চেনা আততায়ী
( থ্রিলার-সাসপেন্স )
মাস্টার বাসুদেব দাশ
দশ বছর আগেকার একটা অমীমাংসিত কেস পুনরায় ওপেন করা হলো সরকার পরিবর্তনের পড়ে। নতুন সরকারের রাজনৈতিক দল ভোটের আগে মানুষকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে যদি মানুষ তাঁদের ক্ষমতায় আনে তবে বহু কাঙক্ষিত সেই কেসটা তারা রিওপেন করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি বিধান করবে। সেই সময় এই কেসটা নিয়ে যে গণ আন্দোলনের ঝড় উঠেছিল এই রাজ্যের রাজধানী কলকাতা শহরের প্রাণ কেন্দ্রে। সেই গণ আন্দোলনের আগুনের তাপ রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা ভারত বর্ষ জুড়ে। জোয়ারের জলের ঢেউয়ের মত মানুষ দলে দলে এসে যোগ দিয়েছিলো গণমিছিলে। “উই ওয়ান্ট জাস্টিস ” ধ্বনিতে ভূমিকম্পর মত কেঁপে উঠেছিল গোটা ভারত বর্ষ । স্তব্ধ করে দিয়েছিলো সারা রাজ্য ও সারা দেশকে। টলোমলো করে উঠেছিল শাসকের গদি। তৎকালীন সরকার গদি বাঁচাতে উপায়ন্তর না পেয়ে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণ আন্দোলনের উপর নামিয়ে এনেছিল নির্মম পুলিশি দমন পীড়ন। পুলিশের লাঠি, জল কামান, কাঁদানে গ্যাস নির্মম ভাবে ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করেছিল সরকার । রাতের অন্ধকারে পুলিশ আন্দোলন কারীদের বাড়ী বাড়ী তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তার করে এনে জেলে ভরে দেয়েছিল বিনা বিচারে দোষী সব্যস্ত করে । তবুও মানুষকে রাজপথ থেকে হটানো যায় নি। মানুষ নিজের জীবনকে বাজী রেখে ন্যায়ের দাবিতে প্রতিবাদ আন্দোলন চালিয়ে গেছে । মানুষের সতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ আন্দোলনকে রাজ্য পুলিশের সাহায্য নিয়ে আইন আদালতকে অপব্যবহার করে, তদন্তকারী এজেন্সীকে কাজে লাগিয়ে নিদারুন ভাবে দমিয়ে দিয়েছিলো গায়ের জোরে অসাংবিধানিক ভাবে । তখন মানুষ এই ব্যবস্থাকে আখ্যায়িত করে ছিল রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলে । মানুষ এই বর্বরচিত ঘটনার নিন্দা করছিলো দ্বার্থহীন ভাষায়। খুনিরা তো শাস্তি পেলেই না উপরন্তু পেয়ে গেলো সুরক্ষিত আশ্রয়। ভিক্টিমের পরিবারের উপর নেমে আসে রাষ্ট্রীয় আতঙ্ক। ভিক্টিমের পরিবারের উপর সরকারি চাপ আসে টাকা কিম্বা চাকরি নিয়ে চুপ করে থাকার জন্য। মানুষ সেটাকে ভালো মনে নেয় নি। এরকম অসংখ্য খুন ধর্ষণের ঘটনা একের পর এক সাংগঠিত হয়ে গেছে পূর্বতন শাসকের আমলে। পুলিশি অত্যাচারের ভয়ে মানুষ এই গুলোর প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে না পারলেও মেনে নিতে পারেনি। মানুষ ভিতরে ভিতরে ফুসছিল । বিধান সভা ভোটে তার প্রতিফলন ঘটায় মানুষ । রাজনৈতিক পালা বদল হয়।বিগত সরকার মুখ থুবড়ে পড়ে গিয়ে হড়পা বনের তোরে ভেসে যায়। মুছে যায় মাটি থেকে, মানুষের মন থেকে। সমূলে উৎপাটিত হয়ে নদীর ভাঙনের মত ভেঙে নদী গর্ভে মিলিয়ে যায়। নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় রাজ্য রাজনীতির পালা বদলের সঙ্গে সঙ্গে । কেউ কেউ দল বদল করে বাঁচে আবার কেউ বিদেশে পালিয়ে বাঁচে। কিন্তু এই খুনের কলাকুশলীরা রয়ে যায় গা ঢাকা দিয়ে মানুষের ভিড়ে । গায়ের জোরে মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারলেও মানুষের মন থেকে রোমহর্ষক নির্মম সেই হত্যা কান্ডকে তুলে ফেলতে পারেনি তৎকালীন শাসক । তুষের আগুনের মত ধিকি ধিকি করে জ্বলতে থাকা গণ আন্দোলনের সেই মৃত প্রায় আগ্নিয় গিরির অভিজ্ঞ ভয়ঙ্কর রূপটা একবার দেখিয়ে দেয় প্রতিবাদী মানুষ নতুন সরকারকে। সহস্র প্রহারেও তাকে আর দমিয়ে রাখা যাবে না। শক্তি সঞ্চয় করে সাপের ফনার মত ক্ষিপ্র গতিতে যে কোন সময়ে আছড়ে পড়বে তার আভাস সে দিয়ে দেয় নতুন সরকারকে।
শুভ্রসোম দীর্ঘদিন নির্ভেজাল ভালোবেসেও মন পাচ্ছিলো না নিপার। তার প্রেমটা যে এক পাক্ষিক হয়ে যাচ্ছে সেটা সে বুঝেও নিপার কাছ থেকে সরে আসতে পারছিল না। নিপা আর শুভ্রসোম পাশাপাশি পাড়ায় থাকে। সেই ছোট বেলা থেকেই দুজনের আলাপ পরিচয়। দুজনেই মধ্যেবিত্ত পরিবারের মেম্বার। শুভ্রসোম বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। সে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে চাকরি পায়নি। এখন চাকরি পাওয়া শুধু পড়াশোনার উপর নির্ভর করে না। আর্থিক সামর্থও থাকতে লাগে। চাকরি এখন কিনতে হয়। বিভিন্ন চাকরির বিভিন্ন দর। চাকরির পরীক্ষা দেবার পাশাপাশি নিদৃষ্ট দাম দিয়ে চাকরি কিনে নিতে হয় । কিন্তু সেই দাম দেবার মত টাকা শুভ্রসোমের পরিবারের ছিল না। তাই সে চাকরি পায় নি। দিদি মনির রাজিত্বে এটাই নিয়ম। ভাইপোর অনেক টাকার দরকার। শুভ্রসোমের বাবার একটা জুতোর দোকান ছিল। বাইকে করে গেলে আধঘন্টার মত লাগতো বাড়ী থেকে দোকানে পৌঁছাতে। বাবা হঠাৎ মারা যাবার পর শুভ্রকেই দোকানে বসতে হয়। দোকানে বসে আস্তে আস্তে সে চাকরির চেষ্টা ছেড়ে দেয়। মন দিয়ে ব্যবসা করতে থাকে। বাবার আমলের ব্যবসার কিছুটা শ্রীবৃদ্ধি করতে পেরেছে সে । নিপা মধ্যবিত্ত পরিবারে বিলং করলেও যেহেতু তার চেহারায় একটু জৌলুস ছিল তাই সে একটু উচ্চভিলাসি ছিল। তাছাড়া সে তার পাড়ার এক বান্ধবী ‘পিপাসার’ সঙ্গে সম্পর্কে ছিল। নিপা এবং পিপাসা দুজনেই ছিল সমকামী। বেশ কিছু দিন ধরেই তাদের এই অ্যাফেয়ার্স চলছে। বলা ভালো সেই বয়স সন্ধি কাল থেকেই চলছে । তাই সে শুভ্রসোমের ভালোবাসার ডাকে সারা দিতে পারছে না। পড়াশুনা শেষ হয়ে যাবার পর নিপা ভাবে তার বাবা মা যদি তাকে বিয়ে দিয়ে দেন এবং তার বর কিম্বা শশুর বাড়ীর অন্য কেউ তার উপর কঠোর নিয়ন্ত্রন আরোপ করে তবে তো তার পক্ষে পিপাসার সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা মুশকিল হয়ে যাবে। শুভ্রসোম সহজ সরল ভালো ছেলে ওকে বিয়ে করলে কোন সমস্যা হবে না। তাই সে চালাকি করে শুভ্রসোমের ভালোবাসাকে স্বীকার করে নেবার ছল করে । তাতে তার সব দিক রক্ষা হবে । বিয়েও করা হবে আবার পিপাসার সঙ্গে সম্পর্কেও থেকে যাওয়া হবে । এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়ে যাবে। কিন্তু শুভ্রসোম ধূর্ত নিপার এইসব চালাকি কিছু টের পায় নি । খুশিতে তার মনে প্রেমের জোয়ার চলে আসে। সে আবার নিপার প্রেমে বুধ হয়ে যায়। সে ভাবলো নিপা হয়তো এতো দিনে তার ভালোবাসাকে অনুভব করতে পেরেছে। তাই সে তাকে বিয়ে করতে চাইছে। শুভ্রসোম যখন নিপাকে প্রপোজ করেছিল, আই লাভ ইউ বলেছিল নিপা তখন শুভ্রসোমকে রিফিউসও করেনি আবার আই লাভ ইউও বলে নি। সে শুভ্রসোমকে ওয়েটিং লিস্টে শুধু রেখে দিয়েছিল। তাতেই শুভ্রসোম বুঝে নিয়েছিল যে নিপা হয়তো তাকে পছন্দ করে না। কিন্তু তবুও শুভ্রসোম নিপাকে পুরোপুরি ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পারে নি। নিপা তার পরিকল্পনাকে সাকসেস করার জন্য তার বাবা মাকে শুভ্রসোমকে ভালোবাসার কথা বলে দেয়। তার বাবা মা শুভ্রসোমদের বাড়ীতে গিয়ে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে মেয়ের বিয়ে পাঁকা করে ফেলে। একটা বিয়ের নিদৃষ্ট দিনে ধুমধাম করে শুভ্রসোমের সঙ্গে নিপার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়েও হলো আবার পিপাসার সঙ্গে সম্পর্কও চলতে থাকলো। নিপা তার বরকে বলে দিয়েছে যে পিপাসা তার আর্লি লাইফের বন্ধু। এতো ভালো বন্ধু যে সে পিপাসাকে ছেড়ে থাকতে পারবে না। সে প্রায় রোজই পিপাসার সঙ্গে দেখা করতে যায়। ওরা একটা সেন্টারে যায় সেখানে মহিলাদের এস্কর্ট সার্ভিস দেওয়ার ব্যবস্থা আছে । সামান্য অর্থের বিনিময়ে ওরা ঐ সেন্টারে ওদের শারীরিক চাহিদা মেটাবার ব্যবস্থা করে নিয়েছে । কিছু দিন ঐ সেন্টারে যাওয়া আসা করার ফলে ‘শীর্ষাণু’ নামে একটা সাতাশ, আঠাশ বছরের ছেলের সঙ্গে নিপার পরিচয় হয়, আলাপ হয়। শীর্ষাণু পিপাসার বন্ধু কাম বেড পার্টনার । পিপাসাই শীর্ষাণুর সঙ্গে নিপার আলাপ করিয়ে দিয়েছে। শীর্ষাণুর খুব পছন্দ হয়ে যায় নিপাকে। অল্প দিনের মধ্যে শীর্ষাণুর সঙ্গেও নিপার একটা অ্যাফেয়ার্স তৈরি হয়ে যায়। নিপা তিন জনের সঙ্গেই সমান ভাবে সম্পর্ক রেখে চলতে থাকে। ওরা এক সঙ্গে এক জায়গায় ওদের প্রাইভেট লাইফ এনজয় করতে থাকে । কোন সম্ভ্রমের বিষয় নেই। কোন আন-ইসি ফিল করার প্রশ্ন নেই। শুভ্রসোম ঘুনাক্ষরেও টের পায় না নিপার এই ধরণের ঘৃণ্য কার্যকলাপের কথা । সে পুরোপুরি অন্ধকারে থেকে যায়। তার সহজ সরল মানসিকতাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে থাকে নিপা। ভালো মানুষের আড়ালে নিপা ঠকাতে থাকে তার বিয়ে করা স্বামীকে। যে তার ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে দিন রাত খেটে মরছে আর তার সঙ্গেই প্রতারণা।
