মাতৃদায়
সলিল চক্রবর্ত্তী
“জান, জ্ঞান হওয়া থেকে আজ ত্রিশ, পঁয়ত্রিশ বছর মা আমাকে আগলে রেখেছিলো, আমিই তার চোখের আড়ালে বিপথে গেছি। আজ মা-ই আমার চিরদিনের মতো চোখের আড়াল হয়ে গেল। মা যে আর নেই এটা ভাবতেই পারছি না।”
— ঠিক বলেছ, মনে হচ্ছে এখনো ঘরের ওই চৌকিতে শুয়ে আছে। ছেলে-মেয়ে দুটো সারাদিনে যে কতবার ও-ই ঘরে ঢুকছে, তার হিসেব নেই।
— ওরাও কেমন যেন হকচকিয়ে গেছে। ঠাকুমা যে আর ফিরবে না, এ’টা ওরা বুঝতে পারছে না।
— মাঝে মধ্যে মনে হচ্ছে, যা কষ্ট পাচ্ছিল তাতে —-।
—অনেক সময় আমিও তিতিবিরক্ত হয়ে কটু কথা বলেছি। এখন ভাবলে খুব খারাপ লাগছে। আমাকে আরো ধৈর্যশীল হওয়া উচিত ছিল।
— এখন, অনেক কিছু মনে হচ্ছে, অথচ বেঁচে থাকতে ভাবিনি। সেভাবে মার খোঁজ খবরও নিতাম না, মা-ও আমার অর্থনৈতিক অবস্থার কথা ভেবে রোগটাকে চেপে রেখেছিল। যখন জানলাম তখন তো রোগ হাতের বাইরে চলে গেছে।
— ডাক্তার যখন বলল, বাড়িতে নিয়ে যান যে কদিন—-।
—- আমার অনেক ভুল ছিল, নিজেকে আরো আগে শোধরানো উচিত ছিল।
— যত ভাবব, ততোই নিজেদের দোষত্রুটি বেরিয়ে আসবে। যাক ও-সব কথা, তুমি কি কাজে বার হবে?
— যেতে তো হবেই, না গেলে পেট তো আর শুনবে না।
— পরান কাকা এসে হবিষ্যি খরচ বলে দুইশো টাকা দিয়ে গেছে।
— রেখে দাও, সামনে অনেক খরচ।
— জানি, তোমার রিক্সায় মটর লাগাবে বলে যে দুই হাজার টাকা জমিয়েছ, সেটা তো আছে।
— আর রিক্সায় মটর, এই যাত্রায় তো আগে উদ্ধার হই।
— তুমি চিন্তা কোরো না, মা তোমাকে খুব ভাল বাসতো, তার আশীর্বাদে সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।
— দুনিয়ায় সব মায়েরাই তাদের সন্তানকে ভালবাসে। শুধু সন্তানরা বোঝে তার মৃত্যুর পর।
— ও সব নিয়ে দুঃখ করে আর লাভ নেই। দুটো ফল কেটে দেই, খেয়ে যাও।
— না, দেরি হয়ে যাচ্ছে, রোদ বেড়ে গেলে কষ্ট বাড়বে।
— কটা পাকা কলা না হয় খেয়ে যাও, সময় লাগবে না।
রতন রিক্সার হ্যান্ডেলটা ধরে কাজে বার হতেহতে বলল-” মাকে অসুস্থ অবস্থায় দুটো ফল খাওয়াতে পারিনি, এখন তার উদ্দেশ্যে গোগ্রাসে নিজে ফল গিলব!
*********
— এই শুনছ?
— কান খোলা আছে, বলে যাও।
—- অফিসে বার হওয়ার আগে আমাকে হাজার দুয়েক টাকা দিয়ে যেও।
—- খাওয়া শেষে তোয়ালেতে হাত মুছতে মুছতে তরুণ হালদার বলল -” হাজার দুয়েক টাকা!! কদিন আগে যে এক হাজার টাকা নিলে।
— সে তো তোমার মেয়ের বান্ধবীর জন্মদিন উপলক্ষে।
— এবার?
— আমার আটপৌরে শাড়ি, আর মেয়ের নাইটি কিনতে হবে।
— আলমারিতে তো শাড়ির লাট দেওয়া, আবার নতুন করে কিনতে হবে কেন?
