পথহারা পথিক
(নেতাজির জন্মদিনে রক্তিম শ্রদ্ধাঞ্জলি)
অরবিন্দ নাহা
কতদিন আগে কার হাত ধরে
কোন মিছিলের সঙ্গে শহীদ মিনারে এসেছিল
মনে নেই মেয়েটির
গ্রামের নাম–ঘরবাড়ি কিছুই মনে নেই
শুধু অস্পষ্ট মনে পড়ে মায়ের মুখটা,
ভীড়ের চাপে সঙ্গীরা ছিটকে গেছে…….
সেদিন থেকেই মেয়েটি
বাড়ি ফেরার পথ
খুঁজছে—খুঁজেই চলেছে।
পথ চলতে চলতে কত লোকের
কাছে জানতে চেয়েছে
বাড়ি ফেরার পথ—কেউ খুঁজে দেয়নি
ফলে আশ্রয়স্থল হলো
শহরের ফুটপাথ ।
ক্রমে বড় হতে লাগল,
তারই মাঝে খুঁজে চলে সে
বাড়ি ফেরার পথ।
মেয়েটি ডাগর হয়েছে
ফলে এখন সব বোঝে সে
রাস্তায় তার গা ঘেঁষে গাড়ি দাঁড়ায়
আর উঠে পড়ে সে এক –একদিন
এক একটা গাড়িতে।
এখন আর খাবারের অভাব হয় না
ফেরার পথে পা— টলে প্রায়ই,
তবু তারি মাঝে
মায়ের মুখটা মনে পড়ে
ঘষা কাচের মত ঝাপসা।
একদিন প্রচন্ড ঝড় -বৃষ্টির রাতে
কোন গাড়ি এলোনা
নিজেকে বাঁচাতে দৌড় লাগালো
চওড়া রাস্তার বুক চিরে
আশ্রয় নিল
পাঁচ মাথার মোড়ে
এক পাথরের মূর্তির আড়ালে
মূর্তির পায়ে মাথা ঠুকে মেয়েটি বলল,–
আমাকে বাড়ি ফেরার পথ দেখাও হে মহামানব।
নেতাজির পাথুরে চোখে—-জলের ধারা,
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মূর্তিটি বলে উঠলো,-
আমি নিজেই যে পথ হারিয়েছি মা
আজ আমি দিকভ্রান্ত
জানিনা, আমাকে পথ দেখাবে কে,
বিকট আওয়াজে বাজ পড়তেই
তার আলোয় মেয়েটি দেখলো
তার ঈশ্বর নেতাজি ঠিক তারই মত কাঁদছে ।
—oooXXooo—
![]()







