সমুদ্রের সেই দিনগুলি (দ্বিতীয় পর্ব)
✍️ শিবপ্রসাদ হালদার
তখন ওরা একত্রে বাজার করে রুমে রাত্রে রান্নাবান্না করে খাওয়া দাওয়া করতো। অফিস থেকে দুপুরে আসার সময় রাস্তার পাশে ছোট ছোট ধাবা ছিল সেখানে দশ টাকার মধ্যে ধোসা, না হলে ১প্লেট রাইস নিয়ে নিতো।বেশি খেতে ইচ্ছা করলেও পয়সার অভাবে পারত না। এটুকুই খেয়ে পেট ভরে জল খেয়ে চালিয়ে নিতো।এমনও দিন গেছে-যেদিন কাছে পয়সা কম থাকতো সেদিন ৬ টাকা দিয়ে চারটে কলা-এই ছিল দুপুরের খাবার। আর সকালে আসার সময়ে তিন টাকা দিয়ে এক প্যাকেট “পারলে জি” বিস্কুট কিনে জলসহ খেতে খেতে চলে আসতো। আর কোনদিন বা একটা ডিম আর একটা পাও খেয়ে চালিয়ে নিতো। সন্ধ্যায় কোনদিন টিফিন করতো-কোনদিন করত না।রাত্রে রান্না করে সবাই মিলে একসাথে খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়তো।এভাবেই চলেছে তখনকার দিনগুলি।
ট্রেনিং চলাকালীন ওদের কাছে গচ্ছিত অর্থ থেকে দৈনিক ক্রমাগত খরচে ওরা ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়ল। উদ্ভূত অর্থসংকটে যে যার বাড়িতে যোগাযোগ করতে থাকে। অন্যান্যদের থেকে ছেলের, একটু সচেতনতার জন্য বিশেষ বাজে পয়সা খরচ হয়নি বলেই আমাকে টাকার ব্যাপারে প্রথমে কিছুই জানায়নি। ওই দুঃসময়ে রুমের অন্যান্যদের খাওয়া খরচ ছেলে অনেকটাই চালিয়ে দিয়েছে। অসুবিধার উপলব্ধিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।আত্মস্বার্থের মত ব্যবহার তাদের সাথে সে করতে পারেনি। তাই তাদের সাথে কষ্ট শেয়ার করেছে। তবুও আমার কাছে টাকা পাঠাবার কথা বলতে তখন তার বিবেকে বারবার বিঁধেছে ।১৬ই ডিসেম্বর ২০০৫ বারাসাত থেকে ওদের সঙ্গী প্রাঞ্জলের বাবা গৌর বাবুকে ফোন করে খোঁজখবর নিতে গিয়ে ওদের রুমের একটা কন্টাক্ট নম্বর পাই। পরে জানতে পারি ওই মোবাইলটা রুমের মালিক শামসুর ভাইয়ের। পরবর্তীতে সেই নাম্বারে ফোন করে ছেলের সাথে কথা -বার্তা বলতাম। ১৯.১২.২০০৫ তারিখ রাত্রিবেলায় আমি ফোন করলে ফোন বেজেই চলে। কয়েকবার রিং হবার পর ছেলে ফোন ধরেই- “আগামীকাল ফোন করো, আমার শরীর ভালো না” বলেই ফোন কেটে দিল। আমি ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়লাম। ওর মার টেনশন আরও গেল বেড়ে। সন্তানের ব্যথায় মন বুঝতে চাইল না। অনেকক্ষণ ভাবলাম। নিরুপায় হয়ে আবার ফোন করলাম।এবারও ফোন কেটে দিল। আবার করলাম- তাও কেটে দিল। তখন রাত ১১:৪৫ মিনিট। দু মিনিট পর আবার করলাম। তখন কথা বললো। বারবার আমার ফোন করাতে মোবাইল নিয়ে রুমের বাইরে দোতলা থেকে নিচে নেমে এসে আমাকে সমস্ত ঘটনা জানালো। তখন ওর কন্ঠে অসহায়তার এক করুন সুর! বারবার শুধু আমাদের আশীর্বাদ চাইতে লাগলো।