সমস্যার সৃষ্টি হয় নিপাকে শীর্ষাণুর পছন্দ হয়ে যাবার পর থেকে । শীর্ষাণু নিপাকে নিজের মত করে কাছে পেতে চায়। কিন্তু নিপা জানায় যে, “এটা সম্ভব না কারণ শুভ্রসোম আজকাল ওর বের হবার বিষয় নিয়ে খুব আপত্তি জানায়। ঝগড়া ঝাটি করে । কথা কাটাকাটি হয় সব সময়। অনেক প্রশ্ন করে শুভ্রসোম । সন্দেহও করে । এ জন্য অনেক রেস্ট্রিকশন চাপিয়ে দিয়েছে তার উপর। এর জন্য তার মন মেজাজ একদম ভালো থাকছে না আজকাল । এত অশান্তি নিয়ে সে চলতে পারছে না জাস্ট ।”নিপার এই সব আক্ষেপের কথা শুনে শীর্ষানু আর পিপাসা বলে, “তুই এক কাজ কর তুই ওকে ডিভোর্স দিয়ে দে। ” নিপা, “কিন্তু আমাকে ও ছাড়বে না। ও আমাকে খুব ভালোবাসে। ” শীর্ষাণু , “কিন্তু তুই কি ওকে ভালোবাসিস ? ” নিপা, ” না,একদম না। আমি ওকে ধরে রেখেছি ওর মাধ্যমে তোদের সঙ্গে সম্পর্কে থাকার নিরাপদ আশ্রয় হিসাবে। ওর সঙ্গে আমার ফিজিক্যাল্লি ইন্টিমেট হতে একদম ভালো লাগে না। ” শীর্ষাণু , “ঠিক আছে আজ চল বাড়ী চলে যাই । আমি একটু চিন্তা ভাবনা করে দেখি কি করে এই সমস্যা থেকে বের হাওয়া যায়। ” সে দিনকার মত যে যার বাড়ী চলে যায়। পরের দিন শুভ্রসোম নিপার বাড়ী থেকে বের হওয়া নিয়ে ভীষণ চিৎকার চেঁচামেচি করে। নিপা একপ্রকার তেজ দেখিয়ে বেরিয়ে যায়। নিপা মুখ গোমড়া করে ওদের সামনে বসে থাকে। তাতে সবারই মটকা গরম হয়ে যায়। শীর্ষাণু বলে,” তুই ওকে সেপারেশনের প্রস্তাব দে। যদি ও মেনে নেয় তো ভালো ল্যাটা চুকে যায় আর যদি ও না মেনে নেয় তবে ওর জন্য অন্য ব্যবস্থা করা হবে। ” কিন্তু নিপার সেপারেশনের প্রস্তাব শুভ্র মেনে নেয় নি। তার পরিবর্তে ও আরও বেশি বেশি করে ভালোবাসার কথা বলেছে । গুছিয়ে সংসার করার কথা বলেছে । তখন উপায়ন্তর না পেয়ে ওরা তিন জন মিলে ঠিক করে শুভ্রসমকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবে। তখন নিপা বলে, তারপর কি ভাবে সামলাবি যদি পুলিশ কেস হয়ে যায় ? শীর্ষাণু আর পিপাসা বলে তুই চুপ করে থাক কিচ্ছু হবে না। তাছাড়া আমরা সবাই ঘাস ফুলের রাজনীতি করি। পিসিমনি সব সামলে নেবে।আমাদের বাঁচিয়ে দেবে। এরপর ওরা নির্ভয়ে শুভ্রসোমকে ভগবানের কাছে পাঠাবার ব্যবস্থা করতে উঠে পড়ে লেগে যায় । ওরা মনে করে তাতে ওদের পথের কাটাও দূরে হবে আর অন্য দিকে ওরা ওদের ফিজিক্যাল এনজয়মেন্টও বাড়াতে পারবে। তখন ভরপুর এনজয়মেন্টটা হবে। কেউ কিচ্ছু বলার থাকবে না। শুভ্রসমকে মার্ডার করার নীল নকশা ওরা তৈরি করে ফেলে। এই ড্রাস্টিক ডিসিশন নেবার আগে ওরা কেউ কি কি বিপদ ওদের জীবনে আসতে পারে তা তলিয়ে ভাবতে চায় নি । ওরা শুধু এক তরফা ভাবে সাফল্যর কথাই ভেবেছে । একটা খুনের কেস কত রকম ভাবে মোড় নিতে পারে সেটা ভাবার কথা ওদের মাথায় আসেনি। পার্টি ওদের আড়াল করবে শুধু এই ভরসায় ওরা এগিয়ে গেছে। পার্টির এক্তিয়ার কতটা আর কত দিন পার্টি থাকবে সেটা না ভাবাটাও একটা কাঁচা কাজ । নিপা বলে যে মার্ডার কে করবে ? পিপাসার বাবার একটা গ্যারেজ আছে। সেই গ্যারেজে পিপাসা মাঝে সাঝে যায়। তাতে ও দেখেছে যে ওদের গ্যারেজে ভালো মন্দ অনেক রকম মানুষ আসে। এক দিন একটা লোক ওর বাবার সঙ্গে কথা বলছিল । সেই লোকটা কি একটা খুনের বিষয় নিয়ে কথা বলছিল ওর বাবার সঙ্গে। সেই কথা শুনে পিপাসার মনে হয়েছিল যে লোকটা একটা মার্ডারার। হঠাৎ করে ওর সেই কথা মনে পরে যায়। পিপাসা শীর্ষাণুকে বলে আমি তোকে একটা লোকের ফোন নাম্বার এনে দেব। তুই সেই নাম্বারে লোকটার সঙ্গে কথা বলে খুনের বিষয়টা ফাইনালাইস করে নিবি । এরপর থেকে নিপা একটু বেশি কেয়ারিং হয়ে যায় শুভ্রসোমের প্রতি। শুভ্র ভাবে নিপা আর আগের মত নেই।সে অনেক পাল্টে গেছে। সংসারে তার মন এসেছে। এই কথা চিন্তা করে শুভ্র খুব খুশি হয়।
খুনের জন্য ওরা একটা ডেট ফিক্স আপ করে সব গোজগাজ করতে শুরু করে দেয় । ওরা শুভ্রসোমের দোকানে যাওয়া অসার টাইমটা জেনে নেয় নিপার কাছ থেকে। শুভ্রর দোকানে যাওয়া অসার টাইম মোটামুটি একই। সকাল ন টায় বাড়ী থেকে বের হয় দোকানে যাবার জন্য আবার রাত ন টায় দোকান বন্ধ করে ঘরে ফিরে অসার জন্য বের হয়। ইন দা মেইন টাইম কেসটা এক্সিকিউশন করতে হবে বলে ওরা ঠিক করে । এ জন্য শীর্ষাণু পিপাসার কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে আতোতায়ীর সাথে কথা বলে। পিপাসাদের গ্যারেজের লোকটা যার নাম ‘ন্যাকা কল ‘ সে বলে যে সে নিজে এই কাজটা করতে পারবে না। তার জন্য সে দুজন প্রফেশনাল কিলারের সাথে শীর্ষাণুর পরিচয় করিয়ে দেবে যারা সুপারি নিয়ে মার্ডার করে। তাদের নাম ‘ক্যাবলা তালধি’ আর ‘হেমায়েত হাওলাদার’। ন্যাকা ও ক্যাবলা গুজরাটের বাসিন্দা আর হেমায়েত বিহারের বাসিন্দা। একটা বুলেট বাইক ভাড়া করে ওরা পিপাসার বাবার পরিচিত একটা গ্যারেজ থেকে। শুভ্রসোমদের বাড়ীটা ছিল বারাসাত নীল গঞ্জ রোডে লোকনাথ মন্দিরের কাছাকাছি একটা জায়গায় । আর ওদের জুতার দোকান ছিল চাপাডালি মোড়ে বিবেকানন্দ রোডে। কলোনি মোড় হয়ে হরিতলা কে এন সি রোড ধরে শুভ্রসোম বাইক নিয়ে আসা যাওয়া করে। একই চেনা রাস্তা দিয়ে রোজ রোজ আসা যাওয়া করে। নিপাও জানে তার এই চেনা রাস্তা। মার্ডারের দিন ঠিক রাত ন টা বাজতে পাঁচ মিনিট আগে তার স্ত্রী, নিপা তার মোবাইলে মেসেজ পাঠিয়ে বলে যে তুমি যে রাস্তা দিয়ে আসছো তার লোকেশনটা আমার মোবাইলে একটু মেসেজ করে দাও। আর কেন জানিনা আজ আমার খুব চিন্তা হচ্ছে । তুমি তাড়াতাড়ি করে বাড়ী ফিরে আসো। শুভ্রসোম তাড়াতাড়ি করে মেসেজ করে দেয় নিপার ফোনে। তারপর ফোন করে বলে দেয় যে আমি ঠিক ন টায় বের হয়ে আসছি। সঙ্গে সঙ্গে দোকান থেকে বেরিয়ে বাইকে স্টার্ট দেয় শুভ্র । শুভ্র ভেবেছে যে তার স্ত্রী হয়তো কোন দুশ্চিন্তা করছে তাকে নিয়ে কিম্বা সে তার জন্য ভাত বেড়ে অপেক্ষা করছে এক সঙ্গে খাবে বলে । তাই সে তার রাস্তার লোকেশনটা মেসেজ করতে বলেছে। আর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে তো এমনটা হয়েই থাকে। এখানে অবিশ্বাসের কোন প্রশ্ন মনে আসার কথা না। সে তাই সরল বিশ্বাসে নিশ্চিন্ত মনে চেনা রাস্তায় আসার লোকেশন পাঠিয়ে দেয় স্ত্রীর মোবাইলে। শুভ্রসোম যখন বাইক চালিয়ে চেনা রাস্তা ধরে বাড়ী ফিরছিলো ঠিক সেই সময় তার সামনের দিক থেকে আর একটা বুলেট বাইক দু জন আরোহীকে নিয়ে ঝড়ের গতিতে তার দিকে এগিয়ে আসছিলো। শুভ্রসোম ভাবতে পারেনি যে রাস্তায় তার জন্য অপেক্ষা করছে স্বয়ং যমরাজ বা মৃত্যু ফাঁদ। তার সামনের দিক থেকে বুলেট বাইকটা দ্রুত গতিতে তার দিকে এগিয়ে তার সামনে চলে আসে । শুভ্রসোম সেটার গুরুত্ব না দিয়ে সে তার নিজের বাইক চালানোতে মন দেয়। হঠাৎ করে ঐ বুলেট বাইকটা একদম তার সামনে চলে আসে এবং পিছনে বসে থাকা আরোহী তাকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যান্ক রেঞ্জ থেকে পর পর দুটো গুলি করে তার বুকে আর একটা গুলি করে তার মাথায়। মাথায় যেহেতু হেলমেট ছিল তাই সেই গুলিটা নষ্ট হয়ে যায়। তারপর বুলেট বাইকটা মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে মিলিয়ে যায় হাওয়ার গতিতে । রাস্তার ঐ ছোট্ট অঞ্চলটায় স্ট্রিট লাইট নেই বেশ কিছু দিন ধরে। তার ফলে জায়গাটা একটু আবছা অন্ধকার। গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে আশেপাশের বাড়ী থেকে লোকজন ছুটে আসে। এসে দেখে একটি যুবক গুলি খেয়ে রাস্তায় পরে কাতরাচ্ছে। বাঁচার জন্য ছটফট করছে। আর তার বাইকটা পাশে পরে আছে। কে বা কারা ওকে গুলি করে পালিয়ে গেলো সেটা কেউ দেখতে পায় নি। আর কেনো ওকে গুলি করলো তারও কিছু ওরা জানতে পারেনি। আগত লোকজনদের মধ্যে থেকে একজন থানায় ফোন করে পুলিশকে বিষয়টা জানিয়ে দেয় । তারমধ্যে কয়েক জনলোক ছেলেটিকে নিয়ে ভ্যান গাড়িতে করে বারাসাত সরকারি হাসপাতালে যায়। আঘাত এত গুরুতর যে বারাসাত হাসপাতাল ইমার্জেন্সিতে ওর ট্রিটমেন্ট শুরু করে। কিন্তু এতোটা রাস্তা টানাহ্যাচড়া করে নিয়ে আসতে ওর অবস্থা আরও সংকট পূর্ণ হয়ে যায় ।কিন্তু কিছু করার ছিল না। হাসপাতালে তো নিতেই হবে। হাসপাতালের ঠান্ডা রুমে শুয়ে শুরু হয় সময়ের সঙ্গে মানুষের বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই। শেষ পর্যন্ত মানুষ পরাজিত হয়। ডাক্তার বাবুরা ভালো করে শুভ্রসমকে পরীক্ষা করে দেখে বলেন যে ‘হি ইস নো মোড় উইথ আজ’। দুটো গুলির আঘাত সইতে না পেরে হার্টফেল করে রাস্তায় মৃত্যু হয়েছে পেসেন্টের।
ইন দা মেইন টাইম পুলিশ হাসপাতালে এসে পৌঁছে যায়।
কয়েক দিন ধরে নিপার কেয়ারিং হওয়া দেখে শুভ্র ভেবেছিলো যে নিপা পাল্টে গেছে। সংসারে তার মন এসেছে । এই কথা ভেবে শুভ্রসোম ভীষণ খুশি হয়। সে ভাবে সে বাড়ী ফিরে স্ত্রীর হাতটা ধরে আবেগ তাড়িত হয়ে বলবে, কি হয়েছে ? এতো ভাবছো! তুমি এই ভাবে সারা জীবন আমার পাশে থাকলে আমরা জীবনের সব বাঁধা জয় করে এগিয়ে যেতে পারবো এতে আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে
। কিন্তু সে স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি যে তার পিছনে চলছে তাকে নিধন করার এক বিরাট বড় সড়যন্ত্র। যার প্রধান কারিগর তার ভালোবেসে বিয়ে করে আনা নিজের স্ত্রী, নিপা । আর এর জন্যই হয়তো তার স্ত্রী, নিপা তার কাছে তার বাড়ী ফিরে অসার রাস্তার লোকেশন মেসেজ করে পাঠাতে বলেছিল। সেই কারেন্ট লাইভ লোকেশন হয়তো সে খুনিদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল যাতে তারা খুনের কাজটা অব্যর্থ ভাবে করে তার স্বামীর প্রাণটা কেড়ে নিতে পারে । হয়তো ভালোবাসার খেসারত দিতে গিয়ে তেল থাকতেও প্রদীপ নিভে গেলো একটা তর তাজা জীবনের । সবাই ভেবে অবাক হয়ে যায় যে একটা নিখুঁত প্রেমের গল্প কিভাবে একটা ঠান্ডা মাথার নিষ্ঠুর অপরাধের দিকে মোড় নিল । ভালোবাসা যদি নিখুঁত হয় তবে মানুষ স্বর্গ সুখ পায় আর ভালোবাসা যদি ভুল মানুষের সাথে হয় তবে তার পরিণতি শুভ্রসোমের মত হয়। ওঁর মৃত্যুর জন্য ওঁর স্ত্রীর হাত কতটা প্রশস্ত ছিল সেটা ওঁ দেহে প্রাণ থাকতে আন্দাজ করতে পেরেছিল কিনা সে প্রশ্নের উত্তর অজানাই রয়ে গেলো।
