বিশেষ প্রতিবেদন, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক লহমায় নিজের অধীনে থাকা ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদ ও বিভিন্ন কমিটির শীর্ষস্থান থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি। মঙ্গলবার নবান্নের পক্ষ থেকে এই খবর নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কেন এই হঠাৎ ইস্তফা? শুধুই কি আইনি বাধ্যবাধকতা নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ?
কেন এই গণ-পদত্যাগ?
সূত্রের খবর, মূলত ‘অফিস অফ প্রফিট’ বা ‘লাভজনক পদ’ সংক্রান্ত বিতর্ক এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত। ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো জনপ্রতিনিধি যদি এমন কোনো পদে আসীন থাকেন যা থেকে তিনি আর্থিক সুবিধা বা বিশেষ ক্ষমতা লাভ করতে পারেন, তবে তার সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। ২০০৬ সালে জয়া বচ্চনের সাংসদ পদ খারিজের সেই স্মৃতি এখনও অনেকের মনে টাটকা। তাই ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে নিজের মনোনয়ন পেশ করার আগে কোনো প্রকার আইনি ফাঁক রাখতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী।
কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রী যে পদগুলো ছেড়েছেন তার তালিকা বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
-
রাজ্য স্বাস্থ্য মিশন (State Health Mission): এই মিশনের প্রধান পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।
-
রাজ্য ভূমি ব্যবহার বোর্ড (State Land Use Board): এখানকার চেয়ারপার্সন পদ ত্যাগ করেছেন।
-
শিল্প বিনিয়োগ প্রমোশন বোর্ড (Industrial Investment Promotion Board): শিল্পের প্রসারে এই বোর্ডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
-
রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (State Disaster Management Authority): বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের এই গুরুত্বপূর্ণ পদটিও তিনি ছেড়েছেন।
-
তফসিলি জাতি ও উপজাতি পরামর্শদাতা কাউন্সিল (SC & Tribes Advisory Council): আদিবাসী উন্নয়নের এই গুরুত্বপূর্ণ পর্ষদ থেকেও তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।
-
অন্যান্য: এছাড়া উর্দু একাডেমি, ইকো-ট্যুরিজম বোর্ড এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী কমিটির শীর্ষ পদ থেকেও তিনি সরে এসেছেন।
প্রেক্ষাপট: ২০২৬-এর মেগা ফাইট
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিসংখ্যান বলছে: ১. ২৩টি পদ: একযোগে এতগুলো পদ ত্যাগ করে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনকে বার্তা দিলেন যে তিনি এখন পুরোপুরি ‘ভোট মোডে’। ২. ভবানীপুর ফ্যাক্টর: নিজের গড় ভবানীপুর থেকে তিনি লড়াই করছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে, যা এই নির্বাচনের সবথেকে আলোচিত কেন্দ্র হতে চলেছে। ৩. নির্বাচনী নির্ঘণ্ট: আগামী ৪ মে ২০২৬-এ ভোটের ফল ঘোষণা। তার আগে প্রশাসনিক দায়ভার ঝেড়ে ফেলে জনসংযোগে ঝাঁপিয়ে পড়াই এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল লক্ষ্য।
নবান্নের তৎপরতা
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেল ৪টের মধ্যে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের হাতে কোনো অস্ত্র তুলে দিতে চান না। এখন দেখার বিষয়, এই প্রশাসনিক ‘ক্লিন স্লেট’ নির্বাচনের ময়দানে তাকে কতটা বাড়তি সুবিধা দেয়।
#মমতাবন্দ্যোপাধ্যায় #পশ্চিমবঙ্গনির্বাচন২০২৬ #তৃণমূল #রাজনীতি #ব্রেকিংনিউজ #নবান্ন #ভবানীপুর #বাংলাররাজনীতি #ভোট২০২৬ #মমতারইস্তফা
#MamataBanerjee #WestBengalElection2026 #TMC #OfficeOfProfit #BreakingNews BengalPolitics #Bhabanipur #ElectionUpdates #MamataResigns #Nabanna #WBAssemblyPolls2026
![]()