বুঝলাম ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে। সান্ত্বনা দিলাম।চোখ কান খোলা রেখে ধৈর্য ধরে চলতে বললাম। কলকাতা থেকে যে পাঁচজন একত্রে মুম্বাই গিয়েছিল তাদের মধ্যে দুজনের দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে।তখন তাদের সাথে পরোক্ষভাবে দ্বিচারিতায় সহযোগিতা করে আরও একজন।সমীর ও বিশ্বনাথ ছিল নিরপেক্ষ। সমীরের শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল আমার ছেলের সমতুল্য। সে ব্যাপারটি ভালো চোখে দেখলো না। জীবনে ক্যারিয়ার গড়তে ঘর ছেড়ে এত দূরে এসে এমন উশৃংখল জীবন কিছুতেই সমর্থন করল না। পরিস্থিতি যখন ধৈর্যের বাইরে গেল তখন ছেলের সাথে কথা বলাতে সে বারবার বলতে লাগলো- প্রয়োজনে CSTস্টেশনের প্লাটফর্মে গিয়ে থাকবে তবুও এখানে আর থাকতে মন চাইছে না।আমি শঙ্কিত হয়ে পড়লাম।সঙ্গে সঙ্গেই বান্দ্রায় আমাদেরই পাড়ার প্রতিবেশী ভাই মাতুনকে ফোন করে বিষয়টি জানাই। আমার ফোন পেয়েই পরদিন সকালে ছেলেকে তাদের বাসায় যেতে বলে। আমি ছেলেকে তা জানালে পরদিন সে সেখানে গেলে তার সামনেই আমাকে ফোন করে নিশ্চিন্তে থাকার আশ্বাস দেয়। আমরা তখন কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম।মুম্বাইতে যে আমার আরও পরিচিত হিতাকাঙ্খী রয়েছে তাদের ঠিকানা ও ফোন নাম্বার ছেলেকে জানিয়ে দিলাম। তারা কয়েকজন ছেলেকে ফোন করল।ছেলে তখন লাউড স্পিকারে দিয়ে ফোন রিসিভ করলো যাতে রুমের মধ্যে অন্যান্য সবাই কথা শুনতে পায়।তারা সবাই সব শুনে ঘাবড়ে যায়। আমি ধৈর্য ধরে সবার সাথে মিলেমিশে থাকার উপদেশ দিই। পরে ওরা ওদের ভুল বুঝে ছেলের সাথে যথেষ্ট ভালো ব্যবহার করতে শুরু করে এবং ছেলেও আমার উপদেশমতো ধৈর্য ধরে একত্রে মিলেমিশে চলতে লাগলো।তবুও মনের মাঝে থেকে গেল এক ক্ষোভের বিরূপ ক্ষত। পরে আমি বারাসাত গিয়ে মন্ডল স্যার ও দীপক স্যারকে সাক্ষাতে বিস্তারিত জানালে ওদের এমন দুর্ব্যবহারে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন।
ট্রেনিং চলাকালীন প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত এবং খাওয়া-দাওয়ায় তাদের গচ্ছিত অর্থ প্রায় শেষ। মুম্বাইয়ের উপর থাকা খাওয়া-দাওয়া যে এতটা ব্যয় -বহুল সেটা কলকাতায় থেকে তারা ভাবতে পারেনি। কোম্পানি তখন তাদের দেড় হাজার টাকা অ্যাডভান্স এর ব্যবস্থা করল।