হাসপাতালে শুভ্রসোমের শরীর থেকে যে দুটো গুলি ডাক্তার বাবুরা বের করেছিলেন পুলিশ সেই গুলি দুটো নিয়ে যায় তদন্তের কাজে লাগবে বলে। সে গুলোকে ফরেন্সিকে পাঠানো হয়। গুলি তিনটি দেখে পুলিশের ধারণা হয় যে এই গুলি গুলো বিদেশি পিস্তলের। এই গুলো সাধারণত প্রফেশনাল কিলাররা ব্যবহার করে। মৃতের প্যান্টের পকেট থেকে একটা মোবাইল ও একটা ওয়ালেট খুঁজে পায় পুলিশ । সেই ওয়ালেটের মধ্যে থেকে একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায় । তাতে মৃতের বাড়ীর ঠিকানা লেখা ছিল। সেই ঠিকানা নিয়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর’ বাবিন ‘সবার প্রথম মৃতের বাড়ীতে যায় মর্মান্তিক খবরটা জানাতে । বাড়ীতে গিয়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর বাবিন দেখা পায় মৃতের স্ত্রী, নিপার । স্বামীর মৃত্যুর নির্মম খবর দিতেই স্ত্রী কেঁদে ভাসিয়ে দেয় । মুহূর্তের মধ্যে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে । বাড়ীর লোকেরা শুনে হতবম্ভ হয়ে যায়।একটু শান্ত হলে পুলিশ তাকে নিয়ে হাসপাতালে যায় লাশ সনাক্ত করাতে। স্বামীর নিথর মৃত দেহ দেখে নিপা বডির উপর ঝাঁপিয়ে পরে অঝোরে কাঁদতে থাকে । পুলিশ মনে করে কেউ না কেউ অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই খুনটা করেছে নিখুঁত ভাবে। তারপর পুলিশ নিপাকে শান্তনা দিয়ে তার বাড়ী পৌঁছে দেয়। ডেড বডি ময়না তদন্ত করতে পাঠায়। মৃতের শরীরের পোষাক পরিচ্ছদ ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে টেস্ট করার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মোবাইল ফোন ও ওয়ালেট ঐ দুটো জিনিস পুলিশ ইন্সপেক্টর বাবিন তার নিজের কাছে রেখে দেয় তদন্ত প্রক্রিয়ার কাজে লাগবে বলে। পুলিশ ইন্সপেক্টর ‘বাবিন’ শুভ্রসোমের স্ত্রীকে দিয়ে থানায় একটা FIR করায়। তারপর খুনের তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শুরু করতে গিয়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর বাবিন প্রথমেই শুভ্রসোমের বাড়ী যায় তার স্ত্রী নিপার স্টেটমেন্ট নিতে। বাড়ী গিয়ে দেখে নিপা সেই বাড়ীতে নেই।আশেপাশের বাড়ীর লোকদের কাছে খোঁজ নিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে নিপা শোক কাটাতে তার বাপের বাড়ী চলে গেছে। দিন চারেক বাদে নিপা নিজের বাড়ী ফিরে আসে। তারপর এক দিন খুব ভোর বেলা দরজায় নক করার শব্দ পেয়ে নিপা দরজা খুলে পুলিশকে দেখে চমকে ওঠে। ওর বুকের মধ্যে ও একটা গোখরো সাপের উপস্থিতি অনুভব করে । নিপা, “একি!আপনারা? ” নিপার চমকে ওঠাটা পুলিশ ইন্সপেক্টর বাবিনের মনে খটকা লাগে । নিপা খুশি হবার পরিবর্তে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। কিন্তু কেনো ? এটা বাবিনের মনে সন্দেহের জন্ম দেয় । বাবিন , “আমরা আপনার স্বামীর খুনের তদন্ত শুরু করেছি তাই আপনার স্টেটমেন্ট নিতে এসেছি। আপনার মানসিক অবস্থা আমরা অনুমান করতে পারছি। তাই খুব একটা বেশি সময় আপনার নেবো না।” নিপা, “হ্যাঁ বলুন।” বাবিন ,” আমরা কি একটু ঘরে গিয়ে বসে কথা বলতে পারি। ” নিপা, “হ্যাঁ আসুন। “নিপার মনে পড়ে যায় যে বেশি কথা, অতিরিক্ত কথা একদম বলা যাবে না। তাই সে খুব সাবধান হয়ে যায়। নিপার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ টা পুলিশের চোখে একটা মুখোশের ধারণা সৃষ্টি করে। বাবিন , “আপনাদের বিয়ে হয়েছিল কি ভাবে । ভালোবাসার বিয়ে নাকি অর্র্যাঞ্জ ম্যারেজ ?” নিপা, “আমাদের ভালোবাসার বিয়ে। ” ইন্সপেক্টর বাবিন , “ভালোবাসার প্রস্তাব কে দিয়েছিলো ? ” নিপা, “এই ব্যক্তিগত অবান্তর প্রশ্ন করছেন কেনো ? ” বাবিন , “এখন আপনার কিছুই আর ব্যক্তিগত বা অবান্তর নেই। সবই আইনের আওতায় । আমরা যতক্ষণ আসল খুনির কাছে পৌঁছাতে না পারছি ততক্ষন ঘনিষ্ঠ জনদের কাছ থেকে ক্লু পাবার চেষ্টা করছি মাত্র ।” নিপা, “ঠিক আছে, শুভ্রই আমাকে প্রপোজ করেছিল । “বাবিন , “কে আপনার স্বামীকে খুন করতে পারে বলে আপনার মনে হয়।”নিপা, “আমি কি করে বলবো। আমি কারোকে সন্দেহ করতে পারছি না। সেটা আপনারা তদন্ত করে বার করুন।” বাবিন , “আপনার স্বামীর কি কোন শত্রু ছিল ? “নিপা, “আমি জানি না।”বাবিন ভাবে কে খুন করতে পারে আর এই খুনে কার কি লাভ হতে পারে। কে খুন খরতে পারে সেটা যেমন পুলিশকে খুঁজে বের করতে হবে তেমনি এই খুনের রিং লিডার কে সেটাও খুঁজে বের করতে হবে। পুলিশ আবার আসতে হতে পারে বলে চলে যায়। নিপার চোখ মুখের অবস্থা দেখে মনে হয় সে হাপ ছেড়ে বাঁচলো।
শুভ্রসোমের মোবাইলটা হাতে নিয়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর ‘বাবিন’ সেই মোবাইলের কল লিস্টটা স্ক্রল করে করে দেখছিলো। লাস্ট কলটা শুভ্রসোম করেছিল স্ত্রী অর্থাৎ নিপার ফোনে । সেই কলে শুভ্রসোম নিপাকে জানিয়ে দিয়েছিল তার বাড়ী ফিরে আসার রাস্তার লাইভ লোকেশন । শুভ্রসোমের মোবাইলের হোয়াটস্যাপ চ্যাট ঘেঁটে ইন্সপেক্টর বাবিন দেখতে পায় তার রাস্তার লোকেশন রয়েছে নিপার হোয়াটস্যাপ নাম্বারে । ইন্সপেক্টর বাবিন ভাবতে থাকে যে নিপা ঠিক ঐ দিনই স্বামীর রাস্তার লোকেশন চেয়ে পাঠালো আর ঐ দিনই তার স্বামী খুন হয়ে গেলো । এর রহস্যটা কি ? এর আড়ালে কি কোন গভীর ষড়যন্ত্র আছে ? এখানে কি ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হচ্ছিলো ? এই রকম নানা প্রশ্ন পুলিশ ইন্সপেক্টর “বাবিনের” মাথায় আসতে থাকে। ইন্সপেক্টর বাবিন তার দুজন সহকারীকে নিয়ে ক্রাইম সিনের কাছে যায় ফারদার ইনভেস্টিগেশনের জন্য । ক্রাইম সিনটা পুলিশ খুনের খবর পাওয়া মাত্রই ঘিরে সংরক্ষিত করে রেখেছে । স্পটে দুজন পুলিশ গার্ড মোতায়েন করে দেওয়া হয়েছে সর্বক্ষণের জন্য। বাবিন রাস্তায় যেতে যেতে রাস্তার কোথায় কোথায় CC ক্যামেরা আছে সেটা লক্ষ্য করতে থাকে। ইন্সপেক্টর বাবিন স্পটে গিয়ে সেখানকার কর্তৃব্যরত পুলিশ পার্সোনেলদের কাছ থেকে একটা গুলি পায়। যেটা ক্রাইম সিনের পাহারায় থাকা পুলিশ উদ্ধার করেছে ঐ স্পট থেকে। হয়তো এই গুলিটা মাথার হেলমেটে লেগে মাথায় না ঢুকে রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল। ক্রাইম সিনের আশেপাশের দোকান গুলোর কয়েকটাতে CC ক্যামেরা আছে। ঐ রাস্তার বেশ কয়েকটা বাড়ীতেও CC ক্যামেরা আছে। তার প্রায় প্রত্যেকটা ক্যামেরাতেই দেখা যায় শুভ্রসোমের বাইকের সামনের দিক থেকে একটা বুলেট বাইক এগিয়ে আসছিলো তার দিকে । তবে মাথায় হেলমেট থাকায় আরোহীদের মুখটা দেখা যাচ্ছে না। একটা CC ক্যামেরায় দেখা যায় যে একটা আবছা আলোর জায়গায় এসে ঐ বুলেট বাইকের পিছনে বসে থাকা আরোহী পর পর তিনটি গুলি করে শুভ্রসোমকে লক্ষ্য করে। একদম পয়েন্ট ব্ল্যান্ক রেঞ্জ থেকে। দুটো তার বুকে লাগে আর একটা মাথার হেলমেটে লেগে রাস্তায় পরে যায়। পর্যাপ্ত আলোর অভাবে ছবি গুলো সব ঝাঁপসা রয়ে গেছে। ঐ ছবি দেখে খুনিদের আইডেন্টিফাই করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে । তবে বাইকের নাম্বারটা পড়তে পারা গেছে। পুলিশ ইন্সপেক্টর বাবিন এখন ভিজ্যুয়াল এভিডেন্স বাদ দিয়ে ডিজিটাল ফরেন্সিক টেস্টের উপর বেশি নজর দেওয়ার কথা ভাবছে । ইন্সপেক্টর বাবিনের এখন প্রধান কাজ হলো ঐ নাম্বারের বাইকটা কোন গ্যারেজ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল এবং কে ভাড়া নিয়েছিল সেটা খুঁজে বার করা।
