মুখোশ ও মানুষ
নবকুমার চক্রবর্ত্তী (নবু)
কলকাতার শীতের একটা নিজস্ব গন্ধ আছে। ধুলো, পোড়া ডিজেল, সস্তায় কেনা ন্যাপথলিন আর মধ্যবিত্তের জমানো আভিজাত্যের গন্ধ। বালিগঞ্জ ফাঁড়ির কাছে ছোট্ট ফ্ল্যাটে স্বরিত সেই গন্ধটাই বুক ভরে নিচ্ছিল। রিটায়ারমেন্টের পর এই সকালের চা আর বারান্দার একচিলতে রোদ—এইটুকুই এখন তার সাম্রাজ্য।
স্বরিতের গর্বের জায়গা অবশ্য অন্য। তার ‘সার্কেল’। এই যেমন বিকাশ। বিকাশ দত্ত। শহরের নামী ডাক্তার, পলিটিশিয়ানদের সঙ্গে ওঠাবসা। স্বরিতের বাল্যবন্ধু। পাড়ার চায়ের দোকানে বসে স্বরিত প্রায়ই গলার শির ফুলিয়ে বলেন, “জানেন তো, কাল বিকাশের ওখানে ছিলাম। মিনিস্টার এসেছিলেন। আমার তো আবার ওসব হাই-প্রফাইলিং ভালো লাগে না, কিন্তু বিকাশ ছাড়ে না।”
শ্রোতারা সমীহ করে। মধ্যবিত্তের এই এক দুরারোগ্য ব্যাধি—অন্যের ক্ষমতার ছটায় নিজেকে আলোকিত ভাবতে এরা বড্ড ভালোবাসে। পরগাছার মতো অন্যের বটগাছ হওয়ার স্বপ্নেই এদের সুখ।
ঠিক উল্টো ফ্ল্যাটে থাকে তিতির। বছর বত্রিশের মেয়ে। একা থাকে। ডিভোর্সি। রাত করে বাড়ি ফেরে। মাঝে মাঝে ফ্ল্যাটে ছেলেরাও আসে—কলিগ হয়তো, কিংবা বন্ধু। কিন্তু স্বরিতের স্ত্রী সুতপা এবং পাড়ার স্বঘোষিত ‘কালচারাল কমিটি’র মতে—তিতির মেয়েটি সুবিধের নয়। “সমাজটা রসাতলে গেল,”—সুতপা প্রায়ই ভাতের পাতে নুন মেশাতে মেশাতে বলেন, যেন নুন নয়, মেয়েটার চরিত্রে কালি ছিটোচ্ছেন, “দেখেছো মেয়েটার চালচলন? গায়ে কেমন উগ্র পারফিউমের গন্ধ! ছিঃ!”
স্বরিত সায় দেয়। ভদ্রতার খাতিরে লিফটে দেখা হলে তিতির যখন হাসিমুখে “জেঠু ভালো আছেন?” বলে, স্বরিত গম্ভীর মুখে হুঁ-হাঁ করে পাশ কাটিয়ে যায়। পাছে ওই ‘খারাপ মেয়ে’র সঙ্গে কথা বললে তার তকতকে ইস্ত্রি করা আভিজাত্যে ভাঁজ পড়ে।
দিনটা ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারি। ভালোবাসা দিবস। শহরের বাতাসে লাল গোলাপ আর প্লাস্টিকের হৃদয়ের ছড়াছড়ি। ভণ্ডামির মোড়কে মোড়া এক অদ্ভুত উৎসব।
রাত তখন দুটো। কলকাতার ভদ্র পাড়াগুলো তখন গভীর ঘুমে, কিংবা ঘুমের ভান করে জেগে আছে। হঠাৎ সুতপার বুকে সেই ভয়ংকর চাপটা এল। বাথরুমের দরজায় একটা অস্ফুট গোঙানি দিয়ে পড়ে গেলেন তিনি। স্বরিত ধড়মড় করে উঠে বসলেন। সুতপা কথা বলতে পারছেন না, মুখ বেঁকে যাচ্ছে, হাত-পা ঠান্ডা। ম্যাসিভ স্ট্রোক।
স্বরিতের হাত কাঁপছে। মোবাইলটা হাতে নিয়ে প্রথমেই মনে পড়ল বিকাশের কথা। বিকাশ ডাক্তার। বিকাশ পাওয়ারফুল। বিকাশ বাঁচাবে।
প্রথমবার রিং হয়ে গেল। ফোন ধরল না।
দ্বিতীয়বার রিং। কেটে দিল।
তৃতীয়বার। ফোন সুইচ্ড অফ।
ক্ষমতার দম্ভ এভাবেই প্রয়োজনের সময় নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যায়।
