সংবাদ প্রতিবেদন, এপ্রিল ৮, ২০২৬: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে যখন গোটা বিশ্ব জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে, তখন ভারত নিজের হাতে পেয়েছে এক এমন ‘জ্যাকপট’, যা বদলে দিতে পারে আগামী সাত প্রজন্মের ইতিহাস। ভারতের মাটিতেই লুকিয়ে রয়েছে বিশ্বের সবথেকে বড় শক্তির খনি। আর সেই খনির নাম হলো ‘থোরিয়াম’ (Thorium)। অতি সম্প্রতি কালপক্কমের পরমাণু কেন্দ্রে ভারত যে সাফল্য অর্জন করেছে, তাতে বিশ্বের তাবড় তাবড় শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর ঘুম উড়ে যাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা।
১. থোরিয়াম – ভারতের লুকিয়ে থাকা ‘সোনালি খনি’
পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের মোট থোরিয়াম ভাণ্ডারের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ রয়েছে ভারতের কাছেই। আমাদের বনভূমি, নদী, হিমালয় বা তেল ভাণ্ডার— সবকিছুর মিলিত মূল্যের চেয়েও এই থোরিয়াম থেকে উৎপন্ন হতে চলা সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি। যেখানে গোটা বিশ্ব গত ১০০ বছর ধরে তেল এবং ইউরেনিয়ামের জন্য লড়ছে, সেখানে ভারত এমন এক খনিজ ভাণ্ডারে বসে আছে যা দিয়ে আগামী কয়েকশ বছরের শক্তির চাহিদা অনায়াসেই মেটানো সম্ভব।
২. কেন এই থোরিয়াম এত শক্তিশালী?
বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী:
-
জাদুকরী ক্ষমতা: মাত্র ৬২.৫ কেজি থোরিয়াম থেকে যে পরিমাণ শক্তি পাওয়া সম্ভব, সেই একই পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করতে প্রায় ১০,০০০ টন কয়লার প্রয়োজন হয়!
-
পরিবেশবান্ধব: কয়লা বা তেলের মতো এতে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ভয় নেই। এটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত এবং নিরাপদ।
-
শান্তিপূর্ণ ব্যবহার: থোরিয়াম থেকে পারমাণবিক বোমা বানানো প্রায় অসম্ভব। অর্থাৎ, এই সম্পদ শুধুমাত্র মানবকল্যাণে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনেই ব্যবহৃত হবে।
৩. হোমি ভাবার সেই স্বপ্ন এবং তিন ধাপের মাস্টারপ্ল্যান
১৯৫০-এর দশকে ভারতের পরমাণু বিজ্ঞানের জনক ডঃ হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা একটি তিন ধাপের (3-Stage) মহাপরিকল্পনা করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল ভারতকে জ্বালানি ক্ষেত্রে ‘আত্মনির্ভর’ করা।
-
প্রথম ধাপ: ইউরেনিয়াম ভিত্তিক রিঅ্যাক্টর (যা বর্তমানে গুজরাটের কাকরাপাড় কেন্দ্রে সফলভাবে চলছে)।
-
দ্বিতীয় ধাপ (ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর): এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা জ্বালানি পোড়ানোর সাথে সাথে উল্টে আরও জ্বালানি (প্লুটোনিয়াম) তৈরি করে। ৬ই এপ্রিল ২০২৬, তামিলনাড়ুর কালপক্কমে ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই রিঅ্যাক্টরটির সফল সূচনা হয়েছে।
-
তৃতীয় ধাপ: এটিই চূড়ান্ত লক্ষ্য। এখানে কালপক্কমে তৈরি হওয়া জ্বালানি ব্যবহার করে ভারতের বিপুল থোরিয়াম ভাণ্ডার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
৪. কালপক্কম ও কাকরাপাড়ের ঐতিহাসিক সাফল্য
-
কাকরাপাড় (গুজরাট): ২০২৪ সালে কাকরাপাড় পারমাণবিক কেন্দ্রের ৪ নম্বর ইউনিট পূর্ণ শক্তিতে (৭০০ মেগাওয়াট) কাজ শুরু করেছে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি।
-
কালপক্কম (তামিলনাড়ু): ২০২৬-এর এপ্রিল মাসে ‘প্রোটোটাইপ ফাস্ট ব্রিডার রিঅ্যাক্টর’ (PFBR)-এর সফল পরিচালনা ভারতকে বিশ্বের এলিট ক্লাবে নিয়ে গেছে। রাশিয়া বা আমেরিকার পর ভারতই এই প্রযুক্তিতে এই স্তরের সাফল্য অর্জন করল।
৫. ২০৪৭ – শক্তির বিশ্বগুরু হবে ভারত?
ভারত সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৪৭ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়া। যদি থোরিয়াম প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়, তবে:
-
আমাদের বাড়ির বিদ্যুৎ খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে যাবে।
-
পেট্রোল-ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমবে কারণ থোরিয়াম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে তৈরি হবে প্রচুর পরিমাণ গ্রিন হাইড্রোজেন (Hydrogen Fuel)।
-
আগামী ১০০ বছরে ভারতের প্রতি ইঞ্চি রাস্তা এবং প্রতিটি শিল্প চলবে এই দেশি শক্তিতে।
পরিশেষে
ভারত আজ আর শুধু অন্যের প্রযুক্তির দিকে তাকিয়ে নেই। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ দেশগুলোর চোখরাঙানি উপেক্ষা করে আজ ভারত নিজের থোরিয়াম দিয়ে দুনিয়া শাসন করার পথে। এটি কেবল একটি বৈজ্ঞানিক সাফল্য নয়, এটি ১.৪ বিলিয়ন ভারতীয়র ‘জ্বালানি স্বাধীনতা’র জয়গান।
#IndiaEnergySuperpower #ThoriumReserves #NuclearPowerIndia #AtmanirbharBharat #ScienceAndTech #KalpakkamSuccess #HomiBhabhaVision #CleanEnergy #ViksitBharat2047 #ThoriumJackpot
#ভারত #পারমাণবিকশক্তি #থোরিয়াম #বিজ্ঞানওপ্রযুক্তি #কালপক্কম #আত্মনির্ভরভারত #শক্তিরখনি #বিদ্যুৎসংকট #ভারতীয়বিজ্ঞান #নতুনভারত #২০৪৭
![]()







