নাবালিকা অপহরণ
বাসুদেব দাশ
পাঁচ বছরের মহিকা পহেলা বৈশাখ মায়ের সঙ্গে চড়ক মেলা দেখতে যায় অর্জুনপুর তালতলা শীব মন্দির মাঠে। মহিকা সবে ক্লাস ওয়ানে ভর্তি হয়েছে এবছর। মহিকার আইস ক্রিম খেতে খুব ইচ্ছা হয়। কিন্তু ঠান্ডা লাগার ভয়ে তার মা তাকে আইস ক্রিম খেতে দেয় না। তাই তার মনের ইচ্ছা মনের মধ্যেই তাকে দমিয়ে রাখতে হয় । চড়ক মেলার মাঠে অনেক আইস ক্রিমের দোকান দেখে মহিকার জিভে জল এসে যায়। সে আইস ক্রিম খাবার জন্য ছটফট করতে থাকে। মাকে জোরাজুরি করে কিন্তু মা তাকে আইস ক্রিম কিনে দেয় না। একজন দোকানদার বুঝতে পেরে তাকে হাতের ইশারায় তার কাছে ডাকে। দোকানদার ভেবেছে যে ওর মায়ের কাছে হয়তো আইস ক্রিম কেনার মত পয়সা নেই তাই সে আইস ক্রিম কিনে দিচ্ছে না। মহিকা মায়ের দৃষ্টি এড়িয়ে ঐ দোকানদারের কাছে চলে যায়। দোকানদার মহিকাকে বলে তুমি আইস ক্রিম খেতে খুব ভালোবাস ? মহিকা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বাচক সম্মতি জানায়। দোকানদার ওর কাছ থেকে ওর বাড়ী কোন জায়গায় তা জেনে নেয়। তারপর বলে কাল আমি তোমার বাড়ীর কাছে যাবো আইস ক্রিম নিয়ে তুমি তখন আমার কাছে আসবে আমি তোমাকে ভাল একটা আইস ক্রিম দেব। তোমার কোন পয়সা লাগবে না। এরপর থেকে মহিকা সারাক্ষণ ঐ দোকানদারের আইস ক্রিম নিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। পরের দিন ঠিক বিকাল বেলা ঐ দোকানদার আইস ক্রিমের গাড়ি নিয়ে আসে মহিকাদের পাড়ায়। একদম মহিকাদের বাড়ীর কাছে। এবার মহিকার প্রতীক্ষার অবসান হয়। মহিকা এদিক ওদিক একটু তাকিয়ে দেখে নেয় যে মা কোথায় আছে। যেই দেখে যে মা বাথরুমে ঢুকেছে ওমনি মহিকা দৌড়ে চলে আসে আইস ক্রিম ওয়ালার গাড়ির সামনে। আইস ক্রিম ওয়ালা ওকে দুটো বাড়ীর পড়ে একটু আড়ালে ডেকে নিয়ে গিয়ে একটা ভালো আইস ক্রিম দিয়ে বলে খাও। মহিকা আইস ক্রিম খেতে খেতে বিস্ময়ের চোখে তাকিয়ে থাকে আইস ক্রিম ওয়ালার মুখের দিকে। ভাবে আইস ক্রিম ওয়ালা খুব ভালো লোক। আইস ক্রিম ওয়ালা বলে আমি আবার কাল বিকালে এই জায়গায় আসবো। তুমিও ঠিক সময়ে চলে আসবে আমার কাছে। আমি কাল আরও ভালো একটা আইস ক্রিম দেবো তোমাকে। এই ভাবে
চলতে থাকে মায়ের চোখের আড়ালে মাকে ফাঁকি দিয়ে মহিকার আইস ক্রিম খাওয়া। এই ভাবে চলতে চলতে আইস ক্রিম ওয়ালার সঙ্গে মহিকার একটা ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে । মহিকার মনের মধ্যে একটা বিশ্বাস জন্ম নেয় আইস ক্রিম ওয়ালার উপর। আইস ক্রিম ওয়ালা মহিকার মনের মধ্যে জায়গা করে নিতে সফল হয়। তারপর এক দিন আইস ওয়ালা মহিকাকে বলে যে তুমি যদি আমার আইস ক্রিমের কারখানায় যাও তাহলে আমি তোমাকে আরও ভালো ভালো অনেক আইস ক্রিম দিতে পারবো। কারণ সেখানে তো প্রচুর আইস ক্রিম আছে।যেটা তোমার ইচ্ছা সেটাই তুমি খেতে পারবে। এরপর এক দিন সুযোগ বুঝে আইস ক্রিম ওয়ালা মহিকাকে তার কারখানায় ডেকে নিয়ে যায়। যে কারখানা থেকে সে আইস ক্রিম এনে বিক্রি করে।সেখানে নিয়ে গিয়ে আইস ক্রিম ওয়ালা মহিকাকে অনেক ভালো ভালো আইস ক্রিম খেতে দেয় । মহিকা তো ভীষণ খুশি। শেষের আইস ক্রিমটার মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিলো আইস ক্রিম ওয়ালা। সেই আইস ক্রিমটা খেয়ে মহিকা ঘুমিয়ে পড়েছিল। তখন ঐ আইস ক্রিম ওয়ালা ওকে আইস ক্রিমের কারখানা থেকে অন্য একটা বাড়ীতে নিয়ে যায়। ঐ বাড়ীর মালিক এবং মালকিন ছিল নিঃসন্তান। তাই তাদের একটা বাচ্চার দরকার ছিল। মহিকাকে ওরা সাট হাজার টাকা দিয়ে আইস ক্রিম ওয়ালা,’ মুকুরের ‘কাছ থেকে কিনে নেয়। কিছু সময় পর মহিকার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর মহিকা দেখে সে একটা সম্পূর্ণ অপরিচিত লোকের বাড়ীতে আছে। সেই আইস ক্রিম ওয়ালা,মুকুর নেই, তার মা বাবাও সেই বাড়ীতে নেই। এখানে সবাই তার অপরিচিত। সব কিছু তার অচেনা। মহিকা তখন কান্না জুড়ে দেয় মায়ের কাছে যাবার জন্য । কিছুতেই তার কান্না থামানো যায় না। বাড়ীর মালিক’ মধুব্রত ‘আর মালকিন ‘মনমিতা’ তাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। তাকে ভালো ভালো খাবার দেয়, আইস ক্রিম দেয় কিন্তু কোন কিছুতেই তার কান্না আর থামে না।
এদিকে মহিকা কাঁদছে আর অন্য দিকে মহিকাদের আসল বাড়ীতে তার মা বাবা কাঁদছে। এক দিন দু দিন অপেক্ষা করার পরও যখন মহিকা তার নিজের বাড়ীতে ফিরে এলো না তখন তার মা ‘মধুরিমা’ও বাবা ‘ মনন’ বাগুইআটি থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে মিসিং ডায়েরি করে তাদের এক মাত্র নাবালিকা কন্যা মহিকা অপহরণ হয়েছে বলে। মিসিং ডায়েরি পাবার পর পুলিশ জোর কদমে তল্লাশি চালাতে শুরু করে । মহিকার ফটো, বয়স,গায়ের,রং ও হাইট উল্লেখ করে সমস্ত থানায় সার্কুলার পাঠায়, খবরের কাগজে দেয় । কোন থানা মহিকার সন্ধান পেলে সঙ্গে সঙ্গে যেন বাগুইআটি থানায় জানায়।রাস্তার মোড়ে মোড়ে মহিকার ছবি দিয়ে হারানো প্রাপ্তির পোস্টার লাগায় পুলিশ । পুলিশ মহিকাদের বাড়ী এসে ওর বাবা মা কে সতর্ক করে বলে যায় যে মুক্তি পন চেয়ে যদি কোন ফোন আসে তবে তার ভয়েস রেকর্ড করতে হবে এবং সঙ্গে সঙ্গে থানায় ফোন করে পুলিশকে জানাতে হবে । হাজার হুমকিতেও ভয় পেলে চলবে না। আশা করি আপনাদের মেয়েকে আমরা সুস্থ শরীরে উদ্ধার করতে পারবো। এক দিন দু দিন তিন দিন যায় কিন্তু মুক্তি পন চেয়ে কোন ফোন আর আসে না মাহিকার বাবা মায়ের কাছে। এক সপ্তাহ চলে গেলো কিন্তু মুক্তি পন চেয়ে কোন ফোন এলো না ওদের কাছে। এরপর সবার মনে হতে থাকে যে মুক্তি পন পাবার জন্য হয়তো ওকে অপহরণ করেনি অপহরণকারীরা। অপহরণকারীরা হয়তো মহিকাকে বিক্রি করে দিয়েছে মোটা টাকা নিয়ে । সেটা হয় কোন নিষিদ্ধ পল্লীতে অথবা কোন পাচার চক্রের মাধ্যমে কোন নিঃশান্তান দম্পতির কাছে । দু সপ্তাহের মধ্যে পুলিশ মহিকার কোন হদিসই আনতে পারলো না। কোন স্ট্রিং ক্লুও পুলিশ সংগ্রহ করতে পারেনি এতো দিনে। শূন্য হাতে হাতড়ে বেড়াচ্ছে। মনন বাবুরা প্রতি দিন থানায় ফোন করে মহিকার খোঁজ নিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ কোন সন্তোষ জনক উত্তর দিতে পারছে না। পুলিশ হয়তো বিরক্ত হচ্ছে না ঠিকই কিন্তু ভালো রেজাল্টও কিছু হচ্ছে না। পুলিশের কাজটাই এরকম। এইভাবে এক দিন দু দিন করে এক সপ্তাহ এক মাস দু মাস করে অনেক গুলো মাস পার হয়ে চলে গেল কিন্তু মহিকার সন্ধান সেই অতল জলের তলাতেই রয়ে গেল। কোন খুশির খবর তো দূরের কথা পুলিশ কোন পথের দিশাই দেখাতে পারছে না। ভুল পথে চক্র বুহের মধ্যে ঢুকে শুধু ঘুরপাক খাচ্ছে। অপহরণের কিনারা করতে পারছে না। এই ভাবে আস্তে আস্তে কালের ভারে চাপা পড়ে স্থিমিত হয়ে যাচ্ছে মহিকার অপহরণের কেসটা। একটা একটা করে মহিকাকে ফিরে পাবার সব কটা রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একটু একটু করে সইতে সইতে সয়ে যায় সন্তান হারানোর ব্যথা। সন্তানকে ফিরে পাবার আশাই মন থেকে হারিয়ে যায় এক সময়।