সংবাদ প্রতিবেদন, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬, নিউজ ব্যুরো আমার আলো: কল্পনা করুন এমন একটি গাণিতিক সমস্যা, যা সমাধান করতে আজকের বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটারের সময় লাগবে মহাবিশ্বের বর্তমান বয়সের চেয়েও ৫০০ ট্রিলিয়ন গুণ বেশি সময়! অবাক হচ্ছেন? আরও অবাক হবেন যখন জানবেন, গুগলের নতুন আবিষ্কৃত ‘উইলো’ (Willow) কোয়ান্টাম চিপ এই অসাধ্য সাধন করেছে মাত্র ৫ মিনিটে। প্রযুক্তির এই মহাবিস্ফোরণ কেবল ইন্টারনেটের গতি বাড়াবে না, বরং বদলে দেবে মানব সভ্যতার ইতিহাস।
১ ননিলিয়ন গুণ বেশি শক্তিশালী!
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার ‘এল ক্যাপিটান’ (El Capitan) তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা। কিন্তু গুগলের দাবি, তাদের নতুন উইলো চিপ সাধারণ সুপার কম্পিউটারের তুলনায় ১ ননিলিয়ন (১-এর পরে ৩০টি শূন্য) গুণেরও বেশি দ্রুত গণনা করতে সক্ষম। এটি কেবল একটি চিপ নয়, বরং একটি নতুন ‘কোয়ান্টাম যুগে’র প্রবেশদ্বার।
কেন আমাদের এতো শক্তিশালী কম্পিউটার প্রয়োজন?
কম্পিউটারের প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে ১৭০৭ সালের একটি করুণ ঘটনার উল্লেখ করা হল, যা ‘দ্যা সিলি নেভাল ডিজাস্টার’ (The Scilly Naval Disaster) নামে পরিচিত। সেই সময় সঠিক নেভিগেশনাল টেবিল এবং গণনার অভাবে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর ৪টি জাহাজ ধ্বংস হয়ে যায় এবং প্রায় ২০০০ নাবিক প্রাণ হারান। মানুষের হাতে করা ভুল গণনাই ছিল এই মৃত্যুর কারণ। এই ধরণের ভুল এড়াতেই চার্লস ব্যাবেজ তৈরি করেছিলেন প্রথম মেকানিক্যাল কম্পিউটার। আর আজ আমরা সেই মেকানিক্যাল যুগ পেরিয়ে পৌঁছে গেছি কোয়ান্টাম সুপারপজিশনের যুগে।
কী এই ‘উইলো’ চিপ এবং কেন এটি অনন্য?
সাধারণ কম্পিউটার কাজ করে ‘বিট’ (০ বা ১) হিসেবে। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটার কাজ করে ‘কিউবিট’ (Qubit) পদ্ধতিতে, যা একই সাথে ০ এবং ১ হতে পারে (সুপারপজিশন)। গুগলের উইলো চিপের বিশেষত্ব হলো এর ‘কোয়ান্টাম এরর কারেকশন’ ক্ষমতা।
-
কোয়ান্টাম ডিকোহারেন্স: কোয়ান্টাম কণাগুলো সামান্য তাপে বা সংস্পর্শে তাদের বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে। গুগল এই সমস্যা সমাধান করে কিউবিটের স্থায়িত্ব বা ‘কোহারেন্স টাইম’ ৫ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
-
অ্যাবসোলিউট জিরো তাপমাত্রা: এই চিপটিকে মহাকাশের চেয়েও শীতল তাপমাত্রায় রাখা হয় যাতে এটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে।
বদলে যাবে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মানুষের আয়ু
উইলো চিপের সফল প্রয়োগে যা যা সম্ভব হতে পারে: ১. অসাধ্য রোগের নিরাময়: ক্যান্সার বা অ্যালঝাইমারের মতো রোগ যা প্রোটিন ফোল্ডিংয়ের জটিলতার কারণে নিরাময় করা কঠিন, তা কোয়ান্টাম সিমুলেশনের মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহেই সমাধান করা সম্ভব হবে। ২. দীর্ঘায়ু: গবেষকদের মতে, ডিএনএ লেভেলের জটিলতা সমাধান করে মানুষের গড় আয়ু ১৫০ থেকে ২০০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। এমনকি মানুষের ‘চেতনা’ বা কনশাসনেস চিপে আপলোড করে অমরত্ব লাভের সম্ভাবনাও বিজ্ঞান কল্পকাহিনি থেকে বাস্তবে রূপ নিতে পারে। ৩. মহাকাশ গবেষণা: ব্ল্যাক হোল বা ডার্ক ম্যাটারের রহস্য উন্মোচনে এই কম্পিউটার হবে বিজ্ঞানীদের প্রধান অস্ত্র।
আগামীর চ্যালেঞ্জ
তবে এই বিশাল শক্তির সাথে রয়েছে ঝুঁকিও। সাইবার সিকিউরিটি বা এনক্রিপশন কোড মুহূর্তেই ভেঙে ফেলতে পারে এই কম্পিউটার। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সঠিক ও নিরাপদ ব্যবহারই হবে আগামী দিনের আসল চ্যালেঞ্জ।
গুগলের এই ‘উইলো’ চিপ প্রমাণ করে দিল যে, আমরা এমন এক ভবিষ্যতে পা দিচ্ছি যেখানে ‘অসম্ভব’ শব্দটি ডিকশনারি থেকে মুছে যেতে পারে।
#গুগল #উইলোচিপ #কোয়ান্টামকম্পিউটিং #প্রযুক্তি #বিজ্ঞান #সুপারকম্পিউটার #ভবিষ্যৎপ্রযুক্তি #গুগলউইলো #বাংলাটেকনিউজ #অমরত্ব
#GoogleWillow #QuantumComputing #GoogleQuantumAI #FutureTech #Supercomputer #TechRevolution #Innovation #ScienceFacts #QuantumLeap #WillowChip #ArtificialIntelligence
![]()






