“কোন এক শীতের দুপুর”
✍ সুমান কুণ্ডু
শীতের দুপুর। লেপটা টেনে নিয়ে একটু ঘুমোনোর ইচ্ছা জাগলো। অনেকগুলো কাজের চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরছে ফলতঃ আধো তন্দ্রা, আধো জাগরণে রয়েছি। দূরে শুনতে পেলাম সেই পরিচিত ডাকটা “শিল কাটাও ! শিল কাটাও !” কোন বিহার থেকে আগত দেহাতি মানুষ এখনো হাঁক দিয়ে জানান দিয়ে যাচ্ছে যে যতই সানরাইজ বা কুকমী গুঁড়ো মশলায় রান্না করো না কেন, শিলে বাটা মশলা এখনও একমেবাদ্বিতীয়ম। ডাকটা আস্তে আস্তে মিলাতে না মিলাতে একটা সাইলেন্সর বিগড়ে যাওয়া বাইক তার অস্তিত্ব জানান দিয়ে উৎকট শব্দ করে দুপুরের স্বাধীনতা চিরে মনে হল উত্তর থেকে দক্ষিণে বেরিয়ে গেল। নীচে এবারের শীতে জন্ম নেওয়া সারমেয় শাবকগুলো ঘোঁত ঘোঁত করে খেলায় ব্যাস্ত। একটা মশা অনেকক্ষণ ধরে বোঁ বোঁ করে জ্বালাচ্ছে। লেপটা ভালো করে মাথা ঢেকে শোয়ার চেষ্টা করলাম। বৃথা সেই প্রয়াস। বাড়ির পাশে নির্মীয়মান বহুতলে কেউ চীল চিৎকারে নির্দেশ দিচ্ছে, ” পাম্পটা বন্ধ কর”, “পাম্পটা বন্ধ কর”। মনে করিয়ে দিচ্ছে ভবিষ্যতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বালির বস্তার আড়ালে জলের বালতি পাহারা দেওয়ার সেই অতি ভয়ঙ্কর দৃশ্যটা। আবার একটু নিদ্রামগ্ন হওয়ার চেষ্টা। এবার পাশের বাড়ির টিভির আওয়াজ এবং সেই কিংবদন্তি কন্ঠস্বর। অদ্ভুত বাংরেজীন্দিতে কেউ কিছু বোঝানোর আপ্রাণ কৌশল করে যাচ্ছে। “মারি অরি পারি যে কৌশলে”। সভাতো অনেকক্ষণ আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা! তাহলে কি রিপ্লে? তাই হবে। নাহঃ আর ঘুমানো সম্ভব নয়। বেলা যে গড়িয়ে গেল সে খেয়াল আসতেই নড়ে চড়ে উঠে বসলাম। তারপর লিখতে বসলাম শীতের দুপুরের ইতিকথা। যাই, দেখি চা, কফি কিছু খাওয়া যায় কিনা? সান্ধ্যকালীন ডিউটিতে আবার বেরোতে হবে তো। সময় বহিয়া যায় জলের ধারারও ন্যায়।
–~০০০XX০০০~–
![]()