ব্যাথার তারটাই ছিড়ে গেছে ঘর্ষণে ঘর্ষণে ক্ষীণ হয়ে গিয়ে। দৈনন্দিন জীবন যন্ত্রনার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে মহিকার বাবা মা কালের নিয়মে ভুলে যাচ্ছে মহিকার কথা । মনের মধ্যে জমা হয়ে থাকা মহিকার স্মৃতি আজ আর বুদ বুদের মত ফুলে ফুলে ওঠে না। ফিকে হয়ে যাচ্ছে স্মৃতির পর্দায় ধুলাবালি জমে । সময় যেন কিভাবে সব কিছু লেভেল করে দেয়। নতুন বাবা, মধুব্রত আর মা, মনমিতা মহিকার খুব যত্ন নেয়। খাওয়া দাওয়া, পোষাক আশাক, সুস্থ-অসুস্থ ভালো লাগা খারাপ লাগা সব বিষয়ে খেয়াল রাখে। শুধু পড়াশোনার জন্য স্কুলে যেতে দেয় না। পড়াশোনা যা করার তা ঘরে বসেই তাকে করতে হয়। মেয়েকে বাইরে বের করতে সাহস পায় না মধুব্রত আর মনমিতা। কোথা দিয়ে কি খবর ছড়িয়ে পড়বে ডাল পালা মেলে সেই ভয়ে। মহিকা ওদের সন্তান না থাকার যন্ত্রনা ভুলিয়ে দিয়েছে তাই মহিকাকে তার নতুন বাবা মা মেয়ের মত করেই ভালোবাসে এবং মানুষ করার চেষ্টা করে। মহিকার কোন অভাব অভিযোগ ওরা রাখে না। সব কিছুই গুরুত্ব দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করে।
এই ভাবে আমোদে আহ্লাদে মহিকার জীবনের প্রায় সাত আট বছর কেটে যায় নতুন মা বাবার বাড়ীতে । মহিকার বয়স এখন বারো। মহিকা নতুন বাবা মায়ের আদর যত্ন ভালোবাসা পেয়ে বড় হতে থাকছিল । হঠাৎ করে মনমিতা, মহিকার নতুন মা প্রেগন্যান্ট হয়ে পড়ায় মহিকার জীবনে কাল বৈশাখীর তাণ্ডপ শুরু হয়ে যায়। মহিকার জীবনে নেমে আসে কাল ভৈরবীর খাঁড়া । এই প্রেগন্যান্সি যেন উড়ে এসে জুড়ে বসার মত একটা বিষয় । কারণ মনমিতার স্বামী মধুব্রত বাবু অজুস্পর্মিয়ার পেসেন্ট। ওনার বীর্যে শুক্রাণু নেই। মেডিক্যাল টেস্টের রিপোর্টে ওনার এই দুর্বলতা ধরা পড়েছে। বহু দিন চিকিৎসা করিয়েছেন কিন্তু কোন সুফল পাওয়া যায় নি।এটা নিশ্চিত হবার পর ওরা সিদ্ধাত নেয় যে ঐ ইস্ত্রি ওয়ালা মাধুর্যকে টোপ দিয়ে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে সন্তান জন্ম দেবার কাজটা হাঁসিল করে নিতে হবে। সেই অনুযায়ী ওরা মাধুর্যকে বলে বাড়ী এসে জামা কাপড় নিয়ে যেতে আর ইস্ত্রি করা হয়ে গেলে আবার বাড়ী এসে ফেরত দিয়ে যেতে। প্রেগন্যান্সি এসে গেলে সবার মধ্যে প্রচার করে দিতে হবে যে এটা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার সুফল। তবে এই ধারনাও যে কতটা সফল হবে সেটা নিঃসন্দেহ করে কিছু বলা মুশকিল। তা যা হোক ওরা বুঝে নিল যে এত দিনকার চেষ্টায় সারা দিয়ে এই ব্রণ জন্ম নেয় মনমিতার পেটে। এটা ওদের নিজেদের সন্তান। নিজেদের সন্তান আসার বার্তা পেয়ে খুশির জোয়ারে ভেসে যায় মনমিতা আর মধুব্রত। সাফল্যের স্বপ্নে ওরা বিভোর হয়ে থাকে সব সময় । আর ততটাই তাচ্ছিল্যর তীর বর্ষিত হতে থাকে মহিকার উপর । এরপর থেকে মহিকার জীবনে শুরু হয় একটা কালো অধ্যায়ের পর আর একটা ঘন কালো অধ্যায়। তার উপর শুরু হয় অকল্পনীয় শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার। পালক বাবা মায়ের আদর যত্ন পেয়ে নিজের যে বাবা মাকে সে একটু একটু করে ভুলে গিয়েছিল সেই বাবা মায়ের কথা এখন আবার বার বার তার মনে আসতে থাকে। তার চোখের কোল ফেটে জল বেরিয়ে এসে গাল বেয়ে জলের স্রোত নেমে এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে তার পোষাক। বুক ফাঁটা অন্তর ভেদি বোবা কান্না কেউ শুনতে না পেলেও তার অন্তর যামি ঠিক শুনতে পাচ্ছে। তার উপর যে নিষ্ঠুরতা হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। বাড়ীর যাবতীয় কাজ কর্ম মহিকাকেই করতে হয়। থালা বাসন মাজা, কাপড় চোপড় ধোঁওয়া, ঘর মোছা, চা করা রান্না বান্না করা ইত্যাদি। মনমিতার অসুস্থ শরীরের যত্ন নেওয়া সব কাজ ওকে একাই করতে হয়। আর একটু এদিক ওদিক হলেই ঝাঁটার বারি আর জুতোর মার চুলের মুঠি ধরে টানা হ্যাচড়া করা কোন কিছুই বাদ যায় না। এতো কাজের বিনিময়ে খাবার মিলতো অতি সামান্য একটু । জ্বর জ্বালা অসুখ বিশুখ হলেও কাজের হাত থেকে তার কোন রেহাই মিলতো না। এই নিষ্ঠুর বর্বরচিত যন্ত্রনা থেকে পারিত্রান পাবার জন্য মহিকা বেশ কয়েক বার পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেছিল কিন্তু প্রতি বারই ধরা পড়ে গেছে আর তাতে তার উপর অত্যাচারের মাত্ৰা আরও বেড়ে গেছে। এরপর মহিকা এই অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য তাদের বাড়ীর পাশের এক হিন্দুস্থানী ইস্ত্রি ওয়ালা ‘মাধুর্যর ‘সঙ্গে প্রেম করতে শুরু করে। ওরা দুজনে এক দিন হুট্ করে লুকিয়ে বিয়ে করে নেয়। বিয়ে করে মাধুর্য বৌকে নিয়ে ভাড়া বাড়ী পাল্টে অন্য একটা বাড়ী ভাড়া করে সেখানে গিয়ে ওঠে। ভাড়া বাড়ীটা একটু দূরেই নিয়েছে যাতে মধুব্রত বাবুরা তার সন্ধান না পায়। মনমিতারা আর মহিকাকে খুঁজে পায় নি । মনমিতারা মহিকাকে হারালো অত্যাচারের মাশুল দিয়ে । এই ভাবে পরিসমাপ্ত হয় মহিকার জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়ের অভিশপ্ত দিন গুলোর । মহিকার বিবাহিত জীবনের শুরুটা হয় ভোরের সূর্যোদয়ের মত নির্মল আলোতে। মহিকার স্বামী মাধুর্য সকাল আট টায় বাড়ী থেকে বেরিয়ে যায় ইস্ত্রির ঘুমটিতে আর বাড়ী ফিরে আসে রাত ন টায়। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে তার মধ্যে মহিকাকে মাধুর্যর জন্য ভাত রান্না করে দিতে হয় সঙ্গে দুপুর বেলা খাবার জন্য টিফিনও তৈরি করে দিতে হয়। হয় রুটি তরকারি আর নয় তো ছাতু মেখে কাঁচা লঙ্কা আর কাঁচা পিয়াজ দিয়ে দিতে হয়। তারপর দিনের এই দীর্ঘ সময় তাকে একাই বাড়ী থাকতে হয় । ইস্ত্রির ঘুমটি থেকে যা রোজগার হয় তাতে একটা নিন্ম বিত্ত পরিবারের মোটামুটি চলে যায় । ওদের ও তাই চলে যাচ্ছে। আর যাই হোক না কেনো ঐ সীমাহীন অত্যাচার তো আর সইতে হয় না। এটাই সব থেকে সুখের কথা। দুপুর বেলা শুয়ে শুয়ে মহিকা মাঝে মাঝে ভাবে যে কার জীবনের গতি পথ কিভাবে বয়ে যাবে তা আগে থেকে কেউ বুঝতে পারে না। এটাই বাস্তব জীবন। মহিকার তো আর আজকের জীবন হবার কথা ছিল না। অন্য খাতে বয়ে যেতে পারতো তার জীবন ধারা যদি সে আইস ক্রিম খাবার লোভ না করতে যেতো । সামান্য ভুলের জন্য আজ তার জীবনের গতি পথ বাঁক নিতে নিতে এই জায়গায় এসে পড়েছে। আরও কত বাঁক আছে তার জীবনের গতি পথে তা তার জানা নেই। নতুন সংসার জীবন ভালই চলছে। স্বামীর ভালোবাসা আর বিনা সংকোচে দু বেলা পেট পুরে খেতে পাওয়া আজ তার স্বর্গ সুখের মত মনে হয়। সেই নরক যন্ত্রণার কথা মনে পড়লে আজও তার শরীর কেঁপে ওঠে ভয়ে।
মনমিতা আর মধুব্রত তাদের সংসারে এক জন নতুন কাজের মেয়ে রাখে সব সময়ের জন্য মহিকার জায়গায়। কিছু দিন পর মনমিতার একটা পুত্র সন্তান জন্মায়। পুত্রের জন্মের পর থেকে ওদের মনে হতে থাকে যে এরপর কোন দিন যদি মাধুর্য, ঐ ইস্ত্রি ওয়ালা এই সন্তানের বাবা হিসাবে তার ছেলে বলে দাবি করে বসে । আমরা অস্বীকার করলে ও যদি ছেলের DNA টেস্ট করার কথা বলে তবে তো আমরা আইনত ফেঁসে যাবো। ইস্ত্রি ওয়ালাই এই পুত্রের বাবা হয়ে যাবে। তখন এই গোপন চক্রান্ত ফাঁস হয়ে যাবে। এছাড়া ও যদি দু দিন পর পর টাকা চেয়ে আমাদের ব্ল্যাক মেইল করতে থাকে তবে তো আমরা ওকে টাকা দিয়ে দিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাবো । তখন এই সব কারণে লজ্জায় আমাদের মাথা কাটা যাবে। আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী সবাই ছিঃ ছিঃ করবে। গায়ে যদি মাখতেই হয় তবে মৈশ্চারাইজার মাখবো লোকের কথা কেনো মাখতে যাবো । আর ডাক্তারের মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী মধুব্রত বাবু কোন দিনই সন্তানের বাবা হতে পারবে না এটা পরিষ্কার ভাবে বলা আছে । কারণ ওনার বীর্যে শুক্রাণু নেই। ডাক্তারি ভাষায় যাকে বলে অজুস্পর্মিয়া। তাহলে এই সন্তানের বাবা কে ? এই সব প্রশ্ন ওঠে যাবে। তখন সবাই সন্তানের বাবাকে নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করবে।সবাই জেনে যাবে সমস্ত লুকানো বিষয় গুলো । এই সব আগাম বিপদের হাত থেকে বাঁচতে হলে মাধুর্যকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়াই সব দিক দিয়ে ভালো। ওদের সব দুশ্চিন্তার অবসান হয়ে যাবে। এই সব সুখ স্বপ্নে ভেসে গিয়ে ওরা মাধুর্যকে না ফেরার দেশে পাঠিয়ে দেবার জন্য চক্রান্ত করতে থাকে। এই চিন্তা ভাবনা থেকে ওরা দু জন ভাড়াটে খুনির সন্ধান করে । প্রেগন্যান্সি আসার পর থেকে মনমিতা আর মাধুর্যর ডাকে সারা দেয় না। মনমিতা তাকে বলে যে এখন খুব সাবধানে থাকতে হবে। ঐ সব করলে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যা হবার তা হবে বাচ্চা ডেলিভারি হবার পর। বাচ্চা ডেলিভারি হবার পর মনমিতা আর মাধুর্যর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চায় না। এতে মাধুর্যর রাগ বাড়তে থাকে। সে ভাবে বাচ্চার স্বাদ মিটে গেছে তাই আর তাকে দরকার নেই । কারণ যে স্বাদ মাধুর্য পেয়েছিল মনমিতার কাছ থেকে সেটা পাবার জন্য তার মন ছটফট করতে থাকে। কিন্তু মনমিতা তাকে আর কোন রকম পাত্তা দেয় না। সে মাধুর্যকে এড়িয়ে চলে। এই সব কারণে ওদের মধ্যে একটা চরম রেষারেষি চলে আসে। মাধুর্য হুমকি দিতে থাকে যে সব ফাঁস করে দেবে বলে। একটা সময়ে এই ঝামেলা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় তখন সবার চিন্তার বাঁধ ভেঙে যায়। মধুব্রত বাবুরা বুঝে নেন যে সুপারি কিলার দিয়ে ওকে দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে নচেৎ বিপদ আছে। উনি ওনার গাড়ির গ্যারেজের কর্মচারীর কাছ থেকে বেতাব হক নামে এক জনের নাম ও পরিচিয় জানতে পারেন। তার মোবাইল নাম্বার নিয়ে তিনি বেতাবকে ফোন করে যোগাযোগ করেন। এই বেতাব হক শুকুর আলী এবং নিঝুম রহমানের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। শুকুর আলী এবং নিঝুম রহমানই হলো সুপারি কিলার। এরা সুপারি নিয়ে খুন করে। ওদের বাড়ী উত্তর প্রদেশের গাজীয়া বাদ নামে একটা গ্রামে। মধুব্রত বাবু বেতাবের কথা মত শুকুর আলীকে ফোন করে। শুকুর আলী কথা দেয় যে খুব তাড়াতাড়ি মাধুর্যকে ওরা উপরে পাঠিয়ে দেবে। তিন লাখ টাকায় রফা হয়। এক লাখ টাকা অগ্রিম নেয় আর বাকি টাকা কাজ শেষ হলে পাবে বলে কথা হয়। পরিকল্পনা মাফিক মনমিতা মাধুর্যকে এক দিন দুপুর বেলা তার বাড়ীতে আগের মত ডাকে। মাধুর্য ভয় মিশ্রিত আনন্দে দুপুর বেলা ঘুমটি বন্ধ করে ঐ বাড়ীতে যায়। আগের থেকে সব রেডি ছিল। শুকুর আলী আর নিঝুন রহমান বাড়ীর বিপরীত দিকের রাস্তা দিয়ে এসে ঘরের মধ্যে লুকিয়ে ছিল। মনমিতা আর মাধুর্য যখন শারীরিক মিলনের চরম তম মুহূর্তে পৌঁছে যায় ঠিক সেই সময় সুপারি কিলাররা ইলেকট্রিকের তার দিয়ে মাধুর্যর গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাস রোধ করে তাকে মেরে ফেলে। মারার পর ওর শরীরে মধ্যে অতিরিক্ত ডোজের এনাস্থেসিয়া ইনজেকশন করে ঢুকিয়ে দেয়। যেটা মধুব্রত বাবু অতি কষ্ট করে এনে রেখেছিল। যেহেতু তার ভাগ্নে হেলথ ডিপার্টমেন্টের কর্মী তাই এটা সংগ্রহ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়েছে। যাতে সবাই ভেবে নেয় যে ও আত্ম হত্যা করেছে। তারপর কয়েক ঘন্টা বাদে ওর ঘুমটির পাশে যে ইলেকট্রিক বাল্বটা ছিল সেটা ওরা কয়েক বার ঝাঁকুনি দিয়ে ওটাকে খারাপ করে ফ্যালে অর্থাৎ বাল্বটার ফিলামেন্ট কেটে যায় ফলে বাল্বটা আর জ্বলে না। এর ফলে জায়গাটা পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যায়। আর পাশেই আছে গাছপালা ঘেরা একটা বড় পুকুর। এসব