শেষের কবিতা’র পাতা
শ্যামাপ্রসাদ সরকার
ভাই ছুটি,
তোমাকে সকালবেলা হতেই মনে পড়ল বলে ভেবে বসনা যে আমি দূর্বলচিত্তের দাবী মেনে আমার পরমহিতৈষীর স্মরণাপন্ন হলেম।
আসলে তোমার নাম উচ্চারণে একপ্রকার ছলনা লাগে, বিস্মরণের অবহেলা থেকে ছুটি নেব বলেই।
আজ মাঘ কুয়াশার সমাপতনে অকাল বসন্ত ডাক পাঠাচ্ছে বলে ভেব না তোমায় আপাত অপ্রাসঙ্গিকতার অভিশাপ থেকে ছুটি মিলল বুঝি!
মনকেমনের এমনতর মর্জিমাফিক আহ্বান আসলে কবি’র সম্পদ, দূর্জনে তাকেই বলে এসেছে পরকীয়া!
তোমার রাঢ়ভূমি রক্তিম হয়েছে প্রিয় সম্মীলনের আশায়। তার প্রিয়মিলনের সে আশা হয়ত হারিয়ে যাবে কখনও। কিন্তু শেষে যেটা পড়ে থাকবে সেটা তার স্বপ্নসঞ্জাত আহ্বান। তাকে অযথা লোকারণ্যে আনতে নেই বলেই তো সেই ডাক আসলে বড় আপনার।
শেষরাতের ট্রেন যখন পাহারাদারের কাজ থেকে ছুটি পেয়েছে বলে তোমাকে টুসু-ভাদুদের মেলায় বেড়াতে নিয়ে যেতে পারে তখন আর সন্ধ্যারতির মৃদঙ্গবাদকটিকে মনে রাখার দরকার নেই বলেই তুমি চুপ থাকতে পার, সে তোমার মনের জোরের জায়গা।
তবে গরম চাএর ভাঁড়ে যে ক্ষণকালে ওষ্ঠস্পর্শ থাকে সেটাতেই তার আনন্দ। মধুকর তার আগামী দিনের পুষ্পোদ্যানের লাভের আশায় কখনও গুঞ্জন করে কি?
তবে তোমার চশমায় বুদবুদ জমলে তোমাকে আরো আকর্ষণীয় লাগত বলে আমি দূরপাল্লায় বসে কবিতা লিখতে চেয়েছিলাম।
তাদের সমস্ত অক্ষরবৃত্তে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করতেই হবে সে আশা এখন দুরাশা বলে সেদিনের ইচ্ছেটুকু মিথ্যা হবার নয়।
স্রোতমর্মর বক্ষের আকর্ষণ তো গন্ডুষ প্রমাণ জলে পাওয়া যাবেনা জেনেই হঠাৎ লিখতে বসলাম।
অনন্ত কালাকালেও দেখা হওয়ার আদিম ও রিক্ত অপেক্ষাটি না হয় জারি থাকুক!
—oooXXooo—
![]()







