ফাগুন দিনের দখিনা বাতাস
শ্রী নীলকান্ত মণি
উপক্রমণিকা
জীবনের পথে
কিছু কিছু শব্দ থাকে—
অতি সাধারণ।
তবু একদিন
যখন সেই কণ্ঠগুলো আর শোনা যায় না,
তখন বোঝা যায়—
ওগুলোই ছিল
বেঁচে থাকার
সবচেয়ে মধুর আশ্রয়।
মা
মুখটা তোর
বড়ো শুকনো দেখি।
কোথায় ছিলি এতক্ষণ?
বেলা যে গড়িয়ে গেল—
কিছু কি খেয়েছিস?
হাতে পায়ে মুখে জল দিয়ে আয়,
ভাত বাড়ি—
দুজনে মিলে খাবো।
ঘরে ফিরলেই
এই কথাগুলোই বলতো মা।
নিঃশব্দ দুপুরে তার সেই ডাক
মনের ভেতরে
আজও বাজে।
জায়া
জানো, তোমাকে নিয়ে
আর তো পারি না!
কোথায় যে ঘোরো
টো-টো করে।
বেলা যে পড়ে এলো—
সে খেয়াল আছে?
দেখে তো মনে হয়
পেটে দানাপানি
কিছুই পড়েনি।
হাত পা ধুয়ে
শিগগির এসো—
খেতে হবে।
গিন্নীর সে মুখ ঝামটা—
তার মধ্যেও ছিল
মমতার নরম শাসন।
আজ হলো বহুকাল—
না বলে কয়ে
হঠাৎই
একদিন সে পাড়ি জমালো
নিরুদ্দেশে।
কন্যা
বাপি, এমন অনিয়ম করলে
শরীরটা টিকবে কি?
চা কি এখন খাবে—
নাকি পরে?
হাত মুখ ধুয়ে নাও।
তুমি তো আবার
গরম গরম ভাত খেতে ভালোবাসো।
এখনি হয়ে যাবে—
একটু বসো।
মেয়ের কণ্ঠে
অদ্ভুত এক পরিচিতি—
মনে হয় যেন
কোথাও আগে শুনেছি।
কিন্তু নিয়মের টানে
আজ সে
দূরের প্রবাসী।
______________
ফাগুন দিনের দখিনা বাতাস
মাতা,
জায়া,
কন্যা—
অভিধা শুধু পালটে যায়।
স্নেহ, প্রীতি, প্রেম, ভালোবাসা
সম্পর্কের বাঁধনে
একই সুরে
ফিরে ফিরে বাজে।
মধুর সে
স্নেহের শাসন—
সেই ধ্বনি
ইচ্ছে করে
কান পেতে শুনি।
ফাগুন দিনের
দখিনা বাতাসে
কখনো কখনো
ফিরে আসে
সে ফিসফিসানি।
উপসংহার
নাম বদলায়,
সম্পর্ক বদলায়—
স্নেহের ভাষা বদলায় না।
ফাগুনের দখিনা বাতাসে
আজও যেন ভেসে আসে—
“খেয়েছো?”
একা শূন্য মনের কাছে
তখনও
নীরবে
পরাজয় মানি।
—-oooXXooo—-
![]()






