নিজেকে খুঁজে যাই
শ্রী নীলকান্ত মণি
কী জানি
কেন যেন মনে হয়
নিজেকে খুঁজে পেতে হলে
বারবার নিজেকেই খুন করতে হয়৷
যুগপৎ কে যেন আড়ালে থেকে
প্রশ্ন করে: যা বলেছো তুমি
ভেবে তা বলেছো কি!?
কেন নয়!?
এ সমাজ খুনি৷
রাষ্ট্রও খুনি৷
রাষ্ট্র কি সমাজ
আমি তো তার বাইরে নয়৷
আরো বড়ো কথা
আমার অস্তিত্ব যতোখানি
আমিও তো তার মধ্যেই থাকি
কখনো বা বাড়ি কখনো কখনো বা
কম পড়ে যাই৷ সর্বশেষ সীমা,
অনেক ভেবেছি আমি,
তার কোন নাড়াচাড়া নাই৷
নিজেকে নিজেই নিত্য এতো যে
ভাঙ্গি গড়ি
গত কালকের আমি মৃত
মৃত্যু প্রহর গোণে আজকের আমি
কে বা না তা জানি!
আলো অন্ধকার বাতাসের মতো
আকাশের মতো স্বভাবিক গতিবিধি তার৷
তাই বুঝতে পারিনি!
বুঝতে পারি না
কিভাবে নিয়ত আমি নিজেই নিজেকে
খুন করে যাই!
তাকে, তোমাকে এবং আমাকে নিয়েই
গড়ে ওঠা যে সমাজ,
রাষ্ট্র-ভূমি
রয়েছে ভাঙ্গা-গড়া তারও তাই!
যে নিভৃত ক্ষণ ধরে তার চলাফেরা
সহজে তা কারোর ই কি বোধগম্য হয়!?
প্রতি ক্ষণ একটু একটু করে
নিজেকে নিজেই সে হত্যা করে নির্দ্বিধায়
যুগপৎ তিলে তিলে নব কলেবরে
নিজেকে সে গড়ে
ঠিক একই ভাবে
যেভাবে নদী তার কূল ভাঙ্গে গড়ে
আপন সীমায়৷ তবু নদী থাকে গতিময়
লক্ষ্যে সে অবিচল রয়!
মনে হয়, তবে কি আমরা প্রত্যেকেই
কোন না কোন ভাবে, জানি বা না জানি,
এক একজন খুনের আসামী!?
কিভাবে না জানি ভাবে প্রত্যয়ী আমি
ব্যক্তি আমি যদিও বা নিজেকে নিজেই খুন করে,
সমগ্র যে আমি, তাকে খুন করে
তার এমন সাধ্য নাই!
‘সকল জনম ভ’রে
ও মোর দরদিয়া, কাঁদি কাঁদাই তোরে
ও মোর দরদিয়া৷৷
আছ হৃদয় মাঝে, সেথা কতোই ব্যথা বাজে
ওগো একি তোমার সাজে
ও মোর দরদিয়া৷৷
এই দুয়ার দেওয়া ঘরে আঁধার নাহি সরে
তবু আছো তারি ’পরে
ও মোর দরদিয়া৷৷’
—oooXXooo—
![]()







