নিউজ প্রতিবেদন, সন্তু চক্রবর্ত্তী: রাজ্যের সরকারি স্কুল এবং কলকাতা পুরসভা এলাকার বিদ্যালয়গুলির পড়ুয়াদের জন্য এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘ বছর ধরে রাজ্যের মিড-ডে মিলের মান, পরিচ্ছন্নতা এবং পুষ্টিগুণ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। বহুবার পাতে ‘অখাদ্য’ পরিবেশনের অভিযোগে সরব হয়েছেন অভিভাবকেরা। এবার সেই সমস্ত বিতর্কে স্থায়ী ইতি টেনে খুদে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল সরবরাহের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হলো আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সংস্থা ‘ইসকন’ (ISKCON)-কে।
সম্প্রতি এক বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বড় ঘোষণা করেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তের পর ইতিমধ্যেই কলকাতার ইসকন কিচেনে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সেখানে তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার পড়ুয়ার দৈনন্দিন সুষম আহার।
খুদেদের পাতে বৈপ্লবিক মেনু – কী কী থাকছে সাত্ত্বিক থালায়?
এতদিন মিড-ডে মিল মানেই ছিল বাঁধাধরা ডাল, ভাত কিংবা ডিমের ঝোল। কিন্তু ইসকনের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই মেনুতে এসেছে অভাবনীয় ভ্যারাইটি। ডায়েটিশিয়ান বা পুষ্টিবিদদের পরামর্শ মেনে তৈরি এই মেনু যেমন সুস্বাদু, তেমনই পুষ্টিগুণে ভরপুর। ইসকনের কিচেন থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পড়ুয়াদের পাতে পর্যায়ক্রমে পরিবেশন করা হবে:
-
গরম সুগন্ধী ভাত ও নরম হাত-রুটি
-
ভিটামিন ও প্রোটিন সমৃদ্ধ রাজমা ও সয়াবিনের সুস্বাদু তরকারি
-
খুদেদের প্রিয় পনিরের বিশেষ পদ
-
খাস্তা পাপড় ও পুষ্টিকর সালাড
-
হজমশক্তি বাড়াতে সুস্বাদু রায়তা
-
এবং শেষপাতে থাকছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী কলকাতার রসগোল্লা বা মিষ্টি।
হাতের স্পর্শহীন মেকানাইজড কিচেন – হাইজিনের নয়া নজির
কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধাবল্লভ দাস জানিয়েছেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে অনেক ধন্যবাদ যে তিনি কলকাতার বাচ্চাদের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানোর এই পবিত্র সুযোগ আমাদের দিয়েছেন। আমাদের মিড-ডে মিলের ধারণাটি সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে রান্নাঘর অত্যন্ত স্যানিটাইজড এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে চালিত।”
ইসকন কিচেনের বিশেষত্বগুলি হলো:
১. জিরো হিউম্যান টাচ (Zero Human Touch): রান্নার প্রতিটি প্রক্রিয়ায় মানুষের হাতের স্পর্শ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা হয়। কাটাকুটি থেকে রান্না—সবটাই হয় স্বয়ংক্রিয় মেশিনে।
২. অত্যাধুনিক বয়লার প্রযুক্তি: এখানে রান্নার জন্য বিশেষ বয়লার ব্যবহার করা হয়। সাধারণ আগুনে রান্না করলে খাবারের অনেক পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু বয়লারে বাষ্পের মাধ্যমে রান্না করায় শাকসবজি ও চাল-ডালের সমস্ত ভিটামিন ও প্রোটিন (Nutrients) অক্ষুণ্ণ থাকে।
৩. সুরক্ষিত সিলড কন্টেনার: রান্না শেষে প্রতিটি খাবার নির্দিষ্ট কন্টেনারে ভরে সিল করে সরাসরি স্কুলে পাঠানো হবে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা মাস্টারমশাইরা সিল পরীক্ষা করে তবেই তা ভাঙবেন। যদি কোনো কারণে সিল ভাঙা থাকে, তবে তা তাৎক্ষণিক ইসকন কর্তৃপক্ষকে জানানোর কড়া নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
এক নজরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য:
-
প্রারম্ভিক পর্যায়: প্রাথমিক ধাপে কলকাতা পুরসভা এবং সংলগ্ন এলাকার কয়েকশো সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের হাজার হাজার পড়ুয়া এই পরিষেবার আওতায় আসছে।
-
পুষ্টির মাত্রা: নতুন মেনুর মাধ্যমে প্রতিটি পড়ুয়া প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০০-৮০০ ক্যালোরি এবং ২০-২৫ গ্রাম প্রোটিন পাবে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
-
বর্জ্য হ্রাস: মেকানাইজড উপায়ে রান্নার ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৫-২০% খাদ্য অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞদের অনুমান।
শিক্ষা মহল ও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ইসকনের মতো বিশ্বস্ত সংস্থার হাতে এই দায়িত্ব যাওয়ায় রাজ্যের স্কুলছুটের সংখ্যা যেমন কমবে, তেমনই দূর হবে অপুষ্টির সমস্যা। শিশুদের মুখে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার তুলে দেওয়ার এই প্রয়াস নিঃসন্দেহে রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল।
#মিডডেমিল #ইসকন #শুভেন্দুঅধিকারী #সরকারিস্কুল #কলকাতা #পুষ্টিকরআহার #স্কুলশিক্ষা #পশ্চিমবঙ্গ #শিক্ষাখবর #ভাইরালনিউজ
#MidDayMeal #ISKCON #SuvenduAdhikari #KolkataSchools #GovtSchoolFood #HealthyDietForKids #WestBengalNews #IskconKitchen #SchoolEducationWB #TrendingNews #GoogleDiscoveryViral
![]()







