সংবাদ প্রতিবেদন: ভারতীয়দের সোনা কেনার অভ্যাস এবং ঘরের লকারে পড়ে থাকা সোনা নিয়ে এবার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘এক বছর সোনা না কেনার’ আহ্বানের রেশ ধরেই এবার আসতে চলেছে সম্পূর্ণ নতুন এক গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম (Gold Monetization Scheme)। আগামী দু’মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে জোর খবর।
সবচেয়ে বড় চমক হলো, এবার আর শুধু ব্যাংক নয়, আপনার পাড়ার বা শহরের চেনা গয়নার দোকান বা জুয়েলার্সরাই হতে চলেছে সরকারের মূল পার্টনার!
২৫,০০০ টন সোনা! লক্ষ্য এবার ১,০০০ টনের মহাযজ্ঞ
বিভিন্ন অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী, ভারতীয় পরিবারগুলির কাছে বর্তমানে প্রায় ২৫,০০০ টন সোনা গচ্ছিত রয়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। ২০১৫ সালে প্রথমবার যখন গোল্ড মনিটাইজেশন স্কিম আনা হয়েছিল, তা আমজনতার মধ্যে খুব একটা সাড়া ফেলতে পারেনি। বিগত এক দশকে (মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত) এই স্কিমের মাধ্যমে মাত্র ৩৮ টন সোনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
এই ব্যর্থতা ঘুচিয়ে এবার লক্ষ্যটা অনেক বড়। নতুন সংস্কারের মাধ্যমে সরকার সরাসরি ১,০০০ টন সোনা অর্থনীতির মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার টার্গেট নিয়েছে। ভাবা যায়? এই পরিমাণটা খোদ ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) মোট স্বর্ণভাণ্ডারের থেকেও বেশি!
মাত্র ৫% সোনা এলেই বাজারে আসবে ৮.৬ লক্ষ কোটি টাকা!
অল ইন্ডিয়া জুয়েলার্স অ্যান্ড গোল্ডস্মিথ ফেডারেশনের (AIJGF) দেওয়া পরিসংখ্যান চোখ কপালে তোলার মতো। ফেডারেশনের হিসেব বলছে, ভারতীয়দের ঘরে থাকা মোট সোনার মাত্র ৫ শতাংশও যদি এই নতুন স্কিমের মাধ্যমে মনিটাইজ (টাকায় রূপান্তর) করা যায়, তবে দেশের বাজারে প্রায় ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার— অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮.৬ লক্ষ কোটি টাকার বিপুল তারল্য বা লিক্যুইডিটি চলে আসবে। এতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সোনা আমদানির ওপর ভারতের নির্ভরতা একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে।
জুয়েলার্সদের বড় ভূমিকা – কেন এই নতুন সিদ্ধান্ত?
পুরনো স্কিমে সাধারণ মানুষকে সোনা জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকের চক্কর কাটতে হতো, যার প্রক্রিয়া ছিল বেশ জটিল। নতুন নিয়মে দেশের গয়না ব্যবসায়ীদের ‘কালেকশন পার্টনার’ বা সোনা সংগ্রহের অংশীদার করা হচ্ছে।
-
সহজ ভরসা: মানুষ ব্যাংকের চেয়ে নিজের চেনা জুয়েলার্সের ওপর বেশি ভরসা পান। ফলে ঘরের সোনা গলানো বা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে।
-
সুদের সুবিধা: পুরনো স্কিমে বার্ষিক ২.২৫% থেকে ২.৫% পর্যন্ত সুদ মিলত। নতুন স্কিমে সাধারণ মানুষের জন্য এই সুদের হার এবং রিটার্নের নিয়ম আরও আকর্ষণীয় করা হচ্ছে। মেয়াদের শেষে গ্রাহক চাইলে সোনা বা সমপরিমাণ নগদ টাকা— যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন।
-
নিরাপত্তা ও আয়: লকারে সোনা রাখলে উল্টে লকার চার্জ দিতে হয়। আর এই সরকারি স্কিমে সোনা রাখলে তা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং ঘরে বসেই প্রতি বছর নিশ্চিত আয় করা যাবে।
ভারতে সোনা শুধু একটি ধাতু বা বিনিয়োগের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি এবং সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। মোদি সরকারের এই নতুন সংস্কার যদি সত্যিই সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারে, তবে তা দেশের আমদানির ঘাটতি (Current Account Deficit) কমানোর পাশাপাশি মধ্যবিত্তের ঘরেও লক্ষ্মীলাভের নতুন রাস্তা খুলে দেবে।
#সোনারদাম #গোল্ডস্কিম #মোদিসরকার #ব্যবসা বাণিজ্য #বিনিয়োগ #সোনা #আর্থিকখবর #গুগলনিউজ #গয়না #ভারতীয়অর্থনীতি
#GoldScheme2026 #GoldMonetization #NarendraModi #JewelryBusiness #InvestmentTips #GoldRateIndia #IndianEconomy #BusinessNews #PersonalFinance #TrendingNews
![]()