থাকার কারণে ঐ জায়গাটার অন্ধকারের ঘনত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল। এরপর সুযোগ বুঝে মাধুর্যর ডেড বডিটা এনে ওর ঘুমটির পিছন দিকে ফেলে রেখে দিয়ে চলে যায় সুপারি কিলাররা। ঘুমটিটা বাইরে থেকে তালা বন্ধ করা অবস্থায় পড়ে থাকে। মাধুর্য সাধারণত রাত ন টায় বাড়ী ফিরে আসে কিন্তু সেদিন রাত ন টা পেরিয়ে দশটা এগারোটা বেজে যায় তবুও সে বাড়ী ফিরে আসে না। মহিকা স্বামীর চিন্তায় বাড়ীর সামনে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। মহিকাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখে ঐ ভাড়া বাড়ীর আরও দু এক জন জিজ্ঞেস করে , “বৌদি কি হয়েছে ? মাধুর্য দাদা কি বাড়ী ফিরে আসে নি ? ” মহিকা, “না ও আসে নি তাই খুব চিন্তায় আছি। ” রাত বারোটা বেজে যাবার পরও মাধুর্য বাড়ী ফিরে না আসায় ঐ বাড়ীর সব ভাড়েটেরা বাড়ীর সামনে জটোলা করতে শুরু করে। মহিকার মনের মধ্যে বিপদের বার্তা যেন ঢেউয়ের মত ফুলে ফুলে উঠছে। মহিকা আচ করতে পারে যে কিছু একটা অঘটন ঘটেছে। বিপদ যেন আর মহিকার পিছন ছাড়ছে না । মহিকার ভাড়া বাড়ীর কয়েক জন ঐ রাতে মাধুর্যকে খুঁজতে বেরিয়ে পরে। বাড়ীর মহিলারা মহিকাকে সান্তনা দিতে থাকে। যারা খুঁজতে বেরিয়েছে তারা প্রথমে রাস্তা ঘাট অলি গলি সব জায়গায় খোঁজ করে। তারপর এই দোকান সেই দোকানে খোঁজ করে তবুও তার দেখা পায় না। এরপর ওরা পুকুর ঘাটে যায়। পুকুরের জলে টর্চ ফেলে ফেলে খোঁজে কিন্তু সেখানেও পায় না। খুঁজতে খুঁজতে কোথাও না পেয়ে শেষে ইস্ত্রির ঘুমটির কাছে যায়। সেখানে অন্ধকারের মধ্যে টর্চের আলো ফেলতেই ওরা হতবম্ব হয়ে যায়। প্রথমে মনে হলো শুয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে । কেউ কেউ বলছে মদ বা গাঁজা খেয়ে পরে আছে মনে হয়। কাছে গিয়ে ঠেলা দিতেই মনে হলো অচৈতন্য হয়ে আছে। ভালো করে ধরে উঠিয়ে বসায় কিন্তু বসতে না পেরে পরে যায়। বুকের কাছে নাকের কাছে কান নিয়ে কোন রকম আওয়াজ পায় না ওরা। তখন ওরা তাড়াতাড়ি করে ভ্যানে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালের ডাক্তার বাবুরা ভালো করে পরীক্ষা করে বলে দেন যে পেসেন্ট মারা গেছে। হাসপাতাল থেকে থানায় ফোন করে পুলিশ ডাকে। আনন্যাচারাল ডেথ বলে পুলিশ কেস হয়। মৃত দেহ পোস্ট মর্টেম করতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মৃত্যুর কারণ জানার জন্য পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় পুলিশকে । পুলিশ স্বতঃপ্রণদিত হয়ে FIR করে খুনের তদন্ত শুরু করে দেয়।
তদন্তের শুরুতেই পুলিশ মাধুর্যর স্ত্রী মহিকার কাছে আসে । পুলিশ, “মহিকা দেবী আমরা অনুমান করতে পারছি যে আপনার মানসিক অবস্থা খুবই খারাপ আর সেটাই স্বাভাবিক । আপনার মনের মধ্যে শোকের স্তূপ জমে আছে। আপনার উপর দিয়ে যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে তাতে করে আপনার পক্ষে কথা বলা খুব মুশকিল। কিন্তু আমরা নিত্যন্তই অসহায়। মাপ করবেন তদন্তের স্বার্থে কয়েকটা প্রশ্ন আপনাকে না করলেই নয় । নাহলে আমরা খুনের তদন্ত শুরু করতে পারছি না। তবে বিশেষ কিছু জিজ্ঞেস করবো না আর খুব বেশি সময় আপনাকে আটকাবো না। ” মহিকা দেবী নিরুত্তর মাথা নীচু করে বসে থাকে। পুলিশ, “কে আপনার স্বামীকে খুন করতে পারে বলে আপনার মনে হয় ? ” মহিকা, “জানি না। ” পুলিশ, “আপনার স্বামীর কি কোন শত্রু আছে ?” মহিকা, “এ বিষয়ে আমি কিছু শুনিনি। ” পুলিশ, “কি কারণে আপনার স্বামী খুন হতে পারেন বলে আপনার মনে হয় ? “মহিকা, “স্যার আমার জানা নেই।” পুলিশ, “ওকে। আজ এটুকুই। পরে আবার আসতে হবে। আপনি শান্ত থাকুন আর ভাল থাকার চেষ্টা করুন। আমরা আছি আপনার দিবা রাত্রের প্রহরী । ” পুলিশ সেদিনকার মত চলে যায়। পুলিশকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে পোস্ট মর্টেম রিপোর্টের জন্য। দু দিন বাদে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট এসে পরে পুলিশের হাতে । রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে গলায় তার জাতীয় কিছু একটা দিয়ে পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে মারা হয়েছে মাধুর্যকে । মৃত্যুর পর এনাস্থেসিয়া প্রয়োগ করা হয়েছে অতিরিক্ত মাত্রায়। পুলিশ ওর ইস্ত্রির ঘুমটির চার পাশে অনেক খুঁজেও মার্ডার উইপন্স কিছু পায় নি। তার বা দড়ি জাতীয় কিছুই পরে ছিল না মৃত দেহের আশেপাশে। পুলিশ পুকুর পারে এবং পুকুরের জলেও তল্লাশি চালিয়েছে কিন্তু সেখানেও কিছু পায় নি। এনাস্থেসিয়ার শিশিও পড়ে ছিল না আশেপাশে।পুলিশের মনে হয় ঐ সব হয়তো খুনিরা সরিয়ে দিয়েছে। মৃতের পরিধানের পোষাক ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে এক্সামিন করার জন্য। সেই রিপোর্টটা আসা বাকি আছে পুলিশের কাছে। এপর্যন্ত পুলিশ কোন স্ট্রং ক্লু খুঁজে পায় নি যে তার উপর বেস করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে। এরপর পুলিশ ইস্ত্রির ঘুমটির আশেপাশের বাড়ীগুলোতে তল্লাশি চালাবে বলে ঠিক করে। ঘুমটি এলাকার অনেক গুলো বাড়ীতে পুলিশ হানা দিয়েছে কিন্তু ঐ সব বাড়ীর লোকজন কেউ কিছু বলতে পারছে না খুনের ব্যাপারে। মনে হচ্ছে মুখে কুলুপ এঁটেছে সবাই বেফাঁস কিছু বলে ফেলে ফেঁসে যাবার ভয়ে। প্রত্যেকেই বলে আমি কিছু জানি না। বলতে পারবো না যে কে ওকে মারলো আর কেনই বা খুন করেছে । আমাদের সঙ্গে কোন দিন কোন বিষয় নিয়ে ডিসপুট হয় নি। স্মুথলিই সব চলছিল। হঠাৎ করে শুনলাম যে মাধুর্য মারা গেছে। তবে আমাদের সঙ্গে কোন ঝামেলা না হলেও কারো কারো সঙ্গে তো অবশ্যই হতো । পরে আবার মিটমাটও হয়ে যেতো। অনেক বছর ধরে ও এখানে ইস্ত্রির কাজ করছে। এই ভাবে যে খুন হয়ে যাবে সেটা ভাবতে পারিনি। কার কার সঙ্গে ওর ঝামেলা হয়েছিল সে ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে চাইছে না । কেউ কিচ্ছু বলতে চায় না। এক জন বললো যে ওর বিষয়ে ভালো বলতে পারবে মধুব্রত বাবুরা। এতঃপর পুলিশ মধুব্রত বাবুর বাড়ী যায় জিজ্ঞাশা বাদের জন্য। পুলিশ টিমের দুজন লোক মধুব্রত বাবুদের বাড়ী সোজাসুজি পুকুর পারের