নিজস্ব প্রতিনিধি, ব্যারাকপুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, আমার আলো নিউজ ব্যুরো: বাঙালির পাতে মাছ নেই, এমনটা ভাবাই দায়। কিন্তু বর্তমান বাজারে মাছের যে আগুন দাম, তাতে মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস উঠছে। “ভাতে বাঙালি” তকমাটা কি তবে বিলুপ্তির পথে? এই সংকটের সমাধান খুঁজতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারতের অন্যতম গর্ব, ব্যারাকপুরের সেন্ট্রাল ইনল্যান্ড ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ICAR-CIFRI)।
৭৯ বছরের ঐতিহ্য ও আধুনিক গবেষণার মেলবন্ধন
উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে অবস্থিত এই সংস্থাটি একটি ISO 9001 সার্টিফাইড অর্গানাইজেশন। দীর্ঘ ৭৯ বছর ধরে অভ্যন্তরীণ মৎস্য গবেষণায় তারা বিশ্বে সমাদৃত। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের সুযোগ্য ডাইরেক্টর ডক্টর বি. কে. দাস (Dr. B. K. Das) মহাশয়ের নেতৃত্বে মৎস্য গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। শুধু বড় মাছ নয়, রঙিন মাছ (Ornamental Fish) চাষের ওপর জোর দিয়ে মাছের উৎপাদন দ্রুত হারে বাড়ানোর জন্য চলছে নিরন্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
কেন বাড়ছে মাছের দাম? কী বলছে সিফরি?
বর্তমানে মাছের চাহিদার তুলনায় জোগান অনেকটাই কম। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে প্রিয় ইলিশ, রুই বা কাতলা। সিফরির গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। দেখা গেছে, প্রায় ৭০ কেজি ওজনের মাছেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে ৭ কিলোমিটার পর্যন্ত অনায়াসে যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন বাধার কারণে তা ২ কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বৃদ্ধির জন্য এই ডিসটেন্স বা যাতায়াতের পথ সুগম করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় ও নতুন ‘লিজ’ পলিসি
মাছের উৎপাদন বাড়াতে কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিশেষ করে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের সাথে সমন্বয় রেখে জলাশয়গুলি ব্যবহারের চিন্তাভাবনা চলছে।
-
লিজ পলিসি: মৎস্যজীবীদের স্বার্থে এবং মাছের উৎপাদন স্থিতিশীল রাখতে বর্তমানে ৫ বছরের লিজ পলিসিকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
-
কংসাবতী প্রকল্প: কংসাবতী কার্যক্রম অফিস থেকে পাঠানো রিপোর্টের ভিত্তিতে মৎস্য চাষের নতুন রোডম্যাপ তৈরি হচ্ছে। সমবায় সমিতি ও ব্যবসায়ীদের এই কর্মযজ্ঞে সামিল করে বড়সড় অর্থনৈতিক বিপ্লবের প্রস্তুতি চলছে।
কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার দিশারি
সিফরি কেবল গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ নেই। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে হাজার হাজার যুবক-যুবতী আজ স্বনির্ভর। মাছের ব্রিডিং, আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ এবং রঙিন মাছের ব্যবসার ট্রেনিং দিয়ে ইনস্টিটিউটটি দেশে বেকারত্ব দূরীকরণে বড় ভূমিকা পালন করছে।
লক্ষ্য – বিশ্ব মানচিত্রে ভারতের জয়জয়কার
আগামী দিনে মাছের উৎপাদন বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পাতে সস্তায় পুষ্টিকর মাছ তুলে দেওয়াই সিফরির প্রধান লক্ষ্য। ডক্টর বি. কে. দাসের নেতৃত্বে লক্ষ্য স্থির হয়েছে—ভারতের মৎস্য চাষ যেন কেবল দেশের প্রয়োজন মেটানো নয়, বিদেশের মাটিতেও ভারতের নাম উজ্জ্বল করতে পারে।
ব্যারাকপুরের এই কর্মযজ্ঞ সফল হলে, আগামী দিনে বাঙালির পাতে মাছের টুকরোটি যে আরও বড় এবং সস্তা হবে, সেই আশায় বুক বাঁধছেন মৎস্যপ্রেমীরা।
#মৎস্যচাষ #ব্যারাকপুরসিফরি #মাছেরদাম #পশ্চিমবঙ্গসংবাদ #মৎস্যগবেষণা #বাঙালিখাবার #স্বনির্ভরতা #কেন্দ্রীয়সরকার #DrBKDas #CIFRI #BarrackporeNews #BengaliNews #FishFarming #BlueRevolution
#CIFRI #FisheriesResearch #Barrackpore #BlueRevolution #IndiaFishProduction #FishPriceDrop #AquacultureIndia #SelfEmployment #CentralGovernmentSchemes #ICAR #OrnamentalFish #SustainableFishing
![]()






