শ্রাবণ ও রবীন্দ্রনাথ
সুপর্ণা দত্ত
“শ্রাবণের ধারার মত পড়ুক ঝরে”–
গঙ্গা জলে গঙ্গা পূজায় তোমায় মনে পড়ে।
দিন-মাস-বছরের চিরাচরিত আনাগোনা,
তোমার ভাষায় তাদের যেন নিত্য নতুন জানাশোনা।
বঙ্গাব্দের চতুর্থ মাস আর শকাব্দের পঞ্চম মাস,
তোমার গানেই সবার মনে থাকে বারোমাস।
পুরাণ মতে সমুদ্র মন্থন ঘটেছিল এই শ্রাবণেই,
মনস্কামনা পূর্ণ হয় করলে আচার নিয়ম মেনেই।
এক অপরূপ নিসর্গ চিত্র নিয়ে মেঘেরা ভাসে স্বপ্নের বারান্দায়,
ডোরবেল বাজিয়ে বৃষ্টিরা বর্ষার আগমনের খবর জানায়।
কদম,কেতকী,কেয়া,কামিনী,জুঁই,বেল,হাসনুহানা,
সৌরভ সুগন্ধে,বর্ষার নিবিড় গুঞ্জরণে নেই কোনো মানা।
“গুরু গুরু গুরু গুরু ঘন মেঘে গরজে”–
গান বেঁধেছিলে তুমি স্বরগমের খরজে।
রূপসী বাংলা,সোনালী বাংলা হয়ে ওঠে সুজলা সুফলা,
নৌকার গলুই, জলের অবয়ব ফোঁটা,মৃদু তরঙ্গের সিম্ফনি তোলা।
শ্রাবণের ধারা পেয়ে প্রকৃতির সতেজ সজীবতা,
স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পেরিয়ে জৈষ্ঠ্যর দগ্ধতা।
রাজদুহিতার গলদেশে জ্বলজ্বলে হীরক নেকলেসের মতো,
গ্রামে-গঞ্জের পুকুর-খাল-বিল-নদী আছে যত-
তারই ডুবোচরে ভেসে থাকা বালিহাঁসের নির্জন ছায়া,
নদী কিনারে ফোটা আকন্দ অধরে বৃষ্টি কণা যেন অপরূপ মায়া।
নদী তীরে গাংশালিক,মাছরাঙা,ফিঙে,বকেদের ওড়াউড়ি,
প্রকৃতি প্রেমিকের মনের জানালার পাশে গীত-গুঞ্জন করে নিত্য ঘোরাঘুরি।
“পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে”- যেমন নাচে মন,
গ্রামে-গঞ্জের কাদামাখা পথঘাট বিপর্যস্ত করে জন জীবন।
সুরে ও ছন্দে শ্রাবণ আর তুমি মিলেমিশে একাকার,
কে কাহারে মুখরিত করো -বোঝার সাধ্যি আছে কার!
—oooXXooo—
![]()







