এবং দিনমজুর রয়েছেন। বদাউন জেলায় ঝড়ের হাত থেকে বাঁচতে একটি দেওয়ালে আশ্রয় নিতে গিয়ে দেওয়াল ধসে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু। অন্যদিকে বেরিলিতে তীব্র ঝড়ের দাপটে টিনের চাল ধরে থাকা এক ব্যক্তি বাতাসে উড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হন।
ক্ষয়ক্ষতির সরকারি পরিসংখ্যান
উত্তরপ্রদেশের রিলিফ কমিশনারের (Relief Commissioner’s Office) দফতর থেকে জারি করা সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা অত্যন্ত উদ্বেগের:
-
মোট প্রাণহানি: ৮৯ জন
-
আহত ব্যক্তির সংখ্যা: ৫৩ জন
-
গবাদি পশুর মৃত্যু (পশুহানি): ১১৪টি
-
ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি: ৮৭টি
-
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা: প্রয়াগরাজ (২১ জন মৃত), ভাদোহি (১৭ জন মৃত), মির্জাপুর (১৫ জন মৃত)।
বিদ্যুৎহীন বিস্তীর্ণ এলাকা ও উদ্ধারকার্যে বাধা
ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার থাকলেও কিছু কিছু এলাকায় এর তীব্রতা আরও অনেক বেশি ছিল। প্রায় ২৫০টিরও বেশি বিদ্যুতের খুঁটি এবং ১২টিরও বেশি বড় ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। উপড়ে পড়া গাছের কারণে রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার কাজে চরম বেগ পেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। কৌশাম্বীর তারসউরা গ্রামে ঝড়ের মাঝে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২টি বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে, যার ফলে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন ১২টি পরিবার।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের জরুরি নির্দেশ
এই ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি সমস্ত মণ্ডলাযুক্ত এবং জেলাশাসকদের অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারের কাছে সরকারি আর্থিক সাহায্য এবং ত্রাণের সামগ্রী পৌঁছে দিতে হবে। আহতদের নিখরচায় উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করেছে রাজ্য সরকার।
কেন এই আচমকা তাণ্ডব? কী বলছে মৌসম ভবন?
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, উত্তর ভারতের উপর সক্রিয় হওয়া শক্তিশালী ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’ (Western Disturbance) এবং ঘূর্ণাবর্তের (Cyclonic Circulation) জেরেই এই বাত্যাবিক্ষুব্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতর আগে থেকে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের পূর্বাভাস দিলেও, ঝড়ের তীব্রতা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সমস্ত আশঙ্কাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েকদিনও উত্তর ভারতের কিছু এলাকায় আবহাওয়া প্রতিকূল থাকতে পারে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
#উত্তরপ্রদেশঝড় #বজ্রপাত #ধুলোঝড় #উত্তরপ্রদেশদুর্যোগ #যোগীআদিত্যনাথ #প্রয়াগরাজ #আজকেরখবর #প্রকৃতিরতাণ্ডব #আবহাওয়ারখবর #বজ্রপাতেমৃত্যু #খবর #চলতিঘটনা #UPStorm
#UPStorm2026 #UttarPradesh #DustStorm #LightningStrikes #PrayagrajStorm #UPWeatherAlert #NaturalCalamity #YogiAdityanath #IndiaWeather #BreakingNews #WeatherUpdate #GoogleDiscovery #TrendingNews
![]()





