সংবাদ প্রতিবেদন: বাংলার উষ্ণতার পারদ এখন ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসের থেকেও যেন বেশি তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান। আর এই উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি শব্দ— ‘সেটিং’। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বছরের ৩৬৫ দিনই এই তত্ত্বটি ঘুরেফিরে আসে। বিরোধীদের দাবি, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির মধ্যে পর্দার আড়ালে কোনো এক ‘গোপন সমঝোতা’ বা ‘সেটিং’ রয়েছে। কিন্তু এই তত্ত্বের ভিত্তি কতটা? নাকি এটি স্রেফ ভোট কাটাকুটির এক রাজনৈতিক হাতিয়ার?
তদন্তকারী সংস্থা ও আইনি সীমাবদ্ধতা – কেন উঠছে প্রশ্ন?
সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্ন হলো, রাজ্যে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও কেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED, CBI) রাঘব-বোয়ালদের সাজা দিতে পারছে না? শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে গরু পাচার বা কয়লা কেলেঙ্কারি— পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডলের মতো নেতারা গ্রেফতার হলেও চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া যেন দীর্ঘসূত্রিতার কবলে।
আইনের শাসন বনাম জনমত সম্প্রতি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জামিন পাওয়ার ঘটনাটি এখানে প্রাসঙ্গিক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় আইন ব্যবস্থায় একজন অভিযুক্তকে যতক্ষণ না পর্যন্ত অকাট্য প্রমাণ দিয়ে দোষী সাব্যস্ত করা যাচ্ছে, ততক্ষণ তাকে কারাগারে আটকে রাখা কঠিন। আইনের এই জটিলতাকেই অনেকে ‘সেটিং’ বলে ভুল করেন। ভারত পাকিস্তান বা বাংলাদেশের মতো কোনো অগণতান্ত্রিক সমাজ নয় যেখানে স্রেফ জনমতের ভিত্তিতে কাউকে দীর্ঘকাল আটকে রাখা যাবে। এখানে প্রমাণ ছাড়া আদালতের রায় পাওয়া অসম্ভব।
কেন ‘সেটিং’ হওয়া প্রায় অসম্ভব?
১. রাজনৈতিক মোটিভ: বিজেপির প্রধান লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ দখল করা। যদি তৃণমূলের সঙ্গে তারা সমঝোতা করে, তবে রাজ্যে তাদের সংগঠন মজবুত করার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেস কংগ্রেসের হাত ধরলেও রাজ্যে বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে কোনো ছাড় দিচ্ছে না। ২. সংসদীয় লড়াই: ডি-লিমিটেশন বিল বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় বিলে তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধেই ভোট দিয়েছে। সুতরাং সংসদীয় পথে সাহায্যের তত্ত্বটিও ধোপে টেকে না। ৩. প্রশাসনিক বাধা: তদন্তকারী সংস্থাগুলোর কাজে প্রায়ই বাধা হয়ে দাঁড়ায় রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামো। অনেক ক্ষেত্রে তথ্য প্রমাণের লোপাট হওয়ার অভিযোগও ওঠে। ফলে কেন্দ্রীয় সংস্থার ব্যর্থতাকে রাজনৈতিক আঁতাত বলা রাজনৈতিক অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়।
কার লাভ এই ‘সেটিং’ তত্ত্বে?
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই তত্ত্বটি সবচেয়ে বেশি প্রচার করে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। এর পিছনে নির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে:
-
ভোট ব্যাংক রক্ষা: বিজেপি যেভাবে তৃণমূল বিরোধী প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে, তাতে বাম ও কংগ্রেসের ভোট ব্যাংক ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু। মানুষের মনে যদি এই সন্দেহ ঢুকিয়ে দেওয়া যায় যে বিজেপি ও তৃণমূল আসলে এক, তবে সেই ভোট বাম-কংগ্রেসের দিকে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
-
তৃণমূলের নীরবতা: তৃণমূল কংগ্রেস এই তত্ত্বে সরাসরি কোনো প্রতিবাদ করে না, যাতে বিজেপি বিরোধী মেরুকরণ বজায় থাকে।
বাংলার নির্বাচন
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি উত্তরপ্রদেশ বা ত্রিপুরার চেয়ে আলাদা। এখানে ক্ষমতা পরিবর্তন মানে একটি হিমশৈলকে নড়ানো। বামেদের ৩৪ বছরের শাসনকাল বা তৃণমূলের টানা জয় প্রমাণ করে এখানকার ভোটাররা একবার কোনো পক্ষ নিলে তা সহজে বদলাতে চান না। তাই লড়াইটা এখানে সবসময়ই কঠিন এবং সর্বশক্তি প্রয়োগের।
বিচারক এখন জনতাই
গণতন্ত্রে শেষ কথা বলে জনগণ। আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা তাদের মতো কাজ করবে, কিন্তু নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় ইভিএম মেশিনে। ‘সেটিং’ তত্ত্বের মতো ধোঁয়াশা সরিয়ে রেখে কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং নিরাপত্তার মতো বুনিয়াদি ইস্যুগুলোর নিরিখে ভোট দেওয়াই একজন সচেতন ভোটারের প্রকৃত বিচার।
#পশ্চিমবঙ্গ_রাজনীতি #তৃণমূল_বনাম_বিজেপি #দিদি_মোদি_সেটিং #বাংলা_ভোট_২০২৬ #ইডি_সিবিআই_তদন্ত #বাংলার_খবর #রাজনৈতিক_বিশ্লেষণ #মোদি_দিদি_আঁতাত
#NewsAmarAlo #SabujSwapna #WestBengalPolitics #TMCvsBJP #DidiModiSetting #BengalElections #CBIInvestigation #KolkataPolitics #PoliticalStrategy #IndianDemocracy #BreakingNewsBengal #ViralNews
![]()







