সংবাদ প্রতিবেদন, কলকাতা, ৮ এপ্রিল ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন তপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিতর্কিত মন্তব্য—“দিল্লি যদি বাংলাকে টার্গেট করে, তবে বাংলাও দিল্লিকে টার্গেট করবে”—রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিক বাংলার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে এক নতুন চুলচেরা বিশ্লেষণ। এটি কি কেবল রাজনৈতিক আস্ফালন, নাকি ২০২৬ সালের ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে কোনো সুগভীর কৌশলের অঙ্গ?
আসল পরিসংখ্যান ৯১ লক্ষ ভোটার কি সত্যি গায়েব?
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলার ভোটার তালিকায় এক নজিরবিহীন রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৬ কোটি। কিন্তু সাম্প্রতিক সংশোধিত তালিকা অনুযায়ী সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৭৫ কোটিতে। অর্থাৎ, প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই ৯১ লক্ষ ভোটার ‘ভুয়া’ ছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি—এটি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার একটি চক্রান্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি তোপ দেগেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দিকে। তাঁর দাবি, “কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বাংলার ডেমোগ্রাফি বা জনবিন্যাস বদলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
ভয়ঙ্কর ‘সুইং’ ফ্যাক্টর – ৩-৫ শতাংশ ভোটেই কি উল্টে যাবে গদি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনে ‘সুইং ভোট’ বা ভাসমান ভোট এক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে চলেছে। দেখা যাচ্ছে:
-
যদি শাসক বা বিরোধী শিবিরের দিকে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভোটের ঝোঁক (Swing) তৈরি হয়, তবে সেটি একতরফা সংখ্যাগরিষ্ঠতা (Landslide Victory) এনে দিতে পারে।
-
২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৪৮.০২% ভোট পেয়ে ২১৫টি আসনে জয়ী হয়েছিল।
-
এবারের লড়াইয়ে ১৪৮টি ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে দুই পক্ষই মরিয়া। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তনের অভিযোগ নির্বাচনের প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কেন ‘টার্গেট দিল্লি’?
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের নেপথ্যে একাধিক কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, রাজ্যের নাম ‘বাংলা’ করার দীর্ঘদিনের দাবি কেন্দ্র মেনে না নেওয়ায় ক্ষোভ। দ্বিতীয়ত, বিএসএফ-এর এক্তিয়ার বৃদ্ধি এবং অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রের সাথে রাজ্যের সংঘাত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুংকার, “ভারতবর্ষের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে বাংলাই দিল্লিকে পথ দেখাবে,” ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তিনি লোকসভা নির্বাচনের পর এবার বিধানসভা নির্বাচনেও জাতীয় স্তরের লড়াইকে ইস্যু করতে চান।
সীমান্ত সুরক্ষা বনাম রাজনীতি
অমিত শাহের দাবি অনুযায়ী, বাংলার সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। পাল্টা জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, “বর্ডার পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব তো বিএসএফ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের। তাহলে দোষ কেন রাজ্যের হবে?” এই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের মাঝে রাজ্যের সাধারণ ভোটাররা এখন উন্নয়নের চেয়ে ‘পরিচয়’ এবং ‘সুরক্ষা’র প্রশ্নে বেশি দ্বিধাবিভক্ত।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন কেবল মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াই নয়, বরং দিল্লি বনাম কলকাতার এক প্রবল স্নায়ুযুদ্ধের রূপ নিয়েছে। ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা যাওয়া থেকে শুরু করে ‘টার্গেট দিল্লি’র হুঁশিয়ারি—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বাংলার নির্বাচনে এবার এক অভাবনীয় ফলাফল অপেক্ষা করছে।
#BengaliNews #WestBengalElection2026 #MamataBanerjee #BJPvsTMC #DelhiVsBengal #VoterListScam #AmitShah #SuvenduAdhikari #WestBengalPolitics #DemocraticRights #BreakingNews #BengalDemography #TargetDelhi #WBAssemblyElection
#পশ্চিমবঙ্গনির্বাচন২০২৬ #মমতাবন্দ্যোপাধ্যায় #তৃণমূলবনামবিজেপি #দিল্লিবনামবাংলা #ভোটারতালিকা #অমিতশাহ #শুভেন্দুঅধিকারী #রাজনীতি #ব্রেকিংনিউজ #বাংলারভবিষ্যৎ #গণতন্ত্র
![]()