— ও, আলমারির জামদানী, বেনারসি পরে তোমার ঘর মুছব,বাসন মাজব??
— খেটে তো রোজকার করোনা,টাকার মর্ম বুঝবে কি করে। আমাকে এটিএম মেশিন পেয়েছ। প্রয়োজন পড়লেই ‘চোপা’ নামক কার্ড পাঞ্চ করছ।
— সংসার না করলেই পারতে, সব টাকাই জমতো, তারপর —–।
— বিষয়টা তা নয়, খরচ তো করতেই হবে। আমি বলছি আয় অনুযায়ী ব্যয় করতে হবে। মাসিক আয়ের একটা অংশ সঞ্চিত না থাকলে বিপদেআপদে লোকের কাছে হাত পাততে হবে। সেটা কি একটা ভদ্রলোকের কাছে শোভনীয়!
— শুরু হয়ে গেল অর্থনীতির পাঠ। খরচের কথা উঠলেই এক ভাঙা রেকর্ড চলবে।
—- তুমি কিছুতেই আমার কথাগুলো বোঝার চেষ্টা করোনা। আমি দেবনা তো বলিনি। আমি বলছি, আটপৌরে শাড়ি, নাইটি এসব ইনডোর ওয়ার গুলো কম দামের মধ্যেও তো কেনা যায়!
—- কেনা যাবে না কেন, তাতে ফ্লাটে বাস করে, তোমার মান সম্মান থাকবে?
— বাদ দাও, অনেক হয়েছে, আমাকে বিদায় দাও, তা না হলে আটটা সাতাসের ট্রেন ফেল করব, আর লেট ফাইন দিতে হবে।
— টাকার বিষয়ে কিছু বললে না তো?
— (বেরুতে বেরুতে) আগে এটিএম থেকে তুলি!
— ঠিক আছে, সাবধানে যেও।
********
পাড়ার রিক্সাস্ট্যান্ডে গোটা কতক রিক্সা দাড়িয়ে আছে, লাইন বাই লাইন রিক্সা ছাড়ছে। তরুন হালদার ব্যাস্ততার সাথে বলল-” ভাই, কে যাবে?”
— (একজন বলল) এই রতন তোর লাইন।
শীর্ণকায় চেহারা, দেখে মনে হচ্ছে,বেশ কদিন ঠিকঠাক ঘুম খাওয়া হয়নি। গুরুদশা আবস্থায়, কোমরে পশমের আসনটা গুজে, রিক্সা চালক রতন মন্ডল এগিয়ে এল। ব্যাস্ততার মধ্যেও তরুন হালদার রতনকে দেখে কিছুটা অবাক হয়েই বলল-” এ কি তুমি এই অবস্থায় রিক্সা টেনে নিয়ে যাবে! আমার তো পাপ হবে।” রতন হতাশার একটা হসি মুখে এনে বলল-” আপনার পাপ হবে কেন! আমি তো নিজের ইচ্ছেতেই নিয়ে যাচ্ছি।”
— তাই বলে এই অবস্থায়!!
— উপায় কি দাদা। চার চারটি পেট। কিছু রোজকার তো করতেই হবে।
— আমি যদি শ-পাঁচেক টাকা দেই তুমি বাড়ি চলে যাবে?
রতন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল-” একদিন পাঁচশো টাকা পেলে কি আমার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে! তাছাড়া আমি কাজ না করে অমন টাকা নেবই বা কেন?
— ধর, সাধ্যমতো পাশে দাঁড়ালাম।
পাশ থেকে আর একজন রিক্সা চালক রিক্সায় বসেবসে সব শুনছিল। এবার সে একটু প্রত্যয়ের সুরে বলল-” ওতে কোন লাভ নেই দাদা, বরং ওর রিক্সায় যান,তাতে ওর দুটো টাকা আয় হবে। আজ আপনি দেবেন, কাল কোথায় যাবে?”
তরুন হালদার কথাগুলোর বাস্তবতা অনুধাবন করে আর কথা না বাড়িয়ে রিক্সায় উঠে বসল। রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় রতন অতি সাবধানে প্যাডল করতে করতে স্টেশনের দিকে এগিয়ে চলল।
তরুন হালদার রতনকে কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করে বলল-
— তোমার কি বা-বা—!!
