বিশেষ প্রতিবেদন, কলকাতা: ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব মাইলফলক ছোঁয়া হতে চলেছে ২০২৭ সালের জনগণনায় (Census 2027)। আর সেই লক্ষ্যেই এবার পশ্চিমবঙ্গে কোমর বেঁধে নামছে নতুন সরকার। শুক্রবার নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক ও ইন-হাউস ওয়ার্কশপ শেষে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের জনগণকে এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে চলেছে ডিজিটাল মাধ্যমে।
কাগজ-কলমের দিন শেষ, এবার মোবাইলেই জনগণনা
আগেকার দিনে এনিউমেরেটর বা তথ্য সংগ্রহকারীরা ঢাউস কাগজ-কলমের ফাইল নিয়ে বাড়ি বাড়ি যেতেন, যা ছিল অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। ডিরেক্টরেট অফ সেন্সাস অপারেশনস (পশ্চিমবঙ্গ)-এর ডিরেক্টর ডক্টর রশ্মি কমল জানিয়েছেন, এবার আর সেই জটিলতা থাকছে না। তথ্য সংগ্রহকারীরা সরাসরি মোবাইল অ্যাপ এবং ডিজিটাল পোর্টালের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে ডেটা এন্ট্রি করবেন। এর ফলে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই সাইবার সিকিউরিটি ফিচারের মাধ্যমে তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বজায় থাকবে ১০০ শতাংশ।
প্রথমবার মিলবে ‘সেলফ এনিউমারেশন’ বা স্ব-গণনার সুযোগ
ডিজিটাল জনগণনার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো সাধারণ মানুষের জন্য ‘সেলফ এনিউমারেশন’ (Self-Enumeration) বা স্ব-গণনার সুবিধা। দেশের যেকোনো সাধারণ নাগরিক কোনো সরকারি প্রতিনিধির অপেক্ষা না করেই নিজস্ব ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে নিজে থেকেই পরিবারের তথ্য আপলোড বা নথিভুক্ত করতে পারবেন। ইতিপূর্বে দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে এই স্ব-গণনা প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে রাজ্যপাল এবং প্রধান বিচারপতিকেও যুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল জনগণনার গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান ও তারিখ (Phase-wise Schedule):
নবান্নের বৈঠক থেকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্য জনগণনার একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচী ও রূপরেখা প্রকাশ করা হয়েছে:
-
রেফারেন্স ডেট (Reference Date): ১লা মার্চ, ২০২৭।
-
সমাপ্তির সময়সীমা: ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৭-এর মধ্যরাত।
-
জনগণনার অফিশিয়াল ম্যাসকাট (Mascot): দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে এই সেন্সাসের দুটি ম্যাসকাট হলো ‘বিকাশ’ এবং ‘প্রগতি’।
-
প্রথম দফা (Phase 1):
সেলফ এনিউমারেশন (স্ব-গণনা): ১লা আগস্ট থেকে ১৫ই আগস্ট। (১লা আগস্ট মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্ব-গণনার মাধ্যমে রাজ্যে এই কর্মসূচির সূচনা হবে)। হাউস লিস্টিং অপারেশনস (গৃহ তালিকাভুক্তি): ১৬ই আগস্ট থেকে ১৪ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (৩০ দিন)।
-
দ্বিতীয় দফা (Phase 2):
পপুলেশন এনিউমারেশন (জনসংখ্যা গণনা): ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে চলবে এবং ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যরাতের মধ্যে সমগ্র প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
রাজ্যের স্বার্থে এবং ডেমোগ্রাফি রক্ষায় সেন্সাস অত্যন্ত জরুরি – মুখ্যমন্ত্রী
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই জনগণনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, “জনগণনা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা (Constitutional Obligation)। এর সঙ্গে কোনো রাজনীতি বা জাতপাতের সম্পর্ক নেই।” তিনি আরও যোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা রয়েছে। পূর্বতন সরকারের বিএসএফ-কে জমি না দেওয়া এবং কাঁটাতারের বেড়া না থাকার কারণে সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের ডেমোগ্রাফি বা জনসংখ্যার ভারসাম্যে বড়সড় বদল এসেছে। অনেক অনুপ্রবেশকারী নথিপত্রের অভাবে এই সেন্সাসে নাম তুলতে পারবে না, ফলে প্রকৃত নাগরিকদের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে। এই তথ্যভাণ্ডার বা ডেটা ব্যাংক ভবিষ্যতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক স্কিম বা জনহিতকর প্রকল্প সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য একটি ডেডিকেটেড টোল-ফ্রি নম্বর এবং হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং ইউটিউবারদের মাধ্যমে এই খবরটি রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
টোল ফ্রি ফোন নম্বর গুলি – ১৮৫৫ (২৪X৭), ০৩৩-২৩৩৫-৯৫০৩
ওয়েবসাইট – https://westbengal.census.gov.in/
#ডিজিটালজনগণনা #জনগণনা২০২৭ #শুভেন্দুঅধিকারী #নবান্নলাইভ #পশ্চিমবঙ্গখবর #সেন্সাস২০২৭ #ডিজিটালইন্ডিয়া #বাংলাখবর #নবান্নঘোষণা #বিকাশওপ্রগতি #ভারতেরজনগণনা #কারেন্টঅ্যাফেয়ার্স
#DigitalCensus2027 #WestBengalCensus #SuvenduAdhikari #NabannaLIVE #Census2027 #SelfEnumeration #DigitalIndia #KolkataNews #WestBengalGovernment #MascotVikasPragati #IndianCensus #TrendingNewsBengal
![]()