ঝোপের মধ্যে থেকে এক মিটারের মত লম্বা একটা ইলেকট্রিক তারের টুকরো খুঁজে পায়। এই জন্য সন্দেহের তীর চলে যায় মধুব্রত বাবুদের বাড়ীর দিকে । পুলিশ মধুব্রত বাবুদের বাড়ী গিয়ে দরজায় নক করতে কাজের মেয়ে বিভা এসে দরজা খোলে। পুলিশ, “আপনি ? ” আমি এই বাড়ীর কাজের মেয়ে বিভা ।” পুলিশ, “এই বাড়ীর লোকদের কারোকে ডাকো। ” বিভা ভিতরে গিয়ে মধুব্রত বাবুকে বলে, “বাবু পুলিশ এয়েছে। ” মধুব্রত বাবুর মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে । মধুব্রত, “কি বলছিস রে, কি বলছিস ? পুলিশ ? পুলিশ কেনো আসবে ? “বিভা, “জানি না বাবু।” মধুব্রত, “আপনারা! কি ব্যাপার ? ” পুলিশ, “সেটা কি দরজায় দাঁড়িয়েই বলবো না কি ভিতরে গিয়ে বলবো ?” মধু, “আসুন স্যার আসুন। ” পুলিশ ঘরের ভিতর ঢুকে ডাইনিং হলের সোফায় গিয়ে বসে। “পুলিশ, ” আচ্ছা মধুব্রত বাবু আপনাদের এই বাড়ীতে কয়জন লোক বাস করেন আপনারা ? ” মধু, “কেনো বলুন তো ? ” পুলিশ, “আপনি কি ভয় পাচ্ছেন ?”মধু, ” না, তবে আমার বাড়ীর লোক সংখ্যা দিয়ে আপনাদের কি হবে ? “পুলিশ, “আপনার যদি কোন আপত্তি না থাকে তবে বলুন ? ” মধু, “আমি, আমার স্ত্রী মনমিতা,আমাদের ছোট্ট ছেলে আর কাজের মেয়ে বিভা এই চার জন। ” পুলিশ, “আপনাদের এখানে একটা খুন হয়েছে জানেন ?” মধু, “না স্যার। ” পুলিশ, ” জানেন না নাকি না জানার ভান করছেন ? সারা পাড়া জানে আর আপনারা জানেন না ?” মধু, ” কি সব বাজে কথা বলছেন স্যার।” পুলিশ, ” আপনি নিজেকে লুকোতে চাইছেন কেনো ? “মধু, “আমি মোটেই লুকোতে চাইছি না। “পুলিশ, “তাহলে আপনি ভয় পাচ্ছেন। “মধু, “আমি ভয়ও পাচ্ছি না আর লুকাতেও চাইছি না । আপনারা ভয় দেখাতে চাইছেন।”পুলিশ, “না আমরা খুনের তদন্ত করতে এসে যা জানার সেটাই জানতে চেষ্টা করছি । ” পুলিশ, “তা আমার বাড়ীতে কেনো ?” পুলিশ, “কেনো আপনার বাড়ীতে কি আসা বারুন আছে ? ” মধু,” না বারুন থাকবে কেনো। এখানে এসে আপনারা সময় নষ্ট করছেন। ” পুলিশ, “আমাদের সময় নষ্টের কোন বিষয় নেই। খুনের তদন্তই আমাদের মূল লক্ষ ” মধু, “আমার পিছনে পরে থেকে আপনারা আসল খুনিকে খুঁজে বের করার পথ ভুলে করে ফেলবেন । তাই আমার পিছনে অযথা সময় নষ্ট না করে আসল খুনিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা অরুন। সেটাই কাজের কাজ হবে।” পুলিশ, “খুনি মনে হয় আপনার নাকের ডগায় বসে আছে ? “মধু, “আমার নাকের ডগায় বসে থাকবে কেনো। যেখানে থাকার সেখানে আছে। ” পুলিশ, “আপনি তাহলে সেই জায়গাটা আমাদের দেখিয়ে দিন। তাহলে আমাদের এতো খুঁজে বেড়াতে হবে না।” মধু, “আমি কি করে দেখিয়ে দেব ? ” পুলিশ, “ঠিক আছে আজ যাচ্ছি তবে আবার আসবো। “
পুলিশ পুকুর পারের ঝোপের মধ্যে থেকে যে ইলেকট্রিক তারের টুকরোটা পেয়েছে সেটা ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল টেস্ট করার জন্য। তিন দিন পর তার রিপোর্ট আসে পুলিশের কাছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঐ তারের টুকরোর গায়ে ঘাম লেগে আছে। ঐ তারের টুকরোটাই ভিক্টিমের গলায় জড়িয়ে তাকে শ্বাস রোধ করে মারা হয়েছে। এবার পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে দেখতে চাইছে যে ঐ তারের টুকরোটার মত তার কোন কোন বাড়ীতে আছে। তার সন্ধান পেলেই খুনের তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে নেওয়া যাওয়া যাবে বলে পুলিশের অনুমান। পুলিশ ঐ টুকরোটা নিয়ে ঐ এলাকার বিভিন্ন বাড়ীতে তল্লাশি চালিয়ে দেখেছে যে দুটো বাড়ীতে ঐ তার ইলেকট্রিক লাইনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। একটা মেঘ কুমার ইন্দ্র বাবুর বাড়ী আর একটা মধুব্রত কর পাত্রের বাড়ী। এইবার পুলিশ খোঁজ করে যে রিসেন্টলি কার বাড়ীতে ইলেকট্রিক লাইনের কাজ হয়েছে। তার বাড়ীতেই অতিরিক্ত তার পড়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি।পুলিশের কাছে আর একটা খবর আসে যে গলির মুখে একটা CC ক্যামেরা আছে। এতো দিনে পুলিশের কাছে এক সঙ্গে অনেক গুলো খবরের সোর্স আসে যেগুলোর উপর দাঁড়িয়ে পুলিশ তাদের তদন্তকে সফল করতে পারবে বলে পুলিশের মনে হয়। এবার তদন্ত একটা নতুন মোড় নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে । অন্ধকারের মধ্যে দীর্ঘ দিন হাতড়ে মরার পর পুলিশের সামনে একটা আশার আলো দেখা দেয়। পুলিশ ইন্সপেক্টর আরাফুল সরকার তার মেঝো বাবুকে অর্ডার দেয় ঐ তারিখের CC ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে আসার জন্য। বড় বাবুর কথা মত মেঝো বাবু CC ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে আসে। CC ক্যামেরার ফুটেজটা আনলে জুম করে দেখা যায় যে খুনের দিন রাত ন টার দিকে একটা কালো এম্বাস্যাডার গাড়ি মাধুর্যর ঘুমটির কাছে এসে দাঁড়ায় এবং দুজন লোক একটা মানুষকে গাড়ি থেকে ধরাধরি করে নামায়। গাড়িটার নাম্বার প্লেটের দুটো লেটার কেউ যেন আঁচড়ে দিয়েছে। হয়তো নাম্বারটা যাতে পড়তে পারা না যায় তার জন্য এই ব্যবস্থা। পুলিশ এই নাম্বারটা বেলতলা মোটর ভেহিকেলসে পাঠায়। বেলতলা মোটর ভেহিকলস ওদের রেকর্ড ঘেঁটে গাড়িটা যার নামে রেজিস্টার করা আছে তার নাম ও ঠিকানা পুলিশকে জানিয়ে দেয়। পুলিশ ঐ নাম ঠিকানা নিয়ে মরুৎ কুমার বল এর বাড়ী খোঁজ করতে থাকে। পুলিশ খবর পায় যে মরুৎ কুমারের বাড়ী নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া টু তে। এক দিন ভোর বেলা যখন বাড়ীর কেউ ঘুম থেকে ওঠে নি সেই সময় পুলিশ মরুৎ কুমারের বাড়ী গিয়ে ডোর বেল বাজায়। বাড়ীর গৃহবধূ চোখ কচলাতে কচালাতে দরজা খোলে। খুলেই পুলিশ কে দেখে তার ভূত দেখার মত অবস্থা হয়। তিনি হকচকিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন “আপনারা ? ” পুলিশ, ” আপনি ? মরুৎ বাবু বাড়ী আছেন ?” “আমি মরুৎ বাবুর স্ত্রী মৃত্তিকা। হ্যাঁ উনি ঘুমাচ্ছেন। ” পুলিশ, ” সবাই ঘুমায়। ঘুমাতে পারি না শুধু আমরা। ওনাকে ডাকুন। ” মৃত্তিকা, ” কেনো ? ওনার হার্টের দোষ আছে। উনি এতো তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে পারেন না। ” পুলিশ, “যা করেছেন তাতে হার্টের