“আমার দেবতা রবীন্দ্রনাথ”
নবকুমার চক্রবর্ত্তী (নবু)
প্রার্থনা করি প্রভু, তোমার চরণে—
মাটির ঘরে দীপ জ্বালো ক্ষণে ক্ষণে।
তুমি তো নও শুধু ফ্রেমের ভেতরে রাখা ছবি,
রক্তে আমার বইছো তুমি, আদিগন্ত রবি।
গানের সুরে আকাশ যখন হয় রে উদাসীন,
ঘুচে যায় গো মনের যত তুচ্ছ দেনা-ঋণ।
পাহাড়ের ওই মৌন ভিতে, সিন্ধু-কল্লোলে,
তোমায় খুঁজি নিভৃত এক হিজল তলা-তলে।
যেখানে মানুষ একলা কাঁদে ধুলোয় পড়ে একা,
সেখানেই তো বাড়িয়ে দাও হাত, সেখানেই দেখা।
পূজার থালায় নও গো তুমি, আছো মানুষের কর্মে—
বিবেক হারানো এই যুগে আর ভণ্ডুল সব ধর্মে।
জীবন মানেই অসমাপ্ত এক সুরের আসা-যাওয়া,
তোমার মাঝেই শেষ খেয়াটির শীতল পরশ পাওয়া।
শিখিয়েছ তো— মরণ মানেই শেষ কথাটি নয়,
সীমার মাঝে অসীমেরই নিত্য পরিচয়।
অহংকার মোর চূর্ণ করো কঠিন তর্জনে,
প্রার্থনা করি প্রভু, তোমার চরণে—
শান্তির ওই নীড় হয়ে থাকো আমার এই মনে,
বেঁচে থাকি যেন তোমার দেখানো দর্শনে।
**************
![]()







