টাকি, উত্তর ২৪ পরগনা, নিউজ আমার আলো হিরণ ঘোষাল: ঢাকের বাদ্যি, কাঁসরের ঘণ্টা আর “ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন”—এই সুরেই মুখরিত সীমান্ত শহর টাকির ইছামতী পার। বিজয়া দশমীতে উত্তর ২৪ পরগনার ঐতিহাসিক টাকি রাসমণি ঘাটে প্রতি বছরের মতোই সৃষ্টি হলো এক অসামান্য ও আবেগঘন মুহূর্তের। ওপারে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা আর এপারে ভারতের টাকি—মাঝখান দিয়ে বয়ে চলা ইছামতীর জলে দড়ি বেঁধে সীমানা নির্দেশ করা থাকলেও, দুই বাংলার মানুষের আবেগে যেন আন্তর্জাতিক সীমারেখাও ফিকে হয়ে গেল।
সিঁদুর খেলা ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা
দশমীর সকাল থেকেই টাকির মণ্ডপে মণ্ডপে শুরু হয় মা দুর্গার বিদায় সংবর্ধনা। ঢাকের তালে টাকির মায়েরা সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। আনন্দ ও বিষাদের মিশ্রণে ট্রলিতে করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে দেবী প্রতিমাকে নিয়ে আসা হয় ইছামতীর ঐতিহ্যবাহী রাসমণি ঘাটে।
অনবদ্য প্রশাসনিক ভূমিকা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
টাকি পৌরসভার চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়, পুলিশের ডিআইজি রাকেশ কুমার ও বসিরহাটের এসডিও-সহ উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও প্রশাসনিক বাহিনীর উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা মেনে বিসর্জন পর্ব পরিচালিত হয়। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (BSF) কড়া নজরদারিতে জলসীমা নির্দিষ্ট রাখা হলেও ঐতিহ্য বজায় রেখে নৌকোয় মা দুর্গাকে ঘুরিয়ে চারদিক প্রদক্ষিণ করিয়ে শ্রদ্ধার সাথে নিরঞ্জন করা হয়।
জনজোয়ার ও ভাতৃত্বের বন্ধন
রাজ্য তথা জেলার দূর-দূরান্ত থেকে কাতারে কাতারে মানুষ ঐতিহাসিক এই মুহূর্তটি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করতে উপস্থিত হয়েছিলেন। দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত ও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা মেমোরেন্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং (MoU) বজায় রেখেও কীভাবে সংস্কৃতির টান মানুষকে একসুতোয় বাঁধতে পারে, টাকির এই বিসর্জন তারই অন্যতম উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সকলের মনে একটাই আশা—ওপার বাংলা আর এপার বাংলার ভৌগোলিক দূরত্ব যাই থাকুক না কেন, এই ঐতিহাসিক ইছামতীর স্রোত যেন দুই প্রতিবেশীর সৌহার্দ্য ও ভাতৃত্বের মেলবন্ধনকে চিরকাল অমলিন রাখে।
#টাকিবিসর্জন #ইছামতীবিসর্জন #দুইবাংলা #বিজয়াদশমী #উত্তরা২৪পরগনা #দুর্গাপূজা২০২৬ #টাকিরাসমণিঘাট #সম্প্রীতিরউৎসব #এপারবাংলাওপারবাংলা #খবর
#TakiVisarjan #IchamatiRiver #DurgaPujaImmersion #IndoBanglaBorder #North24Parganas #BijoyaDashami #TakiRasmoniGhat #CulturalHeritage #ViralNews #BengalFestivals
![]()




