বিশ্বাস অবিশ্বাস
শুভ্র
বিয়ের প্রায় দশ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর।এই প্রথম ওরা নিজেদের শিক্ষা, জ্ঞান, ধারণা এবং বিশ্বাস কে ডিঙ্গিয়ে,, পা রাখল অঘোর সাধুর ডেরায়। সন্তান লাভের আশায়।
কি হবে, কিভাবে হবে,আদৌ কিছু হবে কিনা! কিছুই জানে না ওরা। তবে প্রতিদিন সারাদিনের ব্যঙ্গক্তি শুনতে শুনতে, অবশেষে পাশের মানুষ কে অবিশ্বাস করে। শুধুমাত্র দুইটি শব্দ, ‘যদি হয়’ কে বিশ্বাস করেই। ওরা প্রবেশ করল বাড়ি থেকে দূরে, অঘোর সাধুর ডেরায়। সেখানে শান্ত গম্ভীর পরিবেশ। দেওয়ালে ঝোলানো হাল্কা আলোর সাহায্যে, নীচে বসা ঘন কালো চুলের মাঝখান থেকে, মেঝের মাটি দেখতে পাওয়া ই সেখানে ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু লোক যখন লোকের প্রতি বিশ্বাস হারায়। তখনি সে কিছু একটা আঁকড়ে ধরে বাচাঁর জন্য অলৌকিকতার সাহায্য নেয়। অথবা সেই অলৌকিকতার কাছে সে আশ্রয় নেয়। সেই সূত্রানুসারেই, কোনক্রমে মাটি খুঁজে পা ফেলে,ধীরে ধীরে ওরা পৌছুল অঘোর সাধুর ঘোরের সীমানায়।
তারপর,,,
– ‘হোবে হোবে, তোদের ভি হোবে। তবে (কিছুক্ষণের নিস্তব্ধতা)… একটা বড় কাম করতে হোবে। পারবি কিইই!’
– ‘কি কাজ বাবা? সেকি সমাজের ব্যঙ্গক্তি শোনার থেকেও কঠিন!’
-‘তাহলে শুন বেটা। তেরা খুদকা বাচ্চা লানে কে লিয়ে,তুঝে কিসি ছোটি সি বাচ্চে-কা কুরবানী দেনা হোগা। বলি দিতে হোবে মায়ের কাছে সে বাচ্চাকে… পারবি কি না পারবি!’
সব জেনে শুনে ওরা, সাধুর ডেরা থেকে প্রস্থান করার পর ,,,
চ্যালা – ‘আরে অঘোর ভাই, তুমি দেখছি ব্যবসা বন্ধ করিয়ে ই ছাড়বে। এসব কঠিন বিধান দিলে কেউ আর আসবে না।’
সাধু – ‘আরে কুছও হোবে না দাদা! মাঝেমধ্যে এরকম বড় কিছু বিধান না বললে লোকে বড় ভাবে নিবে না। বোঝেননা ক্যান, এসব বিধান ঠিকঠাক করে পালন করা কি মুখের কাজ আছে নাকি! আর তাছাড়া ঐ বাচ্চা খুঁজে খুন করা।এসব ঐ ভদ্দর লোকের দিয়ে থোরি হোবে ভেবেছেন! হা হা হা এসব আপনে পারেনো বটে দাদা।’
চ্যালা – ‘কিন্তু …’
সাধু – ‘আরে ছোড়েনতো মশাই, ওসব কিন্তু কিন্তু। কিছু হোবে না। দু’দিন এদিক ওদিক ভটকাবে।তারপর ফির ইখানেই ফিরে আসবে।বোলে দিলাম,মিলিয়ে নিবেন। আর পরেরবার যখন ইদিকে আসবে তখন কিছু সহজ টোটকা বলে,পারটি-কে পুরো পকেটে পুরে নিব। হে হে হে… বুঝলেন কি না বুঝলেন! হো হো হো…’
পরেরদিন,খবরের পাতায় খবর;
’সন্তান লাভের আশায় সন্তান খুন! আটক দম্পতি। অসাধু সাধুর খোঁজে পুলিশ’ ।।
—oooXXooo—
![]()







