“অধরা সুবিচার”
রণজিৎ মন্ডল
কাদম্বিনীর মৃতদেহ রানী হাটের শ্মশানে সৎকার করিতে লইয়া যাওয়ার পর দুই জন কাঠ আনিতে গিয়া ফিরিতেছে না দেখিয়া বাকি দুইজন নানা অছিলায় শ্মশান ত্যাগ করিয়া পালাইয়া ছিল। অতঃপর কাদম্বিনীর জ্ঞান ফিরিবার পর দেখিল সে শ্রাবনের অন্ধকার রাতে টিপ টিপ বর্ষার মধ্যে একটি ছোট ঘরের মধ্যে একা, তখন কিছু মনে করিতে না পারিয়া ঘর হইতে বাহির হইল এবং দেখিল জায়গাটি তার চেনা , নদী শুকাইয়া পু্স্করিণী , যেখানে অনেকবার পূণ্য স্নানে এসেছে। একটু ভাবিয়া বুঝিতে পারিল তাকে শ্মশানে আনা হইয়াছিল কি কারণে!
কিন্তু এখন সে কোথায় যাইবে, কে আশ্রয় দিবে ? শেষমেষ সে ঠিক করিল তার ছোটবেলার সই যোগমায়ার কাছে যাইবে। অন্ধকারে শ্রাবণ মাসের আকাশ কালো ঘন মেঘে আরো অন্ধকার হইয়াছে। হাঁটিতে শুরু করিল , অনেক কষ্টে পৌঁছেও গেল সই যোগমায়ার কাছে।
তারপর যাহা ঘটিয়াছিল তাহা অনেকেরই জানা।
বাঁচিয়া থাকিয়াও কাদম্বিনী যে জীবিত তাহা শত চেষ্টা করিয়াও প্রমাণ করিতে পারে নাই। অবশেষে বহু নির্যাতনের পর তাহাকে শ্বশুরের ভিটায় ভাসুর শারদাশঙ্করের প্রচ্ছন্ন মদতেই অন্তঃপুরের পুস্করিণীতেই ঝাঁপ দিয়া বলিয়া বুঝাইতে হইয়াছিল, ” এই দেখ আমি মরি নাই”, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিয়াছিল সে মরে নাই !
এই গল্পটির মধ্যেও লুকাইয়া আছে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে এখনো একটি অসহায় বিধবা মহিলার কি হাল হইতে পারে ! কারণ আজও বিধবা বিবাহ আমাদের উন্নত ও আধুনিক সমাজ মানিয়া লইতে পারে না। মেয়েরা এখনো কি সুবিচার পায়??
তাহা হইলে অভয়ার ঐভাবে মৃত্যু হইত না, তার পৈশাচিক মৃত্যুর সুবিচারও অধরাই থাকিত না!
—oooXXooo—
![]()







