ভার্চুয়াল ফ্রেন্ড স্ক্যাম
বাসুদেব দাশ
সম্যর মাথায় বেশ কিছু দিন ধরে ভার্চুয়াল ফ্রেন্ডের বিষয়টা ঘুঁরপাক খাচ্ছিলো। সেই চিন্তা থেকে সে একদিন দুম করে তার ফেসবুক থেকে নাম দেখে মৌলি নামে তার এক ফেসবুক বান্ধবীকে জানায় বিষয়টা। এই ভার্চুয়াল বন্ধুত্বকে কাজে লাগিয়ে টাকা পয়সা কামানোর ফন্দি ফিকিরের কথাও তার মাথায় আসে এবং সেটাও সে আলোচনা করে মৌলির সঙ্গে। মৌলি প্রথমে ঝুকির কাজ বলে এড়িয়ে যায়। পরে চিন্তা করে দেখে যে ঝুঁকি ছাড়া তো ইনকামের কোন সোর্সই নেই। সব সোর্সেই ঝুঁকি আছে । সুতরাং রোজগার করতে গেলে ঝুঁকি নিতেই হবে। তাই সে সম্যর সাথে যোগাযোগ করে। এই কাজে তার সম্মতি আছে বলে জানিয়ে দেয়। এরপর দুজনে ছক কষতে থাকে কিভাবে রোজগার করা যায়। দুজনেরই টাকার দরকার। আজকালকার দিনে চলতে গেলে মুঠো মুঠো টাকা লাগে। না হলে স্ট্যাটাস ধরে রেখে চলা যায় না। ঠাট বাটই তো আজকালকার জীবনের সব । তাই ঠাট বাট বজায় রাখতেই হবে। না হলে সম্মান থাকবে না। আর ঠাট বাট বজায় রেখে চলতে গেলে পকেটে সেই পরিমান টাকা থাকা দরকার। এটাও ঠিক যে সেই পরিমান টাকা সৎ পথে রোজগার করা খুব কষ্ট সাধ্য বিষয়। আর বর্তমান কালে তো প্রায় সব মানুষই কম বেশি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। অসৎ পথের সাথে যুক্ত আছে সরকারি কৌলিন্যে। অসৎ রোজগারের কিছু অংশ পার্টি ফান্ডে দিয়ে দিলেই সাত খুন মাপ। আইন আদালত পুলিশ তার ধারে কাছে ঘেষতে পারবে না।
মৌলি একদিন তার ভার্চুয়াল বান্ধবী সালভীর সঙ্গে ম্যাসেজ চালাচালি করতে করতে তার কাছ থেকে জানতে পেরে যায় যে সালভীর সাথে তার হাসব্যান্ড তৃষানজিতের ঝামেলা চলছে। ওরা একজন আরেক জনকে সহ্য করতে পারছে না। যেন দুজন অপরিচিত নারী পুরুষ এক সঙ্গে এক ছাদের তলায় সংসার সংসার খেলা করছে। কিন্ত কারো প্রতি কারো কোন রকম সহানুভূতি নেই । ভালোবাসা তো নেইই। সে কবে শুকিয়ে গেছে শুস্ক মরুভূমির তপ্ত বালুর প্রখর তাপে। জীবনটা এখন একটা তপ্ত অগ্নি কুন্ডুর উপর এসে পড়েছে। গণগণে আগুনে সম্পর্কটা হাপরের মত ওঠানামা করছে । ওরা এই যন্ত্রণাময় তিক্ত জীবনের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেতে চাইছে। আর বিবাহ বিচ্ছেদ হলে বেশ কিছু অর্থ লাভও হয়। তার সুযোগও তো হাত ছাড়া করা যায় না। আজকাল তো অনেক মেয়েই দুবার তিনবার বিবাহ বিচ্ছেদ করে মোটা টাকার মালিক হয়ে যাচ্ছে। এই কাজটা আজকাল একটা পেশার পর্যায়ে চলে এসেছে । আজকাল এতে লজ্জা পায় না কেউ। মৌলি ভাবছে এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে সালভীর বিবাহ বিচ্ছেদের রোজগারের টাকা থেকে কিছু টাকা কিভাবে সে হাতিয়ে নিতে পারবে সেই কথা । মৌলি সালভীর মোবাইলে বার বার ম্যাসেজ পাঠিয়ে তাকে একটু সহানুভূতি দেখানোর চেষ্টা করছে আর বেশি করে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করছে । মৌলি সালভীর