ইচ্ছে করে
শ্রী নীলকান্ত মণি
আঁখি কূল ঘিরে
উন্মুখ ব্যথার মুকল
ফুল হয়ে ফুটে উঠবার
ফুরসত
পায় নাকো
প্রবল শৈত্য প্রবাহে৷
অবেলায় অনাদর সয়ে
ভূমি পরে তারা ঝরে পড়ে৷
ভূমি তারে বুকের উপর
যত্নে রাখে ধরে৷
ধরে পথ রেখা
ঋতু পর্যায়
ঋত স্বরে ঘোষণা করে
শীতের অবসান৷ গুটিগুটি পয়ে
বসন্তের আগমন ঘটে৷
বিশ্ব পটে নীলাম্বর আঁখি মেলে চাই৷
তার সে দ্যুতির আভায়
দখিণা মলয় বাতাস
বহে আনে
আশ্বাস৷ বৃক্ষ শাখা বক্ষ ভেদ করে
জাগে কিশলয়৷ উদ্বেলিত
বৃক্ষ হৃদয় অপেক্ষা
মুছে সব আক্ষেপ
মকুলের
উন্মেষ ঘটায়৷ পরিণত রূপ তার
ফুল হয়ে ফোটে৷ বিশ্বনিখিল সাথে
তবেই না তার পরিচয় ঘটে!
তারও আগে
গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে
ধরিত্রী-মাতৃ-বক্ষ হাহাকার
বন্য ক্ষুধায়
সূর্যালোক করেছিল পান৷
বরষার বারি বরিষণ
সিক্ত করেছিলো
কঠিন সে পৃ্থ্বী-পরাণ
তৃপ্ত হয়ে
সুগভীর
গোপন বক্ষ তলে
রেখেছিল তারে সঞ্চিত করে৷
শরৎ আবহ
অপরাহ্ণ আলো ছুঁয়ে
সোনার বলয় আঁকে অবুঝ সবুজ
সব পত্র অবয়বে৷
আগমনী গান ওঠে জেগে
জগৎ অর্ণবে৷ ধীর পদক্ষেপ
রচে অবকাশ৷ ধরে সেই ফাঁক
নিঃশব্দ হেমন্ত এসে
নিঃসীম আঁধার গগন পটে
তারা দীপ জ্বেলে ছিলো
রাত্রীর ললাটে৷
ইচ্ছে করে
বিষণ্ন
সে আনন ভালে
সস্নেহ চুমু দিই এঁকে
ছুঁয়ে দিই ব্যথা পারাবার
মুছে নিই কিছু ব্যথা তার৷
দূরের বাতাস হাহা রবে বহে
দেয় নাকো অবসর একটুও
যায় সরে সরে৷
সে আবহে
ইচ্ছেরা
নিদারুন অসহায় বোধ, না জানি
কেমন বা জানি ঘিরে ধরে
মন খারাপের
বাণী চিত্র আঁকে চিত্ত মাঝে
আচম্বিতে৷
বসন্ত
বাসন্তিক মন
দিগন্ত পেরিয়ে ছুটে চলে
সে অম্বর ছুঁতে৷
—oooXXooo—
![]()







