নিজস্ব প্রতিবেদন, গঙ্গাসাগর, ১৪ই জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ ব্যুরো আমার আলো, হিরণ ঘোষাল: “সব তীর্থ বারবার, গঙ্গাসাগর একবার”—এই চিরন্তন বিশ্বাসকে পাথেয় করে ২০২৬ সালের মকর সংক্রান্তির পুণ্যতিথিতে গঙ্গাসাগরে আছড়ে পড়ল ভক্তি আর আবেগের উত্তাল ঢেউ। হাড়কাঁপানো ৫-৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা আর কনকনে উত্তুরে হাওয়াকে উপেক্ষা করে সাগরের নোনা জলে ডুব দিয়ে মোক্ষ লাভের আশায় শামিল হয়েছেন দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী। প্রশাসনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮৫ লক্ষ মানুষ সাগরে পৌঁছেছেন এবং এই সংখ্যাটি মকর সংক্রান্তির অন্তিম লগ্নে ১ কোটি ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
পরিসংখ্যানের দর্পণে ২০২৬-এর গঙ্গাসাগর মেলা:
চলতি বছর গঙ্গাসাগর মেলা আক্ষরিক অর্থেই ‘হাই-টেক’ রূপ নিয়েছে। ভিড় সামলাতে এবং পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অভাবনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
-
পুণ্যার্থীর সংখ্যা: এখনও পর্যন্ত আনুমানিক ৮৫ লক্ষ (লক্ষ্যমাত্রা ১ কোটি প্লাস)।
-
নিরাপত্তা বলয়: ১৩,০০০-এর বেশি পুলিশ কর্মী এবং ২,৫০০ সিভিল ডিফেন্স ভলান্টিয়ার মোতায়েন করা হয়েছে।
-
নজরদারি প্রযুক্তি: মেলা প্রাঙ্গণ ও ঘাটগুলিতে ১,২০০-এর বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ২০টি আধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
-
রেসকিউ ড্রোন: এই প্রথম গঙ্গাসাগরে ১০০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহনে সক্ষম বিশেষ ‘উদ্ধারকারী ড্রোন’ মোতায়েন করা হয়েছে, যা জলে বিপদে পড়া পুণ্যার্থীদের আকাশপথে টেনে তুলতে সক্ষম।
-
স্বাস্থ্য পরিষেবা: ৫০০-এর বেশি আইসিইউ বেড এবং এয়ার-অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক পুণ্যার্থীর জন্য ৫ লক্ষ টাকার দুর্ঘটনা বিমার ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার।
স্মার্ট ব্যবস্থা – কিউআর কোড এবং ডিজিটাল বাঁধন
ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া শিশু এবং প্রবীণদের সুরক্ষা দিতে এবার আনা হয়েছে QR-Coded Wristbands। কোনো ব্যক্তি হারিয়ে গেলে এই কোড স্ক্যান করেই তার পরিবারের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে ১৩টি ‘ডিজিটাল বন্ধন’ ফটোবুথ তৈরি করা হয়েছে, যেখান থেকে ৪.৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ তাদের তীর্থযাত্রার শংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন।
কলকাতা ও বীরভূমেও উৎসবের মেজাজ
গঙ্গাসাগরে পৌঁছাতে না পারা বহু পুণ্যার্থী কলকাতার বাবুঘাটে ভিড় জমিয়েছেন, যা ‘মিনি গঙ্গাসাগর’ নামে পরিচিত। অন্যদিকে, বীরভূমের জয়দেব-কেন্দুলি মেলায় অজয় নদের তীরে বাউল গানের সুরে মেতেছেন লক্ষাধিক মানুষ। সেখানে ৩,০০০ পুলিশ কর্মী এবং ২০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ভবিষ্যতের রূপরেখা – ১৭০০ কোটির সেতু
সাগর দ্বীপকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করতে রাজ্য সরকার ১৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ফোর-লেন সেতুর কাজ শুরু করেছে (L&T সংস্থা এই কাজ করছে), যা আগামী দিনে তীর্থযাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ করে তুলবে।
১৪ই জানুয়ারি দুপুর ১:১৯ মিনিট থেকে শুরু হওয়া এই মহেন্দ্রক্ষণ চলবে ১৫ই জানুয়ারি দুপুর পর্যন্ত। কপিল মুনির আশ্রমে মন্ত্রোচ্চারণ আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত এখন গোটা সাগরতট। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে এখনও পর্যন্ত বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি, যা এই বিশাল জনসমাবেশ ব্যবস্থাপনার এক অনন্য নিদর্শন।
#গঙ্গাসাগরমেলা২০২৬ #মকরসংক্রান্তি #পুণ্যস্নান #গঙ্গাসাগর #পশ্চিমবঙ্গনিউজ #কপিলমুনিআশ্রম #জয়দেবমেলা #বাউলমেলা #সাগরসঙ্গম #পশ্চিমবঙ্গপর্যটন
#GangasagarMela2026 #MakarSankranti #HolyDip #GangasagarMela #WestBengalNews #KapilMuniTemple #SpiritualIndia #ViralNews #GoogleDiscover #KolkataNews #ReligiousFestival
![]()