— না দাদা, মা, বাবা মারা গেছে তখন আমার ছয়-সাত বছর বয়স হবে, এখন তেমন মনেও নেই। মা-ই আমার সব ছিল।
— তোমাকে দেখে তো তাঁর খুব বেশি বয়স ছিল বলে মনে হচ্ছে না।
— ঠিক-ই বলেছেন মরার বয়স হয়নি।
—- কি হয়েছিল ওনার?
— ক্যান্সার।
— প্রথমে ধরা পড়েনি?
—- আমার সংসারে অভাব দেখে মা কষ্ট সহ্য করে রোগ লুকিয়ে রেখেছিল।
— মায়ের জাত টাই মনে হয় এমনই হয়। তরুন হালদার আবেগ প্রবণ হয়ে চশমাটা খুলে রুমাল দিয়ে চোখটা মুছে নেয়। তারপর একটু স্বাভাবিক হয়ে রতনকে জিজ্ঞেস করে-” তোমরা কয় ভাই-বোন?”
— আমি একাই, অনেক কষ্ট করে লোকের বাড়ি বাসন মেজে, ঘর মুছে, এমন কি আয়ার কাজ করে মা আমাকে বড় করেছে। নিজের কথা ভাবিনি, মনে করলে আবার একটা বিয়ে করে নিজে তো সুখে থাকতে পারত! এত ত্যাগ করা সত্যেও আমি মানুষ হতে পারিনি।
— কে বলেছে তুমি মানুষ হওনি, মানুষ না হলে এই কথাগুলো মনে থাকত। লেখাপড়া শিখে মানুষ বিদ্বান হয়। আর তুমি উপলব্ধির মধ্যে দিয়ে মনুষ্যত্ব লাভ করেছ।
— কোথায় আর মানুষ হয়েছি দাদা, মাকে লুকিয়ে বদ সঙ্গে মিশেছি, নেশা করেছি, রাজনৈতিক নেতাদের কথায় মস্তানী করেছি।
— তারপর?
—- মার যখন কঠিন অসুখ হল, বৌ বলল-“এ তোমার পাপের ফল।” জানেন, মনে বড় কষ্ট পেয়েছিলাম। মার মাথায় হাত দিয়ে দিব্যি কেটে সব ছেড়ে দিয়ে সংসারী হয়েছিলাম। মাকে নিয়ে এ হসপিটাল, ও হসপিটাল ছোটাছুটি করেছি, কিন্তু মাকে ধরে রাখতে পারিনি।
— পেরেছ তুমি অজান্তে তোমার মাকে মাথায় করে রেখেছ। আজকের দিনে তোমার মা রত্নগর্ভা। তোমার মাতৃভক্তির এই অন্তঃ ক্ষরণ, তোমার মায়ের আত্মার শান্তি এনে দেবে।
—- আমার সব সময় মনে হয়, মায়ের মৃত্যুর জন্যে আমি দায়ী।
— এটা তোমার ভুল ধারণা, নিয়তির লিখনে কারোর হাত নেই। তুমি নিয়মনিষ্ঠ ভাবে মায়ের শ্রাদ্ধ কর্ম কর। তাঁর আত্মার শান্তি হবে।
—- আমি গরীব মানুষ, নিয়ম মেনে শ্রাদ্ধ কি করতে পারব!!!
—- মাকে যে তুমি অন্তর থেকে ভালবাসো, তাঁর আশীর্বাদ তোমার মাথার উপর আছে, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে।
—– আপনাদের আশীর্বাদ!!