পুলিশ ইন্সপেক্টর বাবিন এক দিন হঠাৎ করে নিপার মোবাইলে ফোন করে তার বাপের বাড়ীর ঠিকানা জানতে চায় । নিপা আমতা আমতা করে কিন্তু বলতে বাধ্য হয়। পুলিশের সন্দেহ দূর করার জন্য। তবে সে ইন্সপেক্টর বাবিনের কাছে জানতে চায় যে পুলিশ ওখানেও যাবে কিনা। তার উত্তরে বাবিন বলে, “কোথায় যেতে হবে আর কোথায় যেতে হবে না সেটা এই মুহূর্তের তার পক্ষে বলা মুশকিল।তদন্ত যেখানে টেনে নিয়ে যাবে তাকে সেখানেই যেতে হবে। এট লিস্ট আপনার স্বামীর খুনিকে তো ধরতে হবে।” ইন্সপেক্টর বাবিনের মুখের এই কথাটা, “এট লিস্ট আপনার স্বামীর খুনিকে তো ধরতে হবে।” নিপার মনের মধ্যে বার বার অনুরণিত হতে থাকে। ভয়ে তার হাত পা সিঁটিয়ে আসে। তার পাঁচ দিন বাদে ইন্সপেক্টর বাবিন নিপা দেবীর বাপের বাড়ী গিয়ে হাজির হয়। দরজায় নক করার আওয়াজ পেয়ে নিপা এসে দরজা খুলে দেখে যে দরজায় পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে। নিপা, “আপনারা এখানেও ? ” ইন্সপেক্টর বাবিন, “কেনো ? অসুবিধা আছে ? আপনি কি চান না যে আপনার স্বামীর খুনি ধরা পড়ুক ? ” নিপা দেবী, “তা কেনো ? কিন্তু আপনারা আসল খুনিকে না খুঁজে বার বার আমার কাছে এসে সময় নষ্ট করছেন। ” ইন্সপেক্টর বাবিন, “আমাদের সময় একটুও নষ্ট হচ্ছে না। তদন্তের জন্য যা করা দরকার আমরা ঠিক সেটাই করছি। আর কোথায় কোন ক্লু পাবো সেটা আমাদেরও অজানা।এগুলো কোনটাই আমাদের তদন্তের বাইরে পরে না। “নিপা,” আপনারা কি আমাকে সন্দেহ করছেন ?” ইন্সপেক্টর বাবিন, “যতক্ষণ প্রকৃত খুনি ধরা না পড়ছে ততক্ষন আমাদের সন্দেহের তালিকায় আপনার নাম থাকবে এক নম্বরে। ” পুলিশ ইন্সপেক্টরের এই কথা শুনে নার্ভাস হয়ে নিপার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। মাথা নীচু করে চোখটা নামিয়ে নেয় সে । কিন্তু সেটা বাবিনের কৌশলী চোখকে এড়াতে পারে না। ইন্সপেক্টর বাবিন, “আচ্ছা নিপা দেবী আপনার এন্ড্রোইড ফোনটা তদন্তের স্বার্থে একটু দেখতে পারি ? “নিপা, “ও সিওর। এই নিন।” নিপা ইন্সপেক্টর বাবিনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে ততক্ষণাৎ নিজের মোবাইলটা লক খুলে ইন্সপেক্টর বাবিনের হাতে দিয়ে দেয়। বাবিন মোবাইলটা হাতে নিয়ে প্রথমে শুভ্রসোমের চ্যাটটা দেখে নেয় যে রাস্তার কারেন্ট লোকেশনটা এই মোবাইলে আছে কিনা। তারপর শুভ্রর ঐ মেসেজটা অন্য আর কারো মোবাইলের হোয়াটস্যাপে ফরওয়ার্ড করা হয়েছে কিনা সেটা দেখে। বাবিন দেখতে পায় যে ঐ মেসেজটা শীর্ষাণু আর পিপাসা নামে দুজনের মোবাইলে ফরওয়ার্ড করা হয়েছে ঐ দিনই মেসেজটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। ইন্সপেক্টর বাবিনের সন্দেহটা আরও দৃঢ় হয়। তার মাথায় প্রশ্ন আসে যে নিজের স্বামীর কারেন্ট লাইভ লোকেশনটা সে অন্যের মোবাইলে ফরওয়ার্ড করে দিলো কেনো ? তদন্ত অফিসার বাবিন বুঝে নেয় যে নিপা নিশ্চিত কোন ভাবে এই খুনের সঙ্গে জড়িত আছে। পুলিশ ভাবছে হয়তো এর থেকেই সড়যন্ত্রের শিকড়ের সন্ধান পাওয়া যাবে । আশা করা যায় এবার ষড়যন্ত্রের জট খুলে যাবে । অন্তত অভিমুখ দেখা গেছে। তদন্ত অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এখন শুধু রহস্য উন্মোচন হতে বাকি। ইন্সপেক্টর বাবিন প্রশ্ন করে, “আচ্ছা নিপা দেবী খুনের দিন আপনি আপনার স্বামীকে অনুরোধ করছিলেন তার বাড়ী ফেরার রাস্তার লোকেশনটা আপনার মোবাইলে মেসেজ করে দিতে। কিন্তু কেনো ? আপনি তো ওনার রাস্তা জানেন। ঐ রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া ওনার অনেক দিনের অভ্যাস। ” নিপা, “হ্যাঁ যদি উঁনি অন্য রাস্তা দিয়ে আসেন তাই। ” বাবিন, “তাতে কি হতো ? খুনিরা বিভ্রান্ত হতো। তারা আপনার স্বামীকে খুঁজে পেতো না ? শিকার ফস্কে যেতো ?” বাবিনের এই কথা শুনে নিপার মনের মধ্যে ধ্বস নামতে শুরু করে । কিন্তু তার সাবধানী মন চকিতে সেটা আড়াল করে নিজেকে সামলে নেয়। যাতে পুলিশ কিছু বুঝতে না পারে। কিন্তু পুলিশের চোখে ফাঁকি দেওয়া সহজ কাজ না। ইন্সপেক্টর ওনার বডি ল্যাংগুয়েজটা চট করে পড়ে নিয়েছে। নিপা, “আপনি এই সব কি বলছেন ? আপনার এই কথার কোন অর্থ হয় না। আপনি আইন বহির্ভূত ভাবে আমাকে আসামির কাঠ গড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন। এতে প্রকৃত খুনি পালিয়ে যাবার ফুরসৎ পাবে। ইন্সপেক্টর বাবিন,” আমরা যেভাবে জাল পেতেছি তাতে পালিয়ে বেশি দূর যেতে পারবে না। আমাদের জাল কেটে বেরিয়ে যাওয়া খুব সহজ কাজ না । জাল যখন টানবো দেখবেন রুই,কাতলা, মৃগেল, বোয়াল সব ধরা পড়বে।” পুলিশ ইন্সপেক্টরের মুখ থেকে এই কথা শোনা মাত্র নিপার হাত থেকে তার মোবাইলটা মেঝেতে পড়ে যায়। তার গায়ে ঘাম চলে আসে। ইন্সপেক্টর বাবিন, “কি হলো ঘামিয়ে যাচ্ছেন কেনো ? “নিপা, “গরম যা পড়েছে তাতে তো ঘাম হবেই।” বাবিনের যা বোঝার তা সে চট করে বুঝে নিয়েছে । আবার হয়তো আসতে হতে পারে। এই কথা বলে বাবিন বেরিয়ে আসে। ইন্সপেক্টর বাবিন থানার সাইবার সেলের সাহায্য নিয়ে মোবাইলের মেসেজ হিস্ট্রি চেক করে দেখে নেয় । তাতে খুনের কেসটায় একটা নতুন মোড় আসে। তদন্তে গতি আসে।পুলিশের কাছে অনেক কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়। নিপার কথায় মধ্যে অনেক অসংগতি থাকায় পুলিশ নিপাকে অ্যারেস্ট করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ ইন্সপেক্টর বাবিন নিপার মোবাইল ফোন থেকে শীর্ষাণু ও পিপাসার মোবাইল নাম্বার নোট করে নিয়ে রেখেছিল। সেই নাম্বার ধরে ফোন করে পিপাসাকে থানায় ডাক করায়। কিন্তু পিপাসা থানায় এসে হাজিরা দেয় না। তারপর ইন্সপেক্টর বাবিন পিপাসার মোবাইলের সিম কার্ড যে দোকান থেকে কিনেছিল সেই দোকান খুঁজে বের করে এবং সেই দোকানে যায়। সেখান থেকে পিপাসার আঁধার কার্ড নিয়ে বাড়ীর ঠিকানা সংগ্রহ করে। ইন্সপেক্টর বাবিন ঐ ঠিকানা ধরে এক দিন পিপাসার বাড়ী পৌঁছে যায়। পুলিশ ডোর বেল বাজালে পিপাসার বাবা, ‘পরজন্য ‘বাবু এসে দরজা খোলেন। ইন্সপেক্টর বাবিন, “এই বাড়ীতে পিপাসা নামে কেউ থাকেন ? “পরজন্য, “হ্যাঁ, কিন্ত কেনো বলুন তো ?” ইন্সপেক্টর বাবিন, “আমরা একটা খুনের তদন্ত করতে এসেছি। ওনার কাছ থেকে এই খুনের বিষয়ে আমাদের কিছু জানার আছে। তাই আমরা ওনার সঙ্গে কথা বলবো। ওনাকে ডেকে দিন।” পরজন্য,” খুনের বিষয় ও কি জানবে ? ও কোন খুনের বিষয় কিছু জানে না। “বাবিন,” আমরা আপনাকে কিছু জিজ্ঞেস করি নি। আমাদের যা জানার ওনার কাছ থেকে জানবো ।” পরজন্য, “আপনারা ভুল জায়গায় এসে পড়েছেন। ” ইন্সপেক্টর বাবিন, “আপনি যদি পিপাসাকে ডেকে না দেন তবে আমরা অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট নিয়ে এসে ওনাকে অ্যারেস্ট করে নিয়ে যাবো। ” পরজন্য বাবু, “ঠিক আছে ঠিক আছে আপনারা বসুন আমি ডেকে আনছি। “প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পিপাসা বেরিয়ে এসে পুলিশের সামনে বসে হাত জোর করে নমস্কার জানায় ইন্সপেক্টর বাবিনকে। পিপাসা, “বলুন স্যার কি জানতে চান আমার কাছে। ” ইন্সপেক্টর বাবিন, “আপনি নিপা নামে কারোরে চেনেন ?” পিপাসা, “হ্যাঁ চিনি,তো কি হয়েছে ?” বাবিন, “নিপার হাসব্যান্ড খুন হয়েছে শুনেছেন ?” পিপাসা, হ্যাঁ। বাবিন,” নিপা আপনার কেমন বন্ধু ?” পিপাসা, “ভালো বন্ধু আবার কি ? ” বাবিন, “কে খুন করতে পারে বলে আপনার মনে হয় “? পিপাসা, “সেটা আমি কি করে বলবো ? আমি কি খুনিদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াই নাকি ? ” বাবিন, “কার সঙ্গে ঘুরে বেড়ান, কি করেন সেটা আপনি ভালো জানেন। আপনাকে যা জিজ্ঞেস করছি আপনি শুধু তার উত্তর দিন। আপনি খুন কিরেছেন না কি করেছেন সেটা আমরা বার করে নেবো।” পিপাসা, “এই সব অবান্তর কথা বলছেন কেনো ? এই সব আপনার এক্তিয়ারের বাইরে।” বাবিন,” আমার এক্তিয়ার আমি জানি। সেটা নিয়ে আপনার সরব হবার দরকার নেই। আপনি শুধু বলুন খুনের দিন ন টা বাজতে তিন মিনিট আগে নিপা তার হাসব্যান্ডের বাড়ী ফিরে আসার কারেন্ট লোকেশন আপনার এন্ড্রোইড ফোনে ফরওয়ার্ড করেছিল কেনো ? “পিপাসা,”ও ভয় পেয়ে গিয়েছিল তাই।” বাবিন, “কিসের ভয় পেয়েছিল নিপা ?” পিপাসা, “ও ভেবেছিল যে ওর হাসব্যান্ডের কোন বিপদ হতে পারে। ” বাবিন, “যে দিন ভাবলো বিপদ হবে আর ঠিক সে দিনই বিপদ হয়ে গেলো। তার মানে আপনারা জানতেন যে ঐ দিন শুভ্রসোমের বিপদ ঘটবে। আপনারা কি ভাবে জানলেন যে বিপদ ঘটবে। ” পিপাসা, “আমরা জাস্ট আইডিয়া করেছিলাম। ” বাবিন, ” বিপদের আইডিয়া করে আপনারা কি ব্যবস্থা নিয়েছিলেন ? পুলিশকে জানিয়েছিলেন ?” পিপাসা, “না পুলিশকে জানানো হয় নি। ” বাবিন, “কেন জানানো হয় নি ? আপনারা ভেবেছিলেন পার পেয়ে যাবেন। আপনাদের রাজনৈতিক সাপোর্ট ছিল। ভেবে ছিলেন সেটাকে কাজে লাগিয়ে যা খুশি তা করে যাবেন। কেউ আপনাদের ছুতে পর্যন্ত পারবে না । কিন্তু রাজনৈতিক সাপোর্ট চির দিন যে থাকে না সেটা ভাবতে পারেন নি। আপনারা নিজেরাই খুন করেছেন নাকি খুনি ভাড়া করে তাকে দিয়ে অব্যর্থ ভাবে খুন করানোর জন্য তার মোবাইলে ভিক্টিমের ঐ বাড়ী ফেরার লোকেশনের মেসেজ ফরওয়ার্ড করে দিয়েছিলেন ? ” এই প্রশ্নের কোন উত্তর পিপাসা দিতে পারে না । সে চুপ করে বসে থাকে। হয়তো সে ভাবছে পরিণামের কথা। ওরা তো সত্য সত্যিই খুনির মোবাইলে ঐ মেসেজটা ফরওয়ার্ড করে দিয়েছিলো। এই মেসেজটা হয়তো খুনির মোবাইলের মেসেজ হিস্ট্রি থেকে পুলিশ বের করে নিতে পারবে। তাই মিথ্যা বলে কোন লাভ হবে না।তাই সে চুপ করে থাকে । পিপাসার কথা বলার ভাষা, ভাব বঙ্গি অর্থাৎ বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে পুলিশ বুঝতে পারে যে ও একটু ওভার স্মার্ট হবার চেষ্টা করছে। ওর কথা-বার্তার মধ্যে পুলিশ বিস্তর অসংগতি খুঁজে পায়। তাই ওকে অ্যারেস্ট করে তদন্তের স্বার্থে। ইন্সপেক্টর বাবিন, “ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট। ” পিপাসাকে পুলিশ অ্যারেস্ট করে থানার লক আপে নিয়ে যায়। পিপাসা থানায় এসে দেখে তার আগে নিপা থানার লক আপে বসে আছে।
