“মিলনবার্তা”
✍ ডঃ রতনশ্রী ভিক্ষু
মানসিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা, কায়িক-বাচনিকভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ থাকতে গিয়ে মানসিক দ্বন্ধ তৈরী হয়। এর মুল কারণ হল নৈতিকতার মুল্যায়ন। নৈতিক অবক্ষয় সব রকমের মিলনকে স্তব্দ করে দেয়। বলাবাহুল্য উপরে উপরে মিলনের কথা আর ভিতরে ভিতরে স্বার্থসিদ্ধির নিমিত্ত অনৈতিক কার্য চালিয়ে গেলে ব্যক্তি, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেটা চিন্তা করে মিলন ভাবনা করা উচিত। লোকদেখানো মিলনের কোন প্রয়োজন থাকে না। সব থেকে বড় কথা হল,ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মিলনের উদ্যোগ নিলে মিলন অনর্থ হয়ে যায়। ভাবতে হয় যার জন্য মিলনের পরিকল্পনা সেই বিতর্কিত ব্যক্তিকে মুল জায়গা থেকে দূরে সরে যেতে হয়। পরবর্তীকালে মিলন সুদৃঢ় হতে কোন প্রকার বাধা থাকে না। বুদ্ধগণ বলেছেন,”সুখা সংঘস্স সামগ্গী,সমগ্গানং তপো সুখো”-অর্থাৎ সংঘসম্মেলন সুখকর, সামগ্রিকভাবে যে কোন কার্য সম্পাদন সুখকর। মানুষ এই ভাবনা সব সময় করতে পারে না। তাই মানুষ দুঃখী হয়, সমালোচিত হয়, নিন্দিত হয়। যদিও বুদ্ধ বলেছেন জগতে অনিন্দিত কেউ নেই।মানুষকেই দুঃখমুক্তির পথ খুঁজতে হয়। দুঃখমুক্তির পথ খুঁজতে গিয়ে কত মানুষ কত জন্ম পরিগ্রহ করেছে, তার কোন হদিস মেলে না।তাদের মধ্যে গৌতম বুদ্ধ এমন একজন মানুষ ছিলেন যিনি দুঃখমুক্তির পথ খুঁজতে গিয়ে আর্যঅষ্টাঙ্গিক মার্গ আবিষ্কার করেছিলেন।বুদ্ধের এই আবিষ্কৃত আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ অনুশীলন করে বহু মানুষ বিমুক্তিসুখ লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন।আজও অনেক মানুষ এই পথে দুঃখমুক্তি লাভ করতে সচেষ্ট।অথচ একশ্রেণীর মানুষ এই সত্যকে মানতে নারাজ।আর এরাই মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরী করছে। বিভেদগ্রস্ত মানুষ নানাবিধ দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে।সমাজে নানাবিধ রীতিনীতির প্রচলন হয়েছে মানুষকে সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত করার জন্য।যদি প্রচলিত সেইসব রীতিনীতি মানুষকে আতঙ্কিত করে, ভীতির সঞ্চার করে, সুশৃঙ্খল জীবনযাপনে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করে তাহলে সেইসকল রীতির প্রচলন মানুষের ক্ষতির কারণই হয়ে থাকে। যাদের এই বিষয়ে সচেতনতা নেই তাদের ভবিষ্যত বিপদসঙ্কুল। সংসারে কেউ বিপদগ্রস্ত হতে চায় না, সকলেই চায় সুন্দর জীবনযাপন করতে। এইজন্য সকল মানুষকে সত্য ও সুন্দরের পুজারী হতে হয়। নিজের চিন্তার পাশাপাশি অন্যান্যদের চিন্তা করা উচিত। সেক্ষেত্রে মানুষকে সংঘবদ্ধ হতে হবেই। অতীতেও সঙ্ঘবদ্ধ হওয়ার প্রযোজনীয়তা মানুষ অনুভব করেছে।বর্তমানেও মানুষকে সঙ্ঘবদ্ধ হতে হচ্ছে। সঙ্ঘবদ্ধতার প্রয়োজনে সমাজে খাঁটি মানুষের প্রয়োজন। দুঃচরিত্র, অসৎ, দুরাচারী,শঠ, প্রলোভনকারী,বিশ্বাসঘাতক মানুষের প্রয়োজন নেই। কারণ দূরাচারী মানুষ সমাজের মস্তবড় শত্রু।
–~০০০XX০০০~–
![]()