দোষ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় দেখুন । “মৃত্তিকা, “উনি কি করেছেন ?” পুলিশ, “সেটা ভিতরে ঢুকে বলবো না কি দরজায় দাঁড়িয়ে লোককে শুনিয়ে চিৎকার করে বলবো ? ওনাকে ডাকুন ।” মৃত্তিকা না স্যার আসুন ভিতরে আসুন। এই সোফাটাতে বসুন। এতঃপর মৃত্তিকা মরুৎ কুমার বলকে ডাকতে চলে যায়। ঘরে সবাই ঘুমাচ্ছে তাই মৃত্তিকা আস্তে আস্তে মরুৎ বাবুকে ডেকে তোলে। মৃত্তিকা মরুৎ বাবুর কানে কানে ফিসফিস করে বলে যে বাড়ীতে পুলিশ এসেছে। মরুৎ বাবু, “পুলিশ, পুলিশ কেনো ? ” মৃত্তিকা, “তোমাকে ডাকছে। ” মরুৎ বাবু হন্ত দন্ত হয়ে বড় বড় শ্বাস নিতে নিতে পুলিশের সামনে এসে দাঁড়ায় । মরুৎ, “হ্যাঁ বলুন স্যার বলুন যে আমি কি অপরাধ করেছি যার জন্য এই কাক ভোরে আপনারা আমার কাছে ছুটে এসেছেন। ” পুলিশ, “এই নাম্বারের ব্ল্যাক এম্বাস্যাডার গাড়িটা আপনার ? ” মরুৎ,” হ্যাঁ স্যার, কিন্তু তাতে কি হয়েছে ? ” পুলিশ,” বলুন কি হয় নি। এই গাড়ির মধ্যে একটা ডেড বডি ছিল। ” মরুৎ, “কি বলেন কি স্যার ? “পুলিশ,” তা না হলে এই ভোর বেলা আমারা না ঘুমিয়ে আপনার বাড়ী নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসে বসে আছি ?” মরুৎ “আমি তো এ সব কিছু জানি না স্যার । ” পুলিশ, ” আপনি কিছু জানেন না বললে তো হবে না। আপনাকে তো জানতেই হবে। আপনি গাড়ির কাগজ পত্তর সব নিয়ে থানায় আসুন । ” মরুৎ বাবু তড়িঘড়ি গাড়ির সব কাগজ পত্তর নিয়ে থানায় এসে হাজির হন। পুলিশ গাড়ির কাগজ পত্র সব পরীক্ষা করে দেখেন যে সেগুলো সব ঠিক আছে। পুলিশ, “আপনার গাড়িতে ডেড বডি তুললো কে ? ” মরুৎ বাবু,” তাতো জানি না। “পুলিশ, “জানেন না না বলবেন না বলে ঠিক করেছেন ?” মরুৎ, ” না স্যার আসলে আমি কিছু জানি না তো কি বলবো। যা জানে গাড়ির ড্রাইভার জানে।” “পুলিশ,”আপনি, “ড্রাইভারের নাম ও ফোন নাম্বার দিন।” মরুন, ” আমার ড্রাইভারের নাম বাবলি জাঠি। ফোন নাম্বার……। ” পুলিশ বাবলি জাঠিকে ফোন করে থানায় ডেকে পাঠায়। বাবলি সঙ্গে সঙ্গে থানায় এসে হাজিরা দেয়। বাবলি,” আমাকে তলব কেনো স্যার ? পুলিশ,” তোর শরীরে কটা হাড় আছে ? হাড়ের সংখ্যা যদি ঠিক রাখতে চাস তো সব সত্য কথা বলে দিবি । নাহলে তোর কপালে দুঃখ আছে। তোর শরীরের হাড় এতো গুঁড়ো গুঁড়ো হবে যে এক্সরে মেশিন দিয়েও খুঁজে পাবি না। ” বাবলি,” স্যার আমি কি করেছি ? “পুলিশ,” তোর গাড়িতে ডেড বডি উঠলো কি করে ?” বাবলি,” স্যার আমি জানি না। ” পুলিশ, ” তোর গাড়ি তুই জানবি না তো কে জানবে ? তুই কি আমাদের উদুরপুর খিদিরপুর ভাবিস ?”বাবলি, “স্যার আমি সত্যিই কিছু জানি না। ” পুলিশ, “তুই কিছুই জানিস না তবে জানে কে ? তোর গ্যারেজের মালিক ? ” বাবলি, “স্যার আমি তো গাড়ি গ্যারেজে রেখে দিয়ে চলে আসি। একটা চাবি আমার কাছে থাকে আর একটা চাবি গ্যারেজের কর্মচারীর কাছে থাকে। আমি চলে আসার পর ঐ কর্মচারী গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের করে কিনা সেটা আমি জানি না।”পুলিশ,গ্যারেজের মালিকের ফোন নাম্বার দে। “পুলিশ গ্যারেজের মালিকের ফোন নাম্বার নিয়ে তাকে ফোন করে থানায় দেখা করতে বলে। গ্যারেজের মালিক তড়িঘড়ি করে থানায় ছুটে আসে। পুলিশ,” আপনারা নাম ? “
মালিক, “স্যার আমার নাম হুমায়ুন। স্যার আমার অপরাধ ? ” পুলিশ,” আপনার গ্যারেজে যে গাড়ি গুলো থাকে তার একটা চাবি গ্যারেজে থাকে ? “হুমায়ুন, “হ্যাঁ স্যার, তাতে কি অপরাধ ?” পুলিশ, “সেই চাবি দিয়ে আপনি বা আপনার কর্মচারী লোকের গাড়ি বের করে নানা অসামাজিক কাজকর্ম করে। ” হুমায়ুন,” আমার গ্যারেজের এরকম কোন রেকর্ড নেই স্যার। ” পুলিশ, “আপনি কি জেনে বলছেন না কি না জেনে বলছেন ? ” হুমায়ুন, “স্যার আমি জেনেই বলছি। “পুলিশ, “কিন্তু আমাদের কাছে খবর আছে যে আপনার গ্যারেজ থেকে গাড়ি বের করে তাতে করে ডেড বডি তুলে অন্য জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। ” পুলিশ, “আপনার কর্মচারীকে ডাকুন। ” অল্প সময়ের মধ্যে গ্যারেজের ঐ কর্মচারী থানায় এসে পরে। পুলিশ,”তোর নাম কি ? ” “স্যার আমার নাম সবুজ পয়রা। ” পুলিশ, ” সব ঠিকঠাক বলবি না হলে তুই নিজের পায়ে হেঁটে বাড়ী ফিরতে পারবি না। “সবুজ, “স্যার আমি কি করেছি ?” পুলিশ, “তুই মরুৎ বাবুর গাড়ি করে ডেড বডি নিয়ে ইস্ত্রির ঘুমটির পিছনে ফেলে এসেছিস। ” সবুজ, “স্যার আমি এ সব কিছু জানি না। আর আমি নিজে এই কাজ করিনি। ” পুলিশ, ” তুই করিস নি ? আমাদের কাছে খবর আছে যে তুই রাতে গাড়ি ভাড়া দিস। তোর পার পাবার রাস্তা নেই। তোকে বলতে হবে কে ঐ কাজটা করেছে । না হলে তোর খবর আছে। ” সবুজ, “স্যার আমি কিছু জানি না তো বলবো কেমন করে। ” ইন্সপেক্টর আরাফুল,” হাবিলদার ওকে হাত পায়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে ঝোলান তো ? তার পর ঐ ডান্ডা দিয়ে মারতে থাকুন যতক্ষণ না ও মুখ খোলে । ” সবুজ, মারবেন না স্যার মারবেন না। আমি বলছি স্যার বলছি। পুলিশ,” হ্যাঁ বল। “
সবুজ, “স্যার নিঝুম রহমান রাতের বেলা মাঝে মাঝে আমার কাছ থেকে একটু বেশি ভাড়ায় গাড়ি নিত আবার কাজ শেষ করে রাতের মধ্যে গাড়ি গ্যারেজে পৌঁছে দিয়ে যেতো। ও আমার অনেক দিনের পুরানো বন্ধু তাই আমি ওকে গাড়ি দিয়ে দিতাম। ঐ দিন নিঝুম এসে আমার কাছে একটা ব্ল্যাক গাড়ি চায়। আমি তখন মরুৎ বাবুর ব্ল্যাক এম্বাস্যাডার গাড়িটা ওকে দিয়ে দি। ও কাজ শেষ করে আমার পাওনা টাকা মিটিয়ে দেয় এবং গাড়ি রাত এগারোটার মধ্যে গ্যারেজে ঢুকিয়ে দিয়ে চলে যায় । তার পরের খবর আমি আর জানি না। ” পুলিশ,” তুই ওকে জিজ্ঞেস করিস নি যে এত রাতে গাড়ি নিয়ে গিয়ে ও কি করবে ? ” সবুজ, “হ্যাঁ স্যার জিজ্ঞেস করেছিলাম। ও বলে যে এক জন অসুস্থ লোককে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে । ইমার্জেন্সি আছে তাই গাড়িটা খুব প্রয়োজন। হাসপাতালের কথা বলায় আমি ওকে গাড়িটা দিয়ে দি। ” পুলিশ,” বন্ধুকে সাহায্য করেছিস এবার তুই সারা জীবন জেলে পঁচে মর। “সবুজ, “স্যার আমি তো কেবল বলীর পাঠা হয়েছি।”