বিশেষ প্রতিবেদন, হিরণ ঘোষাল, নিউজ ব্যুরো আমার আলো, বারাসাত:
উত্তর ২৪ পরগনার ঐতিহাসিক বারাসাত রবীন্দ্র ভবনে আজ এক আনন্দমুখর ও গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘DRP ও সারা বাংলা গ্রামীণ সমাজকর্মী সংগঠনের’ জেলা সমাবেশ ও বিশেষ গুণীজন সম্বর্ধনা সভা।
দেশাত্মবোধক আবহ ও উদ্বোধনী সংগীত “বন্দে মাতরম্”-এর সুরের মূর্ছনায় অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটে। গ্রামীণ স্তরে স্বাস্থ্যসেবা, পঞ্চায়েত ব্যবস্থা ও সমাজসেবামূলক কাজের অগ্রগতিকে তরান্বিত করতেই এই বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল।
উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথি ও রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্ব
অনুষ্ঠানে প্রধান ও সম্মানিত অতিথিদের উপস্থিতি পুরো সমাবেশকে এক নতুন মাত্রা প্রদান করে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন:
-
মাননীয় শ্রী দিলীপ ঘোষ মহাশয় – ডেপুটি চিফ মিনিস্টার এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী।
-
মাননীয়া সুমনা সরকার – স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী (পশ্চিমবঙ্গ সরকার)।
-
একাধিক মাননীয় MLA (বিধায়ক) ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ।
-
সংগঠনের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির বিশিষ্ট নেতৃত্ব ও গ্রামীণ সমাজকর্মীবৃন্দ।
সভার মূল বক্তব্য
সভায় বক্তারা প্রত্যন্ত গ্রামে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে DRP (District Resource Person) এবং গ্রামীণ সমাজকর্মীদের অপরিসীম ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
“গ্রামীণ স্তরে প্রতিটি পরিবারের কাছে উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার আসল কাণ্ডারী হলেন আমাদের এই সমাজকর্মীরা।” — শ্রী দিলীপ ঘোষ (ডেপুটি চিফ মিনিস্টার ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী)
মাঠপর্যায়ের প্রভাব
-
স্বাস্থ্য ও সচেতনতা: গ্রামীণ এলাকায় মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে এবং টিকাকরণ ১০০% সুনিশ্চিত করতে গ্রামীণ সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
-
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন: পঞ্চায়েত স্তরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের (যেমন- স্বচ্ছ ভারত, পানীয় জল সরবরাহ ও গ্রামীণ আবাসন) সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে DRP-রা সেতুর মতো কাজ করছেন।
আমডাঙার রূপান্তর
সভায় উপস্থাপিত একটি বিশেষ কেস স্টাডিতে দেখা যায়, উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা ব্লকের দূরবর্তী গ্রামগুলিতে যেখানে স্বাস্থ্য সচেতনতা কম ছিল, সেখানে DRP এবং স্থানীয় গ্রামীণ সমাজকর্মীদের যৌথ উদ্যোগে গত এক বছরে গর্ভবতী মহিলাদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের (Institutional Delivery) হার ৮৫% থেকে বেড়ে ৯৮%-এ পৌঁছেছে। এটি প্রমাণ করে যে মাঠপর্যায়ের কাজের প্রভাব কতটা গভীর।
সমাবেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত
১. দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ: সমাজকর্মীদের কাজের সুবিধার্থে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে কাজ ত্বরান্বিত করতে আধুনিক প্রশিক্ষণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
২. স্বাস্থ্য ড্যাশবোর্ড জোরদার করা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার জানান, গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করতে এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত পেতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৩. অধিকার ও সম্মান সুনিশ্চিতকরণ: সংগঠনটির দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রস্তাবসমূহ নিয়ে রাজ্য সরকার সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
উপস্থিত আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা সমস্ত সমাজকর্মীদের সংবর্ধিত করেন এবং তাঁদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। একটি আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।
আমার আলোর পক্ষ থেকে শ্রী দিলীপ ঘোষ মহাশয়কে সংবাদ পত্র ও উত্তরীয় তুলে দেওয়া হয়।
#গ্রামীণসমাজকর্মী #DRPসমাবেশ #বারাসাতখবর #উত্তর২৪পরগনা #গ্রামীণউন্নয়ন #স্বাস্থ্যসেবা #পশ্চিমবঙ্গসরকার #রবীন্দ্রভবনবারাসাত #দিলীপঘোষ #সুমনাসরকার
#BarasatNews #DRPAssembly #WestBengalGovernment #RuralDevelopment #GraminSamajkarmi #North24Parganas #PublicHealthWB #DilipGhosh #SumanaSarkar #RabindraBhavanBarasat
![]()





