রাখী বন্ধন
সুপর্ণা দত্ত
রাখী বন্ধন শুধু নয়তো সূত্র ডোর
দায়িত্ব, কর্তব্য, ভরসায় থাকো বিভোর
ভাই-বোনের সম্পর্কের এক পবিত্র বন্ধন
করবে রক্ষা বোনকে-ভাইয়ের এই পণ।
ভারতের এই উৎসব প্রাচীন ও জনপ্রিয়
অটুট সম্পর্কের রীতি ভুলতে পারেনা কেহ
শ্রাবণের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়
এই উৎসব স্নেহ, প্রীতি, সুরক্ষা ও আনন্দময় হয়।
থানায় সাজিয়ে বোন প্রদীপ, চন্দন,ধান,মিষ্টি সাজায়
মঙ্গল আরতি করে বোন ভাইয়ের কপালে তিলক দেয়
ভাইয়ের ডান হাতের কব্জিতে বোন রাখী পড়িয়ে দেয়
ভাই-বোন উভয়েই পরস্পরকে মিষ্টান্ন খাওয়ায়।
নানাবিধ উপহার ভাই বোনকে প্রদান করে
তারই সাথে বোনকে সারাজীবন রক্ষার শপথ করে
রাখী বন্ধনের মাহাত্ম্য শুধু পারিবারিক গন্ডিতে নয়
রক্তের সম্পর্ক ছাড়া আত্মিক টানেও সম্পর্ক তৈরি হয়।
রাখী বন্ধনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম
এই উৎসব হিন্দু-মুসলমানের সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক
ব্রিটিশরা বাংলাকে ভাগ করে চেয়েছিল দাঙ্গা লাগাতে
কবিগুরুর প্রেরণায় রাখী বাঁধে হিন্দু-মুসলমান পরস্পরের হাতে।
রাখী বন্ধন উৎসব মানুষের মনের সংকীর্ণতা দূর করে
সমাজের মাঝে ভালবাসা,মৈত্রী ও ঐক্যের বার্তা বহন করে
মানব সমাজকে সুন্দর,দৃঢ় ও শক্তিশালী গড়ে তোলে
পবিত্র বন্ধনে মানুষের হৃদয় দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে।
নাই বা হলাম এক মায়ের সন্তান
নাইবা হলাম এক বংশজাত,
বিপদে পড়লে সামনে দাঁড়ায় এসে
দুঃখের দিনে বাড়িয়ে দেয় হাত।
অশ্রুধারা মুছিয়ে দিতে পকেট থেকে
রুমাল বের করে দেয় আগে,
ভাই এর অভাব বুঝতে দিল না যে
বড় দাদার মত আগলে আগলে রাখে।
বলবে কি তাকে মতলব বাজ!
নাকি বলবে তার উদ্দেশ্য খারাপ!
নিন্দুকেরা নিন্দে করে প্রচুর
স্নেহের বন্ধনকে করে দেয় বদনাম।
একই পরিবারের সন্তান হলে
তবেই পাবে রাখীর অধিকার,
ভাই-বোন বলে যতই দাও পরিচয়
সমাজ-সংসার দেবে কুৎসিত আকার।
মিথ্যে সব সমাজ- সংস্কার রীতি
ঝেরে ফেলে সকল বাধা বিপত্তি,
ভাই-বোনের রাখীর পবিত্র বন্ধনে
গড়ে উঠুক অটুট সম্পর্কের প্রীতি।
সকল বাধা পার হয়ে
সম্পর্ক হোক স্নেহের বন্ধনে
নিন্দুকেরা যাই বলুক আজ
ভাই আসুক বোনের অঙ্গনে।
—oooXXooo—
![]()