স্বরিতের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। নিজেকে বড় অসহায়, বড় একা মনে হতে লাগল। অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর মনে পড়ছে না। হাতের আঙুল অবশ। সুতপা মেঝেময় বমি করে ভাসিয়ে দিয়েছেন, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। সত্তরোর্ধ্ব স্বরিত একা স্ত্রীকে তোলার চেষ্টা করলেন, পারলেন না। পাথর হয়ে যাওয়া শরীরটা যেন তার এতদিনের মিথ্যে অহংকারের মতোই ভারী।
দরজা খুলে করিডরে বেরিয়ে চিৎকার করলেন স্বরিত, “কেউ আছেন? একটু দেখুন না! আমার স্ত্রী…”
পাশের ফ্ল্যাটের শর্মা গিন্নি জানলার পর্দা সরিয়ে উঁকি দিয়ে আবার বাতি নিভিয়ে দিলেন। মাঝরাতে ঝামেলায় জড়াতে কে চায়? পুলিশ, হাসপাতাল, হ্যাপা—মধ্যবিত্তের কাছে বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার চেয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাটা বেশি স্বস্তির। এটাই তাদের তথাকথিত ‘প্রাইভেসি’, বা বলা ভালো—নিরাপদ নপুংসকতা।
হঠাৎ উল্টো দিকের দরজাটা খুলল। তিতির। পরনে একটা ঢিলেঢালা টি-শার্ট, চোখেমুখে ঘুমের রেশ।
“কী হয়েছে জেঠু?”
“তোমার জেঠিমা… কথা বলছে না…” স্বরিতের গলা দিয়ে স্বর বেরোচ্ছে না, শুধু বাতাস বেরোচ্ছে।
তিতির এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করল না। কোনো প্রশ্ন নয়, কোনো দ্বিধা নয়। দৌড়ে ভেতরে ঢুকল। সুতপার অবস্থা দেখেই বুঝল, সময় বালিঘড়ির বালির মতো ফুরিয়ে আসছে। নিজের মোবাইল থেকে কাউকে একটা ফোন করল, সোজা স্বরিতের ল্যান্ডলাইন থেকে পাড়ার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে নয়, একটা অ্যাপ-ক্যাবে ইমার্জেন্সি বুকিং দিল। তারপর স্বরিতকে ধমক দিল, “ওভাবে মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে থাকবেন না। ওনার প্রেসক্রিপশন আর ইনশিওরেন্স কার্ডের ফাইলটা নিন। এখনই।”
যে মেয়েটাকে স্বরিত ‘উগ্র’ বলতেন, সেই মেয়েটাই অবলীলায় সুতপার বমিমাখা শাড়ি বদলে দিল। নিজের গায়ের চাদর জড়িয়ে দিল সুতপার গায়ে। যেন মা তার অসুস্থ সন্তানকে সামলাচ্ছে। স্বরিত আর তিতির মিলে ধরাধরি করে লিফটে নামল।
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ওয়ার্ড। সরকারি হাসপাতাল। দালাল, ভিড়, ঘাম আর ট্রলির চাকার কর্কশ শব্দ। মৃত্যু এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে।
স্বরিত এখানে বড় বেমানান। তিনি ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে কলম খুঁজে পাচ্ছেন না। রিসেপশনের লোকটা রুক্ষ গলায় বলল, “টাকা জমা দিন আগে।”
স্বরিতের মানিব্যাগ বাড়িতে। তাড়াহুড়োয় আনা হয়নি। মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন তিনি। বিকাশকে আবার ফোন করলেন। সেই একই যান্ত্রিক স্বর— “আপনার ডায়াল করা নম্বরটি এখন ব্যস্ত আছে।” বন্ধুত্ব এখন ব্যস্ত, মানবতা এখন ‘আউট অফ কভারেজ এরিয়া’।
