সংবাদ প্রতিবেদন: জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে এবং সরকারি ও সংবেদনশীল স্থানগুলির পবিত্রতা বজায় রাখতে বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ইতিপূর্বেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে গুটখা এবং তামাক বা নিকোটিনযুক্ত পান মসলার উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ এবং বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। প্রতি বছরই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ সফলভাবে বাড়ানো হচ্ছে, যাতে আইনগতভাবে রাজ্যে এগুলির ব্যবসা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।
তবে এবার এই নিয়মকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল বিচারব্যবস্থা। সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সাধারণ আইন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে আরও পোক্ত করতে এক বিরাট পদক্ষেপ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
রাজ্যের সমস্ত আদালত চত্বরে (হাইকোর্ট ও সমস্ত জেলা আদালতগুলিতে) শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক একটি মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুঘে (Ravindra V. Ghuge) এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই বিষয়ে বিশেষ প্রস্তাব পেশ করা হয়।
-
চিঠি পাঠানো হয়েছে জেলা জজদের: প্রধান বিচারপতির তরফ থেকে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলা জজদের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠিয়ে আদালত চত্বরে সিগারেট, পান ও গুটখা সেবন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
-
নিরাপত্তা ও মেটাল ডিটেক্টর: শুধু তামাক বা গুটখা নিষিদ্ধ করাই নয়, আদালত চত্বরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রতিটি প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ চেকিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
-
বার অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা: এই বিষয়ে বার কাউন্সিল এবং বিভিন্ন বার অ্যাসোসিয়েশনগুলিকে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও শুনানিকালে কিছু আইনজীবী চত্বরের ভেতর নির্ধারিত ‘স্মোকিং জোন’ তৈরির প্রস্তাবও তুলেছেন, তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বিচারাধীন।
তামাক ব্যবহারের ভয়াবহ চিত্র
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তামাক ও গুটখার প্রভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
-
ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি: ভারতের তরুণ প্রজন্ম ও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে গুটখা এবং পান মসলা খাওয়ার প্রবণতা মুখ ও গলার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। দেশের মোট ক্যানসার আক্রান্তের প্রায় ৩০-৪০ শতাংশের জন্য ধোঁয়াবিহীন তামাক ও গুটখা দায়ী।
-
পাবলিক প্লেসে ধূমপান আইন: ভারতের আইন অনুযায়ী (
COTPA, 2003) যেকোনো পাবলিক প্লেস বা জনবহুল সরকারি চত্বরে ধূমপান আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তা সত্ত্বেও অসচেতনতার কারণে বহু মানুষ আইন ভাঙেন। সেই জায়গাতেই কলকাতা হাইকোর্টের এই নতুন উদ্যোগ এক বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। -
জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা: অতীতে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে তামাক নিষিদ্ধ করার পর দেখা গেছে যে কেবল আইনি বা স্বাস্থ্যগত সুফলই মিলেছে তা নয়, আদালতের দেওয়াল ও চত্বরের সৌন্দর্যহানি (পানের পিক ফেলার সমস্যা) অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হয়েছে। কলকাতার আদালতগুলিতে এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হলে তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও পজিটিভ বার্তা ছড়াবে।
জনসচেতনতা এবং আইনি বিধি নিষেধ
-
সাধারণ বাজারে সিগারেটের পরিস্থিতি: খোলা বাজারে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সিগারেট বিক্রি বা সেবনের ওপর সার্বিক নিষেধাজ্ঞা না থাকলেও, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল বা সরকারি অফিসের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বা যেকোনো পাবলিক প্লেসে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও আইনত দণ্ডনীয়।
-
গুটখা ও পান মসলার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ফুড সেফটি রেগুলেশন ও জনস্বাস্থ্য আইন অনুযায়ী নিকোটিনযুক্ত যেকোনো গুটখা ও পান মসলার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে।
#কলকাতাহাইকোর্ট #পশ্চিমবঙ্গ #গুটখা_নিষিদ্ধ #তামাকবর্জন #জনস্বাস্থ্য #আইন_ও_শৃঙ্খলা #বাংলাসংবাদ #BreakingNewsBengali #KolkataHighCourt #WestBengalNews
#CalcuttaHighCourt #GutkhaBan #TobaccoFree #PublicHealth #WestBengal #LegalNews #CigaretteBan #CourtComplex #NewsUpdate #TrendingNewsIndia
![]()