শীর্ষাণুর বাড়ী গিয়ে তাকে বাড়ীতে পায় নি পুলিশ। বাড়ীর লোক জানেনা যে সে কোথায় আছে। শীর্ষাণুর মোবাইল ফোনের লোকেশন বার বার ট্র্যাক করতে থাকে পুলিশ। কিন্তু শীর্ষাণু পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করে। যার ফলে পুলিশ তার লোকেশন স্থির করতে পারে না । যাতে পুলিশ তার লোকেশন ট্রাক করতে না পারে সে জন্যই সে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় হুটহাট করে চলে যেতে থাকে। সে তার পরাজিত রাজনৈতিক দলের সাহায্য চেয়ে যুবরাজকে ফোন করলে সে চেষ্টা ব্যার্থ হয়। সাহায্য চাইলে তাকে বলা হয় সেবার ক্ষমতায় ছিলাম তাই বাঁচিয়ে দিয়েছিলাম কিন্তু আজ পরিস্থিতি অন্য রকম। সব আমার বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। তাছাড়া শুভ্রসোম ওদের একজন ভালো সমর্থক দরদী। যদিও ওর মৃত্যুতে ওরা রাজনৈতিক কিছুটা সুবিধা পেয়েছিল তথাপি একটা লোকাল চাপ আছে তো। তাই এই কেসটা রিওপেন করে ন্যায় বিচার পাইয়ে দিয়ে মুখ রক্ষা করতে চাইছে ওরা । নিজের দলের সমর্থক মেম্বার মারা গেলে সব দলই কিছু না কিছু সুবিধা পায়। তাই সব দলই আশা করে নিজের দলের কেউ না কেউ রাজনীতির বলী হোক। সেটা আমরাও চাই।এবারের ভোটে রাজনৈতিক ভরাডুবির ফলে আমরা নদীর ভাঙ্গনের মত ভেঙে তলিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দলের অস্তিত্ব বিপন্ন হতে চলেছে। আমাদের দল ত্যাগ করে বিধায়করা, সাংসদরা অন্য দলে চলে গিয়ে আমার পিসির বিরুদ্ধে আমার বিরুদ্ধে কথা বলছে। আমাদের খেয়ে-পড়ে আমাদের ভোটে জিতে আমাদের দুর্দিনে অন্য দলে যোগ দিয়ে আমাদের সঙ্গে গদ্দারী করছে। সব বেইমান।ওরা নিজেরা ভোটে দাঁড়ালে একটা ভোটও পাবে না। সবই তো পিসির ভোট। পাবলিকলি বিভিন্ন অভিযোগ আনছে আমার বিরুদ্ধে । আমাদের সংখ্যা প্রতি দিনই কমছে। সেটা আমরা আটকাতে পারছি না। ভোটের ফল বের হবার দু মাসের মধ্যে আমাদের অবস্থা এতোটা বেহাল হয়ে যাবে তা ভাবতে পারিনি । তাই দলের এই দুঃসময়ে নিজের প্রটেকশন নিজেকেই নিতে হবে। যদি এরমধ্যে ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শক্ত পায়ে আমরা দাঁড়াতে পারি তবে আবার আগের মতো সব অপরাধ চাপা দিয়ে দিতে পারবো আশা করি । জেল থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে নিয়ে আসবো কথা দিচ্ছি। হাজার কেস থেকে বাঁচতে আমাকে বিদেশে যেতেই হচ্ছে। আমি বিদেশ থেকে কবে ফিরতে পারবো তা জানি না। তবে সব খবর আমি রাখবো। ততো দিন এক ডাকে যুবরাজ বন্ধ থাকবে ।পিসি চেষ্টা করছে টাই আপটাকে আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে। পিসির পাশে থেকে পিসিকে সাপোর্ট দাও। পিপাসার মোবাইলের কল লিস্ট পুলিশ বের করে আনে। সেই কল লিস্ট ও মেসেজ হিস্ট্রি চেক করে পুলিশ জানতে পেরে যায় যে হেমায়েত হাওলাদার ও ক্যাবলা তালধি নামে দু জন প্রফেশনাল কিলারকে ওরা ভাড়া করেছিল এই খুনে ব্যবহার করার জন্য। সেই ভাড়াটে খুনি দু জনও শীর্ষাণুর সঙ্গে আছে। কয়েক দিন এই ভাবে চলার পর ওরা পুলিশের চোখে ধুলো দেবার জন্য যে যার মত আলাদা হয়ে যায়। যে যেখানে পারে গা ঢাকা দেয়।পুলিশ ওদের মোবাইলে আড়ি পেতে থাকে। সাইবার ব্রাঞ্চের হেল্প নিয়ে পুলিশ ওদের মোবাইলের সব কল ও চ্যাট জানতে পেরে যাচ্ছে। গোপন সূত্রে পুলিশ খবর পায় যে শীর্ষাণু আসামের নগাঁও ডিস্ট্রিক্টের ফতে পুর গ্রামে ওর পার্টির এক জনের শালীর বাড়ী গিয়ে গা ঢাকা দিয়ে আছে। ইন্সপেক্টর বাবিন চার জন সাব অর্ডিনেট পুলিশ ফোর্স নিয়ে আসামের নগাঁও চলে যায়। নগাঁও জেলার কোলং নদীর তীরে কোন একটি গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে ।কোলং নদীটি ব্রহ্মপুত্র নদের একটি উপনদী। যা আসামের নগাঁওয়ের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে উৎসারিত হয়ে আবার গুয়াহাঁটির কাছে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে। উপনদীটি প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং নগাঁও,মরিগাঁও এবং কামরূপ জেলা গুলোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে । পথে বেশ কয়েকটি ছোট নদী যেমন দিজু, মিসা ইত্যাদি এর সাথে মিলিত হয়েছে । এই নদীটি নগাঁও শহর তলির কেন্দ্রস্থল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শহর টিকে নগাঁও এবং হয়বরগাঁওয়ে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছে। এই নদীর সৌন্দর্য অপরূপ। ওপনিবেশিক যুগে যদিও নদীটি যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের জন্য বহুল ব্যবহৃত হত বলে জানা যায়। কারণ তখন সড়ক পথ ও রেল পথ সেভাবে তৈরি হয় নি। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক প্রশাসন নদীর তীরে প্রায় পুরানিগুদামে জেলা সদর স্থাপন করেছিল। ১৯৬০ সালের কোন একসময় এক বন্যায় নগাঁও শহরের অস্তিত্ব বিপন্ন হবার মুখে পড়ে গিয়েছিল । পরবর্তীকালে জাখালবান্ধর অঞ্চলে নদীর মুখ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে এই অঞ্চলের মানুষ বন্যার কবল থেকে মুক্তি পায়। অতীতে বর্ষাকালে এই নদীটি নগাঁও ও মরিগাঁও জেলাগুলোর নিম্নভূমি অঞ্চল গুলোতে বন্যার দ্বারা বিপর্যয় সৃষ্টি করতো। নদীটির দুই পারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অসংখ্য ছোট বড় গ্রাম গড়ে উঠেছে। বেশির ভাগ গ্রামই দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের বসবাস। এরা দিন আনে দিন খায়। ঘর বাড়ীগুলিও বেশির ভাগ কাঁচা। মল মূত্র নিষ্কাসনের ভালো ব্যবস্থা নেই। এই নদীর উপর মল মূত্র ত্যাগের ব্যবস্থা করে নিয়েছে দরিদ্র শ্রেণীর মানুষ। ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের রিপোর্টে কোলং নদীর জলে দূষণের মাত্ৰা সব থেকে বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে । নদী দূষণে ভারত বর্ষে এই নদীটি কয়েকবার প্রথম স্থানে ছিল।তবে এই নদীর তীর বর্তী অঞ্চল জুড়ে প্রচুর বনভূমি গড়ে উঠেছে। এই ঘন অরণ্যকে এখানকার মানুষ জীবিকা হিসাবে ব্যবহার করে। নগাঁও ডিস্ট্রিক্টের পুলিশ লাইনসের সুপারিন্ডেন্ডেন্ট এর সঙ্গে আলোচনা করে যৌথ বাহিনী নিয়ে গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমে বিভোর তখন ঐ ফতেপুর গ্রামে শালীর বাড়ী রেড করে যৌথ পুলিশ বাহিনী। শীর্ষাণু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে শালীর বাড়ী
কোলং নদীর তীরবর্তী অঞ্চল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশের যৌথ বাহিনীর অপারেশন ব্যর্থ হয়। তারপর দু দিন পুলিশ চুপ করে বসে পরিকল্পনা করতে থাকে। তৃতীয় দিনে পুলিশ সোর্স মারফত খবর পায় যে শীর্ষাণু এখান থেকে পালিয়ে লাওখোয়া অভয়ারণ্যের কাছাকাছি শিব পুরী নামে একজনের বাড়ী গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে । সে অভয়ারণ্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ নিয়েছে। তার নতুন নাম হয়েছে হান্নান মোল্লা।নগাঁও জেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত লাওখোয়া অভয়ারণ্য হলো একটি বন্যপ্রাণী অভিয়ারণ্য যেখানে গন্ডার এবং মহিষের সমৃদ্ধির জন্য পরিচিত। এই লাওখোয়া বুড়াচাপরি ইকোসিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং মহৎ বন্য প্রাণীদের জন্য একটি উপযুক্ত বাসস্থান প্রদান করে। প্রায় ৭০. ১৩ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অভয়ারণ্যটি এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র প্রদর্শন করে। ইন্সপেক্টর বাবিন নগাঁও জেলা পুলিশের সাহায্য নিয়ে একটা বিরাট বড় সার্চ অপারেশন করে ঐ অভয়ারণ্য অঞ্চল জুড়ে। ভোর চারটার সময় এই অপারেশন চালায় ইন্সপেক্টর বাবিন। পুলিশের পায়ের শব্দ টের পেয়ে ধড়ফড় করে উঠে বসে এক ঝলক পুলিশের দিকে তাকিয়ে দৌড়ে পালতে যাবে আর তখনই ওকে চারি দিক থেকে পুলিশ ঘিরে ফেলে । পালাবার আর পথ পায় নি শীর্ষাণু । ইন্সপেক্টর বাবিন,” মিস্টার শীর্ষাণু আপনার খেল খতম। অনেক ছুটিয়েছিস আমাদের। এবার আমরা তোকে ছোটাবো। তোর হাঁটুর মালাই চাকি খুলে নিয়ে তোকে বলবো দৌড়াতে। দেখবো কেমন পারিস। ” শীর্ষাণু, “স্যার আমি কিছু করিনি। আমাকে ছেড়ে দিন প্লিজ।”ইন্সপেক্টর বাবিন, “তুই কিছু করেছিস কি করিস নি সেটা আমরা বুঝে নেবো। কিছু করিস নি তো পালিয়ে বেড়াচ্ছিলিস কেনো ? আমাদের ধোঁকা দিয়ে বোকা বানাতে ?” শীর্ষাণু, “স্যার আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। “বাবিন, “বাহ্ তুই ভয় পেয়ে গেলি ? তুই তো কিছু করিস নি তাও ভয় পেয়ে গেলি ? নিপার হাসব্যান্ড, শুভ্রসোম, সে খুন হয়ে গেছে সেটা তুই জানিস ? ” শীর্ষাণু, “হ্যাঁ স্যার জানি। “বাবিন, “কি করে জানলি ? কে বললো তোকে? ” শীর্ষাণু, “স্যার নিপা ফোন করেছিল আমাকে। ” বাবিন, “কিন্তু নিপার ফোনের কল লিস্টে তো তোর নাম্বারে কোন কল নেই। তাহলে কি করে তোকে ফোন করলো ? আসল কথা কি সেটা বল। তুই নিজে খুন কিরেছিস না কি ভাড়াটে খুন লাগিয়ে খুন করিয়েছিস ? ঠিক ঠাক সত্য কথা বলবি। আর তুই যদি আমাদের আরও ঘাটাস তবে আমরা তোকে এমন ঘাটান ঘাটাবো যে নিজের পায়ে হেঁটে বাড়ী যেতে পারবি না। এ কথা মনে রাখিস।” শীর্ষাণু, “স্যার খুনের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। শুধু শুনিছি এই যা। যেহেতু নিপা আমাদের বন্ধু তাই ভাবলাম যদি পুলিশ কেসে আমার নাম এসে যায় তাই গা ঢাকা দিয়েছিলাম। আমি স্যার নিজেও খুন করিনি আর ভাড়াটে খুনিও লাগাই নি। ” বাবিন, “তোদের বন্ধু বলতে ?” শীর্ষাণু, “স্যার আমি নিপা আর পিপাসা আমরা বন্ধু। ” বাবিন, তোর সবই মহিলা বন্ধু ? আসল চক্করটা কি বলতো ? আমরা যতদূর জানি তোদের গ্রুপের মধ্যে শরীর নিয়ে খেলা হয় ? তুই কি নিপার শরীরের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিলিস ? তাই ওর হাসব্যান্ড শুভ্রসোমকে সরিয়ে দিয়ে সেই জায়গাটা নেবার চেষ্টা করেছিলিস আর তার জন্যই খুন ? শীর্ষাণু, “না স্যার আমি মেয়ে মানুষের শরীর বা খুনের মধ্যে নেই। “বাবিন, তাহলে তুই শুভ্রসোমের বাড়ী ফেরার কারেন্ট লোকেশন জানতে চেয়েছিলিস কেনো ? শীর্ষাণু,” না স্যার আমি ও সব কিছু জানতে চাই নি।” বাবিন,” দেখি তোর মোবাইলটা আমার হাতে একটু দে। “শীর্ষাণু, “এই নিন স্যার।” ইন্সপেক্টর বাবিন, “বাহ্ তুই মেসেজ ডিলিট করে দিয়েছিস ? মেসেজ হিস্ট্রিতে এটা রয়ে গেছে সেটা তুই জানিস ? এই দ্যাখ মেসেজ হিস্ট্রি। আর এই মেসেজ তুই ফরওয়ার্ড করে দিয়েছিস ক্যাবলা ও হেমায়েতের মোবাইলে। তোর পরামর্শ মত ওরা দুজন শুভ্রসমকে খুন করে। তাহলে এবার বুঝতে পেরেছিস যে তুই ধরা পড়ে গেছিস। ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট, মিস্টার শীর্ষাণু। ” কলকাতা পুলিশ টিম শীর্ষাণুকে নিয়ে কলকাতায় ফিরে আসে।