—- শুধু আমার আশীর্বাদ নয়, যারা মাকে ভালবাসে, ঈশ্বর তাদের কথা সর্বদাই মনে রাখেন।
তরুন হালদারের আশীর্বাদসম কথাগুলো শুনে, রতন আবেগপ্রবণ হয়ে উঠল, সত্যিই সে মাকে কি ততটা ভালবেসেছিল! যতটা তরুন হালদার ভাবছেন। চোখদুটো ছলছল করে উঠল। গায়ের সাদা থান কাপড়ের অংশ দিয়ে সজল চোখ দুটো মুছে নিলো। তরুন হালদারও কিছুটা আবেগ প্রবণ হয়ে মনে করার চেষ্টা করল, তাঁর মা মারা গেলে তিনি কি সত্যিই মনে এতটা কষ্ট পেয়েছিলেন!! তিনি স্বগোতক্তি করলেন, ধন্য গরীব ঘরের মায়েরা, বৃদ্ধা বয়সে কষ্ট পেলেও পরিবারের কাছে থেকে স্বর্গপ্রাপ্তি হয়। মধ্যবিত্ত সমাজের বয়স্ক মা-বাবার ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম। যাইহোক পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে তিনি রতনকে জিজ্ঞেস করলেন-” তোমার নাম রতন?”
— হ্যাঁ, রতন মন্ডল।
— তুমি কি এখানেই থাক?
—- হ্যাঁ দাদা, রাজীব কলনীতে থাকি। রাজীব গান্ধীর মূর্তির পাশের ঘরটাই আমাদের।
রতন রিক্সা থামিয়ে গা মুছতে থাকে, স্টেশন এসে গেছে। তরুন হালদার রিক্সা থেকে নেমে, মানি ব্যাগ থেকে একটা একশ টাকার নোট বার করে রতনকে দিতে যায়। রতন বিনয়ের সাথে বলে-” আমার কাছে খুচরো হবে না দাদা।”
—- এটা রাখ। তোমাকে ফেরত দিতে হবে না।
—- কিন্তু, ভাড়া তো পঁচিশ টাকা।
— তুমি তো চাওনি, আমি স্বেচ্ছায় দিলাম, রাখ।
রতন টাকাটা হাতে নিয়ে কপালে ঠেকালো। তরুন হালদার রতনের দিকে চেয়ে একটা প্রশস্তির হাসি হেসে জোর কদমে স্টেশনের ভেতরে চলে গেল।
********
ঘাট কাজের আর তিন-চার দিন বাকি। রতন আজ আর রিক্সা বার করেনি। স্বামী-স্ত্রীতে জটিল হিসেবনিকেশ করতে বসেছে। অঙ্ক আর মেলে না। গরীবের বাজেট অঙ্ক মেলানো কে সি নাগেরও অসাধ্য। রতন একটা পেনসিল খাতা নিয়ে প্রথমে আয়ের হিসেব করতে থাকল—
— রিক্সাস্ট্যান্ড থেকে হাজার তিনেক টাকা পাওয়া যাবে।
— আমার কাছে রিক্সার ব্যাটারির জন্যে জমানো দুই হাজার টাকা আছে।
—- পাঁচ হাজার হল, এদিক ওদিক করে আরো হাজার দুয়েক হবে। তাহলে হল সাত হাজার।
—- কত টাকার মতো খরচ হতে পারে?
—- শ্মশান যাত্রী, পাড়া প্রতিবেশী নিয়ে শ’খানেক লোকের খাওয়া। লুচি, ছোলার ডাল, একটা করে মিষ্টি দিলেও অনেক খরচ। তারপর কিছু চেয়ার টেবিল, একটা ত্রিপলের ছাউনি, এ-সব নিয়ে ডেকরেটর্সের একটা খরচ আছে। খুচরো খরচ সঙ্গে তো আছেই।
— এই সাত-আট হাজার টাকায় হবে না?
— সে না হয়,টেনেটুনে চালিয়ে নেওয়া যাবে, আসল খরচ তো শ্রাদ্ধের কাজ তোলা। চক্রবর্ত্তী ঠাকুর হিসেব দিয়েছে পনের হাজার টাকার মতো। তাঁর কথার মাথামুণ্ডু আমি কিছু বুঝতে পারিনি।
— কেন, আর কি বলেছেন?
— আরে, মা নাকি মৃত্যুতে দোষ পেয়েছে তাই ‘প্রায়শ্চিত্ত’ করতে হবে। দু’জন পুরোহিত, অগ্রদেনে বামন, তারপর দান সামগ্রী তো আছেই।
— ওরে বাবা, গরীব ঘরে এত কিছু কি করে হবে?