পুলিশ, “তুই তাহলে বলীর পাঠা না হয়ে বাঘ হয়ে যা । তুই ওদের ধরিয়ে দে।” সবুজ, “স্যার আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো ওদের ধরিয়ে দিতে। ওরা আমাকে বলীর পাঠা বানিয়েছে আর আমি ওদের ছেড়ে দেব ? একদম না। আমি ধরিয়ে দিয়ে তবেই থামবো। “পুলিশ, “এই তো বাহ্ কেমন বাঘ হয়ে গেছিস । ” সবুজ নিঝুমের নাম ঠিকানা ও মোবাইল নাম্বার পুলিশকে দিয়ে দেয়। আর পুলিশকে ওদের ঠেকে নিয়ে যেতে রাজি হয় । সবুজ পুলিশকে নিয়ে যখন নিঝুমদের ঠেকে যায় তখন সেখানে নিঝুমকে পায় না। নিঝুম গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঠেক ছেড়ে পালিয়ে গেছে । নিঝুমের বাড়ী আসামে। কিন্তু নিঝুম কোথায় যেতে পারে সেটা না জেনে যেখানে সেখানে খোঁজ করে ওকে পাওয়া যাবে না । নিঝুমের মোবাইলে ফোন করলে কিছুক্ষণ কুহ কুহ করে তারপর নট রিচেবেল বলছে। নিঝুমের সন্ধান পাওয়া ভীষণ কঠিন হয়ে যায় । এরপর পুলিশ সবুজকে CC ক্যামেরার ফুটেজ বের করে দেখায়। সেখানে গাড়িটা,দু জন লোক,একটা ডেড বডি সব দেখায়। সবুজ বুঝতে পারে যে ঐ গাড়িতে নিঝুম ছাড়া আরও একটা লোক আছে। সবুজ ভাবতে থাকে যে ঐ লোকটা কে । সবুজ বার বার মনে করার চেষ্টা করে ঐ লোকটাকে। সে চিনতে পারছে না কেন ? অনেক ক্ষণ ভাবার পর সবুজের মনে পরে যে ঐ লোকটা হলো শুকুর আলী ভাই। ওর বাড়ী ভাঙ্গরে, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায়। সবুজ জানে যে ওর বোনের বাড়ী আছে রাজারহাট রাই গাছিতে । সবুজ পুলিশকে নিয়ে রাই গাছি বোনের বাড়ী যায় শুকুর আলীর সন্ধান করতে। সেখানে গিয়ে শুকুর আলীকে পায় না। শুকুরের বোন বলে ভাইয়া এক বন্ধুকে নিয়ে এসেছিলো কিন্তু সকাল বেলা চলে গেছে। কোথায় গেছে সেটা তাকে বলে যায় নি। পুলিশ ভীষণ বিভ্রান্তিকর একটা অবস্থার মধ্যে পড়ে যায়। পুলিশ আবার মনমিতাদের বাড়ী যায় ফারদার ইনভেস্টিগেশন করতে। দরজায় নক করতে পরিচারিকা এসে দরজা খুলে দেখে পুলিশ। বিভা ভিতরে গিয়ে মধুব্রত বাবুকে বলে, “বাবু পুলিশ এয়েছে।” মধুব্রত, “আবার আপনারা ? আমাদেরকে মোটে তিষ্টতে দিচ্ছেন না। সমানে আমাদের পিছনে পরে আছেন। আপনারা আসল খুনিকে ছেড়ে কোন ভালো মানুষের পিছনে পরে থাকেন। আর এই জন্যই পুলিশের এতো বদনাম। ” পুলিশ, ” মনমিতা দেবিকে ডাকুন। ওনার কাছ থেকে আমাদের কিছু জানার আছে। ” মধুব্রত, “ওনার কাছ থেকে আবার কি জানার আছে ? যা বলার আমি তো তা বলে দিলাম । “পুলিশ,”ওনাকে ডাকবেন না কি আমরা অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট নিয়ে আসবো ?” মধুব্রত, ” ঠিক আছে ডাকছি। আপনারা আমাদের জীবনটাকে হারাম করে দিচ্ছেন। ” পুলিশ “আপনারা একটা তরতাজা মানুষকে মেরে ফেলতে পারলেন আর আমরা সেই খুনের তদন্ত করতে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবো না এটা কোন এথিকের মধ্যে পরে ? ” পুলিশের কথা শুনে মধুব্রত আর মনমিতা দুজনেই ভীষণ ভয় পেয়ে যান যদি ছেলের জন্মের সব গোপন রহস্য ফাঁস হয়ে যায় সে জন্য । যদি খুনের দায়ে ওনাদের যাবজ্জীবন হাজত বাস হয়ে যায়। তবে ওনাদের এতো কষ্টের, এত দ্বন্দ্বর সন্তান প্লাবনের জলে ভেসে যাবে খর কুটোর মত । যার জন্য এত অন্যায় এত পাপ কাজ সেই যদি ভেসে যায় তবে তাদের জীবনটাই তো বৃথা হয়ে যাবে । এই ভয়ে তারা সব সময় কুঁকড়ে গিয়ে গুটিসুটি মেরে পড়ে থাকে। যাই হোক শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে হবে এই সন্তানকে রক্ষা করার জন্য। তারপর যা হবার তা হবে। পুলিশ, “আচ্ছা মনমিতা দেবী আপনি মাধুর্যকে চিনতেন ? ” মনমিতা,” আমার চেনা না চেনার সাথে এই খুনের কি সম্পর্ক থাকতে পারে ? ” পুলিশ, “আপনার মতে সম্পর্ক না থাকলেও আমাদের মতে সম্পর্ক থাকতে পারে। দেখুন আমরা খুনের তদন্ত করতে এসেছি কার সঙ্গে কিসের কি সম্পর্ক আছে সেটা খতিয়ে দেখাই আমাদের কাজ। আপনি বলুন আপনি চেনেন কি চেনেন না ? “মনমিতা,” হ্যাঁ চিনতাম।” পুলিশ,” কিভাবে চিনতেন ? ” মনমিতা, “চিনতাম আমাদের জামা কাপড় ইস্ত্রি করে দেবার জন্য। ” পুলিশ, “ওকি আপনাদের জন্য উপকারি একজন ছিল ? ” মনমিতা,” উপকারী বলা ঠিক হবে না তবে আমাদের জামা কাপড় বাড়ী এসে নিয়ে যেতো আবার ইস্ত্রি করা হয়ে গেলে বাড়ী এসে দিয়ে যেতো। আর এর জন্য কোন এক্সট্রা টাকা পয়সা দাবি করতো না।”পুলিশ,” ভিতরে যখন আসতো তখন কি ওকে আপনি একটু চা বিস্কুট দিতেন ?” মনমিতা, “তার সঙ্গে এই খুনের সম্পর্ক কি ? “পুলিশ, “আছে,এই পর্যায়ে এসে সম্পর্ক কখনো মধুর হয় আবার কখনো তিক্ততার হয়। ” মনমিতা চিৎকার করে বলে ,” হ্যাঁ দিতাম তো কি ? ” পুলিশ, “আপনি রেগে হচ্ছেন কেনো ? আপনাদের মধ্যে সম্পর্কটা প্রথম দিকে বেশ ভালো ছিল তারপর খারাপ হয়ে যায় । তাই তো ? “মনমিতা, “জানি না।” পুলিশ, “ওর মারা যাওয়া আপনার খারাপ লাগেনি ? ” মনমিতা, “না লাগেনি। লাগার কথাও না। “পুলিশ, “ওকে কে মারতে পারে বলে আপনার মনে হয় ?” মনমিতা,”সেটা আমি কি করে বলবো ? ” পুলিশ, ” আপনার বাড়ীর পাশের ঝোপের মধ্যে থেকে ইলেকট্রিক তার পাওয়া গেছে। যেটা এই খুনে ব্যবহার করা হয়েছে।” এই কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গে মনমিতা একটু চমকে ওঠে। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে চোখ নামিয়ে বলে,” তাতে কি প্রমান হয় যে আমরা খুন করেছি ? কে কোথা থেকে ঐ তার ফেলে রেখে গেছে তা আমরা কি করে জানবো। ” পুলিশ, জানবেন, জানবেন। যখন অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট নিয়ে এসে হাত কড়া পড়িয়ে নিয়ে যাবো তখন সব জানবেন। তাই এখনো সময় আছে সব সত্য কথা বলে দিন। ” পুলিশের এই কথা শুনে মনমিতা ও মধুব্রতর মনের তটে একটার পর একটা সমুদ্রের ঢেউয়ের মত প্রশ্ন নিরন্তর আছড়ে পড়ছে। ওদের কণ্ঠস্বর নরম হয়ে যায়।
