বিশেষ সংবাদ প্রতিবেদন, কলকাতা (কালীঘাট): রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন এবং চরম নাটকীয় মোড়। বিধানসভার চাঞ্চল্যকর সই জালিয়াতি মামলার (Signature Forgery Case) তদন্তে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের ৩০-এর বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাসভবন সংলগ্ন এলাকায় হানা দিল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইডি (CID)। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের মূল চারতলা দলীয় কার্যালয়টি কর্ডন বা ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা করেন তদন্তকারীরা। ১৭ জন তুহোড় পুরুষ ও মহিলা অফিসারের একটি সুসজ্জিত সিআইডি টিম নীল রঙের বিশেষ জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে সেখানে পৌঁছালে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়।
সিআইডি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর সাথে সাথেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে নামানো হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। একযোগে মুখ্যমন্ত্রী ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা আধিকারিকদের সাথে সিআইডি কর্তারা কথা বলেন এবং পরিষ্কার জানান যে, সই জালিয়াতির উৎস সন্ধানে তারা পার্টি অফিসে তল্লাশি চালাতে চান।
তদন্তের মূল কারণ – বিধানসভার সই জালিয়াতি কাণ্ড ও অভিষেক প্রসঙ্গ
তদন্তকারী দল সূত্রে খবর, বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ নথিতে বা লেটারহেডে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এই বিতর্কিত সই-সাবুদের রেজোলিউশনটি এই কালীঘাটের পার্টি অফিসেই সম্পন্ন হয়েছিল।
মামলাটির অগ্রগতির জন্য সিআইডির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরপর তিনবার তলবের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে প্রতিবারই তিনি শারীরিক অসুস্থতা বা রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে গেছেন। দলীয় সূত্রের দাবি ছিল, তিনি চিকিৎসাধীন, অথচ গোয়েন্দাদের দাবি—তিনি সম্প্রতি দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইন্ডিয়া জোট’ (INDIA Alliance) এর বৈঠকে অংশ নিলেও ভবানী ভবনে হাজিরা দেননি।
২৫ মিনিটের তীব্র বাকবিতণ্ডা – সুভাশীষ চক্রবর্তী বনাম সিআইডি
সিআইডি দল যখন পার্টি অফিসে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ভেতর থেকে বেরিয়ে আসেন বেহালা পূর্বের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তথা আইনজীবী সুভাশীষ চক্রবর্তী। নিজেকে বর্তমান কার্যালয়ের ‘ভলান্টিয়ার ইনচার্জ’ হিসেবে দাবি করে তিনি সিআইডির তল্লাশিতে সরাসরি আপত্তি জানান। প্রায় ২৫ মিনিট ধরে সিআইডি আধিকারিকদের সাথে তাঁর তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা চলে:
-
সুভাশীষ চক্রবর্তীর যুক্তি: যার চিঠি বা সই নিয়ে তদন্ত (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়), তিনি বর্তমানে দিল্লিতে আছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে কীভাবে কার্যালয়ে তল্লাশি বা নথিপত্র ঘাঁটাঘাঁটি সম্ভব? তিনি সিআইডির কাছে অন্তত ২ দিনের সময় চেয়ে নেন।
-
সিআইডি আধিকারিকদের কড়া জবাব: গোয়েন্দারা পরিষ্কার জানান, এটি একটি অপরাধমূলক মামলার আইনসম্মত তদন্ত (Part of Criminal Investigation)। বারবার নোটিশ পাঠানো সত্ত্বেও যখন সহযোগিতা মিলছে না, তখন তদন্তের স্বার্থে এবং নথিপত্র লোপাট হওয়া রুখতে ‘প্লেস সার্চ’ বা নির্দিষ্ট স্থানে তল্লাশি চালানো তাঁদের আইনি অধিকার। কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির ওপর সার্চ অপারেশন থমকে থাকতে পারে না।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মোড়
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, শাসক দলের অন্দরে ক্ষমতা বা বিভাজনের যে সুপ্ত ফাটল নিয়ে জল্পনা চলছিল, তা এই ঘটনার পর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
সিআইডি এই মুহূর্তে তাদের পরবর্তী রণকৌশল নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে দফায় দফায় ফোনে কথা বলছেন। সুভাশীষ চক্রবর্তীর এই ‘আইনি বাধা’ বিষয়টিকে সিআইডি আদালতে ‘তদন্তে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা’ (Obstruction of Justice) হিসেবে তুলে ধরতে পারে, যা আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট শিবিরের আইনি অস্বস্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
#কালীঘাট #সিআইডিহানা #মমতাবন্দ্যোপাধ্যায় #অভিষেকবন্দ্যোপাধ্যায় #সইজালকাণ্ড #পশ্চিমবঙ্গরাজনীতি #ব্রেকিংনিউজ #নিউজআমারআলো #সবুজস্বপ্ন #CIDAuctionBengal
#KalighatCID #MamataBanerjee #AbhishekBanerjee #SignatureForgeryCase #WestBengalPolitics #BreakingNewsBengal #CIDInvestigation #TMC #KolkataNews #GoogleDiscoveryViral
![]()







