বিশেষ প্রতিবেদন, উত্তর ২৪ পরগনা: পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক দৃশ্যের সাক্ষী হচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্ত। কোনো তাড়া বা আইনি ধরপাকড় নয়, বরং সম্পূর্ণ নিজেদের ইচ্ছায় বাক্স-প্যাটরা এবং সপরিবারে এসে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (BSF) কাছে আত্মসমর্পণ করছেন শত শত বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সরকারের কড়া অবস্থানের পরই আইনি জটিলতা এবং পুলিশি অ্যাকশনের আশঙ্কায় আগেভাগেই দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে এই সীমান্ত এলাকায়।
আতঙ্কের নাম ‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’ – সীমান্ত জুড়ে শুধুই ফেরার ছবি
রাজ্যে বর্তমান সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—‘ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট’—অর্থাৎ অবৈধভাবে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হবে, নথিপত্র ডিলিট করা হবে এবং তাদের ফেরত পাঠানো হবে। আর এই বার্তার পর থেকেই স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্ত ও তেঁতুলিয়ার “পথের সাথী” আবাসন চত্বরে তিল ধারণের জায়গা নেই।
প্রশাসনের তরফ থেকে তেঁতুলিয়ায় একটি অস্থায়ী ‘হোল্ডিং সেন্টার’ (Holding Center) তৈরি করা হয়েছে। বিএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে নথিপত্র যাচাইয়ের পর দফায় দফায় অনুপ্রবেশকারীদের এই হোল্ডিং সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে বিজিবির (BGB) সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিং ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধাপে ধাপে তাদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে এক রাতেই প্রায় ২৫০ জন সহ মোট কয়েক শত মানুষকে হোল্ডিং সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
‘দালালদের ৫-১০ হাজার টাকা দিয়ে এসেছিলাম, পেয়েছি আধার-ভোটার ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার!’
অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য। কেউ ৪ বছর, কেউ ১০ বছর, আবার কেউ দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন।
-
দালাল চক্রের রমরমা: অনুপ্রবেশকারীরা ক্যামেরার সামনে স্বীকার করেছেন যে, চোরাপথে সীমান্ত পার হতে দালালদের ৭,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে কোনো সীমান্ত দিয়ে তারা ঢুকেছিলেন, তাও অনেকের মনে নেই।
-
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা ভোগ: আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই এ দেশে এসে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বা অনলাইন জালিয়াতির মাধ্যমে অনেকেই আধার কার্ড, রেশন কার্ড, প্যান কার্ড এমনকি ভোটার কার্ডও তৈরি করে ফেলেছিলেন। বসিরহাট, কলকাতার দুর্গানগর বা বিরাটির মতো এলাকায় রাজমিস্ত্রি, পরিযায়ী শ্রমিক বা রিকশাচালক হিসেবে কাজ করতেন তারা। এমনকি অনুপ্রবেশকারীদের পরিবারের মহিলারা নিয়মিত রাজ্যের জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা এবং সরকারি বিনামূল্যে রেশন ও রান্নার গ্যাসও পাচ্ছিলেন! ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তারা ভোট দিয়েছেন বলে নির্দ্বিধায় স্বীকার করেছেন।
‘সরকারের সিদ্ধান্ত একদম ঠিক, আমরা তো এ দেশের লোক নই!’
৩৮ বছর ধরে ভারতে কাটানোর পর দেশ ছাড়তে চলা এক প্রবীণ অনুপ্রবেশকারী মনিরুল শেখ ও তার পরিবার জানান, “সরকার যে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে তা এ দেশের ভালোর জন্যই করেছে। আমরা তো এ দেশের লোক নই, পেটের তাগিদে এসেছিলাম। এখন সরকার বদলে গেছে, কড়াকড়ি হচ্ছে। পুলিশি ঝামেলার চেয়ে দিন থাকতে নিজ দেশে ফিরে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ”।
দীর্ঘদিন পর নিজের দেশে ফিরে গিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই বা কর্মসংস্থান কী হবে, তা নিয়ে চোখে জল ও তীব্র অনিশ্চয়তা থাকলেও, আইনি শাস্তির ভয়ে এই মুহূর্তে সীমান্ত পেরিয়ে পুশব্যাক হওয়াই একমাত্র রাস্তা বলে মনে করছেন এই পরিবারগুলি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন গোটা প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজরদারি রাখছে।
#হাকিমপুরসীমান্ত #বাংলাদেশিঅনুপ্রবেশকারী #স্বরূপনগর #বিএসএফ #শুভেন্দুঅধিকারী #পশ্চিমবঙ্গসংবাদ #সীমান্তসুরক্ষা #পুশব্যাক #বাংলাখবর #হোল্ডিংসেন্টার
#HakimpurBorder #BangladeshiInfiltration #BSF #WestBengalNews #BorderSurrender #SuvenduAdhikari #PushbackBangladeshis #HoldingCenter #IndiaBangladeshBorder #TrendingNewsWB
![]()