বিষয়টা নিয়ে সম্যর সঙ্গে পরামর্শ করে। কি করে সালভিকে ফাঁসিয়ে কিছু টাকা হাতিয়ে নেওয়া যায় তার ব্লু প্রিন্ট তৈরি করার চেষ্টা করছে ওরা দুজনে অতি সন্তোর্পনে । দুজনের পরামর্শ মত মৌলি সালভিকে একটা রেস্টুরেন্টে ডেকে আনে। মৌলি এবং সম্য আগে থেকেই সেই রেস্টুরেন্টে প্রেজেন্ট ছিল। মৌলি আর সম্য সালভীকে নানা ভাবে সহানুভূতি দেখাবার চেষ্টা করে । বোঝাবার চেষ্টা করে যে তারাই তার পরম হিতাকাঙ্খী । আর কিছুতেই যেন সলভী ওদের চক্কর থেকে ফোঁসকে বেরিয়ে যেতে না পারে সাদিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে চলে ওরা। সালভীকে বুদ্ধি দেয় যে আমরা লোক লাগিয়ে তৃষানজিতের নগ্ন ছবি তুলে আনব এক মহিলাকে সঙ্গে জড়িয়ে নিয়ে সেটা এই কেসে তোর বিরাট সাপোর্ট হবে। তুই যে ডিভর্সের মামলা করেছিস তাতে তুই এই নগ্ন ছবি গুলি কোর্টে সাবমিট করতে পারবি জর্জ সাহেবের সামনে ডকুমেন্ট হিসাবে। এই ডকুমেন্টস থেকে তুই যথেষ্ট অ্যাডভান্টেজ পাবি বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস । কেসটা তোর ফেবারে চলে আসবে। আশাকরি তুই সেপারেশন পেয়ে যাবি আর তোর ডিভোর্সও হয়ে যাবে। তোর সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবার বিরাট একটা চান্স থাকবে । এবার তুই বল যে এর জন্য তুই কত কি খরচ করতে পারবি। আমাদের তুই এর জন্য কত পেমেন্ট করতে পারবি,কারণ কাজটাতে প্রচুর ঝুঁকি আছে এবং বিপদ শঙ্কুলও বটে । কাজ করতে গিয়ে একবার ধরা পরে গেলে জানবি নিশ্চিত হাজত বাস। ঠিক হয় যে মৌলি জিয়াকে নিয়ে তৃষানজিতের বাড়ী যাবে আলাপ পরিচয় করিয়ে দেবার জন্য। টাকার লোভে জিয়া ওদের গ্রূপের হয়ে কাজ করতে রাজি হয়ে যায়। জিয়ার মত সুন্দরী মেয়ের সাথে আলাপ না করে তৃষানজিৎ থাকতে পারবে না । তার উপর বৌয়ের সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না। একজন তো অল্টারনেটিভ ফিমেল পার্টনার চাই। এই সুযোগে জিয়া আস্তে আস্তে ভাব জমিয়ে নেবে তৃষানজিতের সঙ্গে। ঘনিষ্ঠ হতে হতে ওকে শরীরি নেশায় ফেলে দেবে। তারপর নিয়ে যাবে বিছানায়। শারীরিক নেশায় মেতে উঠবে। ওকে উত্তেজিত করে পোষাক বিহীন উন্মুক্ত শরীরের নগ্ন ছবি তুলে নেবে হিডেন ক্যামেরায় । এই জালিয়াতির বিন্দু বিষর্গও টের পাবে না তৃষানজিৎ।
তৃষানজিৎ জিয়ার সাহচার্যে ভীষণ আপ্লুত,রোমাঞ্চিত। যেভাবেই হোক সে জিয়াকে চায়। সে ভাবতে শুরু করেছে যে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সালভীকে ডিভোর্স দিয়ে জিয়াকে লাইফ পার্টনার করে নিয়ে আসবে। জিয়ার ভালোবাসার আড়ালে যে মারাত্মক কাল কেউটের বিষ লুকিয়ে আছে সেটা তৃষানজিৎ ঘুনাক্ষরেও টের পায় না। তৃষানজিৎ এই বিষয়টা নিয়ে জিয়ার সাথে অত্যন্ত গোপনে পরামর্শ করে। যাকে বলে টপ সিক্রেট। কাক পক্ষীতেও টের পায় নি তাদের এই গোপন অভিসার । পরামর্শ করে ঠিক হয় যে জিয়া একজন প্রাইভেট ডিটেক্টিভ ঠিক করবে যে সারাক্ষণ সেলভীর উপর নজরদাড়ি করবে । সালভী কখন কোথায় যায় কার সঙ্গে লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলে গোপনে তার ছবি তুলবে। আর অত্যন্ত সতর্ক ভাবে সালভীর সাথে ভাব জমিয়ে বন্ধুত্ব করবে। ডিভোর্সের পর তাকে আর্থিক নিরাপত্তা দেবার প্রতিশ্রুতি দেবে। পরিকল্পনা মাফিক জিয়া তৃষানজিতের সঙ্গে ভাব জমিয়ে চলেছে আর অন্য দিকে একজন প্রাইভেট ডিটেক্টিভ লাগিয়ে দিয়েছে সালভীর প্রতি নজর রাখতে। সেই ডিটেক্টিভ যার নাম প্রযুক্তি আশ সে শ্রীপর্ণ নামে একজনকে পাঠিয়েছে সালভীর সঙ্গে প্রেম করার জন্য। শ্রীপর্ণ — একদিন সাহস করে ফোন করে আলাপ করতে চায় সালভীর সঙ্গে। সালভী রঙ নাম্বার বলে কেটে দেয় তার ফোন। কিন্তু শ্রীপর্ণ ছাড়বার পাত্র নয়। এরপর সে বার বার ফোন করতে থাকে। একদিন ফোন ধরে সালভী বলে আপনি কেন বার বার ফোন করে আমাকে বিরক্ত করছেন ? আপনি কি চান ? শ্রীপর্ণ… আমি আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাই ব্যাস এইটুকুই আর কিচ্ছু না। আপনি আমার ফেসবুকে একটা ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিলে আমি সেটা একসেপ্ট করে নেবো। সালভী… কিন্ত আমি তো আপনাকে চিনি না জানি না তো আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে যাবো কেনো ? শ্রীপর্ণ… এটা কোন সমস্যাই না। চেনা জানা করে নিলেই হয়ে যায় । তার জন্য আর কি লাগে ? সালভী… সেটা কিভাবে ? শ্রীপর্ণ… আপনি আমার এই নাম্বারে একটা ভিডিও কলিং করুন তাতে আপনি আমাকে দেখে নেবেন আর আমি আপনাকে দেখে নেবো। তাতেই আমরা পরিচিত হয়ে যাবো। এই ভাবে একদিন ভিডিও কলিং করার পর ওরা একে অপরের চেনা জানা হয়ে যায়। তারপর থেকে ওদের বন্ধুত্ব চলতে থাকে। সালভী শ্রীপর্ণকে বলে আমি তো আপনার ফেসবুক আইডি জানি না তবে কেমন করে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাবো। শ্রীপর্ণ বলে দেয় যে আমার ফেসবুক আইডি শ্রীপর্ণ গড়ুই নামে আছে। Shriporno Gorui লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন। শ্রীপর্ণ ওর কাজ হাঁসিল করার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে যায়। এরপর একদিন ওরা বৈকালিক পার্কে দেখা করে । সালভী… আচ্ছা আপনার পেশা কি সেটা তো জানতে পারলাম না। আর আপনি থাকেন কথায় সেটাও তো জানান নি। শ্রীপর্ণ… আমি B Tech পাশ করেছি। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আমার একটা কোচিং সেন্টার আছে। আমি সেখানে হায়ার সেভন্ডারির ফিজিক্স পড়াই। শ খানিকের উপর ছাত্র ছাত্রী আছে। সেখান থেকে যা পাই তাতে আমার ভালো মত হয়ে যায়। আর আমি থাকি বিষর পাড়া। এরপর থেকে ওদের মধ্যে অপরিচিতর জরতা কেটে যায়। এই ভাবে দেখা করতে করতে ওদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে যেতে থাকে। শ্রীপর্ণ… আচ্ছা আমাদের বন্ধুত্ব তো অনেক দিন হয়ে গেলো এবার কি আমরা আপনি থেকে তুমি হতে পারি। সালভী….