কলকাতা পুলিশ অনেকটা জাল গুটিয়ে এনেছে। তদন্তের সাফল্য এইট্টি পার্সেন্ট এগিয়ে গেছে । এরপর বাকি আছে ক্যাবলা তালধি আর হেমায়েত হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা। এদের দু জনকে গ্রেপ্তার করতে পারলেই খুনের কিনারা হয়ে যাবে। পিপাসার ফোনের কল লিস্ট ঘেঁটে পুলিশ দেখতে পায় যে পিপাসা আর শীর্ষাণুর মধ্যে অনেক বার কথা হয়েছে। মেসেজও বেশ কয়েকটা আছে। শীর্ষাণুর মোবাইল চেক করে পুলিশ জানতে পেরে যায় যে শীর্ষাণুর যেমন পিপাসার সাথে কথা হয়েছে তেমনি ক্যাবলা ও হেমায়েতের মধ্যে বহু বার কথা হয়েছে। মেসেজে খুনের তারিখ ও সুপারির টাকা পয়সা উল্লেখ আছে। তিন লাখ টাকার এগ্রিমেন্ট হয়েছে। এক লাখ টাকা এডভান্স দিতে হয়েছে আর বাকি দু লাখ কাজ হাঁসিল করার পর দিতে হয়েছে।এর থেকে পুলিশ নিশ্চিত হয়ে যায় যে নিপা, পিপাসা আর শীর্ষাণু তিন জন অঙ্গাঙ্গি ভাবে যুক্ত আছে এই খুনের সঙ্গে। এরাই এই খুনটা করিয়েছে। এখন দেখতে হবে এই খুনে কার কি লাভ হয়েছে। থানায় এনে ওদের তিন জনকে পাশাপাশি বসিয়ে পুলিশ জেরা করে।
তাতে যা উঠে আসে তা শুনে পুলিশ ইন্সপেক্টর বাবিনের মাথায় চক্কর কাটতে শুরু করে। এ রকম সম্পর্ক এ রকম ঘটনার কথা ওনার সার্ভিস লাইফে উনি শুনেছেন বলে ওনার মনে পরে না। ইন্সপেক্টর বাবিন,” তোরা তোদের গ্রুপের এক্টিভিটি, তোদের ফিজিক্যাল রিলেসনশিপ সব খুলে বল যাতে সব পরিষ্কার হয়। নাহলে যদি থার্ড ডিগ্রি দিতে হয় সেটা তোদের শরীরের পক্ষে একদম ভালো হবে না। তোরা পঙ্গু হয়ে পড়বি ।”পিপাসা, “স্যার আমি আর নিপা এক পাড়ায় থাকতাম । আমাদের মধ্যে ছোট বেলা থেকেই বন্ধুত্ব চলছে। সেই বন্ধুত্ব শারীরিক পর্যায়ে নেমে আসে। আমরা ফিজিক্যাল এনজয়মেন্টে অভ্যস্ত হয়ে পরি। আমাদের দু জনের মধ্যে এই সম্পর্ক চলতে চলতে শীর্ষাণুর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। শীর্ষাণু একটা এস্কোর্ট সার্ভিসের সেন্টারে আসতো। সেখানে আমিও যেতাম। সেখান থেকে শীর্ষাণুর সঙ্গে আমার ফিজিক্যাল অ্যাফেয়ার্স শুরু হয়ে যায়। তখন আমরা তিন জনেই ঐ সেন্টারে সামান্য অর্থের বিনিময়ে প্রাইভেট লাইফ এনজয়মেন্ট করতে থাকি। শীর্ষাণুর সঙ্গে নিপার ফিজিক্যাল অ্যাফেয়ার্স শুরু হয় ওখানে। তখন নিপাকে শীর্ষাণুর খুব ভালো লেগে যায়। শীর্ষাণু নিপাকে সর্বক্ষণের জন্য কাছে রাখতে চায় কিন্তু যেহেতু নিপার স্বামী ছিল তাই সেটা সম্ভব হচ্ছিল না। তখন আমরা নিপার স্বামী শুভ্রসোমকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবার প্ল্যান করি এবং সাকসেস হই। শুভ্রসোম নিপাকে ভালোবাসতো কিন্তু নিপা শুভ্রসোমকে একটুও ভালবাসতো না। ভালোবাসার অভিনয় করত আমাদের মধ্যে সম্পর্কটাকে ধরে রাখার জন্য।” শীর্ষাণু,”স্যার এই খুনের কাজটা এক্সেকিউট করার জন্য আমরা দুজন প্রফেশনাল ভাড়াটে খুনি খুঁজজিলাম তখন পিপাসার বাবা পিপাসার অনুরোধে আমাকে ন্যাকার মোবাইল নাম্বার দেন এবং আমি ন্যাকার সাথে কথা বলি। ন্যাকা কাজটা নিজে করতে পারবে না বলে আমাকে গিয়াস উদ্দীন খন্দকারের কাছে নিয়ে যায় । সেখান থেকে আমি হেমায়েতের মোবাইল নাম্বার পাই। তারপর হেমায়েত ও ক্যাবলার সাথে কথা বলে খুনের এগ্রিমেন্ট করি। তিন লাখ টাকা সুপারি দিতে হয়েছে আমাদের। ” নিপা, ” আমার মা বাবা আমাকে যাতে কোন চালাক বা সতর্ক ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে না পারে তাই আমি শুভ্রসোমকে ভালো না বাসলেও ওকে বিয়ে করতে চাই। কারণ পিপাসার সাথে সম্পর্কে থাকতে গেলে এই বিয়েটা আমার করা খুব দরকার ছিল। ওকে বিয়ে করে আমি পিপাসার সাথে শারীরিক সম্পর্কটা ধরে রাখতে পেরেছি। সেটাই আমার ওকে বিয়ে করার আসল উদ্দেশ্য ছিল। তারপর আমার জীবনে আসে শীর্ষাণু। আমরা তিন জনে জয়েন্টলি ফিজিক্যাল এনজয়মেন্ট করে বেশ আনন্দে জীবন কাটাচ্ছিলাম। শীর্ষাণু আমাকে পুরোপুরি পেতে চাইলো। তাই শুভ্রসোমকে সরিয়ে দিতে হলো। ওকে সরিয়ে দিয়ে ওর সব সম্পত্তি আমরা পেয়ে যাই। সেই সম্পত্তি নিয়ে আমাদের বেশ ভালই চলে যাচ্ছিল। কাল হলো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হয়ে। “
ইন্সপেক্টর বাবিন হঠাৎ এক দিন না বলে কয়ে পিপাসার বাবা, পরজন্য বাবুর গ্যারেজে এসে হাজির হন। যেহেতু পরজন্য বাবু ইন্সপেক্টর বাবিনকে নিজের বাড়ীতে এক দিন দেখেছিলেন তাই ওনার চিনতে অসুবিধা হয় নি। ইন্সপেক্টর বাবিনকে উনি যথা যোগ্য সম্মান দিয়ে বসার জন্য নিজের হাতে চেয়ার এগিয়ে দেন। পরজন্য বাবু, “বসুন স্যার বসুন।” বাবিন, “ঠিক আছে, এই গ্যারেজটার মালিকের সঙ্গে শুভ্রসোমের খুনের বিষয় নিয়ে আমি একটু কথা বলতে চাই । ওনাকে ডেকে দিন।” পরজন্য বাবু, “আমিই এই গ্যারেজের মালিক। আপনি কি জানতে চান বলুন। আমি চেষ্টা করবো এই খুনের বিষয়ে আমার যদি কিছু জানা থাকে তবে সেটা আপনাকে যথাযথ ভাবে বলে দিতে। বলুন স্যার আপনি কি জানতে চান আমার কাছে।”ইন্সপেক্টর বাবিন, “আচ্ছা পরজন্য বাবু খুনিরা যে বুলেট বাইকটা খুনের জন্য ব্যবহার করেছে সেটা কোন গ্যারেজ থেকে আপনি এনে দিয়েছেন ? “পরজন্য বাবু, “স্যার আমি কোন গ্যারেজ থেকে এনে দেই নি। খুনিরা কোথার থেকে এনেছে সেটা ওরাই ভালো বলতে পারবে। ” বাবিন,” কিন্তু আমি জানি ঐ বাইকটা আপনি ম্যানেজ করে দিয়েছেন আপনার মেয়ের অনুরোধে। আর আপনি তো এটা জেনে গেছেন যে আপনার মেয়ে পিপাসা এই খুনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আছে। নিপা, পিপাসা আর শীর্ষাণু এই তিন জন এই খুনের মাস্টার মাইন্ড। ওরা তিন জন মিলে এই খুনের মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে ভাড়াটে খুনি লাগিয়ে খুনটা করিয়েছে। আর আপনিও কোন না কোন ভাবে এই খুনের সঙ্গে যুক্ত আছেন ওদের সাহায্য করার জন্য । এবার আপনি সত্যটা বলে দিন না হলে আমরা যদি আপনাকে দিয়ে সত্যটা বলিয়ে নি তবে সেটা আপনার শরীরের পক্ষে একদম ভালো হবে না। আপনি সুস্থ শরীর নিয়ে বাড়ী ফিরতে পারবেন না। আপনার শরীরে দুশো ছ টা হাড়ের জায়গায় দুহাজার ছ টা হাড় হয়ে যেতে পারে। এমন কি এক্সরে মেশিন দিয়ে খুঁজলেও সব কটা হাড়ের সন্ধান পাবেন না। যত দিন বাঁচবেন শুয়ে শুয়ে জীবন কাটাতে হবে। ওরা তিন জন আমার থানার লকআপে আছে।” পরজন্য বাবু, “স্যার আমি স্বজ্ঞানে এই ঘটনার সঙ্গে কোন ভাবে যুক্ত নেই। আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে।” ইন্সপেক্টর বাবিন, “আপনি নিজের শরীর সুস্থ রাখার জন্য সব বলে দিন। আমরা সব জেনে গেছি। আপনি আর লুকিয়ে পারবেন না। এখন শুধু আপনার স্বীকার করার পালা।”পরজন্য বাবু, “স্যার ওরা মানে সুপারি কিলাররা গিয়াসউদ্দীন খন্দকারের গ্যারেজ থেকে বুলেট বাইক ভাড়া নিয়েছিল। আর গিয়াসউদ্দীন হেমায়েত হাওলাদারের মামাতো ভাইয়ের শালা।”
