বিশেষ প্রতিবেদন, ২৯ মার্চ, ২০২৬: বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে সমীকরণের দ্রুত বদল ঘটছে। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও ইরানের রক্তক্ষয়ী লড়াই, অন্যদিকে সেই আগুনের আঁচ এসে পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তানের দূতাবাস সংলগ্ন অঞ্চলে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর থেকে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। এই উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস. জয়শঙ্করের একটি মন্তব্য এবং পাকিস্তানের প্রাক্তন দূতের পাল্টা হুমকির ফলে কূটনীতির লড়াই এখন তুঙ্গে।
তেহরানে হামলা – ‘আমরা কাতার নই’—পাকিস্তানের হুঁশিয়ারি
গত ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইরানের রাজধানী তেহরানে পাকিস্তানের দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবন সংলগ্ন এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলা চালানো হয়। যদিও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কোনো ক্ষতি হয়নি, তবে এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তান কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, “পাকিস্তান কোনো কাতার নয়।” তাদের বার্তা স্পষ্ট—ইসরাইল যদি মনে করে কাতারের মতো পাকিস্তানকেও কোণঠাসা করা যাবে, তবে তারা ভুল ভাবছে। পাকিস্তান পাল্টা প্রত্যাঘাতের হুমকি দিয়েছে।
ভারতের অবস্থান – জয়শঙ্করের ‘মাস্টারস্ট্রোক’
সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত একটি সর্বদলীয় বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস. জয়শঙ্কর ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “ভারত কোনো ‘দালাল’ রাষ্ট্র নয়।” বিরোধী দলগুলি যখন প্রশ্ন তুলেছিল যে পাকিস্তান আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী (Mediator) হিসেবে কাজ করছে অথচ ভারত কেন পিছিয়ে, তখন জয়শঙ্কর তথ্য দিয়ে বুঝিয়ে দেন যে ১৯৮১ সাল থেকেই পাকিস্তান আমেরিকার হয়ে ‘দালাল’ বা ‘ব্রোকার’ হিসেবে কাজ করে আসছে। ভারত কোনো নির্দিষ্ট শক্তির হয়ে দালালি করে না, বরং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিদেশনীতিতে বিশ্বাসী।
আব্দুল বাসিতের হুঙ্কার – কেন দিল্লি ও মুম্বাই লক্ষ্য?
পাকিস্তানের প্রাক্তন হাই কমিশনার আব্দুল বাসিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, যদি আমেরিকা বা ইসরাইল পাকিস্তানের পরমাণু শক্তির ওপর কোনো আঘাত হানে, তবে পাকিস্তানের ‘ডিফল্ট মুভ’ (Default Move) হবে দিল্লি এবং মুম্বাই আক্রমণ করা।
তার যুক্তিতে, পাকিস্তানের কাছে আমেরিকাকে আঘাত করার মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) নেই, তাই তারা ভারতকে ‘বন্ধক’ হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রকে লক্ষ্য করে এই হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও ‘ফল্ট লাইন’ মোচনের লড়াই
ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা। পাকিস্তান যখন ভারতকে ‘ব্লিডিং উইথ থাউজেন্ড কাটস’ নীতিতে দুর্বল করতে চেয়েছিল, ভারত তখন তার ভেতরের ‘ফল্ট লাইন’ বা ফাটলগুলো মেরামতে ব্যস্ত।
-
নকশালবাদ নির্মূল: সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নকশাল সহিংসতা ৫৩% হ্রাস পেয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে ভারতকে সম্পূর্ণ ‘নকশাল মুক্ত’ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
-
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সাধারণ মানুষের আর্থিক সমৃদ্ধিই ভারতের আসল শক্তি। দারিদ্র্যকে অস্ত্র করে বিদেশি শক্তি যাতে দেশবিরোধী কাজ না করাতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে ভারত।
পরিশেষে: বিশ্বের এই অশান্ত পরিস্থিতিতে ভারত কেবল নিজের সীমান্ত রক্ষা করছে না, বরং কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তানের হুমকি বা ইসরাইলের যুদ্ধ—সবকিছুর মাঝে ভারত তার সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
#IsraelIranConflict #IndiaPakistanRelations #SJaishankar #Geopolitics2026 #NationalSecurity #TehranAttack #NaxalFreeIndia #IndianForeignPolicy #GlobalNews #TrendingPolitics #BreakingNewsIndia
#ভারতপাকিস্তান #ইসরাইলইরানযুদ্ধ #জয়শঙ্কর #বিদেশনীতি #জাতীয়নিরাপত্তা #দিল্লি #সংবাদপ্রতিবেদন #বাংলাখবর #আন্তর্জাতিকরাজনীতি #আজকেরখবর #পশ্চিমবঙ্গ_নিউজ
![]()







