ইংরেজি নতুন বছর
সুপর্ণা দত্ত
“তুমি নব নব রূপে এসো প্রাণে।
এসো গন্ধে বরনে, এসো গানে।”….
রবি ঠাকুরকে স্বশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়ে
নতুন বছরকে স্বাগত পুরানোকে বিদায় দিয়ে।
অঙ্গে লাগুক তোমার পুলকিত পরশ
চিত্তে জাগুক তোমার অমৃতময় হরষ
সুখে-দুঃখে,নিত্য নতুন জীবন কর্মে
আসুক বৈচিত্র্য তোমার বিচিত্র বিধানে।
নববর্ষ মানে নতুন বছরের শুরু
বিশ্বজুড়ে বর্ষবরণের উৎসব আছে চালু,
প্রাচীনকালের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক
দিউনিসউথ হলেন প্রথম অব্দের প্রচলক।
তখন ২৫শে ডিসেম্বর থেকে ২৫শে মার্চ ধরত
যেকোনো দিনে বছরের প্রথম দিনটি পড়ত,
৪৫১ অব্দে রোমে দশজনের এক পরিষদ
প্রথম জানুয়ারিতে বছর শুরুর দেন মত।
গ্রীক জ্যোতির্বিদ মোসাজিনিস আলেকজান্দ্রিয়ায় আসেন
তিনিই প্রথম ক্যালেন্ডার সংস্কার করেন,
রোমান দেবতা জানুসের নামে জানুয়ারি হয়
রোমান উৎসব ফেব্রুয়া থেকে ফেব্রুয়ারির পরিচয়।
দেবতা মার্সের নাম মার্চ,এপ্রিলিস এপ্রিল
গ্রীক দেবী মায়াস মে,জুনোর নাম জুন,
রাষ্ট্রনায়ক জুলিয়াস সীজারের নামে জুলাই নাম পায়
প্রথম রোমান সম্রাট অগাস্টাসের নামে আগষ্ট হয়।
ল্যাটিন শব্দ সেপ্টেম থেকে সাত,অক্টো হল আট
নভেম পেলো নয় আর ডিসেম পেলো দশের পাঠ।
এইভাবেই ইংরেজিতে বারোমাস পেলো তাদের নাম
জানুয়ারী পেলো তখন বারোমাসের প্রথম স্থান।
বিবর্তনের নিয়ম অনুসারে বছরের পর বছর আসে
নতুন বছর শুরু হয় জানুয়ারী মাসে,
বিশ্বব্যাপী মানুষ অনন্য উপায়ে এর উদযাপন করে
এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ও অন্য অধ্যায়ের সূচনা করে।
একটা-দুটো ঝরছে পাতা শীতের হাওয়া লেগে,
জীবন খাতার পাতাগুলি কুর্নিশ করে নিয়তির আগে।
হাজারো বাজি উঠল জ্বলে আলোয় চমকালো রাত ,
হাজার বাজির শব্দে যেন বাজলো হাজার ঢাক।
বৈশ্বিক ঐতিহ্যকে সামনে রেখে ভবিষ্যতের আশা
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার মাঝে মানুষকে ভালবাসা,
নাচে-গানে,পিকনিকে আর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে
নববর্ষের আগের দিনে সারা বিশ্ব মাতে নববর্ষ উদযাপনে।
শিশুদের জন্য নতুন বছর আনন্দ ও খুশিতে ভরা
স্কুলগুলিতে প্রতিযোগিতার ইভেন্টে আয়োজন করা,
প্রাপ্তবয়স্করা ছুটির আমেজ উপভোগ করে
বন্ধু,আত্মীয়দের সাথে যোগাযোগ করে।
নববর্ষের আগের দিনে নতুন বছর উদযাপন করে
বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন উপায়ে ভিন্ন ভিন্ন আড়ম্বরে,
অতীতের দুঃখ-কষ্ট, হিংসা-বিদ্বেষ সব ভুলে
আগামী বছরের সুখ,সমৃদ্ধি,স্বাস্থ্য কামনা করে সকলে।
কালের নিয়মে বহু স্মৃতি বিজড়িত ২০২৪ নিয়েছে বিদায়
নতুন আশা নিয়ে নতুন উদ্যামে পৃথিবীর দ্বারে২০২৫ এসেছে,
হৈ-চৈ,হাসি-হুল্লোর,হাজার বাজির আওয়াজ, মিউজিকে
আনন্দ কলোতান,পিকনিক, ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান হচ্ছে দিকে দিকে।
কলকাতার পার্কস্ট্রিট সেজে উঠেছে এক অপরূপ সাজে
বড়দিন থেকে দেশী বিদেশী মানুষের ঘটেছে সমাগম ,
নাচ-গান, আলোর চমক,পশরা সাজিয়ে বসেছে ব্যাবসদার
সব ভালোর মাঝেও উচাটন মন যেন করে হাহাকার।
চোখের পড়ে জমকালো পার্কস্ট্রিটের বিপরীতে বুভুক্ষু মানুষ
শীতের রাতেও তারা ফুটপাতে শুয়ে দেখে আকাশের ফানুস,
চাঁদের দিকে চেয়ে ভাবে ঝলসানো রুটি ছেঁড়া তাঁবুতে শুয়ে
যাদের শিশুরা অনাদরে দিনরাত বড় হয় পরে থাকে ভুঁয়ে।
কেউ বা তাদের দেখে দয়ার চোখে কেউ বা দেখে অবহেলায়
কেউ বা তাদের ঘৃণা করে কেউ বা ডাকে স্নেহ মায়ায়,
তাদের দূরে ঠেলে আনন্দ উৎসব সবই যেন বৃথা
ধনী-দরিদ্র সবাইকে নিয়েই হয় উৎসবের আনন্দ গাঁথা।
—oooXXooo—
![]()






