১৪ ই জুলাই, সল্টলেক বনবিতান, বিধাননগর, নিউজ ব্যুরো আমার আলো:
চলতি জুলাই মাসের ১৪ তারিখ বিধাননগরের সবুজঘেরা ‘বনবিতান’-এ অত্যন্ত সাড়ম্বরে সূচনা হলো রাজ্যভিত্তিক ‘অরণ্য সপ্তাহ ২০২৬’। পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রাজ্যজুড়ে সবুজায়নের পরিধি বাড়াতে এই মঞ্চ থেকেই এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ডাক দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী, চিফ সেক্রেটারি শ্রী মনোজ আগারওয়াল, স্বাস্থ্য বিভাগের মন্ত্রী শ্রী শারদ মুখোপাধ্যায় এবং বন দপ্তরের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল স্থানীয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। কচি-কাঁচাদের হাতে সবুজ চারাগাছ তুলে দিয়ে এই মেগা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
চলতি বছরে রাজ্যে ৭ কোটি চারাগাছ লাগানোর বিশাল লক্ষ্য
পরিবেশগত সাম্য বজায় রাখা এবং বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) প্রভাব কমাতে অনুষ্ঠানে বেশ কিছু বড় ঘোষণার সাথে ভবিষ্যতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে:
-
মেগা লক্ষ্যমাত্রা: চলতি বছরে রাজ্যজুড়ে মোট ৭ কোটি নতুন চারাগাছ রোপণের টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
-
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ: ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করতে প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে চারাগাছ বিতরণ ও তা পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
-
পূর্ববর্তী পরিবেশ অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ: অতীতে বন বিভাগের সঠিক দেখভালের অভাবে যেভাবে সবুজ ধ্বংস হয়েছে এবং পরিবেশের অবক্ষয় ঘটেছে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বনভূমি পুনর্গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
পরিবেশের সংকট ও সবুজের প্রয়োজনীয়তা
জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব এখন গোটা বিশ্বে দৃশ্যমান। ভারতের নগর এলাকাগুলোতেও এর প্রভাব পড়ছে ব্যাপকভাবে।
স্কুল পড়ুয়াদের হাত ধরে ‘সবুজ বিপ্লব’
সল্টলেকের বিদ্যালয়গুলির উদ্যোগ
বিধাননগরের স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহম দাস চারাগাছ হাতে পেয়ে জানায়,
“স্কুল থেকে আমাদের চারাগাছ দেওয়া হয়েছে এবং এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘বান্ধব বৃক্ষ’। আমরা বন্ধুরা মিলে ঠিক করেছি প্রতিদিন স্কুলে এসে এই গাছের পরিচর্যা করব। এটি কেবল একটি গাছ নয়, আমাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা।”
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের মনস্তত্ত্বে বৃক্ষরোপণ ও তা বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ববোধ তৈরি করতে পারলে আগামী দিনে বড় ধরনের পরিবেশ বিপর্যয় থেকে সমাজ রক্ষা পাবে।
ভবিষ্যৎ রূপরেখা – কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এই ৭ কোটি গাছের লক্ষ্য?
১. বন দপ্তর ও শিক্ষা দপ্তরের যৌথ উদ্যোগ: রাজ্যের প্রতিটি সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে বিনামূল্যে উন্নত প্রজাতির চারাগাছ পৌঁছানো হবে।
২. জিও-ট্যাগিং ও নজরদারি: রোপণ করা চারাগাছগুলোর টিকে থাকার হার (Survival Rate) বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে।
৩. জনভাগীদারিত্ব (Public Participation): সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশেপাশের ফাঁকা জায়গায় গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতে বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে।
#অরণ্যসপ্তাহ #পরিবেশরক্ষা #বৃক্ষরোপণ #সবুজবাংলা #বিধাননগর #বনবিতান #পরিবেশসচেতনতা #একপেড়মাকেনাম
#AranyaSaptaha #TreePlantationDrive #GreenWestBengal #Bidhannagar #EnvironmentProtection #EkPedMaaKeNaam #GoGreen2026 #Afforestation
![]()