—- পরাণ কাকা বলল,” রতন গরীব মানুষের অতশত ভাবতে গেলে চলে না। তুই বরং গঙ্গায় গিয়ে শ্রাদ্ধ করে আয়, হাজার দুয়েক খরচ হবে। আর শ্রাদ্ধে কাউকে নিমন্ত্রণ করিসনে, কেউ কিছু মনে করবে না। শ্মশান যাত্রীদের তো কচুরি মিষ্টি তোর মাকে দাহ করার পরই খাইয়ে দিয়েছিস।” জান, কথাটা আমার মনে ধরেনি। মার জন্যে তো কিছুই করিনি, শ্রাদ্ধ কর্মটা নিষ্ঠা ভরে করব না!
— কিন্তু অতো টাকা তুমি পাবে কোথায়?
— সুদেবদা বলল, ওর জানাশোনা পুরোহিত আছে। সে আবার প্যাকেজ সিস্টেমে শ্রাদ্ধের কাজ করে।
— প্যাকেজ আবার কি?
— ফুল কন্টাক্ট, যা কিছু প্রয়োজন সব সে নিয়ে আসবে। আবার নিয়ে যাবে। শুধু একটা টাকা ধরে নেবে।
— সে আবার কত টাকা!
— সুদেবদা বলল, দশ হাজারের মধ্যে ঠিক করে দেবে।
— সেটাই বা জোগাড় করবে কি করে?
— ভাবছি তো সেটাই, গরীব মানুষকে কেউ ধার দিতে চায় না। দেবেই বা কেন? জানে শোধ করতে পারবে না। ধার চাইতে গেলে হয়ত কিছু সাহায্য করবে।
—- তখন নিজেকে বড় ছোটো মনে হয়।
—- আত্মীয় স্বজনদের কাছে ধার চাওয়া, না চাওয়ার সমান।
—- কিন্তু কিছু তো একটা উপায় বার করতে হবে।
— সেটাই তো ভেবে পাচ্ছি না।
— আচ্ছা,আমার দুল দুটো বিক্রি করে দিলে—?
— না না, ও আমি পারব না। আমি যেটা করে দিতে পারিনি, সেটা কি করে বিক্রি করে দেব। আমি জানি অনেক কষ্টে সেলাই করা পয়সা জমিয়ে তুমি দুল জোড়া বানিয়েছ।
— তা হলে বন্ধক দিয়ে না হয় —।
— রতনদা বাড়িতে আছ?
— বাইরে কে তোমাকে ডাকছে।
— কে?
— আমি কি করে জানব, বাইরে বেরিয়ে দেখ।
— ও রতনদা, বাড়িতে আছ?
— কে?
রতন ঘরের বাইরে বেরিয়ে দেখে, একটা বছর কুড়ির অচেনা ছেলে তার অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে। রতন তাকে না চেনায় একটু অবাক হয়ে বলে-” হ্যাঁ, আমি রতন।”
— “আচ্ছা, এটা রাখুন।” বলে রতনের হাতে বাদামী রঙের কাগজের একটা ব্যাগ এগিয়ে দিল। হালকা ব্যাগটা রতন হাতে নিয়ে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করে -” কি আছে ব্যাগে?”
ছেলেটা বিনয়ের সাথে বলে-” আমি তো ঠিক জানিনা, খুলে দেখ।”
রতন রীতিমতো অবাক হয়ে, ব্যাগটার হ্যান্ডেল ফাঁক করে ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখল, একটা আঠা দিয়ে মোড়া সাদা খাম। রতন মাথা উঁচু করে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ছেলেটির দিকে আবার চাইল। ছেলেটি কথা না বলে, মুখে সেই বিনয়ের হাঁসি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। রতন আবার মাথা ঝুঁকিয়ে ব্যাগের ভেতরের খামটা ছিঁড়তেই চমকে উঠল, খামের ভেতরে একশ টাকার সিল করা একটা বাণ্ডিল। রতন দশ হাজার টাকার বান্ডিলটা দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেল। কে এই ছেলেটি কেনই বা এত টাকা—!! মাথা তুলে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করতে যাবে, কিন্তু কোথায় ছেলেটি?
হতবাক হয়ে রতন মন্ডল হাতে টাকা ভর্তি ব্যাগটা ধরে পাথরের স্ট্যাচুর মতো দাড়িয়ে থাকল।
—oooXXooo—
![]()