হ্যাঁ পারি। আজ থেকে তুমি শুরু হয়ে যাক। শ্রীপর্ণ… বেশ তবে তাই সই । আপকা মর্জি। শ্রীপর্ণ ভাবে এবার নিশ্চিন্ত হওয়া গেলো । আশা করি আর কোন দুঃশ্চিন্তা নেই। এবার আমরা শান্তিতে বন্ধুত্ব করতে পারি। একদিন সন্ধ্যাবেলা পার্কে বসে ঢিলাধালা পোশাকে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে। প্রযুক্তি আশ ওদের এই ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি আড়াল থেকে তার মোবাইলে বন্দি করে নেয়। সালভী ঘুনাক্ষরেও টের পেলো না যে কি চক্রান্ত তার সাথে হয়ে গেলো।
অন্যদিকে জিয়া তৃষানজিতের কাছে অনেকটা এগিয়ে গেছে কার্য সিদ্ধির জন্য। সুযোগ বুঝে ছবি তুলতে পারলেই কেল্লা ফতে । জিয়ার সাথে যখনই তৃষানজিতের কথা হয় সেই সব কথা জিয়া তার মোবাইলে রেকর্ড করে রাখে। বেশ কিছুটা ঘনিষ্ঠ হবার পর জিয়া একদিন তৃষানজিতকে নিয়ে হোটেল গোল্ডেন ইন এ রুম ডেট করে। রুম ডেটিং এ গিয়ে জিয়া প্রথমে তার নিজের পোষাক খুলে ফেলে তারপর তৃষানজিতের পোষাক একটা একটা করে খুলে দেয়। দুজনে সম্পূর্ণ অনাবৃত করে ফেলে নিজেদের শরীর। তৃষানজিৎ বার বার ঢোলে পরে জড়িয়ে ধরতে যায় জিয়াকে। জিয়া সরে সরে যায়। জিয়া দুটো গ্লাসে মদ ঢেলে ঠান্ডা জল মিশিয়ে একটা গ্লাস তৃষানজিতের হাতে ধরিয়ে দেয়। তৃষানজিৎ আস্তে আস্তে মদের নেশায় শরীরের ব্যালান্স হারিয়ে ফেলে। জিয়া খাওয়ার ভান করে কিন্তু খায় না। তৃষানজিৎ বার বার পরে যায় মেঝেতে। আর প্রতি বারই জিয়া ধরে এনে খাটে বসিয়ে দেয় । এই ঘটনার পুরো এপিসোডটাই জিয়া ক্যামেরা বন্দি করে রেখেছে। তৃষানজিৎ জিয়ার টাটকা যৌবনের টানে ক্রাশ খেয়ে গেছে। তাই সে বেশ কয়েকবার জিয়াকে ট্রিট দেয় বিভিন্ন হোটেলে। জিয়া যে ফ্লাট করছে সেটা তৃষানজিৎ ধরতে পারেনি।
এরপর কোর্টে যেদিন কেস ওঠে সেদিন জজ সাহেব সালভীর কাছে জানতে চান যে কেনো সে স্বামীকে ডিভোর্স দিতে চায়। সালভী তখন কোর্টে দাঁড়িয়ে বলে যে তার স্বামী তৃষানজিৎ একজন দুশ্চরিত্রের মানুষ। ঘরে তার বিবাহিত স্ত্রী থাকা সত্তেও সে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত না হয়ে অন্য নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। আর এটা সে দিনের পর দিন করে চলেছে। অনেক বোঝানোর পর, নিষেধ করার পরও সে নিজের স্ত্রীকে অবজ্ঞা করে একই ভাবে অন্য নারীতে আসক্ত হয়ে আছে। সংশোধন হবার কোন চেষ্টাই তৃষানজিতের মধ্যে সে দেখতে পায় নি। এই সব কারণে এই অবাঞ্চিত সম্পর্ক তার কাছে খুব যন্ত্রনা দায়ক হয়ে উঠেছে। সে এই সম্পর্ক বয়ে চলতে পারছে না। এর থেকে পরিত্রান চায় সে। তৃষানজিতের উকিল তখন বলেন যে তার মক্কেল একজন সৎ চরিত্রবান সমাজ সেবী মানুষ। ইচ্ছা করে ম্যাডাম সালভী তার মক্কেলের চরিত্রকে কালিমা লিপ্ত করার জন্য এই সব উদ্ভট কথাবার্তা বলছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস ম্যাডাম সালভীর কাছে এর কোন এভিডেন্স নেই। কোর্ট তখন সালভীর কাছে জানতে চায় যে এই অভিযোগের সাপোর্টে তার কাছে কোন তত্ত প্রমান আছে কিনা। সালভীর উকিল তখন জিয়ার তোলা তৃষানজিতের সব নগ্ন ছবি জজ সাহেবের সামনে কোর্টে সাবমিট করেন। তৃষানজিৎ এই ঘটনায় বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে যায় । মুখে কোন কথা নেই। চোখে মুখে প্রকাশ পাচ্ছে আশঙ্কা আর ভাষা হীন প্রশ্ন। সারা গায়ে কাঁটা বিঁধছে। মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে কিন্তু মুখ দিয়ে কিছু বলতে পারছে না। গলা দিয়ে ঘড় ঘড় করে আওয়াজ বের হচ্ছে কিন্তু তার কোন ভাষা নেই। তৃষানজিৎ ভেবে পায় না যে তার এই সব ছবি সালভী কোথা থেকে পেলো। কিছুতেই সে উদ্ধার করতে পারে না এই ছবির রহস্য। অনেক চিন্তা ভাবনার পরে তৃষানজিৎ বুঝতে পারে যে জিয়া বন্ধু সেজে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। রুম ডেটিং করে এই সব ছবি তুলে নিয়েছে তাকে ফাঁসাবার জন্য। আসলে জিয়া হয়তো সালভীর হয়ে কাজ করছে। সালভীর এজেন্ট। কিন্তু এই ঘটনা তো ঘটেছে অল্প দিন হলো আর ডিভোর্স মামলা তো চলছে এর অনেক দিন আগে থেকে। তাহলে সালভীর এই দুরভিসন্ধি এই মামলায় প্রভাব ফেলবে কেমন করে। তৃষানজিতের উকল এই বিষয়টা জজ সাহেবের দৃষ্টিতে আনেন। তখন জজ সাহেব বুঝতে পারেন যে ছবি গুলো তৃষানজিতকে ফাঁসাবার জন্য পরবর্তী কালে কোন কারসাজি করে তোলা হয়েছে। এরপর তৃষানজিৎ জজ সাহেবের দিকে জোর হাত করে বলে মাই লর্ড আমার স্ত্রী সালভীরও একটা কুৎসিত অধ্যায় আছে আমি আমার স্ত্রী সালভীর সেই নোংরা অধ্যায়ের কথা আপনার সামনে তুলে ধরতে চাই। জজ সাহেব… ঠিক আছে আপনি বলুন। তখন তৃষানজিতের উকিল শ্রীপর্ণের সাথে তোলা সালভীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি কোর্টে জজ সাহেবের সামনে পেশ করেন। এই ঘটনায় সালভী ভীষণ ভাবে ভেঙে পরে। সে বুঝতে পারে যে এটা মৌলি আর সম্যর কারসাজি। ওকে সাহায্য করার নাম করে পিছন দিক থেকে ছুরি মেরেছে।
ওরা দুজনেই বুঝতে পারে যে ওদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ওদের ভার্চুয়াল বন্ধুরা ওদেরকে ফাঁসিয়ে টাকা আত্মসাৎ করতে চাইছে । তাই বিবাহ বিচ্ছেদ না করে ওরা মামলা তুলে নেবার জন্য জজ সাহেবকে আর্জি জানায় । সর্বশান্ত হবার হাত থেকে রক্ষা পায় । ওদের দুজনের কাছ থেকে দের লাখ করে প্রায় তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ছিল এই অপরাধ চক্র। সেই টাকা উদ্ধারের জন্য ওরা সম্য, মৌলি আর এই চক্রের সাথে যুক্ত সকলের নামে সাইবার ক্রাইম পুলিশ স্টেশনে FIR করে। সাইবার পুলিশ একটা কমপ্লেইন রেজিস্টার করিয়ে নিয়ে কেসের তদন্ত শুরু করে। অল্প দিনের মধ্যে আসামীদের ধরে সাইবার ট্রাইবুন্যাল আদালতে চালান করে দেয় । মামলায় এই অপরাধীদের পাঁচ বছর করে জেল হয়।
সমাপ্ত
![]()







