” শুধু কবিতার জন্য “
শ্যামাপ্রসাদ সরকার
( শেষ পর্ব)
তুমিও বৃষ্টি
স্মৃতি চট্টোপাধ্যায় সমাদ্দার
আমি তোমায় বৃষ্টি নামেও ডাকতে পারি
সেই যে দিন তুমি ধরেছিলে আমার মধ্যমা দিয়েছিলে একটি চুম্বন সেদিন তো বুক জলে
দাঁড়িয়ে ছিলাম কালজানি নদীটির সুখে
একটুও হেলো নি তুমি আমি ও কাঁপিনি তোমার বুকে।
আজো রোজ বৃষ্টি ঝরে যেই রাতে তুমি এসো ঘরে
আমার তো বেবাক নষ্ট বলেছিলো পাড়া প্রতিবেশী
তবু তুমি আমাকেই নাও যখনি ঘুমিয়ে থাকি আমি।
দরজার হাতলে আছে তোমার সে ঘাম হাতের তালুতে
ছিলো যে , বৃষ্টি হলে জিভ দিয়ে দেখি উঠে আসে
তোমার সে নাম কনিষ্টা আঙুল কামড়াই নজর লাগে
না যেন তাই।
বৃষ্টি ভেজা সাদা জামাটিকে রোদ্দুরে দিই না আমি
ভুলে, আর্দ্র সুবাস আসে তাই ঝরে যাওয়া কদমের ফুলে। পাতা গুলো বৃষ্টি বুকে ধরে ভারি হয়ে নেমে
আসে হাতে, যতনে রাখি আমি তারে ঘুমহীন আষাঢ়ের রাতে…
………..
অনুধ্যানের আখরে-
কলমে – শ্যামাপ্রসাদ সরকার
কবির নাম স্মৃতি চট্টোপাধ্যায় সমাদ্দার। তাঁর লেখাটিতে একটা আশ্চর্য সহজিয়া বোধ আছে। খুব সংবেদী মনের মানুষ বলে উনিও জেনে গেছেন যে বৃষ্টির গান বা কবিতায় একটা নির্জনতার আমেজ আছে বলে তার কাছে নির্দ্বিধায় সমর্পণের ডাক শোনা যায়,
“আমি তোমায় বৃষ্টি নামেও ডাকতে পারি
সেই যে দিন তুমি ধরেছিলে আমার মধ্যমা দিয়েছিলে একটি চুম্বন সেদিন তো বুক জলে
দাঁড়িয়ে ছিলাম কালজানি নদীটির সুখে
একটুও হেলো নি তুমি আমি ও কাঁপিনি তোমার বুকে। “
এটাই তো সেই সর্বগ্রাসী অণ্বয়। যাকে খুঁজে নেওয়াটাই তো জীবন। মজার বিষয় হল এই যে তাকে সব আপাত সাধারণ্যে পাওয়া যায় বলেই সে সব মূল্যের দাবি ছেড়ে মানুষ-মানুষীকে এক অমূল্যের পথে টেনে আনে। সেখানে আর সব কিছুই স্তিমিত হয়ে যায়। জেগে থাকে শুধু দুখজাগানিয়া নিবিড় স্পর্শ।
“দরজার হাতলে আছে তোমার সে ঘাম হাতের তালুতে
ছিলো যে , বৃষ্টি হলে জিভ দিয়ে দেখি উঠে আসে
তোমার সে নাম কনিষ্টা আঙুল কামড়াই নজর লাগে না-
যেন তাই। “
আসলে তাকেই তো আমরা সাধারণ্যের ভীড়ে অজস্রবার হারিয়ে ফেলে আবার নতুন করে খুঁজতে বসেছি বারবার।
সেইসব রাঙা কামনার জ্বলনের শেষে সেই তো শেষমেশ আত্মদীপের শিখাটিকে একান্তে ডেকে এনে নির্মোহ করে উজার করি। সেই উদার অনন্ত আত্তীকরণের চিরন্তন নিখাদ সমর্পণের নামই হল জীবন।
ধন্যবাদ কবি!
–~০০০Xসমাপ্তX০০০~–
![]()