তিতির কাউন্টারে দাঁড়িয়ে ছিল। নিজের ক্রেডিট কার্ডটা বের করে দিল। “কত লাগবে? নিন। পেশেন্টকে আগে এডমিট করুন। টাকা মানুষের জীবনের চেয়ে বড় হতে পারে না।”
ভোর চারটে। সুতপা আই সি ইউ-তে। ডাক্তার বলেছেন, “আর পনেরো মিনিট দেরি হলে বাঁচানো যেত না।”
করিডরের স্টিলের বেঞ্চে বসে আছেন স্বরিত। তার দামি পাঞ্জাবিতে স্ত্রীর বমির দাগ। দাগটা পাঞ্জাবিতে নয়, লেগেছে তার বিবেকে। পাশে বসে আছে তিতির। তার চোখে কোনো ক্লান্তি নেই, আছে একটা অদ্ভুত মমতা। মেয়েটা স্বরিতের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় ধরে রেখেছে।
“জেঠু, চা খাবেন? এনে দেব?” তিতির জিজ্ঞেস করল।
স্বরিত তিতিরের দিকে তাকালেন। এই সেই মেয়ে, যার দিকে তাকালে সুতপা মুখ বাঁকাতেন। যার চরিত্র নিয়ে স্বরিত চায়ের দোকানে রসালো আলোচনা শুনে চুপ করে থাকতেন, প্রতিবাদ করতেন না। যাকে সমাজ ‘নষ্টা’ বলে। আজ সেই ‘নষ্টা’ মেয়েটাই তার সবটুকু ‘ভদ্রতা’র চেয়েও দামী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সকাল আটটা। সুতপার জ্ঞান ফিরেছে। বিপদ কেটে গেছে।
স্বরিতের ফোন বেজে উঠল। বিকাশ।
“হ্যালো অনি, আরে বলিস না, কাল রাতে মিনিস্টারের পার্টিতে ছিলাম, ফোনটা সাইলেন্ট ছিল। কী হয়েছে রে? বৌদি সিরিয়াস? কোন হাসপাতালে? উফ্, তুই ওই সরকারি হাসপাতালে গেলি কেন? আমাকে বলবি তো! আচ্ছা শোন, আমি এখন একটু বিজি, বিকেলে একবার রাউন্ডে যাওয়ার চেষ্টা করব। ডোন্ট ওরি, আমি সুপারিনটেনডেন্টকে বলে দিচ্ছি।”
স্বরিত ফোনটা কানে ধরে রইলেন। বিকাশের গলায় সেই পরিচিত আভিজাত্য, সেই মিথ্যে আশ্বাসের সুর। যে বন্ধুকে তিনি নিজের ‘স্ট্যাটাস সিম্বল’ ভাবতেন, সে আজ এক মুঠো ছাইয়ের মতো ফুঁ দিতেই উবে গেল।
ফোনটা কেটে পকেটে রাখলেন স্বরিত। পাশে তিতির বেঞ্চে মাথা এলিয়ে একটু ঝিমিয়ে পড়েছে। সারা রাত জাগা, হাসপাতালের গুমোট গরমে মেয়েটার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম।
স্বরিত নিজের রুমালটা বের করলেন। আলতো করে তিতিরের কপালের ঘাম মুছিয়ে দিলেন। মেয়েটা নড়েচড়ে উঠল, ঘুমের ঘোরেই স্বরিতের হাতের ওপর মাথাটা রাখল। যেন কতকালের চেনা। যেন বাবার কাঁধে মেয়ে।
রক্তের সম্পর্ক নেই। কোনোদিন ভালো করে কথাও হয়নি। সমাজ এই সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেবে না, হয়তো কাল সকালেই পাড়ার মোড়ে আবার ফিসফাস শুরু হবে— “দেখেছো, বুড়োটা ওই মেয়েটার সঙ্গে সারারাত হাসপাতালে ছিল!” ছিদ্রান্বেষী সমাজ তো ছিদ্র খুঁজবেই, কিন্তু আলো তো সেই ছিদ্র পথেই ঢোকে।
নার্স এসে ডাকল, “পেশেন্ট পার্টির কে আছেন?”
স্বরিত ওঠার আগে তিতির ধড়মড় করে উঠে দাঁড়াল, “আমি। আমি ওনার মেয়ে। কী লাগবে বলুন?”