২১ দিন ট্রেনিং শেষে তাদের আরও ২০৫০ টাকা কোম্পানি ট্রেনিং বাবদ দেয়। সেই টাকাও যখন শেষ হয়ে এল তখন ওরা সকলেই চিন্তিত হয়ে পড়ল। অপরিচিত শহরে কোথায় পাবে টাকা? যে যার বাড়িতে যোগাযোগ করতে লাগলো। সরোজের বাবা তার এক নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে দাদার থেকে টাকা ম্যানেজ করে দেন।বেহিসাবি খরচের জন্য ওদের অর্থ যখন শেষ হয়ে যায় তখন আমার ছেলের কাছে টাকা থাকলেও তারা তার কাছে আর চাইতে সাহস পায়নি। এমন পরিস্থিতিতে কয়েক -দিন কাটাবার পর পয়লা মার্চ ২০০৬ হঠাৎ দুপুরে ছেলে আমায় ফোন করলো। এক অপরাধীর মতো করুণ কন্ঠে আমায় জানালো- “বাবা! যদি তোমার তেমন কোন কষ্ট না হয় তাহলে আমাকে ৩০০ টাকা পাঠাতে পারবে?” তার করুন কণ্ঠস্বরে আমার বুকের মধ্যে তখন তোলপাড় করে উঠলো।পরদিন সকালেই আমি ত্রিকোণ পার্কে এসটিডি বুথে প্রভাত বাবুর সাথে যোগাযোগ করি। আমি প্রায়ই তাঁর এসটিডি বুথ থেকে ছেলেকে ফোন করতাম।সেই সূত্রে তাঁর সাথে পরিচয়।আমার অনুরোধে উনি আমাকে টাকা পাঠাতে সাহায্য করলেন।তাঁর মাধ্যমে আমি ৫০০ টাকা পাঠিয়ে দিলাম। মাতুঙ্গায় উনার জামাই বিশ্বনাথের কাছ থেকে ছেলে সেই টাকা সংগ্রহ করে নেয়। রুমে এই খবর যখন জানাজানি হয় তখন প্রাঞ্জলের বাবা আমাকে তাদের জন্য টাকা পাঠাবার ব্যবস্থা করে দিতে বলেন। তখন আমি মন্ডল স্যারের সাথে যোগাযোগের কথা বলি। কিন্তু তিনি ইতিমধ্যেই তাঁর ছেলের সেখানে উশৃংখল জীবন যাপনের খবরে প্রচন্ড রুষ্ট হয়ে উঠেছেন। মন্ডল স্যারের সাথে কথা বলে জানলাম তাঁর ইনস্টিটিউশন থেকে পাঠানো কোন ছাত্রের দ্বারা কোম্পানির বদনাম হোক এটা কিছুতেই বরদাস্ত করবেন না। সেইমতো RKHS এর এজেন্ট মিঃশঙ্কর বাবুকে যথাপোযুক্ত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
২০শে ফেব্রুয়ারি ২০০৬। কোম্পানির নির্দেশ মতো দুপুর তিনটার মধ্যে ছেলেকে ভিটিতে গিয়ে পৌঁছাতে হবে। শীপে জয়েনিং এর উদ্দেশ্যে লাগেজ নিয়ে এক নতুন উদ্যমে রুম থেকে বেরিয়ে পড়ল। যাবার আগে আমাদের সবাইকে ফোনে জানিয়ে যায়। কিন্তু মুম্বাই পোর্ট অফিসে গিয়ে সমস্ত পেপার জমা করার পর দেখা গেল সেখানে জয়েনিং লিস্টে তার নাম নেই। তখন যেন হতভম্ব হয়ে পড়ল। কিছুতেই বুঝতে পারল না কেন এমনটা হল। এমতাবস্থায় গত্যান্তর না দেখে বিফল হয়ে বুকভরা ব্যথা নিয়ে রুমে ফিরে আসে। রুমে এসে জানতে পারে সে বেরিয়ে যাবার পর কোম্পানি থেকে ফোন এসেছিল যে ওর জয়েনিং ডেট পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু তার কাছে কোন ফোন না থাকায় কোন যোগাযোগ করা যায়নি। রুমে ফিরে এলেও আমাকে কিন্তু এ খবর জানায়নি। পরদিন দুপুরে বারাসাত প্রাঞ্জলের মাকে ফোন করে কথা বলতে গিয়ে এই খবরটা পাই। সঙ্গে সঙ্গেই ছেলেকে ফোন করে সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করলাম। বুঝলাম সেও মনে বড় আঘাত পেয়েছে।