সুন্দর
বাবু বিশ্বাস
সুন্দরের সংজ্ঞা আমার জানা নেই –
শুধু জানি; সে মায়ের মতো মমতাময়ী,
বাবার মতো রক্ষক-নিহারী,
আর তোমার মতো হিতাকাঙ্খী বন্ধু,
যারা ইন্দ্রিয় ছুঁয়ে প্রশান্তির আসন পাতে হৃদয়ে।
যেমন শিউলি-ঝরা ভোরের নিঃশব্দ আরতি,
কাশবনের সাদা শ্বাসে ভেসে ওঠা
শরতের ঈশ্বরী হাসি।
যেমন নদীর কপালে বাঁধা
রূপালি চাঁদের সিঁদুররেখা,
পাহাড়ের বুকে মেঘের সাদা ওড়না,
অরণ্যের চোখে সবুজ স্বপ্নের কাজল।
কৃষ্ণচূড়ার অগ্নিরাগ,গোলাপের সোহাগ,
আবার কদমফুলের শিশিরভেজা বিনয়;
সে ঝড়ের বুক চিরে ওঠা
একটি নবপল্লবের নিঃশঙ্ক ঘোষণা।
বসন্ত তার রঙতুলি,
বর্ষা তার বেণীতে গাঁথা জলমুক্তোর মালা,
শরৎ তার শুভ্র শঙ্খ,
হেমন্ত তার ধানের সোনালি গীত,
শীত তার কুয়াশার নরম চাদর,
ফাল্গুন তার পলাশ-জ্বলা হৃদস্পন্দন।
প্রজাপতির ডানায় সে রঙের উপাখ্যান লেখে,
দোয়েলের কণ্ঠে বুনে দেয় আলোর সুর,
পদ্মকে শেখায় পঙ্কের বুকেও নির্মলতার সাধনা,
আর বাতাসকে দেয় ফুলের গোপন প্রেমপত্র।
যেখানে করুণা বটবৃক্ষের ছায়া হয়ে নামে,
ক্ষমা’ নদীর মতো সব দহন ধুয়ে নিয়ে যায়,
ভালোবাসা সূর্যমুখীর মতো
আলোর দিকেই মুখ তুলে থাকে-
বুঝি”সেখানেই সুন্দর তার শাশ্বত বাসা বাঁধে।
ঠিক যেমন প্রকৃতির হৃদয়ে জেগে থাকা-
অনন্ত ঋতুচক্রের গোপন মন্ত্র।
যেখানে প্রতিটি পাতা শক্তির স্লোগান,
প্রতিটি ফুল এক একটি প্রার্থনা,
আর প্রতিটি ভোর-
সৃষ্টিকর্তার তুলিতে আঁকা
অমলিন আলোকছটার – চিরন্তন স্বাক্ষর।
—oooXXooo—
![]()