‘মেয়ে’। শব্দটা হাসপাতালের সাদা করিডরে ধাক্কা খেয়ে স্বরিতের বুকে এসে বিঁধল। চোখে জল আসার কথা নয়, তিনি শক্তপোক্ত মানুষ। কিন্তু চশমার কাচটা ঝাপসা হয়ে এল। যে সম্পর্কগুলোর কোনো নাম নেই, কোনো সামাজিক সিলমোহর নেই—মানুষকে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কগুলোই বাঁচিয়ে রাখে।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসার সময় সকালের রোদ উঠেছে। কলকাতার আকাশ আজ একটু কম ধোঁয়াশাচ্ছন্ন মনে হচ্ছে। স্বরিত তিতিরের কাঁধে হাত রাখলেন।
মনে মনে বললেন, ‘ভালো মানুষ হওয়া কঠিন, মা। কিন্তু তুই তো মানুষ হয়েই জন্মেছিস, আমরাই শুধু ভদ্রলোক সাজার ভান করে গেলাম। আমরা মুখোশ পরে বাঁচি, আর তুই বাঁচিস শিরদাঁড়া নিয়ে।’
রাস্তায় বেরিয়ে স্বরিত দেখলেন, বিকাশ দত্তের বিশাল গাড়িটা হুশ করে বেরিয়ে গেল, জানলার কাচ তোলা। ভেতরে এসি চলছে। স্বরিত সেদিকে তাকালেন না। তিনি তিতিরের হাত ধরে রাস্তা পার হতে শুরু করলেন।
ফুটপাতে একটা ভিখারি বসে ছিল। স্বরিত পকেট হাতড়ে দেখলেন টাকা নেই। তিতির ব্যাগ থেকে দশটা টাকা বের করে লোকটার হাতে দিল।
স্বরিতের মনে হলো, এই শহরটা বেঁচে আছে বিকাশদের ক্ষমতায় নয়, তিতিরদের মমতায়।
বাস স্টপে দাঁড়িয়ে স্বরিত তিতিরকে বললেন, “বাড়ি ফিরে লোকে অনেক কথা বলবে রে মা। তুই আমার জন্য…”
তিতির হাসল। ম্লান, ক্লান্ত হাসি। বলল, “লোকে তো কত কথাই বলে জেঠু। ওসব কানে নিতে নেই। মানুষের বিপদে মানুষ যদি পাশে না থাকে, তবে আর মানুষ কিসের?”
স্বরিত চুপ করে রইলেন। তিনি জানতেন, কাল থেকে তিনি আর চায়ের দোকানে বিকাশের গল্প করবেন না। কাল থেকে হয়তো সুতপাও তিতিরকে দেখলে আর মুখ ঘোরাবে না। অথবা ঘোরাবে। মধ্যবিত্তের স্বভাব কি এত সহজে বদলায়? হয়তো দুদিন কৃতজ্ঞ থাকবে, তারপর আবার পুরোনো অভ্যাসে ফিরবে। ভণ্ডামিই তো এদের রক্ষকবচ।
তিতির এবার শান্ত গলায় বলল, “তুমি কী জানো জেঠু, তোমরা চায়ের দোকানে আমাকে নিয়ে যে কথা বলো সেটা ঠিক। আমি বেজন্মা। জীবনে মা-বাবাকে দেখিনি। আমাকে যিনি বড় করে তুলেছেন, তিনি আমাকে রাস্তার নোংড়া ভ্যাট থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন। তিনি আমাকে শিখিয়েছিলেন—যেদিন দেখব, তুমিও আমার মতো অন্যের বিপদে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছ, নিজের প্রিয়জন মনে করে, কোনো কিছু পাওয়ার আশা না করে—সেদিন বুঝব, আমি তোমায় প্রকৃত শিক্ষা দিতে পেরেছি। বাবার নাম না থাকলেও, আমার মানুষ হওয়ার পরিচয়পত্রটা অন্তত নকল নয় জেঠু।”
স্বরিতের পায়ের তলার মাটি সরে গেল। তথাকথিত শিক্ষার অহংকার আজ ওই মেয়েটার শিক্ষার কাছে মাথা নত করল। এই মুহূর্তটা সত্য। এই সকালটা সত্যি।
বাস আসছে। ভিড় বাস। কন্ডাক্টর চিৎকার করছে। জীবনের ইঁদুর দৌড় শুরু হয়ে গেছে।
স্বরিত বাসে ওঠার আগে তিতিরকে বললেন, “চল মা।”
তিতির অবাক হয়ে তাকাল। ‘মা’ ডাকটা স্বরিতের গলায় আগে কখনো শোনেনি।
স্বরিত বুঝলেন, ভালোবাসা কোনো শর্ত মানে না, সম্পর্ক কোনো রক্ত চায় না—শুধু একটা বাড়িয়ে দেওয়া হাত আর একটু বিশ্বাসের প্রয়োজন হয়।
বাসটা যখন ধুলো উড়িয়ে চলে গেল, তখনো বাতাসে একটা প্রশ্ন ঝুলে রইল— আমরা যাদের ‘আপন’ ভাবি তারা কি সত্যিই আপন? নাকি বিপদের দিনে অচেনা সেই হাতটাই আসল ঈশ্বর, যাকে আমরা সারা জীবন ‘অচ্ছুৎ’ করে রাখি?
বিখ্যাত সেই উক্তিটিই যেন আবার মনে পড়ে গেল—”মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ।” কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি আদৌ মানুষ চিনতে শিখেছি?
সমাপ্ত
![]()