ওকে নানা- ভাবে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম- ভগবান যা করেন তা মঙ্গলের জন্যই করেন। নিশ্চয়ই ওর জন্য নির্ধারিত শীপ B.L.B SEMINOLE এ যেতে না পারাটা ওর পক্ষে হয়তো মঙ্গলকর ছিল।এমনি করে ঘাত প্রতি- ঘাতে তৈরি হতে লাগলো ওর মন।
৯ মার্চ ২০০৬। কোম্পানির অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে ভিটিতে এসে মুম্বাই ডকে জমা করল। ইন্দিরা পোর্ট থেকে জয়েনিং হবে। দুইদিন আগে এসে নির্ধারিত শীপের ড্রেস সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। জয়েনিংয়ের দিন এজেন্ট গাড়ি নিয়ে আসলো। তাতে করে ইমিগ্রেশন কমপ্লিট করে নিয়ে চলল পোর্টের মধ্যে। বিকালের পড়ন্ত বেলায় পোর্টে ঢুকতেই দেখল সমুদ্রে অসংখ্য শীপ দাঁড়িয়ে রয়েছে। হালকা বৃষ্টি হচ্ছে, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে- এ যেন এক অপরূপ দৃশ্য যা জীবনে এমন পরিস্থিতিতে প্রথম দেখলো। সেদিন সে অনুভব করল এক অন্য আনন্দ! বাড়িতে ফোন করে জানালো- এক্ষুনি সে শীপে উঠতে চলেছে। আমরা প্রাণ খুলে আশীর্বাদ করলাম। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে জীবনে যেন জয়ী হতে পারে। আমাদের সেই আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে প্রথম পা রাখল শীপে। শুরু হলো তার জীবনের এক নতুন অধ্যায়। প্রতিটি সময় অপেক্ষায় থেকেছি কখন বুঝি তার একটা ফোন আসে।সমুদ্র সম্পর্কে আমাদের তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। আমাদের পরিচিত কেহ কোনদিন জাহাজে চাকরিও করেনি। এজন্য এ ধরনের কোনো বিশেষ ধারণা আমার ছিল না। তাই এক আতঙ্কের মাঝে দিন কাটতো। সর্বদাই ভাবতাম সে কেমন আছে—!
১২ই মার্চ ২০০৬। রাত্রে তার ফোন পেলাম। অন্য এক সহকর্মীর ফোন থেকে জানায় পোর্ট থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে অ্যাঙ্কার করে দাঁড়িয়ে আছে। শীপের নাম “OCCEAN MAINTENER-1” ১৯ জনের ক্যাটারিং স্টাফ। সবমিলিয়ে মোট ২১৭জন।দু এক দিনের মধ্যেই বম্বে হাইয়ের দিকে রওনা হয়ে যাবে। তখন আর মোবাইলে টাওয়ার পাওয়া যাবে না বলে ফোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তখন যেন আমরা মন খারাপ না করি।পরদিন ফোন করে দেখি তারা টাওয়ারের বাইরে চলে গেছে। তখন মনটা খুবই খারাপ হয়ে গেল। তাই সর্বদাই বিধাতার কাছে প্রার্থনা জানাতাম যখনই যেখানে যে অবস্থায় থাকে সে যেন সব সময় ভালো থাকে। ঈশ্বর মঙ্গল করুন!
