সংবাদ প্রতিবেদন: রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার বিধ্বংসী যুদ্ধ এবার বিশ্বের ‘লাইফলাইন’ বা জীবনরেখা বলে পরিচিত ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) স্তব্ধ করে দিয়েছে। ইরানের সরাসরি হুঁশিয়ারি—এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। আর এই যুদ্ধের আগুনেই এখন বিপন্ন ভারতের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ এবং বহু ভারতীয় প্রাণ।
ভারতের ১ লক্ষ কোটি টাকা বাজি!
ইরানের এই অবরোধের জেরে হরমুজ প্রণালীর কাছে আটকে পড়েছে ভারতের অন্তত ২৭টি বিশালাকার তেলবাহী জাহাজ। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্যমতে, এই জাহাজ এবং সেগুলোর ভেতরে থাকা খনিজ তেলের মোট বাজারমূল্য প্রায় ১,০০,০০০ কোটি (১ লক্ষ কোটি) টাকা! ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার ৪০ শতাংশ তেল এবং ৫০ শতাংশ এলএনজি (LNG) এই পথ দিয়েই আসে। ফলে এই জাহাজগুলো আটকে থাকা মানে ভারতের অর্থনীতির ওপর এক বিশাল অশনিসংকেত।
প্রাণ হারালেন ভারতীয় নাবিক
শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, এই যুদ্ধ এবার ভারতের ঘরে শোকের ছায়া নিয়ে এসেছে। ওমানের কাছে একটি জাহাজে ইরানের মিসাইল হামলায় একজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও ৩ জন ভারতীয় নাবিক বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজে কাজ করার সময় এই সংঘাতের বলি হয়েছেন। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই ‘কুইক রেসপন্স টিম’ গঠন করে উদ্ধারকাজের চেষ্টা চালাচ্ছে।
তেলের বাজারে আগুন – এক দিনেই ব্যারেল প্রতি ২০ ডলার বৃদ্ধি
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার খবরের সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৫ ডলার, যা এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০-৮৫ ডলারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই অবরোধ আর ৩ দিন চললে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা ভারতের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দামে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।
কীভাবে হলো এই মহাপ্রলয়? মোসাদের ‘ট্রাফিক ক্যামেরা’ মিশন!
এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে। চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা রিপোর্টে জানা গেছে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ (Mossad) দীর্ঘ এক বছর ধরে তেহরানের ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্যামেরা হ্যাক করে রেখেছিল। খামেনির দেহরক্ষীদের গতিবিধি, তাদের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা এবং খামেনির প্রতিদিনের রুটিন তারা একটি অ্যাপের মতো নখদর্পণে নিয়ে এসেছিল। এরপর নিখুঁত নিশানায় হামলা চালিয়ে তাকে খতম করা হয়, যা ইরানকে ক্ষিপ্ত করে তুলেছে।
সবচেয়ে বিপদে কাতার
হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় কাতারের অর্থনীতি তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। কাতার বিশ্বের অন্যতম বড় এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ। তাদের গ্যাস পাঠানোর জন্য এই প্রণালী ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নেই। আগামী ১৫ দিন এই পরিস্থিতি চললে কাতার দেউলিয়া হওয়ার পথে এগোতে পারে।
ভারত এখন কূটনৈতিক পথে ইরান ও ইসরায়েল উভয়ের সাথেই কথা বলে জাহাজ ও নাবিকদের ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে দিল্লির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
#হরমুজপ্রণালী #ভারতইরানযুদ্ধ #তেলেরদাম #ভারতীয়জাহাজ #আন্তর্জাতিকসংবাদ #ভারত #ইসরায়েলইরানযুদ্ধ #খামেনি #মোসাদ #অর্থনৈতিকসংকট #ব্রেকিংনিউজ #বাংলাখবর
#StraitOfHormuz #IndiaIranConflict #OilPriceHike #IndianShipsStruck #IranIsraelWar #Mossad #Khamenei #GlobalOilCrisis #IndianNavy #BreakingNews #Geopolitics #EnergySecurity #IndiaTrade
![]()