পুলিশ খোচোর মারফত খবর পায় যে শুকুর আলী আর নিঝুম বেলেঘাটার একটা বস্তিতে এসেছে। এখানে একটা ঠেকে বসে মদ খাচ্ছে আর জুয়া খেলছে। পুলিশ একটুও সময় নষ্ট না করে চটজলদি বেলেঘাটার ঐ বস্তিতে পৌঁছে যায়। দু ভ্যান পুলিশ পুরো বস্তিটাকে ঘিরে ফ্যালে । আট জন সশস্ত্র পুলিশ অফিসার দুজন করে ভাগ হয়ে বস্তির চারটা রাস্তা দিয়ে বস্তির ভিতরে ঢোকে। হঠাৎ করে পুলিশের পায়ের শব্দ পেয়ে শুকুর আলী আর নিঝুম জুয়ার আসর থেকে উঠে পালানোর জন্য দৌড় মারে কিন্তু দৌড়ে কিছুটা এগোনোর পরই পুলিশের সামনে পড়ে যায়। পালাবার সব রাস্তা বন্ধ। ওরা দুজনে দুটো গলির মধ্যে পুলিশের হাতে এক সাথে ধরা পড়ে যায়। এই পর্যায়ে এসে পুলিশ এই কেসের বিরাট বড় একটা ব্রেকথ্রু পেয়ে যায়। কেসটা সমাধানের রাস্তা পরিষ্কার হয়ে যায় পুলিশের সামনে। পুলিশ শুকুর আলী আর নিঝুম রহমানকে নিয়ে এসে থানার লক আপে ঢুকিয়ে দেয়। পুলিশ, “তোর নাম কি ?” “স্যার আমার নাম নিঝুম রহমান। ” পুলিশ, “তুই তো নামের বিপরীত দিকে চলিস। ” নিঝুম মাথা নীচু করে চুপ করে বসে থাকে। নিঝুম যেন সত্যি সত্যিই ঝিমিয়ে পড়েছে। পুলিশ,” তুই কি সব অপরাধ স্বীকার করবি না কি আমরা তোকে দিয়ে সব স্বীকার করিয়ে নেবো ? ” নিঝুম, “স্যার আমি কিছু করিনি। “পুলিশ,” আমরা যে সব জেনে গেছি সেটা কি তুই এখনো বুঝতে পারিস নি ?” নিঝুম, “স্যার আমি কিছু জানি না। “পুলিশ, “মাধুর্যকে খুন করে কত টাকা সুপারি পেয়েছিস ? আর কে এই সুপারি দিয়েছে ? তুই যদি বাঁচতে চাস তো সব সত্য কথা বলে দে। না হলে আমরা থার্ড ডিগ্রি দিয়ে তোর মুখ থেকে সব কথা বার করবো। ” নিঝুম,” স্যার তিন লাখ টাকা নিয়ে আমি আর শুকুর আলী মাধুর্যকে খুন করেছি। আমাদের বন্ধু বেতাব মধুব্রত কর পাত্র নামে একজনকে আমাদের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেয় । মধুব্রত বাবুর সঙ্গে মাধুর্যর ট্যাসেল চলছিল। তাই উনি চাইছিলেন মাধুর্যকে উপরে পাঠিয়ে দিতে। সেই জন্য উনি আমাদেরকে তিন লাখ টাকা সুপারি দিয়ে মাধুর্যকে পরকালে পাঠাবার চুক্তি করেন। পরিকল্পনা মত আমি আর শুকুর আলী আমাদের বন্ধু গ্যারেজ কর্মী সবুজের কাছ থেকে একটা ব্ল্যাক এম্বাস্যাডার গাড়ি হাসপাতালে যাবার নাম করে নিয়ে আসি। সবুজ সরল বিশ্বাসে গাড়িটা আমাদেরকে দিয়ে দেয়। সবুজ আমাদের অন্ধকার জীবনের বিষয়টা জানতো না। আমরা যে আন্ডার ওয়ার্ল্ডে নাম লিখিয়ে দাগি অপরাধী হয়ে গেছি সেটা সবুজ জানে না। খুনের দিন আমি আর শুকুর আলী আগের থেকে এসে মধুব্রত বাবুদের ঘরে খাটের নীচে লুকিয়ে ছিলাম। সেটা মাধুর্য জানতে পারেনি। তারপর মনমিতা দেবী মাধুর্যকে শারীরিক সম্পর্কের টোপ দিয়ে তাদের বাড়ীতে ডেকে নিয়ে আসে । ওরা দুজনে যখন শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয় সেই সময় আমি আর শুকুর আলী খাটের তলা থেকে বেরিয়ে এসে গলায় ইলেকট্রিক তার জড়িয়ে শ্বাস রোধ করে মাধুর্যকে মেরে ফেলি। সেটা চাপা দেবার জন্য ওর শরীরে অতিরিক্ত ডোজের এনাস্থেসিয়া ইনজেকশন করে ঢুকিয়ে দেই। যাতে সবাই মনে করে নেয় যে মাধুর্য আত্ম হত্যা করেছে। মারার ঘন্টা তিনেক বাদে ঐ ব্ল্যাক এম্বাস্যাডার গাড়িতে করে ওর ডেড বডিটা নিয়ে এসে মাধুর্যর ইস্ত্রির ঘুমটির পিছন দিকে শুইয়ে রেখে দিয়ে টাকা নিয়ে আমরা চলে যাই। গাড়িটা সবুজের গ্যারেজে যথা সময়ে ফেরত দিয়ে আসি। সবুজ আমাদের কাজের বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারেনি।”পুলিশ এর পর শুকুর আলীকে এনে হাত পা মোটা শক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধে উল্টে করে ঝুলিয়ে জিজ্ঞেস করে, “তুই কি সব সত্য কথা নিজের মুখে স্বীকার করবি না কি আমরা থার্ড ডিগ্রি দিয়ে তোর মুখ থেকে কথা বের করবো ? ” শুকুর আলী,” স্যার কি কথা জানতে চান ?” পুলিশ, “কি কথা ? মনমিতার সঙ্গে তোর প্রেমের কথা হারামজাদা। তুই মাধুর্যকে মারলি কেনো ? ” শুকুর আলী, “বলছি স্যার বলছি। আমাকে বসিয়ে দিন আমি সব বলে দিচ্ছি। ” পুলিশ, “বাধ্য ছেলের মত সব পাই টু পাই বলবি। ” এরপর শুকুর আলী মাধুর্যকে খুন করার সব বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খু পুলিশকে বলে দেয়। শুকুর আলী আর নিঝুম রহমানের কথা পুরোপুরি মিলে যায়। এর থেকে পুলিশ মাধুর্যর খুনের বিষয়টা নিশ্চিত হয়ে যায়। পুলিশ এবার মাধুর্য খুনের কেসটা সমাধানের জন্য মধুব্রত কর পাত্র আর মনমিতা কর পাত্রকে থানায় তালব করে। পুলিশ,” ঐ দেখ ওখানে কে কে আছে ?” পুলিশ আগে থেকেই বেতাপ আর সবুজকে অ্যারেস্ট করে এনে থানার লক আপে আটকে রেখে দিয়েছে। নিঝুম রহমান, শুকুর আলী, বেতাপ আর সবুজকে পর পর থানার লক আপে দেখে মধুব্রত আর মনমিতার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। অপরাধ বোধ থেকে ওদের মাথা নীচু হয়ে যায়। মুখটা আপনা থেকেই ঝুকে যায় নীচের দিকে। ওদের দুজনের মুখ শুকিয়ে পাংশু বর্ণের হয়ে যায়। হাত পা সিঁটিয়ে আসে। শ্বাস প্রশ্বাস দ্রুত থেকে দ্রুততর হতে থাকে। দর দর করে ঘামিয়ে সারা শরীর ভিজে যায়। গলা শুকিয়ে কাট হয়ে যায়। চেয়ারে বসতে গিয়ে হাত পা ছেড়ে দিয়ে ধপাস করে বসে পড়ে তাতে চেয়ারটা কেঁপে ওঠে। ওদের অবস্থা দেখে পুলিশ বুঝতে পারে যে ওদের ধরে প্রাণটা কোন মতে আটকে আছে। মাথা উঁচু করে তাকাবার শক্তি ওদের নেই। চোখ দুটো আধ বোজা হয়ে আছে। পুলিশ, “কি ধরা পড়ে শরীর খারাপ লাগছে ?” মধুব্রত বা মনমিতা পুলিশের কথার কোন উত্তর না দিয়ে চুপ করে বসে থাকে । পুলিশের কথা আদেও ওরা শুনতে পেয়েছে কিনা সেটাও বোঝা যাচ্ছে না। বেশ কিছুক্ষণ এই ভাবে বসে থাকার পর ওরা নিজেদের সন্তানের জন্ম বৃত্যন্ত এবং খুনের চিত্র নাট্যটা পুরোপুরি তুলে ধরে পুলিশের সামনে। তার সঙ্গে আবেদন জানায় যেহেতু তাদের সন্তান দুগ্ধ পোষ্য শিশু তাই মনমিতা যেন মা হিসাবে সন্তানের সঙ্গে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করতে। এর মধ্যে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে এক দিন মহিকা হঠাৎ করে তার জন্ম দাতা বাবা মা র দেখা পেয়ে যায়। মহিকা তার অপহারণের সমস্ত কান্ড এবং অপহারণকারী আইস ক্রিম ওয়ালা, মুকুরের নাম বাবা মাকে বলে দেয়।
পুলিশ সবার নামে চার্জ শিট লিখে আদালতে চালান করে দেয়। বিচারে মধুব্রত কর পাত্র, নিঝুম রহমান, শুকুর আলীর আর মুকুরের যাবজ্জীবন কারা বাসের সাজা হয় আর বেতাপ ও সবুজ পয়রার এক বছরের জন্য হাজত বাস হয়। মনমিতার সন্তান মাতৃ দুগ্ধ পান করে বলে তাকে সন্তানের কাছে থাকার আদেশ দেয় মহামান্য আদালত। উপস্থিত দর্শক বৃন্দ ভীষণ আপ্লুত হয় এই নাটকটি দেখে। কলাকুশলী এবং ব্যবস্থাপনা সবারই ভুয়োসি প্রশংশা করে।
সমাপ্ত
![]()







