আশা
শুভ্র
সেদিন যখন মাটির প্রাণহীন মূর্তিটা জলে গলিয়ে,
কাঠামোটা একটা বট গাছের গোড়ায় রেখে ফিরছিলাম,সব ভুলিয়ে।
হটাৎ দেখি, মলিন কাপড়ে মোড়া, জীর্ণশীর্ণ, ধুলো মেখে দাঁড়িয়ে থাকা একটি জীবন্ত কাঠামো।
এক দৃষ্টে জরিপ করছে, গাছের গোড়ায় রেখে আসা সেই প্রাণহীন কাঠামো।
কৌতুহলী এই মন, যখন জানতে চাইল তাঁর জরিপের কারন।
বুঝতে পারলাম কোনও আশার বাণী জপছে, একটি সরল সাদা মন।
বলল;
-‘জানো, একদিন সব খিদে মিটে যাবে। নিশ্চিত মিটে যাবে।’
অবুঝ আমি ভেবেই চলি,
একদিন সব খিদে মিটে যাবে?
হয়ত , সব খিদে মিটে যাবে।
ক্যামন করে,কি ভাবে কতটা মিটবে
আদৌ কি মিটবে, না মিটলেই বা কি হবে?
– ‘নাঃ সেসব কিছু ভাবিনি।
বলতে পারো, কোনো প্রশ্নই রাখিনি।
শুধু মাত্র একটা বিশ্বাস আছে।
আঁধার মনে আশার আলো আছে।
দেখবে এই গ্রহের সকল দাতা,একদিন মিশে যাবে ।
মিশে গিয়ে মিটিয়ে দেবে সকল খিদে, সকলের খিদে।’
পুরানো দেওয়ালে গজিয়ে ওঠা বটে-র মতন,
বুঝলাম ঐ আশ্বাসটাই ওর মলম ক্ষত’র।
– ‘জানো! সেদিন তোমাদেরই একজন একটা খালি কাঠামো ফেলে রেখে যাওয়ার পর; তার থেকে দূগ্গা ঠাকুর বেরিয়ে এসেছিল।
আমার হাত নিয়ে নিজের হাতে
চোখে রেখে চোখ, মনে মনে সে আমাকে বিশ্বাস জুগিয়েছিল। বলেছিল,
“দেখিস, একদিন সব মিটে যাবে।
সবার খিদে, সব ব্যথাও মিটে যাবে।
যে’ভাবে কাটা ঘা-এর রস মাছি চেটে যাওয়ার পরেও।
নতুন চামড়া গজিয়ে,ব্যাথা ঢেকে দেয়।
সে’ভাবেই একদিন সব ব্যাথাও ঢেকে যাবে। নতুন কোন ওষধির ছোঁয়ায়।
যে’ভাবে কাটা গাছের গা-এর থেকে নতুন গাছ জন্মায়।
নতুন জীবনের আশায়।
সে’ভাবেই একদিন একটা রাতের পর নতুন দিন আসবে। কথা বলবে নতুন ভাষায়।
যে’ভাবে বাসার দ্বারে মা পাখি এসে বসলেই, ছানাগুলো মুখ বাড়িয়ে বেরিয়ে আসে।
খাবার পাওয়ার আশায়।
সে’ভাবেই একদিন একটা নতুন সূর্য আসবে।
সে’দিন মুষড়ে থাকা আজকের এই পৃথিবীটাও উঠে দাঁড়াবে।
নিজের জমে থাকা খিদে মেটানোর আশায়। ব্যাথা ভোলানোর আশায়।
দেখিস একটা দিন আসবেই। সেই দিন তোরা গল্প বলবি নতুন ভাষায়।”
—oooXXooo—
![]()







