বিশ্ব রাজনীতিতে বিরাট মোড়! রাশিয়াকে পেছনে ফেলে ‘মেজর পাওয়ার’ খেতাব অর্জন করল ভারত – লোই ইনস্টিটিউটের রিপোর্ট প্রকাশ
সংবাদ প্রতিবেদন:
বিশ্ব কূটনীতি এবং ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) ভারতের প্রভাব ক্রমশ আকাশচুম্বী হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক বিখ্যাত জিওপলিটিক্যাল থিঙ্ক ট্যাংক ‘লোই ইনস্টিটিউট’ (Lowy Institute)-এর সর্বশেষ প্রকাশিত ‘এশিয়া পাওয়ার ইনডেক্স’ (Asia Power Index) রিপোর্টে এক ঐতিহাসিক তথ্য সামনে এসেছে। বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থানকে এখন মিডিল বা মাইনর পাওয়ারের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি ‘মেজর পাওয়ার’ (Major Power) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই আন্তর্জাতিক র্যাংকিং অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ দুই পরাশক্তি (Superpower)—যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের ঠিক পরপরই নিজস্ব স্থান শক্ত করে নিয়েছে ভারত। এমনকি এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক শক্তিমত্তার বিচারে অনেকক্ষেত্রে রাশিয়া ও জাপানকে টপকে ভারত নিজেদের তৃতীয় শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
লোই ইনস্টিটিউটের মূল ক্যাটাগরি ও ভারতের অবস্থান
আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাংক লোই ইনস্টিটিউট মূলত বিভিন্ন দেশের মোট সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তাদের ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কয়েকটি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে বিভক্ত করে:
-
সুপার পাওয়ার (Superpower): প্রথম দুটি স্থানে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র (USA) ও চীন (China)।
-
মেজর পাওয়ার (Major Power): এই ক্যাটাগরিতে নতুন এবং শক্তিশালী প্রবেশ ঘটেছে ভারতের। ভারত এখন মিডিল পাওয়ারের উপরে এবং সুপারপাওয়ারদের একেবারে পেছনে নিজস্ব স্থান দখল করেছে।
-
মিডিল / মাইনর পাওয়ার (Middle / Minor Power): বিশ্বের অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির বহু দেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত।
কিসের ভিত্তিতে দেওয়া হয় এই র্যাংকিং?
লোই ইনস্টিটিউটের রিপোর্ট কেবল কোনো দেশের সামরিক শক্তি দেখে তৈরি হয় না। এতে মোট ৮টি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক (Key Indicators) এবং শতাধিক সাব-প্যারামিটার বিশ্লেষণ করা হয়:
-
অর্থনৈতিক সক্ষমতা (Economic Capability): দেশের জিডিপি, বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক প্রভাব।
-
সামরিক শক্তি (Military Capability): সশস্ত্র বাহিনীর পরিধি, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও প্রতিরোধ ক্ষমতা।
-
কূটনৈতিক প্রভাব (Diplomatic Influence): বিশ্বমঞ্চে মিত্র দেশ তৈরি ও সমস্যার সমাধানে কৌশলগত ভূমিকা।
-
সাংস্কৃতিক প্রভাব (Cultural Influence): সফ্ট পাওয়ার ও বিশ্বজুড়ে সাংস্কৃতিক প্রসার।
-
ভবিষ্যৎ সম্পদ ও স্থিতিস্থাপকতা (Future Resources & Resilience): জনসংখ্যাগত সুবিধা, অর্থনৈতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা।
কেন এই র্যাংকিং ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
-
বিদেশি বিনিয়োগ (Foreign Investment): আন্তর্জাতিক বড় বড় ইনভেস্টর ও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি কোনো দেশে বিনিয়োগ করার আগে লোই ইনস্টিটিউটের মতো বিশ্বস্ত থিঙ্ক ট্যাংকের ডেটা বিশ্লেষণ করে থাকে। ‘মেজর পাওয়ার’ তকমা পাওয়ার ফলে ভারতে বিশ্বজুড়ে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
-
কৌশলগত প্রমাণ ও সত্যতা: সোশ্যাল মিডিয়ার জল্পনা বা প্রাচারণার ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক থিঙ্ক ট্যাংকগুলো সিদ্ধান্ত নেয় না। ভারতের প্রকৃত সামরিক প্রমাণ, স্যাটেলাইট ইমেজ, তথ্য এবং কৌশলগত অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই এই মূল্যায়ন করা হয়েছে।
-
কূটনৈতিক বার্তা: বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতকে এখন আর কোনো সাধারণ আঞ্চলিক শক্তি ভাবা যাবে না। জাতিসংঘ বা বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণী সংস্থাসমূহে ভারতের দাবি ও সিদ্ধান্ত এখন আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
এক নজরে:
-
প্রতিষ্ঠান: লোই ইনস্টিটিউট (Lowy Institute, Australia)।
-
নতুন খেতাব: ‘মেজর পাওয়ার’ (Major Power)।
-
শীর্ষ দুই স্থান: যুক্তরাষ্ট্র ও চীন (Superpower)।
-
প্রভাব বিস্তারকারী দিকসমূহ: অর্থনীতি, সামরিক শক্তি, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব।
#ভারত #বিশ্বরাজনীতি #মেজরপাওয়ার #লোইইনস্টিটিউট #আন্তর্জাতিকসংবাদ #ভারতীয়অর্থনীতি #কূটনীতি #প্রতিরক্ষা
#India #MajorPower #LowyInstitute #AsiaPowerIndex #Geopolitics #IndianEconomy #IndianDefense #WorldNews #IndiaRising #GlobalPolitics
![]()





