সংবাদ প্রতিবেদন, নিউজ ব্যুরো আমার আলো:
বর্তমানে আমরা যখন তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস করছি, ঠিক তখনই ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা শোনালেন এক উল্টো সুর। আমরা ভাবছি পৃথিবী কেবল গরম হচ্ছে, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন—এই অতিরিক্ত উষ্ণায়নই আসলে পৃথিবীকে ঠেলে দিচ্ছে এক চরম শীতল ‘হিমযুগের’ (Ice Age) দিকে।
গরম থেকে ঠান্ডা – প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেলা
সাধারণভাবে মনে হতে পারে উষ্ণায়ন এবং তুষার যুগ দুটি বিপরীত বিষয়। কিন্তু ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া রিভার্স সাইডের মডেল বিশ্লেষণ বলছে, পৃথিবীর ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কার্বন ডাই অক্সাইডের স্বাভাবিক চক্রকে ওলটপালট করে দিচ্ছে। যখন সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ে, তখন সমুদ্রের তলায় প্লাঙ্কটনের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এই প্লাঙ্কটনরা অক্সিজেন শুষে নিয়ে সমুদ্র গর্ভে কার্বন জমা করতে শুরু করে। ফলে একসময় বায়ুমণ্ডলে কার্বনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে পৃথিবীকে চরম শীতল করে তুলবে।
পরিসংখ্যানের চোখে অশনি সংকেত
জলবায়ু পরিবর্তনের এই গতিপ্রকৃতি বুঝতে নিচের পরিসংখ্যানগুলি লক্ষ্য করা জরুরি:
-
প্যারিস চুক্তির ব্যর্থতা: ২০১৫ সালে ঠিক হয়েছিল বিশ্বের উষ্ণতা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা হবে। কিন্তু বর্তমানে যে হারে কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, তাতে এই শতাব্দীর শেষে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যেতে পারে।
-
হিমবাহের অবলুপ্তি: বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০০০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় ৭৯ শতাংশ হিমবাহ গলে জল হয়ে যাবে।
-
সময়সীমা: গবেষকদের মতে, পরবর্তী তুষার যুগ আসতে ৫ হাজার থেকে ২ লক্ষ বছর সময় লাগতে পারে। তবে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত কার্যকলাপ এই সময়কে আরও এগিয়ে নিয়ে আসছে।
অতীতের আয়নায় ভবিষ্যৎ
পৃথিবীর ইতিহাসে এর আগেও বহুবার তুষার যুগ এসেছে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অতীতে যখনই শিলাক্ষয় (Weathering) এবং সমুদ্রের রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে, তখনই পৃথিবী বরফে ঢেকে গেছে। বৃষ্টির জল যখন বায়ুমণ্ডলের কার্বন শুষে নিয়ে গ্রানাইট শিলার সাথে বিক্রিয়া করে, তখন কার্বন সমুদ্রের নিচে জমা হয়। বর্তমানে অতিরিক্ত উষ্ণায়নের ফলে এই ‘কার্বন সিঙ্ক’ প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত হচ্ছে, যা আদতে পৃথিবীকে ঠান্ডা করার মঞ্চ প্রস্তুত করছে।
আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ কী?
গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এখনই আমাদের হিমশীতল পৃথিবীর জন্য লেপ-কম্বল বের করার প্রয়োজন নেই। কারণ আগামী কয়েক শতাব্দী আমাদের ভয়াবহ খরা, বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় এবং ফসলহানির মতো চরম আবহাওয়ার মোকাবিলা করতে হবে। তবে আজকের এই অনিয়ন্ত্রিত উষ্ণায়নই যে ভবিষ্যতের হিমযুগের বীজ বপন করছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে আমাদের এখনই কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হবে। অন্যথায়, প্রকৃতির এই ভারসাম্য রক্ষার চরম খেলায় মানুষের অস্তিত্ব টেকানোই দায় হয়ে পড়বে।
#জলবায়ুপরিবর্তন #হিমযুগ #বিশ্বউষ্ণায়ন #বিজ্ঞানসংবাদ #পরিবেশবিপর্যয় #আবহাওয়াআপডেট #তুষারযুগ #পৃথিবীরভবিষ্যৎ #গুগলনিউজ #ভাইরালসংবাদ
#ClimateChange #IceAge #GlobalWarming #FutureOfEarth #ScienceNews #EnvironmentCrisis #GlobalCooling #WeatherUpdate #GoogleDiscovery #ViralNews #NatureConservation #EcoSystem #BreakingNews
![]()