এই খুনের কেসের তদন্ত অফিসার ইন্সপেক্টর বাবিনের মাথায় চলছে ক্যাবলা ও হেমায়েতকে পুলিশের জালে বন্দি করার নানা পরিকল্পনা। এক দিন ইন্সপেক্টর বাবিন থানার লকআপে ঢুকে শীর্ষাণুকে জিজ্ঞেস করে,” ক্যাবলা ও হেমায়েতের সঙ্গে তোর পরিচয় হলো কিভাবে ? ” শীর্ষাণু চুপ করে বসে থাকে কোন কথা বলে না। ওর শরীরে যেন কেমন একটা ঝিমানো ভাব। ধরা পড়ে যাওয়ায় ও হয়তো হতাশ হয়ে পড়েছে।হয়তো ভাবছে এই খুনের মধ্যে দিয়ে জীবনটাকে যেভাবে রঙিন করে তুলবে বলে ভেবেছিলো সেটা হলো না। হয়ে গেল ঠিক তার উল্টো টা। ফুলের বিছানায় নিপাকে নিয়ে সুখে মেতে ওঠার পরিকল্পিত মুহূর্ত গুলোতে যেন সাপের ছোবল ধেয়ে আসছে সারাক্ষণ। সেই ছোবলে জর্জরিত হয়ে যাচ্ছে শরীর, মন। আবার হয়তো ভাবছে লোভে পাপ আর পাপে মৃত্যু। ইন্সপেক্টর বাবিন, “তোকে কিছু জিজ্ঞেস করছি শীর্ষাণু । তুই এমন মিইয়ে গেলি কেনো। অপরাধ করার আগে এটা মনে ছিল না যে অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হয় ? সে যাই হোক আমার কথার উত্তর না পেলে কিন্ত তোর বুকের পাঁজরের হাড়ের সংখ্যা বেড়ে চব্বিশ থেকে এক লাফে আটচল্লিশ হয়ে যাবে বলে দিলাম। “শীর্ষাণু, “স্যার বলছি স্যার বলছি। স্যার পিপাসার বাবার গ্যারেজের একটা লোক,নাম ‘ন্যাকা কল’ ওর সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল পিপাসার মারফত। পিপাসা ওর বাবার কাছ থেকে ন্যাকার মোবাইল নাম্বার এনে আমাকে বলেছিলো কথা বলে নিতে। আমি সেই মোবাইল নাম্বার নিয়ে ন্যাকার সাথে ফোনে কথা বলি। ন্যাকাকে আমি এই খুনের কথা বলি। ন্যাকা বলে যে সে এই মুহূর্তে এই কাজটা করতে পারবে না। তখন আমি ন্যাকার কাছে দুটো ভাড়াটে প্রফেশনাল মার্ডারার চেয়েছিলাম। তখন এক দিন ও আমাকে গিয়াসউদ্দীন খন্দকার নামে এক জনের কাছে নিয়ে যায়। গিয়াসউদ্দীনের একটা গ্যারেজ আছে। সেই গিয়াসউদ্দীন আমাকে বলেছিলো যে সে দুটো সুপারি কিলার দেবে। সে হেমায়েতের মোবাইল নাম্বার আমাকে দিয়ে বলে ফোন করে কথা বলে নিতে। তারপর আমি হেমায়েতকে ফোন করে কথা বলে সব ঠিক করে নেই।” ইন্সপেক্টর বাবিন,” হেমায়েত আর ক্যাবলাকে এখন কোথায় পাওয়া যাবে ? ওদের মোবাইল নাম্বার আর ঠিকানা দে। ” শীর্ষাণু, “স্যার ওদের ঠিকানা আমার জানা নেই। সেটা হয়তো গিয়াসউদ্দীন খন্দকার বলতে পারলেও পারতে পারে। আর এই নিন হেমায়েতের মোবাইল নাম্বার।” বাবিন,”তুই আমাকে নিয়ে গিয়াসউদ্দীনের গ্যারেজে চল ।” বাবিন শীর্ষাণুকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়াসউদ্দীনের গ্যারেজে যায় গিয়াসউদ্দীনের সঙ্গে কথা বলতে। বাবিন, ” এখানে গিয়াসউদ্দীন কে আছে ? ” গিয়াসউদ্দীন, “আপনাকে তো চিনতে পারলাম না। ” আমি পুলিশ ইন্সপেক্টর বাবিন, “শুভ্রসোম খুনের তদন্ত অফিসার। আমি ঐ খুনের তদন্ত করতে এসেছি। “খন্দকার,” হ্যাঁ বলুন স্যার আমার কাছ থেকে আপনি কি জানতে চান। যার জন্য আপনি কষ্ট করে এখানে এসেছেন। আপনি না এসে আমাকে থানায় ডাকলেই আমি চলে যেতে পারতাম।” বাবিন, “আপনার গ্যারেজটাও আমার চেনার দরকার ছিল। ” গিয়াসউদ্দীন খন্দকার, “বলুন স্যার আপনি কি জানতে চান। ” বাবিন, “যে বুলেট বাইকটা আপনি হেমায়েতদের ভাড়া দিয়েছিলেন শুভ্রসমকে খুন করার জন্য সেটা আমাকে দেখান।”খন্দকার, “স্যার সেই বাইকটা ওরা ভাড়া নিয়েছিল কিন্তু কেনো নিয়েছিল সেটা আমি জানি না। আর সেই বাইকটা ওরা আর ফেরত দিয়ে যায় নি। তাই আমি আপনাকে বাইকটা দেখাতে পারবো না।”বাবিন, “হেমায়েত আপনার কে হয় ?” খন্দকার, “স্যার ও আমার মামাতো ভাইয়ের শালা। ” বাবিন,” আপনি হেমায়েতের মোবাইল নাম্বার শীর্ষাণুকে দিয়েছিলেন খুনের ব্যাপারে কথা বলার জন্য। ” খন্দকার, “দিয়েছিলাম কিন্তু কি নিয়ে ওরা কথা বলবে সেটা আমি জানতাম না। ” বাবিন,” শীর্ষাণু তো আপনার কাছে দুজন প্রফেশনাল সুপারি কিলার চেয়েছিল। আপনি তো সেই জন্যই হেমায়েতের মোবাইল নাম্বার ওকে দিয়েছিলেন। তাহলে তো এই খুনের সঙ্গে আপনি জড়িত এবং এই খুনের বিষয়ে অনেক কিছু জানেন সেটা আপনি অস্বীকার করতে পারেন না। এই তো শীর্ষাণু আছে ওকে জিজ্ঞেস করে দেখুন।” এরপর গিয়াসউদ্দীন খন্দকার আর কোন কথা বলে না। মাথা নীচু করে চুপ করে বসে থাকে। ইন্সপেক্টর বাবিন, “ইউ আর আন্ডার অ্যারেস্ট মিস্টার খন্দকার । ” বাবিন গিয়াসউদ্দীন আর শীর্ষাণুকে নিয়ে থানায় ফিরে আসে । এক এক করে পাঁচ জন পুলিশের জালে ধরা পরে গেছে।এখন আর তিন জন বাকি। ঐ তিন জনকে তুলতে পারলেই এই খুনের কেসটা ক্লোস করা যাবে।
ইন্সপেক্টর বাবিন এক দিন শীর্ষাণুর কাছে ন্যাকা কলের মোবাইল নাম্বার চায়। শীর্ষাণুর কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে বাবিন ন্যাকাকে থানায় ডাক করায় । ন্যাকা বুঝতে পারে যে গ্রেপ্তার হবার ভয় আছে তাই সে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় । সারা অঞ্চল খুঁজে ন্যাকাকে পাওয়া যায় না। কেউ ন্যাকার সন্ধান দিতে পারে না। ন্যাকার ফোনে ফোন করলে কিছু সাউন্ড হয় না। পুলিশ অনুমান করে যে ন্যাকা ফোনের সিম কার্ড খুলে রেখেছে। এটা হতে পারে যে যখন ওর প্রয়োজন হয় তখন সিম কার্ডটা ফোনে ঢুকিয়ে নেয় আবার কথা বলা হয়ে গেলে সিম কার্ড খুলে রেখে দেয়। তাই পুলিশ চব্বিশ ঘন্টা ন্যাকার ফোনে আড়ি পেতে রেখেছে। ফোন অন করলেই লোকেশন চলে আসবে পুলিশের কাছে। ঠিক যেই ভাবা সেই কাজ। ন্যাকা এক দিন ভোর বেলা সূর্য ওঠার আগে তার মোবাইল ফোনটা অন করেছে মাত্র আর ওমনি তার ফোনের লোকেশন চলে এসেছে পুলিশের কাছে। ইন্সপেক্টর বাবিন ওত পেতে বসে ছিল। সঙ্গে সঙ্গে ইন্সপেক্টর বাবিন তার টিম নিয়ে বেরিয়ে পরে ন্যাকার লোকেশনে । একদম হাতে নাতে ধরা পরে যায় ন্যাকা । ট্যা-ফুঁ করার সময় পর্যন্ত পায়নি। ন্যাকা পুলিশের জালে বন্দি হয়ে গেলো। ইন্সপেক্টর বাবিন,” কি ভেবেছিলিস যে পালিয়ে বেঁচে যাবি ? পারলি না তো ? এটা জানিস না যে অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হয় ?” ন্যাকা, “না স্যার আমি ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম। ” বাবিন, “ভয় পেয়েছিস, তার মানে তুই অপরাধ করেছিস এটা শিকার করছিস। ” ন্যাকা, “না স্যার আমি কোন অপরাধ করিনি। ” বাবিন, “তুই শীর্ষাণুকে গিয়াসউদ্দীন খন্দকারের গ্যারেজে নিয়ে গেছিস কি যাস নি সেটা সত্য করে বল। আর তুই মাঝে মাঝে পরজন্য বাবুর গ্যারেজে যেতিস। তোর সঙ্গে পরজন্য বাবুর আলাপ ছিল। শীর্ষাণু কিন্তু সব বলে দিয়েছে। ” ন্যাকা, “,স্যার আমি খন্দকার সাহেবের কাছে শীর্ষাণুকে নিয়ে গিয়েছিলাম এটা ঠিক কিন্তু ওদের মধ্যে কি কথা হয়েছে সেটা আমি জানি না। “বাবিন , “এটা তুই মিথ্যা কথা বললি। শুভ্রসোমকে খুন করার দায়িত্বটা তোকে নিতে বলেছিল শীর্ষাণু। তুই কোন কারণে দায়িত্ব নিতে পারিস নি। তাই তুই ওকে গিয়াসউদ্দীনের কাছে নিয়ে যাস। এবার যদি তুই স্বীকার না করিস তবে তোকে পিছ মোরা করে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে মারবো। মেরে তোর শিরদাঁড়া এমন ভাবে ভেঙে দেব যাতে আর কোন দিন তুই সোজা হয়ে দাঁড়াতে না পারিস। আজীবন কুঁজো হয়ে হাঁটতে হবে তোকে আর এই অপরাধের কথা মনে করতে হবে ।” ন্যাকা, ” হ্যাঁ স্যার আমি শীর্ষাণুকে গিয়াসউদ্দীনের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। গিয়াসউদ্দীন ওদের দু জন প্রফেশনাল কিলার ঠিক করে দেয়। যাদের নাম হেমায়েত আর ক্যাবলা ।” বাবিন, “এবার বল ওদের কোথায় পাওয়া যাবে। ” ন্যাকা , “স্যার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জেনেছি যে ওরা দু জন এক সঙ্গে আছে। মধ্য প্রদেশের কোন একটা পাহাড়ের উপর আছে । সম্ভাবত মাজাউনের টিলায় ছোটা মহাদেবের মন্দিরের আশেপাশে কোথাও আশ্রয় নিয়েছে।” ইন্সপেক্টর বাবিন তার চার জন সাবঅর্ডিনেট স্টাফকে নিয়ে একটা টিম তৈরি করে এই অভিযানে যাবার জন্য মানসিক আর শারীরিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দেয়। পাহাড়ী রাস্তায় হাঁটা চলা করা, পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও আবহাওয়া সহ্য করার মত শারীরিক সক্ষমতা ও দক্ষতা দরকার হয় তাই এই প্রস্তুতি।
বাবিন, “ট্রেনটা তামিয়া স্টেশনে ঠিক রাইট টাইমে এসে পৌঁছায় । তামিয়া ছিন্দ্বওয়ারা মধ্যপ্রদেশের একটা গ্রাম্য হিল স্টেশন। তামিয়াকে বলা হয় হেভেন। এখানে ব্রিটিশ ERA রিসোর্টস আছে। হিলের উপরে ছোটা মহাদেবের মন্দির আছে। বিউটিফুল হিল স্টেশন গুলোর মধ্য এটা একটা অন্যতম। পাহাড় প্রিয় ট্যুরিস্টদের কাছে এটা একটা পছন্দের স্পট । রাস্তায় একটা জায়গায় আমাদের হল্ট করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেটা একটা ছোট্ট গ্রাম তবে ছবির মত তার পরিবেশ । ওখান থেকে বেশ কিছুটা দূরে দেখা যায় সারি সারি পাহাড়, টিলা সব দাঁড়িয়ে আছে একটার পর একটা । টিলা গুলি আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠে গেছে। পাহাড়ের শুস্ক পাথরের উপর বিরাট বিরাট গাছ। চারিদিকটা ঘন সবুজের সমারোহ। যেদিকে তাকাই সেদিকেই সবুজ বন ভূমি। সবুজ অরণ্যের মধ্যে একটা সুন্দর ঝর্ণা দেখে মন ভরে গেলো। শক্ত শুস্ক পাথরের মধ্যে কিভাবে কোথা থেকে জলের ধারা নেমে আসছে তার কিছুই বুঝতে পারা গেলো না। শুধু সো সো শব্দ করে নীচে আছড়ে পড়ছে।দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। গ্রামটায় অনেক গুলো ছোট ছোট ঘর আছে । এক সঙ্গে দেখলে মনে হয় গোটা গ্রামটা যেন একটা দ্বীপ। স্টেশন থেকে অনেকটা পথ পায়ে হেঁটে এসে তবে রাস্তায় হল্টে পৌঁছালাম আমরা । যেই ঘরে আমাদের হল্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে তার থেকে আর একটু এগোলে একটা ঘন জঙ্গল। শাল সেগুন মহুয়া ও আরও বহু রকম গাছ সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে। মাঝে মাঝে আছে ঝোপ ঝাড়। ট্রেন থেকে নেমে ঐ ঘরে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর পার হয়ে যায় আমাদের। সামান্য বিশ্রাম নিয়ে স্নান সেরে খেয়ে নিতে হলো তাড়াতাড়ি করে। কারণ সবারই পেটে তখন ছুঁচোয় ডন মারছিলো ।তার মধ্যে ছিল শরীর জুড়ে অত্যাধিক হাঁটার ক্লান্তি । খাওয়ার পর পরিশ্রান্ত শরীরে একটা জম্পেস ঘুম না দিলে চলছিল না। তারপর বিকাল বেলা এদিন ওদিন একটু হাঁটা হাঁটি করে ঘুরে বেড়াই । রাত্রি বেলা পাহাড়ের উপর আকাশ ভরা তারা। তবে এক ফালি চাঁদটাকে দেখে একটু অসুস্থ লাগছিল।