জাহাজে উঠবার সময় তার কাছে নিজস্ব কোন মোবাইল ছিল না। সেজন্য বাড়ির সাথে যোগাযোগ করে কথা বলতে প্রচন্ড অসুবিধায় পড়তে হয়। বাধ্য হয়ে এজন্য অপরের সহযোগিতা নিতে হয়। সচরাচর সামান্য কারণে অন্যের শরণাপন্ন হওয়া সে মোটেও পছন্দ করত না। তবুও স্থান কাল পাত্র বিশেষে যে ব্যতিক্রমী হতে বাধ্য করে তা এবার অনুভব করলো। শীপে কর্মরত বয়স্ক সজ্জন ব্যক্তি মিঃ অলিভা আঙ্কেল ছেলের ব্যক্তিগত এই অসুবিধা উপলব্ধি করে সব সময় করেছেন সাহায্য।পুত্রসম মনে করে তাঁর মোবাইল থেকে কথা বলিয়েছেন আমার সাথে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার সাথে কথা বলে খুশি হয়ে আমাকে করেছেন আশ্বস্ত। পিতা হয়ে ছেলেকে পুত্রসম স্নেহ দেবার দাবি করেছি তাঁর কাছে। তিনি সে প্রতিশ্রুতি দিয়ে পালনও করেছেন অনেকটা। এজন্য তাঁর কাছে আমরা চির কৃতজ্ঞ!
১৮ই মার্চ দুপুরে মিসড কল পেয়ে আমি রিংব্যাক করে জানতে পারলাম জাহাজের চুক্তি সম্পর্কিত ত্রুটির জন্য মাঝ সমুদ্র থেকে ফিরে এসেছে। অফিসিয়াল ত্রুটি সংশোধন করে আবার রওনা হবে। আপাতত দু-তিন দিন সেখানে অ্যাঙ্কার করে থাকবে। ২৩শে মার্চ বিশ্বনাথের বাবার কাছে ফোন করে জানতে পারলাম বিশ্বনাথ ও সমীর SCANLAY-1 শীপে কাজ পেয়েছে। শুনে ভালো লাগলো। এই সময় আমাদের মন ছিল অশান্ত। যখনই ছেলের সাথে যোগাযোগ হতো তখন সে সমস্ত রকম খবরাখবর জানতে চাইতো। সবাইর সম্পর্কে জানতে চাইলে সুযোগ মতো প্রতিবেশী খোকাদা ও তাদের বাড়ির অন্যান্যদের সাথে কথা বলিয়ে দিতাম। ওরাও তার সাথে কথা বলে আনন্দ পেত। সত্যি কথা বলতে কি- ছেলেকে ছোটবেলা থেকে ওরা প্রাণ খুলে ভালোবাসতো। যখনই সুযোগ হোত অন্যান্য প্রতিবেশী এবং সুপার মার্কেটের অন্যান্য দোকানদারদের সাথে অনেক বার কথা বলিয়ে দিয়ে ক্ষনিকের জন্য হলেও তার মনের শান্তি আনার চেষ্টা করতাম। ছেলে প্রচন্ড মিশুকে। সবার সাথে সব সময় হেসে খেলে চলেছে। তাই মোবাইলের কল চার্জ অনেক বেশী হলেও সেদিকে কখনও তাকাইনি। শুধু তার মনের অবস্থার কথা মনে করেই এমনটা করেছি।
৪ঠা এপ্রিল ২০০৬। বারাসাত সরোজের দাদাকে ফোন করে ওদের খবরা-খবর জানতে গিয়ে শুনতে পেলাম সরোজের অ্যাক্সিডেন্টের জন্য কোম্পানি তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে। তার মোবাইলে প্রচন্ড ডিস্টার্ব হতে থাকায় পাশেই প্রাঞ্জলের মাকে ফোন করে স্তম্ভিত হয়ে যাই। তখন জানতে পারলাম প্রাঞ্জলও জাহাজ থেকে চলে এসেছে। শীপে নাকি তার শরীর টিকছে না।পরে অবশ্য বিস্তারিত জেনে আমি আর কোন মন্তব্য করিনি—। তাদের তৎকালীন দুর্ব্যবহারের জন্য মনে ব্যথা পেলেও তাদের এমন খবর শুনে মর্মাহত হলাম। কামনা করলাম আরও ভালো হোক ওদের মতিগতি। ভালো থাকুক ওরা সবাই–।
(এরপর চলবে…)
![]()







