‘গয়না বেচে ঘর কিনেছি, এখন যাব কোথায়?’ দমদম ক্যান্টনমেন্টে রেলের উচ্ছেদের নির্দেশে তীব্র আতঙ্ক সাথে মানুষের ক্ষোভ।
বিশেষ প্রতিবেদন: একটিমাত্র সরকারি নোটিশ, আর তাতেই এক লহমায় রাতের ঘুম উড়ে গেল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের অন্তর্গত দমদম ক্যান্টনমেন্ট সংলগ্ন সুভাষনগর সুপার মার্কেট এলাকার হাজার হাজার মানুষের। গত ৯ই জুন, ২০২৬ তারিখে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের জারি করা একটি উচ্ছেদ নোটিশকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দমদম ক্যান্টনমেন্টের এই অতি পরিচিত বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় নেমে এসেছে চরম অন্ধকারের ছায়া। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এলাকা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভ, আতঙ্ক আর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ছোট-বড় ব্যবসায়ী সকলেই।
কী বলা হয়েছে রেলের নোটিশে?
শিয়ালদহ ডিভিশনের রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জারি করা নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, স্টেশন প্ল্যাটফর্ম, সার্কুলেটিং এরিয়া এবং রেলের জমিতে গড়ে ওঠা সমস্ত অননুমোদিত পার্কিং, বেআইনি দোকানপাট এবং অবৈধ দখলদারদের আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নিজস্ব জিনিসপত্র নিয়ে জায়গা খালি করে দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই নির্দেশ পালন না করা হলে, কোনো রকম অতিরিক্ত নোটিশ ছাড়াই রেল প্রশাসন নিজস্ব আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান (Eviction Drive) চালাবে এবং আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

আবেগ ও জীবিকার সংঘাত – “আমরা যাব কোথায়?”
সুভাষনগর সুপার মার্কেট কেবল মাত্র ইঁট-পাথরের কোনো কাঠামো নয়, এটি দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ব্যবসার মূল প্রাণকেন্দ্র এবং কয়েকশো পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এখানে মানুষ শুধু ব্যবসাই করছেন না, সপরিবারে বসবাসও করছেন।
এলাকাবাসীদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় এক বাসিন্দা চোখের জল মুছে বলেন, “আজ হঠাৎ শুনছি আমরা নাকি অবৈধ! বছরের পর বছর ধরে এখানে আছি। কেউ নিজের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে, কেউ বা স্ত্রীর গলার গয়না বন্ধক রেখে এখানে থাকার জন্য ঘর কিনেছেন, কেউ রুটিরুজির জন্য দোকান কিনেছেন। আজ এক ঝটকায় সব শেষ হয়ে যাবে? আমরা চোর-ডাকাত নই, সৎভাবে বাঁচতে চাই। আমাদের পুনর্বাসন না দিয়ে এভাবে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলা হলে আমাদের মরণ ছাড়া গতি নেই।”
এক নজরে সুভাষনগর সুপার মার্কেটের পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
-
আক্রান্তের সংখ্যা: এই নোটিশের জেরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০০-রও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী এবং বাসিন্দা চরম সংকটের মুখে।
-
অর্থনৈতিক কেন্দ্র: দমদম ক্যান্টনমেন্ট এলাকার অন্যতম প্রধান বাজার এটি, যেখান থেকে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার ব্যবসা হয় এবং দমদমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা করতে এখানে আসেন।
-
কর্মসংস্থান: এই মার্কেটের ওপর নির্ভর করে টিকে রয়েছে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের সংসার (যেমন- ভ্যানচালক, দিনমজুর এবং দোকানের কর্মচারীরা)।
আইনি জটিলতা ও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সাধারণত ভারতীয় রেলওয়ের ‘পাবলিক প্রেমিসেস (এভিকশন অফ আনঅথরাইজড অকুপেন্টস) অ্যাক্ট, ১৯৭১’ (PP Act) অনুযায়ী এই ধরনের উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চালানো হয়। কিন্তু মানবিকতার খাতিরে এবং এত বড় একটি জনবসতি ও দীর্ঘদিনের পুরনো বাজারকে এক লহমায় গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে রাজ্য সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ী সমিতি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন। তাঁদের সাফ কথা, রেলের উন্নয়নমূলক কাজের তাঁরা বিরোধী নন, কিন্তু কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা পুনর্বাসন ছাড়া এই উচ্ছেদ তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। আগামী দিনে এই নোটিশ প্রত্যাহারের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুভাষনগরের বিপন্ন মানুষগুলো।
এখন দেখার, শিয়ালদহ রেল বিভাগ মানবিক দিক বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আনে নাকি আগামী দিনে দমদম ক্যান্টনমেন্টে এক বড়সড় সংঘাতের রূপ নেয় এই উচ্ছেদ নোটিশ।
#দমদম #রেলউচ্ছেদ #সুভাষনগরসুপারমার্কেট #শিয়ালদহডিভিশন #পূর্বরেল #কলকাতালাইভ #পশ্চিমবঙ্গসংবাদ #ব্যবসায়ীক্ষোভ #DumDumNews #SabujSwapna #NewsAmarAlo
#DumDumCantonment #EasternRailway #SealdahDivision #EvictionNotice #SubhashNagarSuperMarket #KolkataNews #RailwayEvictionDrive #SaveOurShops #LivelihoodCrisis #BreakingNewsBengal
![]()