এই জায়গাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এমন সুন্দর যে মোহিত না হয়ে পারার উপায় নেই। বড়খোর গ্রামের আশেপাশের জমিতে টাটকা তাজা সবজি, বাঁধের জলের টাটকা তাজা মাছ, টাটকা গরুর দুধ,ফল সবই মানুষের শরীরে পুষ্টি যোগায়। এখানকার পার্বত্য মানুষ খুব সহজ সরল। এখান থেকে গন্তব্য স্থলে যেতে যেতে পথে পড়লো ওয়াইধন, সিংরৌলি। জীবিকার সন্ধানে মানুষ বিভিন্ন রাজ্য থেকে এসে এই পার্বত্য অঞ্চলে জড় হয়ে বসতি গড়ে তুলেছে। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এখানে সব অনুষ্ঠান পালিত হয় মহা সমারোহে। এলাকার সব মানুষ এই সব অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে উৎসাহ নিয়ে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে। এখান থেকে উপরের দিকে তাকালে দেখতে পাওয়া যায় সারি সারি টিলা দাঁড়িয়ে আছে একটার পর একটা। রাস্তার দু পাশে সবুজ গাছ পালা আর ছোট ছোট ঝোপ শক্ত শুস্ক পাথরের মধ্যে গজিয়ে উঠে বড় হয়েছে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাস পেয়ে। তবে এরা পরিমান মত জল কিভাবে পায় সেটা বুঝতে পারিনি। মনে হচ্ছে ঈশ্বর যেন নিজের হাতে তার মনের মত করে সাজিয়ে রেখেছে এই অঞ্চলটা । দেখে বোঝা যায় মানুষের হাতের ছোওয়া পায় নি এখনো তাই এত সুন্দর আছে । রাস্তায় উঠতে উঠতে চোখে পড়লো পাহাড়ের ঢালে আদিবাসীদের গ্রামের ছোট ছোট ঘর। একটা অদ্ভুত সৌন্দর্য আছে গ্রাম গুলোর। এক টানা হাঁটছি। হাঁটতে হাঁটতে পেরিয়ে এলাম অনেক গুলো আদিবাসী গ্রাম, সাত্তিছৌরা, চান্দুরা, কেয়ারহা, বুদিমালা। রাস্তা দিয়ে হেঁটে উপরে ওঠার সময় ওরা আদিবাসীদের গ্রামে ঢুকে ক্যাবলাদের খোঁজ করে নিশ্চিত হয়েছে যে এই সব গ্রামে সাসপেক্টেড ক্রিমিন্যালরা নেই। আরও কিছুটা এগানোর পর রাস্তায় দেখা হলো কয়েক জন আদিবাসী রমণীর সাথে। তারা বন থেকে কাঠ কেটে মাথায় করে নিয়ে ঘরে ফিরছে। আমাদের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আবার চোখ নীচু করে চলে যায় তাদের গ্রামের দিকে। আমাদের উঠতে হবে টিলার উপর ছোটা মহা দেবের মন্দিরে। রাস্তাটা একটু চওড়া তবে খাঁড়া। সকাল থেকে হাঁটতে হাঁটতে পা ধরে গেছে। আর পাহাড়ের উপর সূর্যের আলোক রশ্মী খাঁড়া হয়ে পড়ে বলে রোদের তেজটা খুব বেশি। ক্লান্তিতে আর গরমে জল তেষ্টা পেয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। জলের বোতল সবার ব্যাগেই ছিল। সামনে একটা বড় গাছের গোড়ায় ছায়ায় বসে ব্যাগ থেকে জলের বোতল বার করে সবাই জল খেয়ে একটু বিশ্রাম নিলাম। তারপর উঠে আবার হাঁটা। দূর থেকে দেখলে মনে হয় টিলার উপর ছোটা মহাদেবের মন্দিরটা খুব কাছে কিন্তু মন্দিরের কাছে পৌঁছানোর পথ আর শেষ হয় না। কাছে মনে হলেও আসলে অনেক দূরে । পাহাড়ের উপর বলে দুরুত্বটা ঠিক বোঝা যায় না। আমরা প্রায় টিলার মাথায় এসে পড়েছি। তখন দিনের শেষ প্রহর চলছে। তখনও আলো তেজ বেশ ভালই আছে। পাহাড়ের উপর বলে একটু দেরি করে সন্ধ্যা হয় এখানে । দিনের আলোয় এখানকার সব কিছু যেন সতেজ লাগে। গাছের সবুজ পাতায় বাতাস ঢেউ খেলে যায় পাহাড়ের কোলে । বিকালের নরম রোদে পড়ে আমাদের সবার কপালের ঘাম চিকচিক করছে। আদিবাসীদের ছোট ছোট বাচ্চারা মাঠে খেলা করছে। তাদের কথা শুনেতে পেলেও কিছু বোঝা যায় গেলো না । কিন্তু সূর্য ডুবে যাবার পর এখানকার গাছ পালার রূপ পুরোপুরি পাল্টে যায়। পাতার সবুজ রং কালো হয়ে যায়। বাতাস ভারী হয়ে যায়। বাতাসে একটা অদ্ভুত গন্ধ ভেসে আসে নাকে । বাতাসের এই গন্ধের সঙ্গে মাটির সোদা গন্ধ মিশে কেমন একটা বিকট গন্ধ ম ম করে ভেসে বেড়াচ্ছে । এই অঞ্চলের মানুষ বলে এই গন্ধ তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। রাতের অন্ধকারে এই গন্ধ আবার সময়ে সময়ে বদলে যায়।এর কারণ এখানকার কেউ কিছু বলতে পারে না। জনশ্রুতি আছে যে এক দিন ঘন কুয়াশার সকালে একটা বড় গাছের আড়ালে পাওয়া গেছে কোন মহিলার রক্ত মাখা কাপড়।আবার কখনো কখনো ঝোপের মধ্যে দেখা গেছে শুকনো কালছে রক্তের দাগ। কোন মেয়ের হাতের ভাঙা চুরির টুকরোও এদিক ওদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। মনে হয়েছে যে কোন একটা অচেনা অজানা অদৃশ্য প্রাণী বুঝি টেনে নিয়ে গেছে এক জ্যান্ত রমণীকে। অথবা কোন প্রেত আত্মার কারসাজি হবে। রাতের অন্ধকারে কে একজন যেন গাছের পাতার আড়াল থেকে ফিসফিস করে ডাকে । সেই ডাক শুনে সারা দিয়ে কারো কারো প্রাণ বায়ু নাকি বের হয়ে গেছে অকালে। তার থেকেও ভয়ঙ্কর হলো যে এখানে নাকি মরা মানুষের আত্মা ঘুরে বেড়ায় জীবিত মানুষের শরীরে মধ্যে বয়ে । কারোকে কারোকে আমি বলতে শুনিছি যে ভূত আর ভগবান নাকি এক জায়গায় থাকে।সন্ধ্যার পর আমরা পৌঁছে যাই টিলার উপর মন্দিরের চাতালে। একদম উপরটা বেশ সমতল। মন্দিরের পিছন দিকটা একটু ঢালু হয়ে নীচে নেমে গেছে। মন্দিরে একটা বাবার মূর্তি বসানো আছে। মনে হয় মূর্তিটা বুঝি মাটি ভেদ করে নিজে নিজে উঠে এসেছে। বাবার মাথায় ফুল বেল পাতা আটকে আছে। মনে হচ্ছে একটু আগে কেউ পুজো দিয়ে গেছে।
সারা রাত ধরে মন্দিরের আশেপাশে সব জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় নি হেমায়েত ও ক্যাবলাকে। ওদের মোবাইলের কারেন্ট লোকেশন ট্র্যাক করলে কিছু আসে না। হয়তো মোবাইলের সিম কার্ড খুলে রেখেছে। প্রয়োজন মত ব্যবহার করে আবার খুলে রেখে দেয়। পুলিশের সাইবার সেলকে জানানো হয় বিষয়টা। সাইবার সেল চব্বিশ ঘন্টা ওদের ফোনে আড়ি পেতে থাকে। যেই মাত্র ওরা ফোন অন করবে সঙ্গে সঙ্গে ওদের ফোনের কারেন্ট লোকেশন পুলিশের সাইবার সেলের ল্যাপটপে চলে আসবে। সারা রাত ধরে তাল্লাশি চালিয়ে বিফল মনোরথ হয়ে বাবিনরা নীচে নেমে আসছিলো আর ঠিক তখনই ইন্সপেক্টর বাবিনের মোবাইলে পুলিশ লাইনস থেকে একটা মেসেজ আসে। হেমায়েতদের কারেন্ট লোকেশনের। বাবিনরা সেই গুগল ম্যাপ লোকেশনে লাইভ স্যাটেলাইট অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে থাকে। তখন রাত প্রায় শেষ হয়ে আসছে। বর্তমান রোড ম্যাপ লোকেশনে যে আস্তানাটা দেখাচ্ছে সেই আস্তানাটার সামনে এসে বাবিনরা দেখে যে বাড়ীর সামনে একজন পন্ডিতজি দাঁড়িয়ে আছে। এই পন্ডিতজি হচ্ছে সেই পন্ডিতজি যে বাবিনদের সাবধান করে বলেছিল যে রাতে মন্দির চত্বরে না থাকাই ভালো। সেরকম হলে কিছুটা নীচে নেমে আসা ভালো। পন্ডিতজির এই কথা শুনে ইন্সপেক্টর বাবিনের মনে একটা খটকা লেগেছিল তখন । এখন ইন্সপেক্টর বাবিনের মনে হচ্ছে যে এই জন্যই হয়তো পন্ডিতজি আমাদের ভয় দেখিয়েছিল যাতে আমরা নীচে মেনে যাই আর হিমায়েতরা নিরাপদে এখানে লুকিয়ে থাকতে পারে। আর পন্ডিতজি ওদের কাছ থেকে মোটা টাকা কামিয়ে নিতে পারে। সেই আশার গুঁড়ে বালি পড়ে গেলো পন্ডিতজি ও হেমায়েতদের। বাবিনরা এখানে তল্লাশি চালাবার আগেই লোকাল পুলিশকে ইনফর্ম করে রেখেছিল। যৌথ পুলিশ বাহিনী একটা বিরাট বড় সার্চ অপারেশন চালায় এই গোটা পাহাড়ী অঞ্চল জুড়ে। সেই সার্চ অপারেশনে হেমায়েত ও ক্যাবলা পুলিশের পাতা জালে আটকা পড়ে যায় পন্ডিতজির আস্তানা থেকে। লজ্জায় পন্ডিতজির মুখটা ঠিক বাংলার পাঁচের মত হয়ে যায়। ক্যাবলা আর হেমায়েত ছটফট করছিলো। ইন্সপেক্টর বাবিন, ইউ আরে আন্ডার অ্যারেস্ট মিস্টার হিমায়েত এন্ড মিস্টার ক্যাবলা। কলকাতা পুলিশ টিম আসামি হেমায়েত আর ক্যাবলাকে নিয়ে কোলকাতায় ফিরে আসে। থানায় এসে ওরা দেখে যে শীর্ষাণু, ন্যাকা, গিয়াসউদ্দীন, ও সবাই লক আপে বসে আছে। ইন্সপেক্টর বাবিন হেমায়েত ও ক্যাবলাকে ইন্টারগেশন শুরু করে। প্রথমে ওরা মুখে কুলুপ এঁটে ছিল। কিচ্ছু বলতে চায় নি। তারপর মোটা দড়ি দিয়ে পিছ মোরা করে বেঁধে উল্টো করে ঝুলিয়ে শক্ত লাঠি দিয়ে সপাসপ আড়ং ধোঁলাই দিয়ে স্যাটা গরম করে দিলে নিজের মুখে সব অপরাধ স্বীকার করে ওরা । খুনে ব্যবহারিত সব সরঞ্জাম কোনটা কোথায় রেখেছে সেটা বলে দেয় পুলিশকে। হেমায়েত ও ক্যাবলা পুলিশের টিমের সঙ্গে গিয়ে একটা বড় পুকুর থেকে একটা বিদেশী পিস্তল উদ্ধার করে এনে পুলিশকে দেয়। বাইক আর দুটো হেলমেট উদ্ধার করে ওরা একটা পরিত্যক্ত বাড়ী থেকে। আর পিস্তলটা যেহেতু অন লাইনে কিনেছিল তাই পুস্তল কেনার রশিদের একটা প্রিন্ট আউট ক্যাবলার মোবাইল থেকে বের করে দেয় সাইবার কাপে গিয়ে। এই খুনের সব ডিজিটাল এভিডেন্স ফিজিক্যালী কালেকশন করা হয়ে যায়।ফিজিক্যাল এভিডেন্সর মধ্যে ৮টা মোবাইল, একটা বিদেশী পিস্তল, তিনটি ব্যবহার করাগুলি,একটা বুলেট বাইক আর দুটো হেলমেট পুলিশ চার্জ শীটের সঙ্গে কোর্টে জমা দেয়। শুভ্রসোমের খুনের সঙ্গে জড়িত আসামি, নিপা, পিপাসা, শীর্ষাণু, পরজন্য বাবু, ন্যাকা, গিয়াসউদ্দীন খন্দকার, হেমায়েত হাওলাদার ও ক্যাবলা তালধিকে চার্জ শীট
করে পুলিশ কোর্টে চালান করে দেয়।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী আসামীদের বিরুদ্ধে খুনের জন্য ১০৩ নং ধারা আর খুনের সরঞ্জাম লুকানো ও প্রমান লোপাটের জন্য , ২০৮ নং ধারায় কেস দেওয়া হয়েছে। মামলাটা যেহেতু দশ বছর পর রিওপেন করা হয় ২০২৬ সালে তাই এই কেসের রায় এখনো বের হয় নি। যত দিন পর্যন্ত এই কেসের রায় বার হয়ে আসামীদের সাজা ঘোষণা না হবে ততো দিন পর্যন্ত এই খুনের কেসের আসামিদের জেল হেপাজতে থাকার জন্য মহামান্য আদালত আদেশ দেয়।
সমাপ্ত

![]()







